আমাদের অনুভূতিহীনতার গল্প


বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

খুব ঠাণ্ডা পড়েছে, বাইরে জিরো ডিগ্রি সেলসিয়াস! কোনো গল্প বলছি না। লন্ডনে এখন শীতকাল চলছে। ৪টা বাজতেই মাগরিব হয়। ৭টার দিকে বাসায় ফিরছিলাম যখন, রাস্তার আলো গুলো বাদ দিলে আঁধার রাত। অন্ধকার রাতের বরফশীতল বাতাসের মধ্যে বাইরে এক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকতেও কষ্ট হয়। কিছুক্ষণ থাকলে চোখ-মুখ জমে বরফ হয়। দ্রুতপায়ে কিছুদূর হেঁটে বাস স্টেশনে আসলাম। ডিজিটাল নোটিস বোর্ডে দেখতে পেলাম ৩ মিনিট পরে বাস আসবে। কোনরকম কুঁচকে-মুচকে দাঁড়িয়ে ছিলাম! উহ্‌ যা ঠাণ্ডা! স্টেশনে আর একজন মাত্র আছে, বাসের অপেক্ষা করছে। বাস এলো। আরো কিছু যাত্রী আশেপাশের অন্ধকার থেকে উদয় হলো। আমি কোনদিকে না তাকিয়ে জলদি বাসে উঠে পড়লাম। উষ্ণতা খুঁজতে যেয়ে অটোমেটিক ভিতরে চলে গেলাম। দেখলাম আমার সাথে যে দাঁড়িয়ে ছিল সে বাস ড্রাইভারকে বারবার একই প্রশ্ন করছে ‘ওয়াটনি মার্কেট কোথায়?’  ছেলেটার বয়স হবে দশ-এগারো। স্কুল ব্যাগ কাঁধে ছিল বোধ হয়। এক নজর দেখেছি। আবারো প্রশ্ন করলো সে, ‘এই বাস কি ওয়াটনি মার্কেট হয়ে যাবে?’  ওয়াটনি মার্কেট একটা বাস স্টপ, আমার বাসার ঠিক আগের স্টেশন। বেশ ভিতরে ছিলাম দেখে উত্তর দিতে গেলে চিৎকার করতে হতো। হঠাৎ আশ্চর্য হয়ে দেখলাম, বাস ড্রাইভার তাকে ভুল ইনফরমেশন দিয়েছে! এক সেকেন্ডের মধ্যে ছেলেটা জবুথবু হয়ে বাস থেকে নেমে বাইরের ঠাণ্ডার মধ্যে ফিরে গেল! আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখি বাস ছেড়ে দিয়েছে!

নিজের মধ্যে কেমন একটা অপরাধবোধ সৃষ্টি হলো। বাচ্চা একটা ছেলে। এই ঠাণ্ডার মাঝে আমার চেয়েও আগে থেকে অপেক্ষা করছে। আমার পাক্কা মনে ছিল, পরের বাসটি আসার কথা আরো ১৫ মিনিট পরে! এতোটা সময় আবারো ওকে একা একা দাঁড়িয়ে থাকতে হবে? খুব খারাপ লাগলো। বেশি এই কারণে কারণ ওর প্রশ্নের উত্তরটা আমার জানা ছিল। আমিও একই দিকে যাচ্ছি। তবুও ওকে অপেক্ষা করতে হবে। মনে আসলো আমার চেয়ে আগে থেকে ছেলেটা বাস স্টেশনে দাঁড়িয়ে। আমার চাইতে এই বাসে ওঠার হক ওরই বেশি ছিল...। 

এসব ভাবতে ভাবতে বাস প্রায় বাসার কাছে চলে আসলো। গত পরশুরাতের ঘটনা। শুধু ঘটনা বলার জন্য আমি লিখতে বসিনি। এই ঘটনার সাথে সাথে আরো একটা কথা আমার মাথায় আঘাত করে। ভয়ংকর একটা কথা...। সেই কথা বলতেই আজকে বসা। জানিনা কতোখানি প্রকাশ করতে পারব। তার আগে আমার খুব প্রিয় একজন আপুর দেয়া স্ট্যাটাস শেয়ার করতে চাই –

“সংবেদনশীল মন থাকা একটা নেয়ামত। অন্যের কষ্ট যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন না, তার কষ্ট লাঘব করার ইচ্ছাটাও আপনার মধ্যে sincere হবে না।”

হঠাৎ সংবেদনশীলতার কথা বললাম কেন? 

উপরের সত্যি ঘটনাটা আমি যাকেই বলব, সে স্বাভাবিকভাবে দুঃখবোধ করে... না দেখা সেই ছোট্ট ছেলেটার প্রতি তাদের একরকম মায়া জন্মে! আমার যেমন শুধু মনে হয়, ‘বাচ্চাটা ঠিকমত বাস পেয়েছিল তো?’ , মনে হয়, 'ইশশ! চিৎকার করে বলতাম এটাই ঠিক বাস!' , অথচ কতোক্ষণই বা বেশি তাকে সেই শীতল বায়ুর ঝাপটা সহ্য করতে হয়েছে? খুব বেশি হলে এক্সট্রা আরো দশ মিনিট?


এই ছেলের চেয়ে হাজারো গুণে খারাপ অবস্থানে আছে আরো অনেকে। যাদের ঘর-বাড়ি উজাড় হয়ে যাচ্ছে... সকালে বাবা-মা-ভাইবোন-ঘর-সংসার ছিল। বিকেলে দেখবে কিচ্ছু নেই। শুধুই কিছু জঞ্জাল পড়ে আছে। ধ্বংসাবশেষ। এক মুহূর্হের মাঝে মায়া-মমতা-স্বপ্ন সব শেষ। এদের জন্য আমাদের মায়া কই...? মাথার ছাদটা উড়ে গেল, ঘরের দেয়ালগুলো পড়ে গেলো। কিসের মধ্যে বেঁচে থাকবে ওরা? খাবার নেই, পোশাক নেই, লেখাপড়া-বন্ধু তো দূরের কথা! শত্রুর হাত থেকে পালাতে যেয়ে ধুঁকে ধুঁকে কুকুরের মত জীবন পার করে দিচ্ছে এরা। এদের জন্য আমাদের কষ্ট হয়? নাহ... একটা কুকুরের জন্যেও এরচেয়ে বেশি মায়া লাগে।  কুকুরের উদাহরণ দেয়া তো কমন ডায়লগ হয়ে গেছে, এবং বেশ decent! তাই আমার এ কথা কারো গায়ে লাগবে না।


ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে খাবার তুলে নেয়া মানুষটিকে আমরা হয়তো মানুষ হিসেবেও ভাবি না। তার হাত ধরতে আমাদের ঘৃণা উগলে আসবে! বাসায় কাজের লোকের জন্য যেমন আলাদা প্লেট! গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া লোকালয়ের নোংরা-বিধ্বস্ত মানুষগুলোর কথা আমরা ক’বার ভাবি? তাদের মানুষ বলেই বা ক’বার গণ্য করি?! এই সংবেদনশীলতার আজ বড় অভাব। আমরা কথার দিক থেকে রোবট হইনি। মুখে আমাদের ‘প্রে ফর গাজা’ ‘সেভ রোহিঙ্গা’ লেগে থাকে। অবশ্য মুখে লেগে থাকে না। প্রোফাইল পিকচারে ঝুলে থাকে। কিন্তু অন্তরে - গরিব, অসহায়, নির্যাতিত - তাদেরকে আমরা চিনি না! চোখের সামনে তাদেরকে দেখলে আমরা ‘না-দেখার’  ভান করি! আর চোখের আড়াল হলে তো মন থেকে একেবারে মুছেই গেল। তাই বললাম কথায় আমরা সবচেয়ে সহানুভূতিশীল হতে পারি, কিন্তু কাজে আমাদের মত নিষ্ঠুর স্বার্থপর প্রাণী খুব কমই আছে। ‘প্রাণী’ বললাম ইচ্ছে করেই। মানুষ হবার জন্য তো মানুষকে মানুষের কষ্ট বুঝতে হয়। জানোয়ারের চেয়ে নীচু মন নিয়ে তো মানুষ নামের অধিকারী হওয়া চলবে না।


যাদের কথা বললাম তারা মুসলিম উম্মাহর অংশ। উম্মাহ উম্মাহ বলে চিৎকার করি যারা, এই উম্মাহর কথা সত্যিই কতখানি ভাবি? আমাদের ভাবনাটা জুড়ে কি থাকে? উম্মাহর অনুভূতি? তাদের ক্ষুধা-তৃষ্ণার কষ্ট? শীত-গ্রীষ্মের যাতনা? তাদের স্বজন হারাবার বেদনা? বুঝি আমরা সেসব? বুঝতে চাই? যদি না বুঝি, না বুঝতে চাই, আমাদের মধ্যে বিরাট সমস্যা আছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘মুসলিম উম্মাহ একটি শরীরের মত, এর এক অংশ আহত হলে পুরো শরীরে জ্বর এসে যায়’। [১] জ্বর আসা মানে বুঝেন?

ক’মাস আগে একবার সিস্টারদের এক কনফারেন্সে গিয়েছিলাম। খিলাফত আর উম্মাহর কথা তাদের মুখে মুখে। আবেগজডড়ানো বক্তৃতা শুনে কতোজনের চোখে পানি আসল। এক বোনের চোখে কী যেন একটু হয়েছিল। সে তাঁর চোখের ব্যথায় কাতর! আশেপাশের সিস্টাররাও তাঁর চোখ নিয়েই ব্যস্ত হয়ে গেলো, বা ব্যস্ত হতে বাধ্য হলো! একে বলে ব্যথা। বার বার শুধু চোখের কথা বলে! চোখে হাত দেয়, ভাপ নেয়! অল্প একটু ব্যথায়-ও কতো অতীষ্ট হয়ে গেল একজন! উম্মাহর জন্য আমাদের এই বেদনা কোথায়? জ্বর আসলে শরীরের যে যন্ত্রণা উম্মাহর তরে সে কাতরোক্তি কোথায়? আমরা নিজেদের কিছু হলে তো আমরা ব্যস্ত হয়ে যাই... আমাদের এই ব্যস্ততার সাথে মুখে উম্মাহর জন্য উদ্বিগ্ন হবার আকাশ-পাতাল তফাত! এই উদ্বেগ কখনো শুধু মুখের কথায়, দুটি কনফারেন্স, একটি মিছিল, কয়টি ইসলামের সার্কেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। উম্মাহর জন্য সত্যিকার উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটবে আমাদের জীবনের প্রতিটি চিন্তায়-কথায়-কাজে। এভাবে পুরো জীবনকেই বদলে দেবে। আমরা সময় নষ্ট করব না, নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত করার সংগ্রামে লিপ্ত হবো, মুসলিমকে দেখব আপন ভাই, আপন বোনের মত।


আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেনঃ “আর তোমাদের কি হল যে, তোমরা আল্লাহর রাহে লড়াই করছ না দুর্বল সেই পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে, যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান কর; এখানকার অধিবাসীরা অত্যাচারী! আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য পক্ষালম্বনকারী নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও।” [২]


***

একটা বাচ্চা বাসের জন্য অপেক্ষা করছে, ঠাণ্ডায় কাঁপছে। একটি নয়। হাজার হাজার শিশু ঠাণ্ডায় কাঁপছে, ক্ষুধায় শুষ্ক হয়ে কাতরাতে কাতরাতে মরে যাচ্ছে, নোংরা পিশাচের বিষাক্ত থাবায় মা-বাবা-ভাইকে হারাচ্ছে, হাজারো মানুষ চিৎকার করে বলছে, ‘কোথায় তোমরা? আমার মুসলিম ভাইবোনেরা? কোথায় আল্লাহর সাহায্য?’ আমরা তাদের কথা ভাবি না। তাদের জন্য অন্ধকার রাতে বাস আসে না... তারা দাঁড়িয়ে থাকে...  তারা প্রচণ্ড কষ্ট পেয়ে পেয়ে একাকী মারা যায়, মারা যাচ্ছে, আমাদের চোখের সামনে, মনের আড়ালে... আমরা দেখছি, শুনছি। অনুভূতিহীনভাবে।

একটা বাচ্চা পথচেয়ে তাকিয়ে থাকে। হয়তো কোনদিন মানুষের বিবেক জাগ্রত হবে... হয়তো কোনদিন মৃত মনটা আরেকবার রক্তের গন্ধ শুঁকতে পাবে... হয়তো কোনদিন মুসলিমদের মাঝে জেগে উঠবে সত্যিকার ভ্রাতৃত্ববোধ – সেই প্রতীক্ষায়...

মহানায়কদের স্রোত



'তুমিও জিতবে' আর 'প্রতিপত্তি ও বন্ধুলাভ' বইগুলো যথাক্রমে শিবখেরা আর ডেল কার্নেগীর লেখা। আমাদের দেশের দিশেহার তরুন-যুবকের কাছে এমন পুস্তকগুলো আলাদীনের চেরাগসম। আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে বিত্ত আর চিত্তের সমন্বয়ে একজন সফল মানুষ হিসেবে তৈরী করার একটা সিলেবাস মনে করা হয় এমন পুস্তকগুলোকে। এসব থেকে খুব উৎসাহ পাওয়া যায় এটা ঠিক। কিন্তু উৎসাহটা যখন আসে কেবল মাত্র পার্থিব আরাম আয়েশ আর প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণের জন্যে তখন একটু ভয় হয়। আবার এসব প্রাপ্তির প্রতি যে লোভ দেখানো হয় তা আমাদের পরকালীন জীবনের জন্যে করণীয় সম্পর্কে উদাসীন হতে বিপুলভাবে সহায়তা করে, এই বিষয়টা একদম শিউরে উঠার মতো।

আমাদেরকে বিভিন্ন উদাহরন দিয়ে দেখানো হয় কীভাবে একজন সফল মানুষ তার জীবনে এত এত সফলতা লাভ করেছেন। আমাদের কাছে তাই রোল মডেল হিসেবে আবির্ভূত হন টলস্টয়, কনফুসিয়াস, রবার্ট ব্রুস, কার্লাইল, আব্রাহাম লিঙ্কন, হালের বিল গেটস, স্টিভ জবস আর জুকারবার্গরা। আমরাও বিপুল উদ্যমে এমন রোল মডেলদের অনুসরন করতে গিয়ে ভুলে যাই মানব জন্মের উদ্দেশ্য আর পরকালের জন্যে করণীয়গুলো। আমাদের মনোযোগটা চলে যায় পার্থিব জীবনের সাফল্যের দিকে, একমুখিভাবে।

সাধারণ মানুষ মাত্রই সম্ভবত কীর্তিমানদের দ্বারা প্রভাবিত হতে পছন্দ করে। যুগে যুগে অসংখ্য কীর্তিমানরা তাই আমাদের মানসপটে রোল মডেলের আসন দখল করে আছেন। আমরা আমাদের রোল মডেলদের অনুসরন করে বড় হতে চাই, জীবন পরিচালনা করতে চাই। বর্তমান আধুনিক যুগটা তাই আমাদের শিশুকাল থেকে রোল মডেল সাপ্লাই দিয়ে আসছে। একটি শিশুর কাছে সুপারম্যান, স্পাইডারম্যান আর পাপাইরা হলো রোল মডেল। 'এসব কমিক হিরোরা তাদের অলৌকিক ক্ষমতা দিয়ে মন্দকে ধ্বংশ করে ফেলবে', 'আমাদের নিরাপত্তার জন্যে এসব সুপারহিরোরাই শেষ ভরসা', এমনকিছু ধারণা নিয়ে আধুনিক শিশুরা বড় হতে থাকে। শিশুরা তারপর শুরু করে অ্যাকশন কার্টুন দেখা এবং তার হাত ধরে প্লে-স্টেশন আর কম্পিউটারে হিংস্রতার চর্চাটা। আরেকটু বড় হবার সাথে সাথে সুপারহিরোর জায়গা দখল করে নেয় বিভিন্ন রেসলার আর হলিউডের মাসলম্যনরা। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শোবিজ আর স্পোর্টস সেলিব্রিটিদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমনা আর ইসলামবিদ্বেষী শিক্ষক এবং প্রগতিশীল মেধাবী বড় ভাইগুলো যারা গাঁজার ফিলিংস ছাড়া পড়াশোনায় মন বসাতে পারেন না, তারা চলে আসনে আমাদের রোল মডেল হিসেবে। এছাড়া পৃথিবীর তাবৎ কর্পোরেট সেলিব্রিটিরাও সেই শ্রদ্ধার আসনে ঠাঁই পান। আমরাও পৃথিবীর বুকে দৃপ্ত পায়ে টিকে থাকার জন্যে এবং আরো আধুনিক হবার আশায় পারিবারিকভাবে গড়ে ওঠা ইসলামী মূল্যবোধগুলোর কারণে লজ্জিত হতে থাকি। পরবর্তীতে এসব মূল্যবোধ সুষ্ঠুভাবে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করি। এমন একটা জীবনে মাঝে মাঝে যখন খানিকটা হতাশা আসে তখন আশ্রয় নেই আরজ আলী মাতবর, বার্ট্রান্ড রাসেল, চে গুয়েভারা, পীর-ফকির কিংবা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের। জীবনের মানে খুঁজে পাই এইসব হিরোদের ফিলোসফিতে।

আমরা আধুনিক হতে থাকি। খানিকটা ইসলাম প্রীতি আমাদের ভেতর তবু রয়েই যায় তাই নানান কিসিমের আইডলদেরকে আমরা আমাদের প্রয়োজনে আমদানী করি। কেবল জুম'আর নামাজের নামাজী আর শেভ করা চকচকে মুখের অর্থনীতিবিদ রোল মডেলরা আমাদেরকে শেখান, আধুনিক যুগের ব্যাংক ইন্টারেস্ট আর ইসলামে নিষিদ্ধ সুদ এক বিষয় না। আমাদের হাসিটা একান-ওকান হয় খুশীতে, 'যাক্ আমরা তাহলে সুদ খাচ্ছি না'। রোল মডেলরা ঘোষণা করেন, বিয়ের উদ্দেশ্যে প্রেম করাটা ইসলামে নিষেধ নেই। আমাদের হাসি আরো লম্বা হয়। আমরা সোডিয়াম বাতির ঝাপসা আলোর নিচে ডেটিং স্পটগুলোকে প্রেমের আলোয় উজ্জল করতে থাকি।  আমাদের সুপারহিরোর কাছ থেকে ঘোষণা আসে কোরআন শরীফে পর্দার আয়াত রাসূল (সাঃ) এর স্ত্রীদের জন্যে নাযিল হয়েছিলো, ম্যাংগো পিপলদের জন্যে এটা আবশ্যক না। আমাদের খুশী আর ধরে না। আপুরা তাই ফতোয়া আর জিন্সকে জাতীয় পোষাক বানিয়ে নেন। জীবনে মাস্তি করার সকল উপাদানই ইসলামে হালাল। ইসলামের মডার্ণ এডিশনটা তাই ব্যপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। বলিউদের সালমান খান পুরো পরিবার নিয়ে ঈদের নামাজ পড়েন জেনে আমরা আপ্লুত হই, বাংলার চিত্রনায়কদের উমরাহ করার খবরে আহ্লাদিত হই। ঈদকে সামনে রেখে বলিউড-ঢালিউডে 'ঈদের ছবি' ট্যাগ নিয়ে মুভি রিলিজ হয়, আমরাও 'ঈদের ছবি'কে ঈদেরই একটা অংশ হিসেবে মেনে নিই।

আমাদের দৃঢ় ধারণা হয়, যেহেতু আমরা মুসলমান, মাঝে মাঝে নামাজ পড়ি আর নামাজ শেষে হাত তুলে তুমুল দোয়া করি, আল্লাহ আমাদেরকে অবশ্যই ক্ষমা করে বেহেশত দিয়ে দেবেন, তিনি তো দয়ালু। একদিকে পৃথিবীর তাবৎ সুখ এনজয় করলাম আর অন্যদিকে মৃত্যুর পরের জীবনেও (যদি থেকে থাকে) আরাম আয়েশটা নিশ্চিত থাকলো।  এভাবে কোনো একদিন এমন আধুনিক কেউ সারা জীবন অসাম্প্রদায়িক এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখতে দেখতে মারা গেলে তার শুভাকাঙ্খীরা হুজুর ডেকে মৃতের কানের কাছে সূরা ইয়াসিন পাঠ আর কোরান খতম করান। স্বজনেরা সাদা কাপড় আর টুপি পরে দফায় দফায় জানাজা আর কুলখানি- চেহলাম করে মৃত ব্যক্তির বেহেশত নিশ্চিত করে ফেলেন!

কী বীভৎস আমাদের ইসলাম চিন্তা।

২.
আমাদের সৃষ্টিকর্তা আমাদের কাছে রোল মডেল হিসেবে রাসূল (সাঃ) কে পাঠিয়েছেন যেনো আমরা তাঁর অনুসরন করি আর পথহারা হয়ে না যাই। সম্মানিত পাঠক, আমাদের মহান সৃষ্টিকর্তার প্রেরিত রাসূলকে আনুসরন করে কীভাবে একেকজন কীর্তিমান মানুষ পার্থিব জীবন আর পরকালীন জীবনে সফল হয়েছেন তা যদি আমরা জানতাম তাহলে তথাকথিত রোল মডেলদের ধোঁকায় পড়ে আমাদের দুই জীবনকেই অন্ধকারে ছুঁড়ে ফেলতাম না। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সাহাবীরা যেভাবে তাঁকে অনুসরন করেছেন আমাদের জন্যে সেইসব থেকে শিক্ষা গ্রহণ করাটা হবে সবচাইতে বুদ্ধিমানের কাজ। রাসূল (সাঃ)-এর সাহাবীরা হতে পারেন আমাদের কাছে একেকজন হিরো। আমাদের হাতের নাগালেই আজকাল এসব মর্যাদাবান সাহাবীদের জীবনী বই পাওয়া যায়। সাহাবীদের জীবন সম্পর্কে জানতে পারলে আমরা এটাও জেনে যাবো যে ইসলামে কোনো শর্টকাট নেই। একেকজন সাহাবীর জীবন একেকটা জ্বলন্ত মশালের মতো, আলো ছড়িয়ে যায় যুগ যুগ ধরে। ইসলামের জন্যে সীমাহীন ত্যাগ আর কঠিন কঠিন সব পরীক্ষায় চমৎকারভাবে তাঁদের উৎরে যাওয়া, এসব সম্পর্কে জানতে পারলে একজন মুসলিমের (হোক সে যত দূর্বল ঈমানের) হিরোদের তালিকায় কখনোই সাহাবায়ে কেরামদের চেয়ে উপরে অন্য কেউ (নবী-রাসূল ব্যতীত) স্থান পেতে পারবে না, এটা মোটামুটি নিশ্চিত। এই হিরোদের সম্পর্কে জানতে পারলে আমাদের ইসলামের প্রতি আনুগত্য বাড়তে পারে আর বর্তমান যুগে আমাদের ভূলগুলো শোধরানোর তাগিদ পেতে পারি। লাভগুলো সব আমাদেরই।

আমরা যারা সাধারণ মুসলিম, ইসলাম সম্পর্কে মোটামুটি কিছু জানি তারা হয়তো চার খলীফা, হযরত বেলাল, আবু হুরায়রা, ইবনে মাসুদ (রাঃ) এবং আরো অল্প কয়েকজন সাহাবায়ে কেরামদের সম্পর্কে সামান্য কিছু জানি। এমন আরো অসংখ্য সাহাবায়ে কেরাম রয়েছেন যাদের যে কারও জীবন-আলোচনা আমাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে যথেষ্ট। রাসূল (সাঃ)-এর নবুয়্যত প্রাপ্তির প্রথমদিকে ইসলাম গ্রহণ করা সাহাবী হযরত মুসয়াব ইবনে উমাইর (রাঃ) এমন একজন অনুকরনী্য় ব্যক্তিত্ব। আল্লাহর রাসূল (সাঃ)-এর সাহাবীদের মধ্যে ব্যাক্তিগতভাবে আমার অত্যন্ত পছন্দের একজন হলেন মুসয়াব ইবনে উমাইর (রাঃ)। যতবার আমি তাঁর সম্পর্কে পড়ি, আমার চোখদুটো টলমল করতে থাকে।

হযরত মুসয়াব (রাঃ)'র মা ছিলেন প্রচুর ঐশ্বর্যের মালিক। ধনীর দুলাল মুসয়াব (রাঃ) বেড়ে উঠেছিলেন বিপুল ভোগ-বিলাসের মধ্যে। মক্কার সবচেয়ে সুদর্শন যুবক ছিলেন তিনি। তাঁর থেকে উত্তম পোষাক মক্কার আর কেউ পরতো না। ইতিহাসবিদরা বলেন, মুসয়াব ইবনে উমাইর (রাঃ) ছিলেন মক্কার সর্বোৎকৃষ্ট সুগন্ধী ব্যবহারকারী। মক্কার সকল মজলিশ আর বৈঠকে তিনি ছিলেন খুব কাঙ্খিত একজন। তাঁর তীক্ষ্ণ মেধা, ব্যক্তিত্ব আর উন্নত ব্যবহার সবাইকে মুগ্ধ করতো। সুদর্শন আর ধনীর আদুরে দুলাল এই ব্যক্তি দারুল আরকামে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। নবুয়্যতের প্রথমদিকে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) দারুল আরকামে তখন পর্যন্ত ইসলাম গ্রহণ করা হাতেগোনা মুসলিমদের ইসলাম শিক্ষা দিতেন। এরকম একটা সময়ে মুসয়াব (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর ইসলাম গ্রহণ করার বিষয়টা মায়ের কাছে গোপন রাখেন, তাঁর মা ছিলেন প্রচন্ড ব্যক্তিত্বের অধিকারিণী। মাকে ভয় করতেন তিনি খুব বেশী। একপর্যায়ে মায়ের কাছে তাঁর ইসলাম গ্রহণের খবর প্রকাশ হয়ে পড়লো। অবশেষে মুসয়াব (রাঃ)-কে গৃহবন্দী করা হলো। বধ্য হয়ে তিনি একদিন ঘর থেকে পালিয়ে গেলেন এবং পরবর্তীতে হাবশায় হিজরাত করেন। হাবশা থেকে মক্কায় আসার পর তিনি তাঁর মাকে ইসলাম কবুল করতে বলেন। মা উত্তর দেন, 'আমি তোমার দ্বীন গ্রহণ করবো না'। এরপর মুসয়াব ইবনে উমাইর (রাঃ)-কে তাঁর মা বাড়ী থেকে খালিহাতে বিতাড়িত করে দেন। কুরাইশদের সেই আদুরে দুলাল এরপর থেকে মোটা শতছিন্ন তালিযুক্ত কাপড় পরেন। তাকে একদিন খাবার খেলে অন্যদিন অভূক্ত থাকতে হতো। একদল সাহাবী একদিন রাসূল (সাঃ)-এর সামনে বসা ছিলেন। তারা দেখতে পেলেন মুসয়াব (রাঃ) হেঁটে যাচ্ছেন, পরনে শত তালি দেয়া মোটা একটা পোষাক। একদম হতদরিদ্র অবস্থা। সম্মানিত পাঠক, ইসলামের প্রাথমিক যুগে সকল মুসলমানরা তখন কঠিন সময় পার করছিলেন। সাহাবীরা সবাই তখন একজন আরেকজনের তীব্র কষ্ট দেখে অভ্যস্ত ছিলেন। এমন একটা সময়ে মুসয়াব ইবনে উমাইর (রাঃ)-এর এমন করুণ অবস্থা দেখে সাহাবীদের মধ্যে ব্যপক ভাবান্তর হলো। তাদের দৃষ্টি নত হয়ে গেলো। অনেকের দুই চোখে ভেঙে পানি এসে গিয়েছিলো। তারা কল্পনা করছিলেন মুসয়াবের ইসলাম পূর্ব জীবনটা, কত কোমল আর সুগন্ধিময় ছিলো, কত প্রাচূর্য পরিবেষ্টিত ছিলো!

রাসূল (সাঃ)-এর এই সাহাবী ইসলামের জন্যে কী পরিমাণ ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন, পাঠক কল্পনা করুন।

ওহুদ যুদ্ধে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) মুসলিম বাহিনীর পতাকা এই মুসয়াব ইবনে উমাইর (রাঃ)'র হাতে তুলে দিয়েছিলেন। যুদ্ধের এক পর্যায়ে মুসলিমরা বিপর্যয়ে পড়ে যান। এমন সংকটময় অবস্থায় কুরাইশ বাহিনী রসূল (সাঃ) -কে ঘিরে ফেললো। মুসয়াব ইবনে উমাইর (রাঃ) বিপদের ভয়াবহতা উপলব্ধি করলেন। তিনি তখন চিৎকার করে তাকবীর দিয়ে আর ঝান্ডা হাতে লাফ-ঝাপ দিয়ে কাফিরদের দৃষ্টি নিজের দিকে নিয়ে আসতে চাইলেন। কাফিররা তার প্রতি দৃষ্টি ফেরালো। একহাতে মুসলিম বাহিনীর পতাকা আর অন্যহাতে তরবারী নিয়ে তিনি প্রচন্ড বেগে লড়াই করতে থাকেন। এক অশ্বারোহীর তরবারীর আঘাতে তার ডান হাতটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এবারে তিনি বাম হাতে পতাকা তুলে ধরেন। আরেকটি আঘতে তাঁর বাম হাতটাও দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তিনি তখন বলে ওঠেন, 'ওয়ামা মুহাম্মাদুন ইল্লা রাসূল' যা পরবর্তীতে কোরআনের আয়াত হিসেবে নাযিল হয়। দুই বাহু দিয়ে এবার তিনি ইসলামের পতাকা তুলে ধরেন। এবার বর্শার একটা তীব্র আঘাত তাকে পরাভূত করে। পতাকাসহ তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

যুদ্ধ শেষে রক্ত আর ধুলোবালিতে একাকার মুসয়াব ইবনে উমাইর (রাঃ)'র লাশ খুঁজে পাওয়া গেলো। তাঁর লাশ দাফনের জন্যে অল্প এক টুকরো কাপড় ছাড়া আর কিছু পাওয়া গেলো না। এই কাপড়টা দিয়ে তাঁর সমস্ত শরীর ঢাকা সম্ভব হলোনা। অবশেষে রাসূল (সাঃ) মাথার দিকটা চাদর দিয়ে আর পায়ের দিকটা ঘাস দিয়ে ঢেকে দেয়ার আদেশ করলেন। লাশের পাশে দাঁড়িয়ে রাসূল (সাঃ) পাঠ করলেন,' মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে'। তারপর কাফনের দিকে তাকিয়ে বললেন, 'আমি তোমাকে মক্কায় দেখেছি, সেখানে তোমার চেয়ে কোমল চাদর আর সুন্দর যুলফী আর কারো ছিলো না। আর আজ তুমি এই চাদরে ধুলি-মলিন অবস্থায় পড়ে আছো'।

হযরত খাব্বাব ইবনুল আরাত বলেন, ' আমরা আল্লাহর রাস্তায় আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে হিজরাত করেছিলাম। আমাদের এ কাজের প্রতিদান দেয়া আল্লাহর দায়িত্ব। আমাদের মধ্যে যারা তাঁদের এ কাজের প্রতিদান মোটেও না নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে, তাঁদের একজন মুসয়াব ইবনে উমাইর।

পার্থিব জীবনের কাজের দ্বারা পরকালের অনন্ত জীবনে সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা এমন সব কৃতী মনুষকেই তো যুগে যুগে সকল মুসলিমদের আইডল হিসেবে মানা উচিত। আমরা কাদেরকে আইডল মানছি।

গ্রন্থ সহায়িকাঃ
১. আসহাবে রাসূলের জীবনকথা (১)- ড. মুহাম্মদ আব্দুল মাবুদ
২. সীরাতে ইবনে হিশাম

Collected From
Brother
Ahsan Sadee Al-Adil

http://www.suhaibwebb.com


MISSION STATEMENT
This site is dedicated to enhancing the spiritual and religious development of Muslims through sound, balanced & moderate Islamic teachings. It seeks to bridge orthodox and contemporary Islamic knowledge, bringing to light issues of cultural, social and political relevance to Muslims in the West.

VISIT:-





আসুন, আমাদের ঈমানকে যাচাই করি




একবার মুসলমানরা খ্রিস্টানদের ‘হামস’ দুর্গ অবরোধ করে। সেই দলের দলপতি ছিলেন হযরত উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রাঃ)। পাদ্রিরা খ্রিস্টানদেরকে মুসলমানদের সাথে সন্ধি করার পরামর্শ দিয়ে বলল, এরা শেষ নবীর (সাঃ) অনুসারী। এদের সাথে লড়াই করা বৃথা। জবাবে যুবক খ্রিস্টান সেনারা বলল, তা হতে পারে না। আমরা পারস্যবাসীদের দাঁত ভেঙ্গে দিয়েছি, আর এরা তো আরব।  খ্রিস্টানরা সন্ধি না করায় হযরত উবাইদা (রাঃ) দুর্গ অবরোধ করতে বাধ্য হলেন।

তিনি সেনাদের বললেন, আমি তাকবীর দেয়ার পর তোমরা সকলে অজু করে আক্রমন করার জন্যে প্রস্তুত হয়ে যাবে। তারপর তিনি নগর প্রাচীরের নিকটবর্তী হয়ে তাকবীর বললেন। সঙ্গে সঙ্গে পুরা শহরে কম্পন সৃষ্টি হল।

তিনি আবার ‘আল্লাহু আকবার’ বললেন। এবার দুর্গের দেয়াল বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে পড়ল।
পাদ্রিরা এ অবস্থায় খ্রিস্টান সেনাদের বলল, আমরাতো পূর্বেই বলেছিলাম যুদ্ধ না করতে। তাদের এক ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতেই দুর্গের প্রাচীর ভেঙ্গে পড়েছে। আর যদি অস্ত্র বের করে তাহলে না জানি কি অবস্থা হয়।

সেই ‘আল্লাহু আকবার’ এখন আমরাও বলি। তাঁদের ‘আল্লাহু আকবার’ দুর্গ- প্রাচীর ধসিয়ে দিয়েছিল। আর আমাদের তাকবীর আমাদের জবান থেকে মিথ্যাকেই দূর করতে পারে না, দৃষ্টি থেকে নির্লজ্জতাকে দূর করতে পারে না, কান থেকে গান শোনার ইচ্ছাকে দূর করতে পারে না, হাতকে জুলুম থেকে বিরত রাখতে পারে না।
এ থেকে বুঝা যায়, আমাদের তাওহিদ আমাদের হৃদয়ের গভীর থেকে উৎসারিত নয়।
আল্লাহ আমদের সবাই কে হেদায়েত দান করুন। আমীন।



অনৈক্য প্রবণতা: মুসলিম উম্মাহর প্রধান সংকট

প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না

লেখক : মুহাম্মদ রাবে আল-হাসানী আন-নববী
অনুবাদক : জহীর উদ্দীন বাবর
সম্পাদক : ইকবাল হোছাইন মাছুম


মুসলিম জাতির অনন্য কিছু বৈশিষ্ট্য আছে। পারস্পরিক ঐক্য  এর অন্যতম। এটি শুধু আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যের ভিত্তিতেই হয়। হাদীসে উল্লেখ আছে “এক মুসলমান অন্য মুসলমানের জন্য এক শরীর সদৃশ। যদি এর একটি অংশ আঘাতপ্রাপ্ত হয় তবে এর প্রভাবে সারা শরীর ব্যথিত ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়” অদৃশ্য এই শক্তিই মুসলমানদের অবিস্মরণীয় বিজয়ের গোপন রহস্য। সুলতান সালাহুদ্দীন আইয়ূবী রহ. বায়তুল মুকাদ্দাস পুনর্উদ্ধারের জন্য ঐ সময় চূড়ান্ত বিজয়ের প্রস্তুতি নেন, যখন মুসলমানদের পারস্পরিক বন্ধন সুদৃঢ় হয় এবং শামের নেতৃস্থানীয়রা একই প্লাটফর্মে জড়ো হন। ইতিহাসের ঘটনাবলী বিশ্লেষণ করলে একথা স্পষ্ট হয়ে উঠে যে, মুসলমানরা কোনো একটি যুদ্ধেও সফলকাম হতে পারেনি; যতক্ষণ না তাদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতির সুদৃঢ় বন্ধন স্থাপিত হয়েছে। পারস্পরিক সহযোগিতাবোধ জেগেছে। মতবিরোধ ও ভেদাভেদ থেকে নিস্কৃতি পেয়েছে। কিন্তু যখন প্রত্যেক ব্যক্তি নিজস্ব মত-পথ ও চিন্তাধারায় খেয়ালী বিচরণ করবে; নিজেদের মধ্যে সৃষ্ট মত পার্থক্য শত্রতার রূপ নেবে; তখন সফলতার আর কোনো প্রচেষ্টাই কাজে আসবে না। সর্ব ক্ষেত্রে মুসলমানরা হবে অপদস্থ। তাদের জন্য থাকবে পরাজয়ের গ্লানি।

বর্তমান মুসলিম উম্মাহ অনৈক্য ও অসংহতির মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত। দুনিয়াতে আজ মুসলামানদের রয়েছে বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠী। পৃথিবীর এক চতুর্থাংশ তাদের। তবুও দুনিয়ার অন্যান্য শক্তির কাছে তারা আজ নত। লাঞ্ছিত ও নিস্পেষিত হচ্ছে দেশে দেশে। তাদের দেখে বিদ্রুপের হাসি হাসছে বাতিল শক্তি। কিন্তু মুসলমানদের এই অবস্থা হলো কেন? এর একমাত্র কারণ, মুসলিম উম্মাহর ভেতরে ঢুকে পড়েছে অনৈক্যের বীজ। মুসলিম বিশ্ব আজ শতধা বিভক্ত। তাদের খন্ড খন্ড শক্তি নির্জীব হয়ে আছে। প্রত্যেকে তাদের নিজস্ব মতের পূঁজায় লিপ্ত। নিজের গোত্র বা দলনেতার কথাই তিল-তাবিজ; অন্যের কোনো গুরুত্ব নেই। উম্মতের এই অনৈক্য ও অসংহতি সৃষ্টি করছে মারাত্মক বিষক্রিয়ার। ফলে তারা কাটাচ্ছে মুমূর্ষু অবস্থা ।

কর্মপরিকল্পনা ও কার্যপ্রণালীর আছে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতি। পরিবেশ পারিপার্শি¦কতাও সর্বত্র এক নয় । তাছাড়া ইসলামী কার্য সম্পাদনকারীদের মত ও চিন্তার ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকাও স্বাভাবিক। সে হিসেবে কৌশলগত ও চিন্তাগত আংশিক মতবিরোধ তেমন দোষের কিছু নয়। কিন্তু এই মত পার্থক্য যখন ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব, দলীয় বিবেদ ও শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের রূপ নেয়, তখন তা জন্ম দেয় ভয়াবহ পরিস্থিতির। গঠনমূলক কাজের পরিবর্তে চর্চা হয় বিনষ্টের। ইসলামী ভাবধারার আবরণে চরিতার্থ হয় ব্যক্তিস্বার্থ। তাই সকল সফলতা পর্যবসিত হয় ব্যর্থতায়। অবশেষে আত্মঘাতি এই কর্মকান্ড ইসলামের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। গণ্য হয় ইসলাম নিশ্চি‎েহ্নর কারণ হিসেবে। ইসলামী সমাজ যখন বিভক্ত হয় দলে-উপদলে। প্রত্যেকে বিভোর হয় অনিষ্টের চিন্তায়। তখন উম্মতের অস্তিত্ব আর টিকিযে রাখা যায় না। নিজেরাই কারণ হয় নিজেদের পতনের।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে, এই ধ্বংসাত্মক কাজকে অনেকেই সামাজিক সংশোধন ও ইসলামী বিপ্লবের কাজ হিসেবে জ্ঞান করে। অথচ এটি মারাত্মক একটি ভুল। পারস্পরিক অনৈক্য ও সংঘাত কোনোদিনও ইসলামী সমাজ বিপ্লবের জন্য সহায়ক হতে পারে না। বর্তমান মুসলমানদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক সত্য হচ্ছে তারা আজ বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত। গঠনমূলক কাজের পরিবর্তে ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত। গড়ার চেয়ে ভাঙ্গার ক্ষেত্রে বেশি উদ্যোগী। মুসলিম দেশের শাসক কিংবা ইসলামী দলের পরিচালক; প্রত্যেকেই আত্ম-পূঁজারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ। প্রত্যেকে ছুটছে নিজেদের দুষ্ট প্রবৃত্তির পেছনে। “আমার মত ও চিন্তাই বিশুদ্ধ; এটিই একমাত্র পথ ও পদ্ধতি” এই আত্ম-তুষ্টিতে ভুগছে সবাই। অন্যদের গুরুত্ব দিতে রাজি নয় কেউই। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পরমত সহিষ্ণুতা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতাবোধ নেই বললেই চলে।

আকীদাগত, চিন্তাগত, রাজনৈতিক, সামাজিক প্রতিটি ক্ষেতেই আমাদের পথ নির্দেশকরা ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে। পরস্পরে কাঁদা ছুড়াছুড়ি করছে; লেগে আছে একে-অন্যের পেছনে। মন্তব্য করছে ঢালাওভাবে। প্রকৃত অবস্থা জানার আগেই গোমরাহ, ভন্ড, দালাল হিসেবে আখ্যায়িত করছে। এদের মধ্যে কেউ নবী প্রেমিক (!) বনে বিরোধীদেরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বেয়াদবীর অপবাদ দিচ্ছে। কেউ নিজেদেরকে হাদীসের প্রকৃত আমলকারী মনে করে ইমামের অনুসরণকারীদেরকে গোমরাহ, বিদাতি ও কুফর-শিরকের পর্যায়ে ফেলে দিচ্ছে। আবার কেউ ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্বে, দলীয় মোহে অন্য ইসলামি দলের বিরুদ্ধে অনবরত কুৎসা রটাচ্ছে। এভাবে তাদের পরস্পরে সৃষ্টি হচ্ছে বৈরী সম্পর্ক। বাড়ছে হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্র“তা। দূর হচ্ছে তাকওয়া, ইখলাস ও দীনের প্রকৃত চেতনা। ইসলামের বৃহৎ স্বার্থে আল্লাহ এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামের ওপর একত্রে বসতে তারা সম্মত নয়। মুসলমানদের পরস্পরে বিভক্তির মহড়া চলছে এভাবেই।

আজকের মুলমানরা তদের সমস্যা নিরূপনে যেমন ব্যর্থ, তেমনি উত্তরণ ভাবনায় শতত বিচ্ছিন্ন। একক চিন্তা-ধারার কোনো অস্তিত্ব নেই। তাদের অনৈক্য ও সংঘাত আরো বিরূপ আকার ধারণ করে যখন তা অনৈসলামিক দেশে হয়। ইসলামী ব্যক্তিত্বদের এই আচরণ দেখে অমুসলিমদের মনে ইসলাম সম্পর্কে এই ধারণা বদ্ধমূল হয় যে, ইসলাম পারস্পরিক দ্বন্দ্ব, সংঘাত, বিভেদ ও বিদ্বেষমূলক ধর্ম। ঐক্য, সংহতি ও সহাবস্থান ইসলামে নেই। কেননা তারা দেখে যে, চিন্তা ও ইজতেহাদগত বিষয়েও মুসলমানদের বিভিন্ন দল-উপদল পরস্পরের বিরুদ্ধে শত্র“ ভাবাপন্ন। সামান্য বিষয়ের জের ধরে পরস্পরেকে ইসলামের গন্ডি থেকে বের করে দিচ্ছে। যাচাই-বাছাই ছাড়াই ফতোয়া ছুড়ে মারছে। ঘরোয়া বিষয় ফলাও করে প্রচার করছে বাইরে। তখন স্বভাবতই ইসলামের প্রতি অমুসলিমদের মনে খারাপ ধারণা সৃষ্টি হবে।

অত্যন্ত আফসোস ও আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, আমরা ভাঙ্গা ও নষ্টের দিকে এগুচ্ছি; অথচ স্থাপন ও গড়ার অলিক স্বপ্ন দেখছি। যখন শত্ররা সবাই ঐক্যবদ্ধ; চালাচ্ছে ইসলাম নির্মূলের সম্মিলিত প্রয়াস; বাতিলচক্র নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে এগুচ্ছে দৃঢ়গতিতে। তখন মুসলমানরা আত্মকলহে লিপ্ত। হালকা এবং সাধারণ জিনিসকে কেন্দ্র করে চলছে অঘোষিত লড়াই। আত্ম-প্রতিষ্ঠার জন্য সবাই মরিয়া। শুধু মুসলিম ব্যক্তিত্বদের মাঝেই নয়; মুসলিম রাষ্ট্র সমূহেও চলছে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-সংঘাতের খেলা। খুব বড় বিষয় নিয়ে নয়; মামুলি বিষয় নিয়ে। এগুলো সমাধানের জন্য তেমন কোন উদ্যোগেরও প্রয়োজন হয় না। আলোচনা-পর্যালোচনা দ্বারাই সম্ভব। 

মুসলমান পরস্পরে ভাই ভাই। সে হিসেবে পারস্পরিক সম্পর্ক হওয়া উচিত ভ্রাতৃত্বের, সম্প্রীতি ও মাধুর্যের। প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়। যিনি কাজ করেছেন তার দিকে নয়, চেয়ে দেখা উচিত কী কাজ করেছেন। ভাল কাজ হলে তার স্বীকৃতি দেয়া। ব্যক্তি যে কেউই হোক। ইসলাম ও গঠণমূলক সামাজিক কাজের প্রতি সর্বাত্মক সহযোগিতা বাঞ্ছণীয়। কিন্তু যখন কাজের চেয়ে কর্তা বেশি গুরুত্ব পায়; প্রত্যেক কাজকে নিজের অবদান মনে করা হয় এবং খ্যাতির আশা থাকে, তখনই ঘটে বিপত্তি।

বর্তমানে ইসলামী কর্মীদের অভ্যাস এই দাঁড়িয়েছে যে, তাঁরা শুধু অন্যের দোষ-ত্র“টিই দেখে। অন্যের ভুলগুলো প্রকাশ করেই শান্তি পায়। নিজের ভুল কিছুই ধরা পড়েনা তাদের রঙ্গীন চশমায়। নিজের মধ্যে হাজার দোষ থাকার পরও অন্যের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালিয়ে মজা পায়। নিজেরটি একমাত্র কাজ; অপরেরটি কিছুইনা; এই ধারণা তাদের ভেতর। তাদের ভাব দেখে মনে হবে ইসলামের রক্ষক একমাত্র তারাই। তাদের অস্তিত্ব ও পতনের মাঝে ইসলামের উত্থান-পতন নিহিত!

বর্তমানে আমাদের মধ্যে ইসলামের আদর্শ তেমন নেই। আমাদের কাজগুলোও পূর্ণ সুন্নাত ও ইসলাম মোতাবিক হচ্ছে না। তবুও মিথ্যা অভিনয় করার কি দরকার আছে ? ইসলামের কৃত্রিম কান্ডারী বনে ইসলামী ঐতিহ্যকে বদনাম করার কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ আমাদের উদ্দেশ্য কখনো খ্যাতি ও নেতৃত্ব, কখনো নিজের দল ও মতের শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রাধান্য, আবার কখনো নিজের জ্ঞান বা বুদ্ধির বিকাশ। অথচ আমরা নিজেদের ভাবছি পূত-পবিত্র! আর অন্যদেরকে মনে করছি ভ্রষ্ট ও অচ্ছুত! এটি সরাসরি ইসলামের সাথে প্রতারণা। নিছক ব্যক্তি স্বার্থে ইসলামের অপব্যবহার।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন “মুসলমান তাঁর ভাইয়ের সম্মান করবে। প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার আদায় করবে। পরস্পরে হিতকামী হবে।
সাহায্য-সহযোগিতার হাত প্রসারিত করবে। হিংসা-বিদ্বেষ, সংকীর্ণ মানসিকতা রাখবেনা।” আল্লাহ তায়ালাও নির্দেশ করেছেন মুসলমানদের সাথে সদাচরণ করতে।

এমনকি কাফিরদের সাথেও ভাল ব্যবহার করতে বলেছেন। আল কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে
যারা পবিত্র মসজিদ থেকে তোমাদের বাধা প্রদান করেছিল, সেই সম্প্রদায়ের শত্রুতা যেন তোমাদেরকে সীমালঙ্ঘনে প্ররোচিত না করে। সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।” (সূরা মায়েদা : ২)

এই আসমানী বার্তা প্রমাণ করে ইসলাম একটি উদার, সহনশীল ও সার্বজনীন সম্প্রীতির ধর্ম। বিবেদ ও সংঘাতের এখানে কোনো স্থান নেই।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা ইঙ্গিত করে মুসলমানদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত নিরসনের। আর এর জন্য প্রয়োজন সবার আন্তরিকতা। এই প্রবণতা দূর করতে হলে ব্যক্তি স্বার্থ থেকে ইসলামের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। অপরের বিরুদ্ধে ঢালাও ভাবে মন্তব্য করা চলবে না। নিজে গঠনমূলক কাজ করবে। অন্যের বিচ্যুতির পেছনে লেগে অহেতুক সময় নষ্ট করবে না। যে সকল জিনিস বিবেদ বা সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে তা থেকে দূরত্ব বজায় রাখবে। সব সময় সহযোগিতামূলক মনোভাব পোষণ করবে। কেননা ‘আল্লাহ— বান্দাকে সাহায্য করেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইকে সাহায্য করে।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।


লেখাটি এই সাইট থেকে সংকলিত

http://feelislam.com


In the Name of God, The Most Merciful, The Most Gracious!
All the articles in this website are the English rendering of articles by Abdul Wadud (P M A Gafur) in Malayalam. P M A is an Islamic orator and a profound writer from South India and has delivered many speeches and has written numerous articles on Islam.
This place is a fruit of collective efforts by a team, with the author’s permission and support. This aims at spreading the ‘beauty’ of Islam.
It was quite a difficult task for us to translate these articles into English without losing the rich literal style of the author in Malayalam and with our limited knowledge. Feel free to point out possible mistakes and provide us creative suggestions to make this site and the articles better. You maycontact us here.
This site will be updated with a new article every week Insha Allah. Please visit us often, share the articles with your friends/colleagues/relatives and subscribe to the posts.
—-
Disclaimer:  All mistakes in the posts are most likely occurred during translation, we would really appreciate if you could notify us. You are free to copy, share and promote the articles in the original form, in order to spread the message and the enchanting beauty of Islam. However, you are not permitted to create derivatives without author’s permission. We would demand you to give credits towww.feelislam.com in case you copy any articles into your blogs, web-space etc. You should not use the articles or its derivatives for any commercial activities.
visit
http://www.facebook.com/feelislam.page
http://twitter.com/#!/feel_islam
http://feeds.feedburner.com/Feelislam

http://www.islamqa.com/en


Introduction


 This site aims to provide intelligent, authoritative responses to anyone's question about Islam, whether it be from a Muslim or a non-Muslim, and to help solve general and personal social problems. Responses are composed by Sheikh Muhammad Salih Al-Munajjid, a known Islamic lecturer and author. Questions about any topic are welcome, such as theology, worship, human and business relations, or social and personal issues.
All questions and answers on this site have been prepared, approved, revised, edited, amended or annotated by Shaykh Muhammad Saalih al-Munajjid, the supervisor of this site.
With the spread of Islam world-wide walillah il-hamd and its diffusion into the internet, some sites have been published claiming to serve Muslims and to speak in the name of Islam. However, not all of these sites, which discuss issues relevant to Islam, present accurate and reliable information based on the true beliefs and practices of the Prophet (peace & blessings of Allaah be upon him) and his companions. Thus, there is a need to increase the number of sites providing resources based on these authentic teachings. It is hoped that this site will be among them. The objectives of Islam Q&A include:
to teach and familiarize Muslims with various aspects of their religion
to be a source for guiding people to Islam
to respond to users questions and inquiries to the best of our resources and capabilities
to assist in solving the social and personal problems of the Muslims in an Islamic context
It was decided to make the site all-encompassing, directed towards Muslims and non-Muslims alike. Subject areas include, but are not limited to, Islamic fiqh and jurisprudence, Islamic history, Islamic social laws (including marriage, divorce, contracts, and inheritance), Islamic finance, basic tenets and aqeedah of the Islamic faith and tawheed, and Arabic grammar as it relates to the Quran and Islamic texts.
The responses are handled by Sheikh Muhammad Salih al-Munajjid, using only authentic, scholarly sources based on the Quran and sunnah, and other reliable contemporary scholarly opinions. References are provided where appropriate in the responses. All requests are held with confidence, and replies are available personally and/or publicly (posted to this site).
A database organized by subject areas, containing common as well as previously asked questions, is available for exploring, either by browsing the entire contents or specific subject areas, or by searching for specific keywords. In an effort to maximize efficient use of everyones time and effect the most rapid responses, please be sure to consult the database before submitting a question to make sure it has not already been asked before.

visit 

http://muslimmatters.org/


ABOUT MUSLIMMATTERS

Muslimmatters.org began in 2007 as a collaboration between various Bloggers and Shuyukh in order to bring attention to issues faced by Muslims, especially in the West. We have focused on issues of Religion, Society, Ethics, Sex Education, Politics, Civil Rights, Family, as well as the random issues that pop up from now and then, all with some ranting and humor mixed in.
We challenge ourselves and our readers to engage in discourses that touch our lives as citizens of the West, while maintaining our individual Islamic identities: Ultimately to cooperate, but not to compromise


visit

http://www.igotitcovered.org/


The I Got It Covered (IGIC) weblog was launched on December 29th, 2008. This date corresponds with the 1st of Muharram, 1430 AH, and we felt that it was an appropriate time for a new beginning.
In reality, the idea for the blog had been over a year in the making, and it began as a simple suggestion that Muslim women let the rest of the world know: we wear our hijab willingly. In fact, we like wearing it, so please stop feeling sorry for us and trying to “liberate” us.
While it cannot be said that every woman who wears the hijab does so willingly, we felt that too much attention has been given to that side of the story. There has been so much negativity and so many stereotypes surrounding Muslim women and the hijab, and the last few years have seen fierce political attacks and discriminatory governmental policies preventing Muslim women from dressing the way they would like to. These things cause us pain, to say the least, and we felt that IGIC would help fill a desperate void.
Our mission statement reads as follows:
I Got it Covered is an online network that personifies women everywhere who willingly respond, with love and dedication, to the command of their Lord in wearing the hijab. Through the stories and voices of these women, IGIC exposes the realities behind covering, correcting stereotypes about hijab and becoming a source of inspiration and support for women who wish to pursue wearing it. Doing so, IGIC hopes to create bridges of education, respect and understanding, ultimately sharing the beauty of Islam with the world.
IGIC is a new endeavor, and we invite you to join us in fulfilling our mission. Whether you’re looking for support or would like to give it, or just have a personal story about hijab to tell, we’d love to hear from you! If you’d like to write for IGIC, please look over our submission guidelines. For contact details, visit the contact page. Your comments, advice and suggestions are all welcome.
We ask Allah to make us a source of benefit to the world, and to make the best of our deeds our last. Ameen.






Hadith ~ Piety is good manner

In the name of Allah, Most Gracious, Most Merciful.



An-Nawwas bin Sam'an (MAPH) reported: The Prophet (SAWS) said: "Piety is good manner, and sin is that which creates doubt and you do not like people to know of it."
Wabisah bin Ma'bad (MAPH) reported: "I went to Messenger of Allah (SAWS) and he asked me: "Have you come to inquire about piety?" I replied in the affirmative. Then he said: "Ask your heart regarding it. Piety is that which contents the soul and comforts the heart, and sin is that which causes doubts and perturbs the heart, even if people pronounce it lawful and give you verdicts on such matters again and again." [Ahmad and Ad-Darmi]
SAWS: May Allah exalt his mention and protect him from imperfection
MAPH: May Allah be pleased with him


Commentary:
Islam lays much importance on courteous behavior and also explains and stresses its different aspects. To meet people cheerfully, to avoid causing trouble to them, rather to try to make things convenient and comfortable to them, to do social service, to extend co-operation to others in good things and to be generous, and to like for others also that you like for yourself, are all forms of moral behaviour that are counted as virtues in Islam. All that is bad and vicious is considered by Islam as sinful. This Hadith describes two signs of sin. First, man should feel scruples in committing it. Second, one does not like others being informed about it. The Hadith further tells us that human nature (fitra) leads man to correct conclusions and keeps away from evils, provided it has not been deformed by the environment and bad company.
There are two points about the 2nd Hadith. First, it is one of the miracles of the Messenger of Allah (SAWS) who discovered the nature of the question before it was put to him. Second, man's heart is the biggest guide to him and he, therefore, should keep his heart illuminated with the light of Faith so as to continue receiving guidance from it.

Riyaadiss-Saliheen (The Meadows of the Righteous)
By Imam An Nawawi
Hadith 1: Chapiter 68, Page 193, No 590
Hadith 2: Chapiter 68, Page 193, No 591

Prayer

Bismillah Walhamdulillah Was Salaatu Was Salaam 'ala Rasulillah

As-Salaam Alaikum Wa-Rahmatullahi Wa-Barakatuhu


Narrated Abu Huraira (Radi-Allahu 'anhu):
The Prophet (Sallallahu 'Alaihi Wa Sallam) said, "Allah will give shade, to
seven, on the Day when there will be no shade but His. (These seven persons
are) a just ruler, a youth who has been brought up in the worship of Allah
(i.e. worships Allah sincerely from childhood), a man whose heart is
attached to the masjid (i.e. to pray the compulsory prayers in the masjid
in congregation), two persons who love each other only for Allah's sake and
they meet and part in Allah's cause only, a man who refuses the call of a
charming woman of noble birth for illicit intercourse with her and says: 'I
am afraid of Allah', a man who gives charitable gifts so secretly that his
left hand does not know what his right hand has given (i.e. nobody knows
how much he has given in charity), and a person who remembers Allah in
seclusion and his eyes are then flooded with tears."

Bukhari Vol. 1 : No. 629




Ma'asalaam

Tell your friends about dailyhadith.co.uk - currently 18,500+ subscribers
worldwide.

Visit the community forum at http://www.dailyhadith.co.uk/forum to discuss
Hadith and Islamic topics.

Visit http://audio.dailyhadith.co.uk for MP3 lectures to listen and/or
download. You will need the latest version of Adobe Flash Player.

জীবনের লক্ষ্য কি???


ক্ষণস্থায়ী আমাদের জীবন।

জন্ম নেয়ার ক্ষেত্রে সিরিয়াল আছে। দাদা,বাবা,ছেলে,নাতি। কিন্তু কার কখন মৃত্যু তার কোন গ্যারান্টি নাই। বৃদ্ধ বাবা বেচে থাকতেই ছেলে মারা যায়।

ক্ষণস্থায়ী এই জীবনের জন্য আমাদের সব আয়োজন। অথচ মৃত্যু পরবর্তী অনন্ত জীবনের ব্যাপারে আমরা উদাসীন।
 জন্মিলে মরিতে হবে সবাই স্বীকার করি কিন্তু মৃত্যুর কথা ভুলে দুনিয়া নিয়ে busy থাকি।

এই দুনিয়ার ইজ্জত, বেইজ্জতি, সুখ, দুঃখ সবই মৃত্যুর সাথে সাথেই শেষ হয়ে যাবে।আর মৃত্যুর পরের জীবনের (আখিরাতের) ইজ্জত,বেইজ্জতি, সুখ,দুঃখ চিরস্থায়ী। আখিরাতে হিসাবের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো অবস্থায় নিজ নিজ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যখন তার বিরুদ্ধে তার পাপকর্মের সাক্ষী দিবে তখন বেইজ্জতি হবে সীমাহীন।

আল্লাহ পাক আমাদের হেফাজত করুন। মৃত্যুর আগেই আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য বোঝার তওফিক দান করুন। সেই অনুযায়ী আমল করার তওফিক দান করুন। আমীন।

www.mahbub.info.ms



যে চৌদ্দটি আমলে রিজিক বাড়ে

লিখেছেনঃ আলী হাসান তৈয়ব


প্রথম আমল : তাকওয়া ও তাওয়াক্কুল অবলম্বন করা

দ্বিতীয় আমল : তাওবা ও ইস্তেগফার করা

তৃতীয় আমল : আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা

চতৃর্থ আমল : নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদ পড়া

পঞ্চম আমল : আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা

ষষ্ঠ আমল : বারবার হজ-উমরা করা

সপ্তম আমল : দুর্বলের প্রতি সদয় হওয়া বা সদাচার করা

অষ্টম আমল : ইবাদতের জন্য ঝঞ্ঝাটমুক্ত হওয়া

নবম আমল : আল্লাহর রাস্তায় হিজরত করা

দশম আমল : আল্লাহর পথে জিহাদ

একাদশ আমল : আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা

দ্বাদশ আমল : বিয়ে করা

ত্রয়োদশ আমল : অভাবের সময় আল্লাহমুখী হওয়া এবং তার কাছে দু‘আ করা

চতুর্দশ আমল : গুনাহ ত্যাগ করা, আল্লাহর দীনের ওপর সদা অটল থাকা এবং নেকীর কাজ করে যাওয়া।


প্রতিটি আমল সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন


পরিশেষে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের এসব উপায়-উপকরণ যোগাড় করে রিজিক তথা হালাল উপার্জনে উদ্যোগী ও সফল হবার তাওফীক দান করেন। তিনি যেন আপনাদের রিজিক ও উপার্জনে প্রশস্ততা দান করেন। আমীন।