তাহলে মূল সমস্যাটা কোথায়?

আসলে না জানাটাই কি আমাদের মূল সমস্যা?
.
একজন বেনামাজীকে জিজ্ঞেস করুন, “ভাই, আপনি কেন নামাজ পড়েন না?
কেউ কিন্তু বলবে না, “কেন ভাই নামাজ পড়া ফরজ নাকি? জানতাম না তো!”
.
একজন মুসলিম নারীকে জিজ্ঞেস করুন, “আপু, যে কোনো নন-মাহ্‌রামের সামনে আপনার কিছু বিধান অনুযায়ী পর্দা করা ফরজ --আল্লাহ্‌-র আইন, তাও আপনি কেন হিজাব করছেন না? কেন বেপর্দা হয়ে রং-বেরঙ্গের ছবি আপ্লোড করে এতগুলো পরপুরুষের সামনে অনায়াসে ফেসবুকে দিয়ে দিচ্ছেন?”
কোনো আপু কি বলবে, “ওমাহ্‌! হিজাব করা ফরজ আমার উপর? জানতাম না তো!”
.
অনেক ক্ষেত্রেই ইসলাম নিয়ে অজ্ঞতাটা একটা উল্লেখযোগ্য সমস্যা বটে, কিন্তু এটাই মূল সমস্যা নয়। কারণ জেনে-বুঝেই বহু মানুষ তাদের পাপের পাল্লা ভারী করছে।
.
তাহলে মূল সমস্যাটা কোথায়?
.
মূল সমস্যাটা হচ্ছে আমাদের ঈমানের ঘাটতি, বিশ্বাসের ঘাটতি। 

আল্লাহ্‌-র আইন মেনে না চললে যে, আমাদেরকে দুনিয়ার হাড়-মাংস কয়লা করে ফেলা আগুনের চেয়েও সত্তর গুণ বেশি শক্তিশালী আগুনে পুড়তে হবে- আমাদের এই বিশ্বাসের দৃঢ়তা আসলে কতটুকু? একজন যদি ১০০% নিশ্চিত থাকে যে, সে যদি আল্লাহ্‌র আইন না মানে তাহলে তাকে এমন আগুন প্লাস আল্লাহ্‌-র ক্রোধের আগুনে পুড়তে হবে, এরপরও কি কারো পক্ষে এমন কিছু করা সম্ভব?

- হ্যাঁ! ঈমানের ঘাটতি হলেই সম্ভব!
.
আর ঈমানের ঘাটতির কারণেই অনেকে আখিরাতের উপর বিশ্বাস থাকা স্বত্ত্বেও শয়তান একটু ওয়াস্‌ওয়াসা দিলেই, “আরে! যা করার করে ফেল, আল্লাহ্‌ তো অতীব দয়ালু, তোকে মাফ করে দিবেন, যত ইচ্ছা পাপ কর!”
ব্যস! আর পায় কে?
.
কোন সন্দেহ নেই, আল্লাহ্‌ তা’আলা অবশ্যই ক্ষমাশীল পরম-দয়ালু।

যে কুরআনে লিখা আছে,
“আপনি আমার বান্দাদের জানিয়ে দিন যে, নিশ্চয় আমিই একমাত্র ক্ষমাকারী দয়ালু ”। (সূরা আল হিজর: ৪৯)
সে কুরআনেই লিখা আছে যে,
“আর নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হলো যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (সূরা আল হিজর: ৫০)
.
অতএব, আল্লাহ্‌ ক্ষমা করে দিবেন- এ চিন্তা করে যদি একের পর এক পাপ করতে থাকেন, মনে রাখবেন, আপনি আল্লাহ্‌-র সাথে ধোঁকাবাজি করছেন না, নিজেই নিজের সাথে ধোঁকাবাজি করছেন। এখন এই ধোঁকা থেকে বাঁচবার কি উপায়? আমাদের এই আখিরাত-বিমুখ, দুনিয়া-আসক্ত হৃদয়ের ঈমানের ঘাটতি পূরণের জন্যে কি করা যায়?
.
কুরআন ও হাদীসের অনেক বর্ণনা অনুযায়ী আমাদের ঈমান ঠিক রাখতে মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করতে বলা হয়েছে। আমরা মৃত্যুকে ভুলে থাকি দেখেই ভুলে যাই যে, দেহ থেকে আত্মা বের হয়ে যাবার সাথে সাথে এ দুনিয়ার সাথে সকল লেন-দেন শেষ! রবের সামনে হাজির হয়ে তখনই হবে আসল লেন-দেনের শুরু।
.
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
“তোমরা (দুনিয়ার) স্বাদ-আহলাদ নিঃশেষকারী মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করো।” (তিরমিযি)
.
পরকালের পথে যাত্রা
লেকচার সিরিজের পর্বগুলো শুনতে ডাউনলোড করুন
shorturl.at/epG18

সরি টু সে, আপনার এই হা হুতাশের কানাকড়ি মূল্য নেই।

নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েই বসে থাকলে হবে না।
 কাজ করতে হবে সামাজিক কল্যানে। আপনি কতটা ব্যথিত সেটা কাজের মাধ্যমে প্রমান করুন।

আমার আশেপাশের অনেককেই দেখি খুব আবেগী লেখা লেখে, শেয়ার করে বিভিন্ন পোষ্ট।
তারপর যেই আত্মকেন্দ্রিক রোবট ছিল সেই রোবটই থেকে যায়। সকালে উঠে শুধু নিজ, পরিবার আর উপার্জনের জন্য সারাদিন রাত কাটিয়ে ঘুমাতে যায়।

 বি শিউর দ্যাট, আমার আপনার নির্লিপ্ততা এমন ঘটনা ঘটার ক্ষেত্রে অনুঘটকের কাজ করছে।

বলি আমি আপনি এই কঠিন সমাজের জন্য কাজ না করলে সমাজ পরিবর্তন হবে কি?
 হা হুতাশ ছাড়া ঐ ঘটনার পর এই সমাজকে দেওয়ার জন্য কিছু সময়, মেধা, যোগ্যতা যদি না ব্যয় করেন তাহলে সরি টু সে, আপনার এই হা হুতাশের কানাকড়ি মূল্য নেই।


>> মুল পোস্ট এর লিঙ্ক <<