মানুষ না বুঝে প্রতিদিন মন্ত্রের মত পড়তে থাকে

আমাদের সমাজে কিছু আমল এর প্রচলন আছে।
 এই পড়লে এতো নেকি, এটা এতবার পড়লে এত সওয়াব।
 এই দোয়া ও আয়াত এই সময়ে পড়তে হবে। ইত্যাদি

এগুলো মানুষ না বুঝে প্রতিদিন মন্ত্রের মত পড়তে থাকে।
 আমার প্রশ্ন হলো সাহাবীরা কি না বুঝে এগুলো এভাবে পড়তেন? তারা যদি না বুঝেই পড়তেন তাহলে আল কুর আনের প্রতি তাদের এতো ভালোবাসা থাকতো না।
 আর সাহাবীদের শত্রুরাও যদি সাহাবীদের ওই সব পড়া না বুঝতেন তাহলে তারা শত্রুতা করতো না।

এইসব না বুঝে নিয়ম করে করা আমল বুঝে কুরআন পড়ার ক্ষেত্রে কোন কোন ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়।
 প্রতিদিন নিয়ম করে বিভিন্ন আয়াত পড়া যেখানে জরুরী ছিলো সেখানে মানুষ না বুঝে প্রতিদিন একই আরবী তেলাওয়াত করে আল কুরআনের উপর আমল করছি মনে করে সন্তুষ্ট থাকছে।
 কারন ওই মানুষ হয়তো কুর আন পড়ার জন্য অতটুকুই সময় বরাদ্দ রাখে আর তা ওই সওয়াব কামাইয়ের লক্ষ্যেই শেষ হয়ে যায় বা নিজের কোন উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই করা হয়।
 অন্যের কল্যানেও যে আল কুরআনের বড় ও ইফেকটিভ ব্যবহার আছে তা তাদের অজানা থেকে যায়
 এবং
জানা থাকলেও তা করা হয় না।

>> কালেক্টেড পোস্ট <<

এইভাবেই শ্রেণীবিভাগ চলতে থাকে

#ঘটনা_একঃ

- ভাই আপনি কি মুসলমান?
- হ, মুসলমান।
- সুবানাল্লাহ, আমিও মুসলমান। আপনে শিয়া নাকি সুন্নি?
- সুন্নি।
- আলহামদুল্লিহ! আমিও সুন্নি। কোন মাজহাবে আছেন?
- হানাফি
- মাশাল্লাহ, আমিও হানাফি। আপনি সৌদি নাকি উপমহাদেশীয় হানাফি?
- উপমহাদেশীয়
- মারহাবা, আমিও উপমহাদেশীয়। আপনে শরিয়তি নাকি মারফতি?
- শরিয়তি
- জাযাকাল্লাহু খায়রান। আমিও শরিয়তি। আপেনে চরমোনাই নাকি আটরশি?
- চরমনাই
[এইভাবেই শ্রেণীবিভাগ চলতে থাকে]

#ঘটনা_দুইঃ

- ভাই আপনে কি হিন্দু?
- হ, ভাই সনাতনী হিন্দু।
- আমিও হিন্দু। আপনি বৈষ্ণব, নাকি শাক্ত?
- বৈষ্ণব।
- হরে কৃষ্ণ আমিও বৈষ্ণব। আপনি গৌড়ীয়, নাকি চৈতন্য বৈষ্ণব?
- চৈতন্য বৈষ্ণব।
- হরে কৃষ্ণ। আমিও চৈতন্য বৈষ্ণব।
- তো আপনি কি ইস্কনে নাকি সাধারণে?
- ইস্কনে
- হরে কৃষ্ণ, দেশের ইস্কন করেন নাকি বিদেশি ইস্কন করেন?
- দেশি।
- হরে কৃষ্ণ আমিও দেশি
[এইভাবেই শ্রেণীবিভাগ চলতে থাকে]

#ঘটনা_তিনঃ

- ভাই আপনি কি বৌদ্ধ?
- হ, ভাই বৌদ্ধ
- কোন যানে আছেন, হীনযান নাকি মহাযান?
- হীনযান বৌদ্ধ নিকায়
- সাধু, সাধু। আমিও হীনযানি। আপনে শ্রীলঙ্কান নাকি বঙ্গীয়?
- বঙ্গীয়
- মেত্তা করুণা মুদিতা উপেক্ষা, আমিও বঙ্গীয়। আপনি বড়ুয়া নাকি মারমাগ্রী?
- বড়ুয়া।
- সব্বে সত্তা সুখীতা ভবন্তু। আমিও বড়ুয়া। আপনি সংঘরাজ নাকি সঙ্ঘনায়ক?
- সংঘরাজ।
- বল বুদ্ধ বল। আমিও সংঘরাজ দলে।
- তো আপনে কি বনভান্তেবাদী, নাকি উছালা মার্মা?
- বনভান্তেবাদী
- সাধু সাধু। আমিও...
[এইভাবেই শ্রেণীবিভাগ চলতে থাকে]

#ঘটনা_চারঃ

- ভাই আপনে কি নাস্তিক
-হ নাস্তিক।
-কোন ধরণের নাস্তিক? যুক্তিবাদী নাস্তিক, পাতি নাস্তিক, বিখ্যাত নাস্তিক, অখ্যাত নাস্তিক, নেতা নাস্তিক, কর্মী নাস্তিক, পীরের চেলা নাস্তিক, বিপ্লবী নাস্তিক, খাঁটি নাস্তিক, খচ্চর নাস্তিক, খোছাইন্না নাস্তিক, আধ্যাত্মিক নাস্তিক, কট্টর নাস্তিক, ল্যাদাইন্না নাস্তিক, চুপা নাস্তিক, লাইক পাগল নাস্তিক, চোরা নাস্তিক, ভীতু নাস্তিক, আধা-পাগল নাস্তিক, গুণ্ডা নাস্তিক, ছবির হাটের নাস্তিক, ফেসবুকার নাস্তিক, ব্লগার নাস্তিক, রোজাদার নাস্তিক, রিভার্স নাস্তিক, ঘাড় টেরা নাস্তিক, ল্যাংটা নাস্তিক, আবাল নাস্তিক, লুল নাস্তিক, স্বঘোষিত অর্ধ নাস্তিক, ভন্ড নাস্তিক, ফাজিল নাস্তিক, মিষ্টিকথার নাস্তিক, নবী নাস্তিক, আল্লামা নাস্তিক , কপি পেষ্ট নাস্তিক, রেফারেন্স নাস্তিক, বামপন্থি নাস্তিক, জামাতি নাস্তিক, জঙ্গি নাস্তিক, আসিফবাদী নাস্তিক, সাম্প্রদায়িক নাস্তিক ট্যাগানো নাস্তিক, স্ক্রীনশট নাস্তিক, মুক্তমনা, মুক্তগাধা, মুক্তবাল, লোক দেখাইনা নাস্তিক, ছাগু নাস্তিক, এসাইলম সিকার নাস্তিক, নাকি হুদাই নাস্তিক? আপনে কোনটা বলেন?
-ভাই এতো টাইপ শুইনা নিজে কোন টাইপের নাস্তিক ভুইলা গেছি
( এভাবে শ্রেনী বিভাগ চলতে থাকে)

#ঘটনা_পাঁচঃ

প্রকৃতির সব থেকে বুদ্ধিমান প্রাণীর নাম মানুষ। তবে মনে হয় এই মানুষ ছাড়া আরও দু চারটা প্রাণী বুদ্ধিমান হওয়া উচিত ছিল। তখন আলোচনাটা হতে পারতো,
- ভাই, আপনে কোন প্রাণী?
- মানুষ।
- কি বলেন!!! আমিও মানুষ।
- আহা, অনেকদিন পর আরেকজন মানুষ দেখে ভালো লাগলো।
- আশে পাশে দেখি প্রচুর ভেড়া। শুধু আপনি আর আমি দুর্ভাগা মানুষ। কি দুর্ভিক্ষ এলো দুনিয়ায়, চারপাশে শুধু বুদ্ধিমান ভেড়াই ভেড়া। মানুষের বড় অভাব....
[সংগৃহীত]

জ্ঞানবিমুখ ছিন্নভিন্ন মুসলিম জাতি

১১৮বছরে মাত্র ১২জন মুসলিম নোবেল পুরষ্কার পেয়েছে।
৫৭টি মুসলিমপ্রধান দেশের মোট বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়েও আমেরিকায় বিশ্ববিদ্যালয় সংখ্যা বেশি।
 মুসলিমপ্রধান দেশ সমুহের জাতীয় আয় আসে প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে। অর্থাৎ উপরওয়ালা প্রদত্ত রিজিক থেকে। কারন মুসলিমপ্রধান দেশগুলো আল্লাহর উপর ভরসা করে বাজেটের অর্থেক টাকা স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রনালয়ের নামে দলীয় নেতাকর্মীদের হাতে তুলে দেয় কিন্তু অমুসলিম দেশসমুহ জাতীয় আয়ের সিংহভাগ এবংকি কোম্পানীগুলোকেও বাধ্যতামূলকভাবে লাভের একটা অংশ বৈজ্ঞানিক গবেষনায় খরচ করতে হয়। তাই ইসরায়েলের মত ছোট্ট দেশেও ৯০হাজারের অধিক পিএইচডি ধারী বসবাস করে। মাত্র দেড় কোটি মানুষ, অথচ এই পর্যন্ত নোবেল পেয়েছে ১৭৯জন ইহুদি।
.
আমরা দাম দিয়েছি ক্রিকেটকে আর রাজনীতিকে। তাই মুসলমানদের আইকন এখন নারীলিপ্সু ক্রিকেটার এবং অসৎ রাজনীতিবিদরা। আমেরিকার প্রেসিডেন্টও স্বপ্ন দেখে হার্বার্ড এর শিক্ষক হবার, আর আমাদের তরুনরা স্বপ্ন দেখে বারাক ওবামা আর রোনালদো হবার।
.
মুসলিমরা আজ শিয়া-সুন্নি, হানাফী-ওয়াহাবীতে বিভক্ত। অথচ ইহুদীদের ৫০ এর অধিক গ্রুপ একত্রিত হয়ে ইসরায়েল নামক জারজ রাষ্ট্রকে অর্থ আর ক্ষমতা দিয়ে টিকিয়া রেখেছে। কিন্তু ৫৭টি মুসলিম দেশ কখনোই একত্রিত হয় না। তাই কাশ্মির, ফিলিস্তিন, চেচনিয়াও স্বাধীন হয় না। যখন ইহুদীরা CNN, ESPN, Fox News, Sky News, Times এর মত মিডিয়া গড়তে ব্যস্ত। আমরা তখন আল জাজিরা, আমার দেশ, দিগন্ত টিভি বন্ধ করতে ব্যস্ত। ইহুদীরা যখন কাল মার্ক্সস, আইনস্টাইন, বব ডিলান কিংবা রুপার্ট মারডকের মত জায়নবাদীদের বিশ্বব্যাপী আইকন বানাচ্ছে। আমরা আব্দুল কাদির, জাকির নায়েক কিংবা ইউসুফ কারজাভীর মত মেধাবীকে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী বলে প্রচার চালাই।
.
মুসলমানরা আজ জ্ঞানের রাজ্য এবং গবেষনার রাজ্য থেকে অনেকদুরে। তারা আজ রফে ইয়াদাইন এর মত ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বহুভাগে বিভক্ত।
.
তাই জ্ঞানবিমুখ ছিন্নভিন্ন মুসলিম জাতি আজ সংখ্যায় ২০০কোটি হয়েও; উচ্চশিক্ষিত এবং ঐক্যবদ্ধ দেড় কোটি ইহুদির কাছে পরাজিত। লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনিকে নিজ ভুমি থেকে বিতাড়িত করে ইহুদীরা ইসরায়েল নামক রাষ্ট্র বানায়। কোটি কোটি টাকা খরচ করে গবেষনা আর মেধাবীদের মূল্যায়নে। আর আমরা নিজেরা নিজেরা কামড়াকামড়ি করে ফিলিস্তিনিদের অসহায় কান্না দেখি।

>> কালেক্টেড পোস্ট <<<