এই লেখা সব মায়েদের জন্য ডেডিকেটেড

কিছু কথা যা সম্ভবত প্রতিটা বাচ্চার মাকে কখনো না কখনো শুনতে হয়-

* বাচ্চাকে ঠিকমতো খাওয়াও না কেন? সাস্থ এমন কেন?
* বাচ্চা বেশিদিন অসুস্থ থাকলে, বাচ্চা এখনো সুস্থ হয়না কেন? ভালোমতো দেখাশোনা করনা?
* বাচ্চা নিয়াও ঘরের সব কাজ করতে হবে। আর মানুষের বাচ্চা নাই? ওদের ঘর দেখো কেমন গুছানো (ইয়ে, মেহমান আসার আগে সবাই ঘর গুছিয়েই রাখে!)
* বাচ্চা ব্যথা পেলে, কেমন মা তুমি বাচ্চাকে দেখে রাখতে পারোনা?
* বাচ্চার কারণে কোন কাজ করতে না পারলে, নিজে কাজ করতে পারোনা বাচ্চার নাম দিওনা।
* বাচ্চা যদি ভুল কিছু করে, কেমন মা তুমি বাচ্চাকে সঠিক শিক্ষা দিতে পারোনা?
* সাথে বোনাস হিসেবে আছে অযাচিত উপদেশ, বাচ্চাকে এভাবে খাওয়াবেন, এভাবে ঘুম পারাবেন, এভাবে গোসল দিবেন, এভাবে এটা করবেন এভাবে সেটা করবেন! আলহামদুলিল্লাহ মানুষের জ্ঞান দেওয়ার অভাব নাই।যেন মা একাই কিছু জানেনা কিন্তু যার এখনো বাচ্চাই হয়নি সেও মায়ের চেয়ে বাচ্চার ব্যাপারে এক্সপার্ট।

মা অনেক কিছুই ভুল করতে পারে,সঠিকটা জানানো সেক্ষেত্রে অবশ্যই উচিৎ তবে তা এমনভাবে না যেন মা কিছুই জানেনা এবং মায়ের মনে কষ্ট দেয়।সুন্দর করে বলা যায়,আচ্ছা আপু আপনি তো এভাবে করেন,অমুক ভাবে করে দেখবেন ইন শা আল্লাহ আরও ভালো ফল পাবেন।

উপরে যা বললাম এসব আসলে মায়েদের যেসব কথা শোনা লাগে তার মাত্র ১০%। হ্যা মাত্র ১০%! বাচ্চা যত বড় হতে থাকবে বাচ্চার প্রতিটা ভুলের জন্য মা দায়ি। মা ছাড়া যেন সবারই বাচ্চার প্রতি ভালোবাসা বেশি।মা শুধু জন্ম দিবে, দুধ খাওয়াবে আর উলটাপালটা বাচ্চা পালবে!

এখন আসি ইসলামে মায়ের মর্যাদার উপর কি বলে। এই হাদিসটা আমরা সবাই জানি সন্তানের উপর মায়ের অধিকার তিনবার বলার পরে বাবার অধিকার। আর বাকিদের কথা তো তাহলে বাদই দিলাম।আল্লাহ যেখানে বাবাকেও মায়ের অধিকারের চেয়ে অনেক কম অধিকার দিয়েছেন তাহলে নিশ্চয় কোন কারণ আছে।মায়ের অধিকার এতো বেশি কেন? একজন মা তার বাচ্চাকে যেভাবে ভালোবাসে, যেভাবে বাচ্চার ভালো চায় তার ধারের কাছে দুনিয়ার কেও চাইতে পারেনা।আই রিপিট,কেও চাইতে পারেনা।
 বাচ্চার কোন সমস্যা হলে মা বাচ্চার মুখের দিকে তাকিয়েই বুঝে ফেলে, বাচ্চার অসুস্থতাতে মা যেভাবে ব্যাকুল হয়ে রাত জেগে সেবা করে,আল্লাহর কাছে দুয়া করে সেভাবে কি আর কেও পারবে? এজন্যেই আল্লাহ সন্তানের জন্য মায়ের দুয়া দ্রুত কবুল করেন।আর কারও দু আ কি এভাবে দ্রুত কবুল হয় সব সময়? আর কার পায়ের নিচে আল্লাহ সন্তানের বেহেস্ত রেখেছেন? এতো বড় মর্যাদা কি আল্লাহ এমনি দিয়েছেন?

একজন মুসলিম মা তার সন্তানকে আল্লাহ প্রদত্ত আমানত হসেবে দেখে।ভালোবাসার পাশাপাশি আল্লাহর বান্দাকে আল্লাহর জন্য তৈরি করা তার দায়িত্ব। যে দায়িত্বে অবহেলার কারণে তাকে আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে। সেই মা নিশ্চয় কখনোই নিজের অক্ষমতাকে সন্তানের নামে চাপিয়ে দিবেনা। নিশ্চয় সে তার সন্তানের ব্যাপারে অবহেলা করবেনা। কিন্তু তবুও মায়েদের কথা শোনা লাগে। আমাদের মায়েদেরওশুনতে হয়েছে,তাদের মায়েদেরও, তাদের মায়েদেরও। যুগ যুগ ধরে সব দোষ সব ভুল শুধু মায়েদেরই, আর মা ছাড়া সবাই বাচ্চাকে বেশি ভালোবাসে!! এমনকি যারা এই অবস্থা ফেইস করেছেন তারাও অন্য মায়েদের খোঁটা দিয়ে থাকেন!

বাচ্চা নিয়ে মাকে কথা শোনানোর আগে একবার ভাববেন যে যাকে বলছেন সে বাচ্চার মা।৯ মাস বাচ্চাকে পেটে নিয়ে সে কষ্ট করেছে, বাচ্চার জন্য রাতের পর রাত জেগেছে, নিজের শখ আহ্লাদ, সুবিধা,ইচ্ছা সব বাদ দিয়েছে সন্তানের ভালোর জন্য।সন্তান জন্মের পর আপনি তার বাবা, মামা, খালা, দাদা দাদি নানা নানি ইত্যাদি হয়েছেন।কিন্তু বাচ্চা পেটে আসার সাথে সাথেই মা মা হয়েছেন। ভুল করলে অবশ্যই সঠিকটা ধরিয়ে দিবেন তবে তা মাকে মা হিসেবে সম্মান করে। বাচ্চার কেয়ারটেকার হিসেবে না।

[এই লেখা সব মায়েদের জন্য ডেডিকেটেড। আমি লিখেছি বলে আবার এটাকে আমার ঘরের চিত্র ভাববেন না। আমি সবার থেকে দূরে একা থাকি।তবে এমন মা খুঁজে পাওয়া যাবেনা যাকে কারও থেকে কথা শুনতে হয়নি।সেটা পাশের বাসার অবিবাহিত পিচ্চি মেয়ে হলেও হতে পারে!!]
>>কালেক্টেড পোস্ট<<

আল্লাহ ক্ষমাশীল, তবে ন্যায়বিচারকও বটে |

আমার পরিচিত আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধবের বেশিরভাগের জন্মই মুসলিম পরিবারে। সবাই কমবেশি ইসলামের বেসিক রুলগুলো জানেন।

প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, রমাদানের রোজা, নারীদের জন্য হিজাব, পুরুষদের জন্য দাড়ি, নারী-পুরুষ অবাধে মেলামেশা ও বন্ধুত্ব না করা, গান-মুভি-সিরিয়াল না দেখা, সামর্থ্য থাকলে যাকাত আদায় ও হজ্জ্ব পালন--এই কাজগুলো ইসলামের একেবারেই বেসিক এগুলো সবাই জানেন। এছাড়াও মিথ্যা না বলা, সুদ-ঘুষ না নেওয়া, কথা দিয়ে কথা রাখা- এই বিষয়গুলো তো আমাদেরকে ছোটোবেলা থেকেই শেখানো হয়। অথচ মানে কজনা!

মুসলিম হয়ে বড়ো হয়ে ওঠা বেশিরভাগ লোকই এখন এসব মেনে চলছেন না। এমনকি মানার চেষ্টাও তাদের মধ্যে নেই।

মানার চেষ্টা নেই - কীভাবে বুঝি?

যখন দেখা যায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়াশোনা, আড্ডা, সিনেমা বা খেলা দেখার জন্য ব্যয় করা হচ্ছে, কিন্তু সঠিক সময়ে সালাত আদায় করা হচ্ছে না। "সময় পাই না" এক্ষেত্রে খোড়া যুক্তি বলাই বাহুল্য!

অফিস, জার্নি, বাচ্চাদের স্কুল বা ফাংশনের জন্য ভোরবেলায় উঠে যেরে পারছেন, কিন্তু ফজরের সালাতটা নিয়মিত মিস হচ্ছে। "ঘুম ভাঙতে চায় না" কথাটা এক্ষেত্রে ফালতু অজুহাত ছাড়া আর কিছু?

এরকম আরও অনেক উদাহরণ দেওয়া যাবে, অত উদাহরণ দিয়ে লেখাটা বড়ো আর বিরক্তিকর করতে চাই না, সহজ কথা হলো- আমরা যদি নিজেদের সাথে ধোকাবাজি না করি, তাহলে বুঝতে পারবো বেসিক এই ইবাদতগুলোর ব্যাপারেও আমরা কত্তো উদাসিন! বড়ো বড়ো কঠিন ইবাদতের কথা নাহয় বাদই দিলাম, ইসলামের ন্যূনতম কাজগুলিও আমরা ঠিকমত করতে চাই না। আমাদের অন্তর থেকে যেন আখিরাতের ভয়, বিশ্বাস উঠে গেছে! অথচ মুখে বলছি আমরা আখিরাতে বিশ্বাস করি, আমরা মুসলিম....

ইসলাম সম্পর্কে আমরা অনেকেই কম জানি এটা সত্যি, কিন্তু অজ্ঞতা আমাদের জন্য যতোটা না সমস্যা, তারচেয়েও বড়ো পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের জ্ঞান! আমরা অনেক কিছুই জানি, জেনেও মানছি না। আমাদের সমস্যা আমরা আল্লাহকে ভয় পাচ্ছি না। আমরা আখিরাতের কথা ভুলে যাচ্ছি। আল্লাহর দেয়া বিধানগুলোকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে চলছি, এমনকি পরদিন থেকে মানার নিয়ত পর্যন্ত করছি না! অনেকে তো এটাও বলেন যে, মন থেকে আসলে করব, বা আল্লাহ যেদিন আমার মন বদলায় দিবেন সেদিন সবই করব। সুবহান আল্লাহ! আল্লাহ তার অন্তরই বদলান, যে নিজে আল্লাহর দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। নিজের মনে ভালো কাজের নিয়্যত করুন, আল্লাহকে ভয় করুন, আল্লাহ তা'আলার কাছে সাহায্য চান এবং ইসলাম পালনে আপনার চেয়েও এগিয়ে থাকা লোকদের সাথে বেশি সময় কাটান। দেখবেন আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করবেই করবে।

আখিরাতে আমাদের বিশ্বাস কতোখানি এটা আসলে প্রমাণ হয় আমাদের কাজের মাধ্যমে। নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদেরকে আমাদের কাজ, ইবাদত, আমল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন। ইসলামের হুকুমত জেনেও সেগুলো কেন মানি নাই জিজ্ঞেস করবেন। আমরা সেদিন কী জবাব দেব? আল্লাহর কাছে কি আমাদের জবাব গ্রহণযোগ্য হবে? মনে রাখতে হবে, আল্লাহ ক্ষমাশীল, তবে আল্লাহ ন্যায়বিচারকও বটে। টগবগে যৌবনে যে জন কষ্ট করে ইসলাম পালন করে আর যে লোক সারাজীবন আল্লাহর দ্বীনকে কঠিন বলে এড়িয়ে গেছে, তাদের দুজনের বিনিময় কি কখনও সমান হয়, নাকি সমান হওয়ার?

>কালেক্টেড পোস্ট<

বন্ধু! তুমি গুনাহ ছাড়তে পারছো না?

তাওবা!

নিজের উপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছে আবিদের। আজ এক বছর ধরে এভাবেই চলছে। এক মাস নিজের ঈমান যদি পাহাড়ের চূড়ায় থাকে, পরবর্তী মাসে তা পাহাড়ের তলদেশে নেমে যায়।

কতবারই না শপথ করেছে আর টিভি দেখবে না। চ্যানেলের পর চ্যানেল ঘুরাবে না। চিরদিনের জন্যেই ছেড়ে দেবে সমস্ত গুনাহ। কিন্তু সে কিছুতেই নিজেকে বাগে আনতে পারছে না।

এই পর্যন্ত দশ-বারো বার তাওবা করেছে। প্রতিবারই তার এই তাওবা সর্বোচ্চ এক মাস স্থায়ী হয়েছে। মাস খানিক নামাজ ছাড়ে না, মসজিদে গিয়ে পড়ারও চেষ্টা করে, ক্বিমিয়ায়ে সাআদত থেকে শেখা ' আল্লাহু হাজিরী, আল্লাহু নাজিরী, আল্লাহু মায়ী' - এই ধ্যানের সাথে থাকার চেষ্টা করে। আল্লাহ তায়ালা আমার সামনে উপস্থিত, তিনি আমাকে দেখছেন, তিনি আমার সাথে আছেন' - এই ধ্যান জারি থাকে পথ চলার সময়, গাড়িতে, এমনকি ক্লাসে লেকচারের ফাঁকেও।
ঐ সময়গুলোতে অন্তরের অবস্থা থাকে অন্যরকম। সকালে তরজমার সাথে তিলাওয়াতের সময় চোখ দিয়ে পানিও ঝড়ে।

আশ্চর্য!

সেই মানুষটাই কিভাবে যেন আবার সব ছেড়ে দেয়। পুরো মাস টিভি না দেখা ছেলেটা হঠাৎ করে কোন ক্রিকেট-ম্যাচ দেখতে গিয়ে আবার নিজেকে হারিয়ে ফেলে। একা একা খেলা দেখার সময় খেলার বিরতিতে চ্যানেল ঘুরাতে গিয়ে মশগুল হয়ে যায় এমন কিছুতে, যা তার অভিপ্রেত নয়।

হঠাৎ এই পদস্খলন তাকে চূড়া থেকে তলানিতে ফেলে দেয়। কিভাবে যেন আবার সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। নামাজ কাজা হওয়া প্রতিদিনের ব্যাপারে পরিণত হয়। দিলের ভেতরে গুনাহর কালিমা সে স্পষ্ট টের পায়।

এভাবে চলতে চলতে মাস দু'মাস পর আবার তার বোধোদয় হয়। শো-কেস থেকে দিল স্পর্শ করে এমন একটা কিতাব বের করে নেয়। রুমের দরজা বন্ধ করে একান্তে সালাতুত তাওবার জন্যে দাঁড়ায়। দু'হাত তুলে নিজের সমস্ত অপরাধের ফিরিস্তি আল্লাহ তায়ালার সামনে তুলে ধরতে থাকে। শুকনো চোখ দিয়ে অনুতাপের অশ্রু ঝরাতে চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু শক্ত দিলটা যে পাথর হয়ে আছে।

এক ধরনের অপরাধবোধে অন্তরটা ছেয়ে থাকে। নিজেকে দোষী মনে হয়। কয়েকবার এভাবে একান্তে তাওবার জন্যে দাঁড়ায়।জাহান্নাম ও কবরের আযাবের কথা নিজেকে বার বার শুনাতে থাকে। অবশেষে তার পরম আরাধ্য অনুতাপের কান্না অশ্রু হয়ে নামতে থাকে। তার মনে হতে থাকে, অন্তরের সব ময়লাগুলো ধুয়ে ধুয়ে পড়ছে। যখন মুনাজাত শেষ করে দু'হাত মুখে বুলিয়ে নেয়, মনে হয় গুনাহগুলো ধুয়ে গেছে। একরাশ প্রশান্তি সে অন্তরে টের পায়। গতকালের পাপী মানুষটা হঠাৎ বদলে যায়।

আবার মাসখানিক নামাজের পাবন্দী, তিলাওয়াতে অশ্রু ঝরানো, 'আল্লাহু হাজিরী' ধ্যানে পথচলা। চব্বিশঘন্টা মাওলার ধ্যানে কাটানোর চেষ্টা। মাসখানিক পর আবার পদস্খলন।

সে যেন ঐ বানর, যে তৈলাক্ত বাঁশ বেয়ে উঠছে আবার পিছলে নেমে যাচ্ছে। দু'হাত উঠে, আবার তিনহাত নেমে আসে।
কিন্তু একটা আমল সে জারি রেখেছে। সম্বিৎ ফিরে পাওয়া মাত্র তাওবা। একদম পরিপূর্ণ তাওবা।

কোন কিতাব পড়ে কিংবা কোন রেকর্ডকৃত বয়ান শুনে দিল নরমের চেষ্টা, এরপর সালাতুত তাওবা, নিজের গুনাহর ফিরিস্তি আল্লাহকে শুনানো, করজোরে মাফ চাওয়া, আর না করার অঙ্গীকার, নিজের বার বার ওয়াদাভঙ্গের জন্য অনুতাপ, সামনে তাওবার উপর অটল থাকার জন্যে সাহায্য প্রার্থনা। এভাবে উত্থান আর পতনেই চললো বছর দুয়েক। হঠাৎ মাওলা তার উপর কৃপা করলেন। যেন হিদায়াতের বৃষ্টি নামলো তার উপরে। বন্ধুরা একদিন ধরে তাকে তিনদিনে নিয়ে গেলো। এই তিনদিন তাকে একদম বদলে দিলো। এমনকি বদলে দিলো তার চেহারা, তার পোষাক-আশাক।

আশ্চর্য!

 গুনাহর উপর সে অনুতপ্ত হয়েছে ঠিকই। কিন্তু দাঁড়ি রাখবে, সুন্নতি লিবাস ধরবে - এ কখনও কল্পনাই করেনি।
আলহামদুলিল্লাহ, আজ পাঁচ বছর হতে চললো আবিদ টিভি দেখে না। ক্রিকেট-ম্যাচ দেখার সে আসক্তি কবেই গেছে। প্রথম প্রথম পেপারে ম্যাচের স্কোর জেনে নিতো। এখন তারও প্রয়োজন পড়ে না।
বিশ্বকাপ ফুটবল গেছে, বিশ্বকাপ ক্রিকেট ও এশিয়া কাপ গেছে। তার টিভিতে ম্যাচ দেখার ইচ্ছেটুকুও জাগে নি।
আবিদ বুঝতে পারে, এ কেবলই তার বারংবার তাওবার ফল। যে তাওবাগুলো সে বার বার ভেঙ্গেছে, কিন্তু আশাহত হয় নি। মাস দু'মাসের গাফলতির পর আবার তাওবা করেছে, নামাজ ধরেছে, দিলটা নরম করার চেষ্টা করেছে।
হয়তো এক তাওবায় তার পরিপূর্ণ ওয়াশ হয় নি। কিন্তু তার বারংবারের হাহুতাশ ও অনুতাপ রব ঠিকই ভালোবেসেছেন। তাই অবশেষে তাকে কাছে টেনে নিয়েছেন।

বন্ধু! তুমি গুনাহ ছাড়তে পারছো না?
কিন্তু সাবধান, বারংবার তাওবার কথা ভুলে যেও না!
আত্ তায়িবু মিনায যামবি কামান লা যাম্বালাহু।

সুত্র 

ধর্মীয় অপব্যাখ্যা ও বিভক্তির এই সময়ে ব্যক্তিগত অনুভূতি মাত্র

মসজিদ ও এখন কালো টাকা সাদা করারর জায়গা হয়ে যাচ্ছে।।।

একজন ইমাম সাহেব কেও পাইলাম না যিনি খুতবার পরে মসজিদে দান করার কথা বলার সময় বলেন.... "আপ্নারা আপনাদের হালাল আয় থেকে মসজিদে দান করুন"....
সবাই খালি চায় মসজিদে দান করা হউক।।

 আর পাপীরা ভাবে এই চান্সে আমার গুনাহ কম্বে, যাই পাপের কামাইয়ের কিছু অংশ দান করি...
তাই যেই এলাকায় দুর্নীতি বেশি সেই এলাকার মানুষ দান করে বেশি আর সেই দানে মাস্আল্লাহ সকল উপাসনালয় ফাইভ স্টার অট্টালিকায় পরিনত...

ঢাকার এইসব ফাইভ স্টার মসজিদগুলোতে বসলে কবর হাশরের উপলব্ধি তেমন একটা আসেনা।
 মোনাজাতে চোখে জলও আসে না, চকচকে টাইলসে রিফ্লেক্ট হয়ে ঝাড়বাতির লালনীল আলোটাই আসে....

(ধর্মীয় অপব্যাখ্যা ও বিভক্তির এই সময়ে ব্যক্তিগত অনুভূতি মাত্র,
একই পর্যবেক্ষণ অন্যান্য উপসানালয় এর ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য এবং যা দুঃখজনক হইলেও সত্য)

কালেক্টেড 

বাবা-মার একটু সময় হবে কি প্লিজ!

 নোমান আলী খানের একটি আলোচনা:  আপনার বাচ্চার জন্য অনেক বড় উপকার হতে পারে।

*********************বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম*************************

টিনেজারদের বাবা-মারা প্রায় সময়ই আমার কাছে আসেন। "জানেন, আমার ছেলেটা না, আমার কথা শোনেই না আজকাল। আপনি ওর সাথে একটু কথা বলবেন?" যেন আমি কোনো মহৌষধ সাথে নিয়ে ঘুরি! যেন সেই ছেলেটা আমার কাছে আসলে আমি ওর গায়ে ফু দিয়ে দেব এভাবে। .. আর সাথে সাথেই সে দারুন লক্ষী ছেলে হয়ে যাবে! "একটু যদি কথা বলতেন। ..." না, বরং আপনি আপনার ছেলের সাথে কথা বলছেন না কেন? কোথায় ছিলেন আপনি যখন তার সাথে কথা বলার প্রকৃত সময় ছিল?

আজকে আমি আপনাদের সাথে বাবা-মাদের নিয়ে একটু কথা বলব, তারপর বলব স্বামী-স্ত্রীদের নিয়ে। আজকে এই দু'টো জিনিস নিয়ে বলারই সময় আছে। দু'টো খুবই মৌলিক সম্পর্ক: একটা আপনার সন্তানদের সাথে, আরেকটা আপনার জীবনসঙ্গীর সাথে। এই দু'টো সম্পর্কের ব্যপারেই আমরা খুব বেসিক কিছু ব্যপার নিয়ে আলোচনা করব।
আপনার সন্তান যখন ছোট, খুবই ছোট, ধরুন যখন তাদের বয়স পাঁচ, ছয়, সাত, দুই, তিন, চার, তখন তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন জিনিসটা বলুন তো? আমার নিজের পাঁচটা বাচ্চা আছে, তাই আমি খুব ভালো বলতে পারব এ ব্যপারে। তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার সমর্থন। তারা আপনাকে গর্বিত করতে চায়। তারা যা যা করেছে সব আপনাকে দেখাতে চায়। ধরুন, আমি জরুরী কোনো কাজের আলাপ করছি ফোনে, জরুরী একটা ফোন, আর এ সময় আমার দুই বছরের ছেলে এসে বলবে, "আব্বা আব্বা আব্বা আব্বা আব্বা।" ..."ভাই, একটু লাইনে থাকেন" ... "কি হয়েছে?" ... "হে হে হে" ব্যস! আমি আবার ফোনালাপে ফিরে গেলাম, সে আবার আমাকে ডাকা শুরু করল। আমি বললাম, "আচ্ছা ঠিক আছে, কি হয়েছে বলো" ... "আমি তোমাকে একটা জিনিস দেখাবো" ... "কি দেখাতে চাও বাবা?" ... ব্যস এটাই! কিন্তু আমার এ ক্ষেত্রে কি করা উচিত বলুন তো? "আল্লাহ! দারুন তো! আবার করো দেখি" ... "আমি আপনাকে পরে ফোন দিচ্ছি" ... আপনার সন্তানরা যা করে আপনার উচিত তার কদর করা। এটা তাদের পরম আরাধ্য। অন্য যে কোনো কিছুর চেয়ে বেশি তারা এটাই চায় আপনার কাছে।

আমার তিনটি মেয়ে আছে। আর ছেলে আর মেয়েদের মধ্যে পার্থক্য কি জানেন তো? ছেলেরা এক জায়গায় বসে থাকতে পারেনা, আর মেয়েরা কথা বলা থামাতে পারে না। তো আমি আমার মেয়েদের স্কুল থেকে যখন নিয়ে আসি - একজন ক্লাস ওয়ানে আরেক জন ক্লাস থ্রিতে পড়ে - আমি ওদের স্কুল থেকে বাসায় নিয়ে আসি ২৫ মিনিট গাড়ি চালিয়ে। আর এই পুরোটা সময় তারা কি করে জানেন? "জানো আজকে ক্লাসে কি হয়েছে? আমরা একটা ডাইনোসর রং করেছি, এটা করেছি, ওটা করেছি, প্রথমে আমি বেগুনী রং করলাম, তারপর ভাবলাম একটু সবুজ রং-ও দেই" - এভাবে বলতে থাকলো তো বলতেই থাকলো। থামার কোনো নামই নেই। থামা সম্ভবই না ওদের পক্ষে। আর আমাকেও মনযোগ দিয়ে সেটা শুনতে হবে। শুনতে হবে আমাকে। আমি বললাম, "ও তাই? নীল রং দাও নি?" .."না অল্প একটু নীল দিয়েছি"। আমাকে মনোযোগ দিতে হবে। আর আমি এগুলো কেন বলছি জানেন? আচ্ছা দাঁড়ান, আগে অন্য একটা গল্প বলে নেই। তাতে আপনাদের ঘুমটাও একটু কাটবে।

এই গল্পটা আমি প্রায়ই বলি। আমার বড় মেয়েটা, হুসনা, যখন ছোট ছিল তখন আঙ্গুল দিয়ে ছবি আঁকতে খুব পছন্দ করত। সে তার আঙ্গুলগুলো রঙের মধ্যে চুবিয়ে তারপর সেগুলো দিয়ে হাবিজাবি আঁকত। তো একদিন এক বিশাল কার্ডবোর্ড নিয়ে সে আমার কাছে হাজির! সেখানে নীল রং দিয়ে বিশাল কি যেন আঁকা, আগামাথা কিছুই বুঝলাম না। সে বলল, "আব্বা, দেখো আমি কি এঁকেছি?" আর আমি বললাম, "বাহ, দারুন! একটা পাহাড়!" আর সে বলল, "না, এটা তো আম্মু!" আমি বললাম, "খাইছে!" "আম্মুকে এই কথা বোলো না কিন্তু"
তবে যে কথাটা আমি বলতে চাচ্ছি তা হলো ওরা আপনার সমর্থন পাওয়ার জন্য ব্যাকুল। ব্যাকুল তারা এর জন্য। কিন্তু আপনাদের মধ্যে যাদের সন্তানরা টিনেজার, তাদের যখন স্কুল থেকে আনতে যান, এমন কি হয় যে তারা গাড়িতে উঠে কথা বলা থামাতে পারছে না? হয় এমন? "জানো আজকে স্কুলে কি হয়েছে? টিচার এটা বলেছে, ওটা করেছে, পরীক্ষায় 'এ' পেয়েছি"। না! তারা একদম চুপ! বরং আপনিই বলার চেষ্টা করবেন, "কেমন গেল দিন?" .."মোটামুটি".."কি করলে সারাদিন?" .. "কিছু একটা".. "আজকে কোথায় যাবে?" .. "যাব কোথাও"। কথা বলেই না তারা! তাদের কথা বলানো অনেকটা পুলিশের আসামীকে জেরা করার মত ব্যপার। আপনাকে তারা কিছুই বলে না। আর যখন আপনি তাকে প্রশ্ন করছেন, তখন হয়ত সে তার বন্ধুকে এস,এম,এস পাঠাচ্ছে, "আব্বা আজকে বেশি প্রশ্ন করছে! ঘটনা কি? তুমি ওনাকে কিছু বলেছ নাকি?" ... যা আমি বলতে চাচ্ছি, তা খুবই সহজ। ছোট বয়সে আপনার বাচ্চারা আপনার মনোযোগ পাওয়ার জন্য পাগল থাকে। আর যখন তারা বড় হবে, আপনি তাদের মনোযোগ পাওয়ার জন্য পাগল হবেন।

কিন্তু তারা যখন ছোট থাকে তখন যদি আপনি তাদের মনোযোগ না দেন - তারা খেলনা নিয়ে আপনার কাছে আসলে যদি বলেন, "ঘরে যাও! আমি সংবাদ দেখছি", "খেলা চলছে। এই, তুমি ওকে একটু সরাও তো!", "সারাদিন অনেক কাজ করেছি, এখন ওকে সামলাতে পারব না", "বাসায় আমার বন্ধুরা এসেছে, কি বলবে ওরা? যাও ঘুমাতে যাও। যাও এখান থেকে" - আপনি যখন ওদের সাথে এমন আচরণ করবেন, যেন তারা আপনার জন্য প্রতিবন্ধকতা, আপনার কাজ হচ্ছে চাকরি করা, আর বাসায় এসেছেন শুধু বিশ্রাম নিতে। না রে ভাই! আপনার কাজ শুরু হয়েছে তখনই যখন আপনি ঘরে ফিরেছেন। সেটাই আপনার আসল কাজ। চাকরিতে যে কাজ করেছেন সেটা শুধুমাত্র এজন্য যেন ঘরের আসল কাজটা ঠিকমত করতে পারেন।

একজন প্রকৃত বাবা হন। উপস্থিত পুরুষদেরকে বলছি। একজন প্রকৃত বাবা হন। আপনার সন্তানদের সাথে সময় কাটান। তারা শুধু এ জন্য নেই যে আপনি তাদের স্কুলে ছেড়ে আসবেন, আর বাসায় ফিরে শুধু ঘুমাতে যাবেন, কোনো ঝামেলায় যাবেন না, তাদের সাথে কথা বলবেন না। এবং তাদের সাথে কথা না বলার সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে তাদের একটা আইপড টাচ অথবা আইফোন ধরিয়ে দিন, তাদের নিজস্ব রুমে একটা কম্পিউটার বা ল্যাপটপ দিয়ে দিন হাই-স্পিড ইন্টারনেট সহ। তাহলে আপনাকে তাদের চেহারাও দেখা লাগবে না। তারা সারাদিন তাদের ঘরে থেকেই ফেসবুকিং করতে থাকবে, অনলাইনেই নিজেদের জন্য নতুন বাবা-মা খুঁজে নিবে না হয়।
সিরিয়াস্লি বলছি। প্রকৃত বাবা হন। প্রকৃত মা হন। আপনার মাতৃত্ব বা পিতৃত্বের বদলি হিসেবে এইসব জিনিসকে আসতে দিয়েন না। কারণ যদি তা দেন, তাহলে ওরা যখন স্বাবলম্বী হয়ে যাবে তখন বেশির ভাগ বাবা-মার কি হয় জানেন? আপনাদের বেশিরভাগের ছেলেমেয়েরা আপনাদেরকে দেখে কতগুলো টাকার মেশিন হিসেবে। শুধুমাত্র কখন তারা আপনাদের কাছে আসে? - "বাবা, আমাকে ৫ ডলার দাও তো" জানি আজকাল কেউ আর ৫ ডলার চায় না, কমপক্ষে ২০ ডলার। কিচ্ছু বাচ্চাদের চিনি যারা এত কম টাকা দেখেইনি, ৫ ডলারের নোট্ চিনেই না তারা। "আমাকে ২০ ডলার দাও তো", "শপিং মলে যেতে চাই, আমাকে একটু পৌঁছিয়ে দাও তো", "বন্ধুদের বাসায় যাই?" "এটা করতে পারি?" "ওটা কিনতে পারি?" যখন তাদের কোনো কিছুর দরকার তখন তারা আপনার কাছে আসে। এর বাইরে আপনি তাদের খুঁজে পাবেন না। আর যখন তারা বড় হবে, নিজেরাই একটু আধটু কামাই করতে পারবে, তখন কি হবে? তাদের দেখাই পাবেন না আর। কারণ আপনার টাকার মেশিনও এখন আর দরকার নেই। এর প্রয়োজন শেষ। আপনি যদি এই ধরনের সম্পর্ক তৈরী করেন, তাহলে নিশ্চিত বিপর্যয়ের দিকে এগোচ্ছেন। আপনাকে এখনই পরিবর্তন আনতে হবে।
আর পরিবর্তনের উপায় হলোঃ জানি এটা অনেকের জন্যই করাটা কঠিন হবে, কিন্তু আমাদেরকে আমাদের সন্তানদের সাথে বন্ধুত্ব করতে হবে। আমাদেরকে তাদের সবচেয়ে কাছের বন্ধু হতে হবে। আমাদের সাথে সময় কাটানোটা তাদের কাছে উপভোগ্য হতে হবে।

--- :: --- :: ---
উস্তাদ নুমান আলী খানের লেকচার অবলম্বনে অনুবাদ করেছেনঃ আহমেদুল কবির

ব্যালেন্স

সত্যি কথা বলতে কি দুনিয়াবি সব কিছু সবসময় ঠিকঠাক রেখে পালন করার মত ধর্ম ইসলাম না। ইসলামের অনুশাসন মেনে চলতে গেলে আপনি দেখবেন জীবনের পদে পদে সংঘর্ষ হচ্ছে। তখন আপনাকে কিছু ছাড় দিতেই হবে- হয়ত আপনার দ্বীনে বা দুনিয়াদারীতে। তবে এক সময় কিন্তু আল্লাহর রহমতে আল্লাহ খুব সহজ করে দেন।

আল্লাহ একেক মানুষকে একেক ভাবে পরীক্ষা করে থাকেন। কাউকে সম্পদ দ্বারা, কাউকে পরিবার দ্বারা, কাউকে তার চাকরি দ্বারা।

যেমন আমি অনেক বোন ভাইকে দেখেছি যারা ইসলাম মানার শুরুতেই প্রবল পারিবারিক বাধার সম্মুখীন হয়েছে। হয়ত খুব বেসিক ব্যাপারে যেমন দাঁড়ি রাখা নিয়ে বা হিজাব পড়া বা তাখনুর উপর প্যান্ট পড়া নিয়ে। আমি অনেক বোনের ব্যাপারে জানি যাদের পড়ালেখা পর্যন্ত ছেড়ে দিতে হয়েছে, জাস্ট বাবা মায়ের ইগোর কারণে, যে তারা তাদের মেয়েকে বোরখা পড়ে ঘর থেকে বেরুতে দেবেনা।

আবার অনেক ভাইকে দেখেছি সুদের চাকরি ছাড়বে কিনা এই নিয়ে দোদুল্যমান অবস্থায় পড়ে যেতে। আর কাউকে দেখেছি দ্বীনের দাওয়াত পেয়েই অনেক বড় বড় চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।

আলহামদুলিল্লাহ যেসকল ভাই বোনেরাই তাদের বিশ্বাসের প্রতি অটল ছিল তাদের কাউকেই আমি অন্তত দুনিয়ার দৃষ্টিতেও বঞ্চিত হতে দেখিনি আর আখিরাতের পুরস্কার আল্লাহর হাতে।

যেমন এক ভাই ইসলামে এসে তাঁর অনেক দিনের গার্লফ্রেন্ডকে ইসলাম বোঝাতে চেয়েছিল এবং বলে দিয়েছিল যেহেতু ইসলামে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রাখা যাবেনা, তাই তাদের উচিত বিয়ে করে ফেলা। কিন্তু সেই মেয়ে তখন এসব পাত্তা না দিয়ে তাকে পরিত্যাগ করে। প্রায় ১০ বছর আগের কথা। এখন সেই ভাইয়ের খুব ভাল জায়গায় বিয়ে হয়েছে অনেক সন্তান সন্ততি নিয়ে ভালই আছে।

অনেক জনকে চিনি যারা ব্যাংক বা হারামযুক্ত পেশা ছেড়ে দিয়ে সাময়িকভাবে সমস্যায় জর্জরিত হয়ে গিয়েছিল। আল্লাহর কসম আমি দেখেছি তাদের প্রত্যেকই এখন অনেক ভাল আছে, এমনকি তাদের কলিগদের তুলনাতেও।
এক বোনের কথা জানি যে পড়া কন্টিনিউ করতে পারেনি হিজাবের কারণে। এখন জানি তিনি মাল্যশিয়াতে স্বামীর সাথে মাস্টার্স করতে গিয়েছেন।

আর যেসকল ভাইবোনেরা শুরুতেই ছাড় দিয়ে দিয়েছেন তাদের দুনিয়াবি পরীক্ষাতে, তারা কিন্তু আর সেভাবে দ্বীনের পথে চলতে পারেনি। তারা ভেবেছিলেন আস্তে আস্তে ঠিক করে নেবেন।

অন্তত আমার অভিজ্ঞতাতে আমি এমন দেখিনি যে দ্বীনও বাঁচবে আবার দুনিয়াও ঠিক থাকবে এমন ব্যালেন্স কেউ করতে পেরেছেন।

আল্লাহর কারণে যদি আপনি ত্যাগ স্বীকার করে থাকেন ইনশাল্লাহ নিশ্চিত থাকুন আখিরাতে তো অবশ্যই দুনিয়াতেই আল্লাহ আপনাকে তাঁর রহমতে ভরে দেবেন এবং এমন ভাবে দেবেন আপনি আশ্চর্য হয়ে যাবেন।

কালেক্টেড

মানুষের জ্ঞান কতো কম, তাই না?

অনেক অনেক বছর আগের কথা বলছি। প্রথম দেখা তার সাথে। প্রথম দেখাতেই এবং আমার সাথে তার প্রথম যে কথা হয়, সেই কথাতেই আমার মেজাজ এমন গরম হয়েছিলো যে, আপনাদের বোঝাতে পারবো না। যখন জানতে পারলাম তার বাসা আমার বাসার কাছেই, তখন তো আমি আরো হতাশ! মনে মনে ভাবছিলাম, "এই লোকটার সাথে প্রতিদিন যাতায়াতও করতে হতে পারে আমাকে! উফ..." আমি এটা মেনে নিতে পারছিলাম না।

একসাথে পাশাপাশি থেকে কাজ করেছি আমরা অনেক বছর এবং আল্‌হাম্‌দুলিল্লাহ্‌ তিনি মাত্র ক'দিনের মাঝেই তার জ্ঞান ও মেধা দিয়ে মুগ্ধ করেন এবং প্রথম সাক্ষাতে তার প্রতি আমার যেরূপ ধারণা হয়েছিলো- মাত্র ক'দিনেই সেই ধারণা একদম পাল্টে যায় এবং তিনি আমার প্রিয় মানুষদের একজন হয়ে যান। আরো আল্‌হাম্‌দুলিল্লাহ্ যে, তিনি এখন একজন দ্বীনি ভাইও।

মানুষের জ্ঞান কতো কম, তাই না? আর আমরা মানুষরা কতো দ্রুত একজন সম্পর্কে ধারণা করে বসি। অল্প তথ্যের উপরে নির্ভর করে দ্রুত ধারণা করা মানেই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভুল ধারণা হয়ে যায়। আমি যদি প্রথম সাক্ষাতের ধারণার উপর থাকতাম এবং তার সাথে সম্পর্ক না গড়তাম, তাহলে হয়তো বুঝতেই পারতাম না যে, সেই অসহ্য লোকটা চমৎকার একজন লোক। শুধু উনি একা নন। এমন আরো ক'জনা আছেন যাদের প্রথম ১-২টি আচরণে যদি আমি মন খারাপ করে সরে পড়তাম, চমৎকার কিছু মানুষকে হারাতাম। অথচ আমরা কেউই দোষ-ত্রুটি মুক্ত নই।
আজ আমরা মুসলিমরা অনেক ভাগে বিভক্ত। সামান্য মতের অমিল হলেই আলাদা হয়ে যাই। অথচ আমাদের প্রতি নির্দেশ যেন আমরা একসাথে থাকি। কিন্তু আজ আমরা- চুন থেকে পান খসলেই আলাদা দল হয়ে যাচ্ছি। আর সেই সুযোগটাই ইসলামের শত্রুরা লুফে নিচ্ছে।
[যার কথা দিয়ে এই লেখা শুরু করেছি, তিনিও জানেন বিষয়টি। আমার সেই অনুভূতির কথা তাকে সরাসরিই বলেছিলাম। :] 
 Collected
 

রাষ্ট্রধর্ম!

ফিলহাল-হালচাল-সমকাল:৭২
রাষ্ট্রধর্ম!
-
বাঙলাদেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম থাকা না থাকার মধ্যে আদতে কোনও পার্থক্য নেই। যেহেতু এই সংবিধান কুরআনী সংবিধান নয়। কুরআনী সংবিধানের প্রধান বক্তব্যই হলো ‘হুদুদ’। বলতে গেলে তার কিছুই বাঙলাদেশী সংবিধানে নেই। ড. কামাল হোসেনরা তাদের কমিউনিস্ট ভাবধারার আলোকেই এই সংবিধান রচনা করেছেন।
-
রাষ্ট্রধর্ম হিশেবে ইসলাম থাকার কারণে, সরকার ইসলামবিরোধী কোনও আইন করতে লজ্জা পাচ্ছে, এমন নয়। তারা যখন যা ইচ্ছে আইন পাশ করেই নিচ্ছে। তাহলে তুলে দিতে চাচ্ছে কেন?
= তারা তো জানে, এমনটা করতে গেলে, তাদের ভোট কমে যাওয়ার আশংকা আছে, ইসলামবিরোধী দল হিশেবে স্থায়ী ট্যাগ লেগে যাবে! তারপরও কেন এ-ব্যাপারে উৎসাহ?
(এক) খেয়াল করলে দেখা যাবে, রাষ্ট্রধর্মের বিরুদ্ধে আবেদনকারী ১১ জনের সবাই হিন্দু। এবং প্রায় সবাই ভারতের একনিষ্ঠ এজেন্ট। এবং এরা বা এদের গুরুরাই বর্তমানে বাঙলাদেশের নীতি নির্ধারক। তারা চায় ভারতের মতো এদেশও সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ হোক। নামকাওয়াস্তে হলেও।
.
(দুই) বাঙলাদেশের প্রতিটি সেক্টরকে ‘হিন্দুয়ায়ন’ করার কাজ প্রায় সম্পন্ন। রাষ্ট্রপ্রধান-প্রধানমন্ত্রী-স্পীকার ছাড়া প্রায় সবখানেই হিন্দুদের পদায়ন সম্পন্ন। ভবিষ্যতে যাতে অবশিষ্ট পদেও নির্বিঘ্নে কাজ সারা যায়, আগাম ব্যবস্থা করে রাখা হচ্ছে।
.
(তিন) সরকারের ঝুঁকি নেয়ার কারণ হলো, বাঙলাদেশের অমুসলিম ভোটগুলোকে একশ ভাগ নিজেদের জন্যে পাকাপোক্ত করে ফেলা। ভারতের সাথে সম্পর্কটা আরও নিবিড় করা। আর নিজ দলের মুসলিম ভোটারদের নিয়ে ভাবনা কিসের! নিরপেক্ষ ভোটারদেরকে ভোলাতে বেশি কিছু লাগে?
.
(চার) ইসলামের বিধানে টুপি পরা বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু বাহ্যিকভাবে প্রতীক হিশেবে টুপিটা নামাযের চেয়েও শক্তিশালী। অন্তত সাময়িকভাবে হলেও। নামায তো সব সময় দেখানো যায় না। টুপি-দাড়ি-হিজাব হলো সাইনবোর্ড। সংবিধানে কী আছে না আছে, সেটা আপাতত বিবেচ্য নয়, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হলো টুপির মতো। প্রথমেই এটা চোখে পড়বে। টুপি খুললে যেমন মাথার টাক দেখা যায়, ইসলামকে উঠিয়ে দিলেই সংবিধানের ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ দেখানো সহজ হয়ে যাবে। সেজন্যই এত তোড়জোড়।
.
(পাঁচ) এখন আর ব্যাপারটা রাষ্ট্রধর্ম থাকা না থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ব্যাপারটা হয়ে দাঁড়িয়েছে কুরআন আর বেদ-ত্রিপিটক-বাইবেলের লড়াই। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান আর মুসলমানদের মর্যাদার প্রতীকি লড়াই।
.
(ছয়) আরও একটা ভয়ংকর বিষয়ও থাকতে পারে: মুসলমানরা এখন রাষ্ট্রধর্মের জন্যে লড়াই করছে। তার মানে মুসলমানরা এই সংবিধানকে মেনে নিচ্ছে বা সন্তুষ্ট থাকছে। অর্থাৎ মুসলমানদের জন্যে এমন সংবিধান থাকতে পারে। চলতে পারে। একটা মানবরচিত বিধান মুসলমানদের সংবিধান হতে পারে। শুধু রাষ্ট্রধর্মের মোড়কে ইসলামের টুপিটা পরিয়ে রাখলেই হলো।
.
(সাত) এটা ঠিক, রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে বহাল রাখার সংগ্রাম করার অর্থ এই নয়, সংবিধানকে মুসলমানদের জন্যে উপযোগী হিশেবে মেনে নেয়া হয়ে যাবে। কিন্তু এটুকু তো হবে, রাষ্ট্রধর্ম বহাল থাকলে মানুষ খুশিমনে চুপ হয়ে যাবে। প্রকারান্তরে ওটাও তাদের একটা সফলতা।
.
(আট) ধরা যাক, রাষ্ট্রধর্ম বাতিল করা হলো। তখন? হুযুররা আন্দোলনে নামবে! আন্দোলনটা কিসের জন্যে হবে? নামকাওয়াস্তে রাষ্ট্রধর্ম বহাল রাখা নিয়ে!
তারমানে যাদের মেহনত করার কথা ছিল পুরো সংবিধানটাকেই বদলে সেখানে কুরআনকে বসানোর ব্যাপারে, আজ তাদেরকে নামাতে নামাতে একটা ‘খোসা’ পর্যন্ত নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে।
.
(নয়) এই যে পুরো দাবি থেকে ছাড়িয়ে শুধু ‘নামকাওয়াস্তে’ পর্যন্ত এনেছে, এটা করতে সময় লেগেছে দুই প্রজন্ম। আগামী এক প্রজন্ম পর কেমন হবে? তখন হুযুররা নামকাওয়াস্তের জন্যেও লড়বে না। এখানেই তাদের সফলতা।
.
(দশ) তাহলে কি আমরা চুপ থাকবো? কিছুই বলবো না?
= উঁহু সেটা বলছি না। আমরা আপাতত খোলসটুকুর জন্যেই লড়বো। পাশাপাশি আমরা আজ কোথায় নেমে এসেছি বা আমাদেরকে কোথায় নামিয়ে আনা হয়েছে, সেটার দিকেও সচেতন মনোযোগ রাখবো। আমরা শুধু নামকাওয়াস্তে রাষ্ট্রধর্ম নিয়েই সন্তুষ্ট হয়ে যাবো না।
.
(এগার) নামকাওয়াস্তে হলেও, এর মূল্যও কম নয়। এই সামান্য খোলসটুকুও কুফর-হুনুদের গায়ে জ্বালা ধরায়। কুরআন কারীম তো বলেছেই (লিয়াগীযাল কুফফার) কাফিরদেরকে যা ক্রুদ্ধ করে, সেটা করতে। শুধু এটুকু মনে রাখতে হবে, আমাদের এখানেই থেমে গেলে চলবে না। সারাক্ষণ মনে প্রশ্ন রাখতে হবে:
= আমরা কি এই সংবিধান চেয়েছিলাম? আল্লাহ এই সংবিধান চান?
.
(বারো) টুপির যথার্থ স্থান কোনটা? অবশ্যই মাথা। টুপিটাকে যদি একটা গাছের আগায় বা অন্য কোনও প্রাণীর মাথায় রাখি? সেটা হবে টুপির চরম অবমাননা। আমাদেরকে ভাবতে হবে, একটা ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের মাথায় ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ ব্যাপারটা ‘অন্যকিছুর’ মাথায় টুপি পরিয়ে রাখার মতো হয়ে যাচ্ছে না তো!
.
(তেরো) রাষ্ট্রধর্মের জন্যে জান লড়িয়ে মেহনত করবো। কিন্তু মূল সংবিধানকে ভুলে গেলে চলবে না:
= আমার আয়াতসমূহের বিনিময়ে স্বল্পমূল্য গ্রহণ করো না। যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী শাসন করে না, তারাই কাফের (মায়েদা: ৪৪)।
= আমরা পুরো সংবিধান (কুরআন) ছেড়ে শুধু নামকাওয়াস্তে রাষ্ট্রধর্মের জন্যে লড়ে, অল্পমূল্য গ্রহণ করে ফেলছি না তো!
= আর দ্বিতীয় অংশ? তারা কি আল্লাহর নাযিল করার বিধান দিয়ে শাসন করছে? যদি না করে, তাহলে তারা কী? আয়াতের অর্থ বুঝতে কি কোনও সমস্যা হয়?
.
(চৌদ্দ) আরেকটা আয়াতের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেই শেষ করে দিচ্ছি:
= আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা দাবী করে, আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছি এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে। তারা তাগুতের কাছে বিচার (ফায়সালা) চাইতে যায়, অথচ তাদের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তারা যেন তাকে (তাগুতকে) না মানে! (নিসা: ৬০)।
= একটা বিষয় পরিষ্কার করতে হবে: আমরা যাদের কাছে বিচারের দাবী নিয়ে যাচ্ছি, তারা তাগুত নাকি হক! কোনটা? মাঝামাঝি কোনও কিছু নেই।
.
= তারা যদি হকপক্ষীয় না হয়, তাহলে নিজেদের আকীদার দিকে চৌকান্না থাকতে হবে। আমরা রাষ্ট্রধর্মের দাবী যে করছি, সেটা তাদের কাছে আবেদন বা বিচার চাওয়ার ভঙ্গিতে নয়, তাগুতের বিরুদ্ধে লড়ছি, এই আকীদার ওপর দাঁড়িয়ে থেকে করতে হবে। না হলে কিন্তু ঈমান নিয়ে টানাটানি পড়ে যাবে!
.
= আমরা যাই করবো, বিচার চাওয়া বা ফয়সালা চাওয়ার ভঙ্গিতে নয়, তাগুতকে বাধ্য করার ভঙ্গিতে করবো। আকীদা-নিয়তে থাকবে:
-আমরা তাগুতবিরোধী অবস্থান শুরু করেছি।
-এখানেই আমরা থেমে যাবো না।
-আমরা আপাতত দুর্বল বলেই শুরুটা নিরীহ হয়েছে হয়তো! কিন্তু ......।
-আমরা টুপির জন্যে লড়লেও, মনে রাখতে হবে, টুপির নিচে কিন্তু মুমিনের মাথা নেই, আছে তাগুতের ‘মগজ’।
-টুপি দিয়ে শুরু হয়েছে, কিন্তু মগয ঠিক না করে থেমে যাওয়া চলবে না।
.
(পনের) আবারও বলছি:
= তাগুত (গণতন্ত্র)-এর কাছে বিচার চাওয়া একপ্রকার কুফুরি।
= বিচার চাওয়ার ভঙ্গিতে নয়, ফায়সালা চাওয়ার আকীদায় নয়। তাহলে ঈমান চলে যাওয়ার সমূহ আশংকা। আমরা চূড়ান্ত লড়াই শুরু করেছি। বিচার চাওয়া নয়, আমরা জোর করে আমাদের অধিকার আদায় করছি, এই আকীদা সবসময় হাযির রাখতে হবে।
= আর টুপিটা চূড়ান্ত ‘অধিকার’ নয়। শুরু মাত্র।
= আর যে পদ্ধতিতে অধিকার আদায়ে নেমেছি, সে পদ্ধতিটা একমাত্র ও অব্যর্থ নয়। রাজপথ বা ফেসবুকও নয়। এসব সাময়িক হিশেবে চলতে পারে। কার্যকর কৌশল এটা নয়: আওর কুচ!

:: ভুল করার পর ::

সকাল থেকে একটা অনুশোচনা আর আফসোসের সূঁচ ক্রমাগত হৃদয়কে বিদ্ধ করে চলেছে। রাশেদ কী নির্বিকার চিত্তে বললো কথাগুলো, “তোমার এইসব মোরাল আর ভ্যালুজ এর কোনো দাম নেই, তুমি নিজেই এসবের দাম দাও না। শুধু সুযোগ বুঝে কাজে লাগাও.. আর আমি একদিন করতে বললেই সমস্যা।”

কীভাবে পারলো বলতে?

সাড়ে তিন বছরের সংসার। কোনোদিন কি রাশেদ মৌরিতাকে ওর হিজাব করার ব্যাপারে সাহায্য করেছে? সে নিজেই তো একা একা যতোটা পারে মেইন্টেইন করেছে বরাবর।

হ্যাঁ, বিয়ের সময় কিছুটা ছাড় সে দিয়েছিল। একটা ঘোরের মধ্যে ছিল সে তখন। হঠাৎ দেখাদেখি, দুই পক্ষের পাকা কথা, দিনক্ষণ মেলানো। চিন্তায়-ভাবনায়, চাওয়া-পাওয়ায় এত মিল সহজে পাওয়া যায় না। দুই পরিবারের সবাই রাজি, সবাই খুশি! রাশের ওই পরিবারের সবচেয়ে ছোট ছেলে আর মৌরিতা এই পরিবারের প্রথম সন্তান হওয়ায় আমোদ-আহ্লাদটা দু পক্ষেরই মাত্রাছাড়া। আর আয়োজনটাও তেমনই জমকালো, মনে রাখার মতো।

এত হুলুস্থূল বিয়েতে সবাই পরী সেজে থাকবে আর মেয়ে খালাম্মার মত ঢেকেঢুকে থাকবে তা কি হয়? মৌরিতার মা আর খালারা প্রথম থেকেই চাপাচাপি করছিল হিজাব ছাড়া থাকার জন্য। প্রথম প্রথম ওর একটুও ইচ্ছা করে নি। সারাবছর সাদাসিধে চলা মেয়ে ও, এত সাজগোজ, দেখানো স্বভাবটা অসহ্য লাগে। তাই বলে বিয়ের দিনেও এভাবে থাকবে? তোর চেয়ে তো তোর খালাকে বেশি সুন্দর লাগবে দেখতে। হিজাব করলে কি মানুষের কোনো শখ থাকতে নেই? একদিন হিজাব না করলে কী এমন হবে? কত রকম কথা। বান্ধবীরা ওভার-স্মার্টনেসের দিক থেকে আরও কয়েকশ ধাপ এগিয়ে, হিজাবের সাথে বিয়ের শাড়ি পরলে নাকি দেখতে বুড়ি-বুড়ি, আনস্মার্ট, আর গেয়ো ভুতের মত লাগবে দেখতে!

মানুষের মন বোঝা দায়। মৌরিতারও কি ছাই ইচ্ছা করেনি হিজাব-ছাড়া থাকতে? হৃদয়ের গোপন একটা প্রকোষ্ঠে ওরও এমন একটা ইচ্ছা যে হয় নি তা না। কিন্তু তবুও মনে হতো-- কাজটা ঠিক হবে না। এতদিন যে বিশ্বাস, নীতি আর আদর্শের ওপর নিজেকে অটল রেখেছে, সেখান থেকে হুট করে একদিনের জন্য সরে দাঁড়ানো একটা চরম পর্যায়ের বোকামি হবে। একদিনের জন্য হিজাবে ছাড় দেওয়াটার কোনো যুক্তিই নেই।

কিন্তু মন মানলো না। আস্তে আস্তে তার অনিচ্ছাটা দ্বিধায় পরিণত হতে থাকলো। শেষে অজান্তেই নিজের সামনে কিছু অপশন তুলে দিলো সে, নিজেকে ছাড় দেওয়া জন্য কতোগুলো অজুহাত মাত্র- বিয়ের দিন কি হিজাব করবো নাকি করবো না? শুধু স্কার্ফটা কি পরবো? আচ্ছা, যদি শাড়ির সাথে ভালো না লাগে তাহলে ছোট হাতা ব্লাউজটাই নাহয় পরবো…

বিয়ের দিন কীভাবে যেন হিজাব না করানোর জন্যই সবকিছু জোট বেধে ষড়যন্ত্র পাকাতে লাগলো। ব্লাইজের কাপড়টা দিয়ে কোনোমতেই ফুল হাতা হবে না দর্জি সাফ জানিয়ে দিলো। একরঙা কাপড় এনে বড়ো হাতা ব্লাউজ বানানো যেতো, কিন্তু তখনই সব আলস্য আর উদাসিনতা পেয়ে বসলো মৌরিতার। সারাদিন বাইরে টো-টো করে ঘুরে শাশুড়ি আর ননদের সাথে মিলে এই শাড়িটা পছন্দ করে কিনেছে, তার সাথে একরঙা সাধারণ একটা কাপড়ের জোড়া দেওয়া ফুলহাতা পরলে কি মানাবে, শাশুড়িই বা কী মনে করবে? এইসব হাবিজাবি শত চিন্তা করতে করতে ছোট হাতা ব্লাউজই বানিয়ে ফেললো। এরপর ছোট হাতা ব্লাউজের সাথে মাথায় স্কার্ফ পরলে কেমন দেখাবে সেই অস্বস্তিতে স্কার্ফটাও পরলো না। বান্ধবী কেয়া নতুন নতুন ফটোগ্রাফি ক্লাবে জয়েন করেছে। তাকেই বলেছিল সুন্দর সুন্দর কয়েকটা ছবি তুলে দিতে, গ্রুপ ফটো তোলার লোকের তো অভাব নেই, স্বামী-স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ ছবিগুলো যেন কেয়াই তোলে। কিন্তু কেয়া আবার ওর ক্লাব থেকে সিনিয়র ভাইকে ধরেবেঁধে আনলো- তার ছবির হাত নাকি অসাধারণ, বলিউড ফটো আর্টিস্টও ফেইল! ব্যস, মৌরিতাও গলে গেলো। স্বামী-স্ত্রীর ছবি তো বটেই, মৌরিতার ক্লোজ শটগুলিও তিনিই নিলেন। মেইক-আপঅলা ঝিকিমিকি চেহারার ছবি, গালে হাত-কোমড়ে হাত আকাবাঁকা পোজ দেওয়া ছবি, হিজাববিহীন পোশাকের খোলামেলা ছবি…

সেই হিজাববিহীন পোজ দেওয়া ছবিগুলোর কথা ভাবতেই আজকে মৌরিতার চোখ ঠেলে একগাদা বাষ্প দলা পাকিয়ে বের হয়ে আসলো। ঘেন্নায় রি-রি করছে তার মন। কার প্রতি এত ঘৃণা তার? রাশেদের কথাগুলো রিপ্লে-তে দেওয়া মিউজিকের মতো অনন্তকাল ধরে মাথার মধ্যে বেজেই যাচ্ছে। “তোমার কোনো মোরাল-টোরাল নেই, যখন ভালো লাগে করো, আর যখন ইচ্ছা খুলে ফেলো। এগুলাকে ধর্ম করা বলে না, এগুলাকে বলে সুযোগ নেওয়া। হিজাবকে এতোই ভালোবাসলে বিয়ের দিন করতা না নাকি? ফেসবুকেও তো যখন-তখন হিজাব-ছাড়া ছবি শেয়ার দিচ্ছো, এখন একটা স্পেশাল অকেশনে রিকোয়েস্ট করলাম আর তোমার দশ রকম বাহানা… একটা দিনের জন্য এখন আর হিজাব ছাড়তে পারছো না, কত বড়ো বড়ো অফিসার আসবে আজকে তাদের বউটউ নিয়ে। বিয়ের সময় হাজার হাজার মানুষের সামনে ঠিকই ফ্যাশন শো করলা, এখন একটা অকেশনের জন্য কী হয় … ”

তাই তো। রাশেদ কি খুব মিথ্যে বলেছে? বিয়ের সময় হাজার লোকের আনাগোনা, সেই দিনটাতেই তো হিজাবে থাকার দরকার ছিল সবচেয়ে বেশি। সে যদি সত্যিই আল্লাহর কথা ভেবে হিজাব করতো, তাহলে কি নিজেকে এতো খেলো করে দিতে পারতো? নিজের আত্মসম্মান আর লজ্জাবোধে কি একটুও আঘাত লাগতো না? শাশুড়ির মন জয় করার ধোঁয়া তুলে নিজের ব্যক্তিত্বকেই বিলিয়ে দিলো সে। তার শাশুড়ি অতটা না-বুঝ মানুষও তো ছিল না। শিক্ষিত মেয়ে মৌরিতা, শ্বশুরবাড়ির সবাই একনজরে পছন্দ করেছে দেখে। ও অনুরোধ করলে নিশ্চয়ই তারা গুরুত্ব দিতেন। সত্যি বলতে মৌরিতার এখন মনে হচ্ছে যেন তখন সে নিজের বিশ্বাসের ওপর কাজ করলেই মানুষ তাকে আরও বেশি সম্মান করতো, তার মতামত ও কথার দাম দিতো, বুঝতো যে ওর শিক্ষাটা কেবল সার্টিফিকেট সাঁটা শিক্ষা নয়, বরং মনের ভেতর থেকেই ও একজন আলোকিত মানুষ।

বিয়ের পরেও ঘোরাঘুরি করতে গিয়েও বিভিন্ন সময়ে অনেক ছাড় দিয়েছে। হানিমুনের সময় তো হিজাবের কথা মনেই ছিল না। দুই-একজন পুরোনো বান্ধবী জিজ্ঞেস করেছিল অবশ্য, দায়সারা একটা উত্তর দিয়ে মৌরিতা ওদেরকে পাশ কাটিয়েছে। “তোর চরকায় তেল দে।” কিন্তু মনে মনে ভীষণ দাগ কাটতো ওদের কথাগুলো। প্রাণপণে মাথা থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করতো চিন্তাটাকে, আর কদিন পরেই হিজাব করবো এই যুক্তিই নিজেকে দিতো সে বারবার। কিন্তু এখন করতে কী সমস্যা? এই প্রশ্নের জবাব কখনোই নিজের কাছে দেওয়া হয় নি।

সুযোগ আর সামর্থ্য একসাথে খুব কমই মেলে। হবু শ্বশুরবাড়িকে রাজি করানোর মত সুযোগ আর বুদ্ধি দুটোই মৌরিতার ছিল। রাশেদের পরিবার ওর কোন কথাটা রাখে নি? বিয়ের সময় যেমন যেমন কাপড়ের সেট আর গহনার ডিজাইন চেয়েছে, ঠিক সেগুলোই কিনেছে। হিজাবটা সে বিয়ের দিন করতে চাইলে সে সুযোগ নিশ্চয়ই ছিল। হয়তো একটু কাঠখড় পোড়াতে হতো, তাও তো চেষ্টা করে দেখতে দোষ ছিল না। এখন আর সেই দিনগুলো ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা নেই। সঠিক কাজটা করার সময় আগেই পার হয়ে গেছে। এখন তো প্রায় সব ঘরোয়া অনুষ্ঠানগুলোতেও সে হিজাব ছাড়াই চলে যায়। মানুষটা তার হিজাবের গুরুত্ব কীভাবেই বা বুঝবে? বন্ধু-বান্ধবীদের দেখাদেখি দু-চারটে ছবি মৌরিতা এখন সবার সাথে শেয়ার করে। সে সবে হিজাব নেই। এত শো-অফ করা তার ধাচে নেই, অন্যদের সাথে প্রতিযোগিতায় সমানে-সমান কখনোই যেতে পারবে না জানে, তারপরও স্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে কয়েকটা ভালো ছবি দেখাতে ইচ্ছে করে। রাশেদের খোঁচা দেওয়া কথাগুলোর সমস্ত ঝাল এখন নিজের ওপর ঝাড়তে ইচ্ছে করছে। দুঃখের ব্যাপার হলো, মানুষ নিজের ওপর রাগ ঝাড়তে পারে না।

দুঃখিনী মৌরিতা চোখে জল নিয়েই আয়নার সামনে সাজতে বসলো। মেয়েরা মনের জল গোপন করেও হাসতে পারে। আজ সন্ধ্যায় পার্টি। রাশেদের বসের ম্যারেজ অ্যানিভার্সারি। মৌরিতা আজ হিজাব করলে রাশেদ কিছুতেই খুশি হবে না। অভ্যস্ত হাতে সব করে যাচ্ছে সে। অথচ মনটা ব্যথায় অবশ হয়ে আছে। সাড়ে তিন বছরের সংসার। রাশেদের জন্য সব করতে পারে মৌরিতা, তবু সে কি সুখী? সব ছেড়েও কি রাশেদের মন জয় করতে পেরেছে সে? রাশেদ কি তাকে একজন মানুষ হিসেবে সম্মান দিতে শিখেছে?

কাজল, আইলাইনার, লিপস্টিক সব নিখুঁতভাবে হয়েছে। তার সাজার হাত চমৎকার। কিন্তু এত সেজেও কীসের যেন কমতি। আত্মগ্লানি, অনুশোচনা, লজ্জা, অপমান তাকে ভেঙেচুরে চুরমার করে দিচ্ছে। জানালা দিয়ে হু-হু একটা বাতাস এসে মৌরিতার আয়রন করা চুলগুলো এলোমেলো করে দিলো। চোখের জলে কাজল লেপটে একাকার হয়ে গেলো সাজানো চেহারা। কী মনে করে ধুম করে উঠে গেলো মৌরিতা।

মাথায় যেন কিচ্ছু নেই। একটা স্বর ভেসে ভেসে তাকে শুধু বলছে - ওয়াশরুম, ওয়াশরুম। রাশেদ খুশি হবে না জানে, তবু আজকে তাকে কাজটা করতেই হবে। বরং অনেক আগেই করা উচিত ছিল। আজ সে কোনো মেইক-আপ করবে না। পরিপূর্ণ হিজাব করবে। এখন থেকে সমস্ত অনুষ্ঠানেই সে পরিপূর্ণ হিজাব করবে। কক্ষণো আর হিজাব ছাড়ার মত ভুল করবে না। যার যা খুশি তাকে নিয়ে ভাবুক। এতদিন সংসারের জন্য অনেক করেছে, স্বামী-সংসারের বাহানা করে নিজের আত্মাকে অনেক কষ্ট দিয়েছে। আল্লাহর থেকে সরে গিয়েছে যোজন যোজন দূরত্বে। তাতে কোনো লাভ হয় নি। পাপের আনন্দ দুই দিনের, অনুতাপটা চিরকাল তাড়া করে ফেরে। মৌরিতার বুক চিরে একটা আর্তনাদ বেরিয়ে এলো, হে আল্লাহ, অনেক ভুল করেছি। এবার আমাকে ক্ষমা করো, এবার আমায় পথ দেখাও…

কলের ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা আর চোখের উষ্ণ জল মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। মৌরিতা, তুমি সুখী হও।

 সংকলিত লেখা
লেখক এর লিঙ্ক এখানে

কবে বুঝবো ?

বিআরটিএ তে পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলাম। মোটর সাইকেলের লাইসেন্সের জন্য। নিকুঞ্জের পাশে জোয়ারসাহারা। সারাদিনের অফিস মাটি। ন'টার সময়ে লিখিত পরীক্ষা, দু'টায় মৌখিক, তিনটায় ব্যবহারিক।

লিখিত, মৌখিক পাশ-আলহামদুলিল্লাহ। মোটরসাইকেল চালানোর সময় জিগ-জ্যাগ করতে গিয়ে পা নেমে গেল। সাথে সাথে ফেল। আরেকজন বলল, আপনার পরিচিত কেউ আছে? বললাম, না! আহারে... বড় একটা দীর্ঘশ্বাসের সাথে বললেন সজ্জন ব্যক্তিটি।

বৃহষ্পতিবার যেতে হবে অ্যাডমিট কার্ড ফেরত আনতে। আবার ব্যাংকে যাও--১৭৩ টাকা দাও, আবার একদিন সারাদিনের পরীক্ষা, আরেকদিন ফলাফল। অনর্থক কঠিন পরীক্ষার মাধ্যমে জোর করে ফেল করিয়ে দেয়া। হাতে কিছু টাকা গুঁজে দিলেই পাশ যদিওবা।

আল্লাহর পরীক্ষার সাথে এই পরীক্ষার কত পার্থক্য। আল্লাহ কত চান আমরা পাশ করি। কতভাবে সাহায্য করেন আমাদের। আমাদের কাছে ঘুষ চান না তিনি। আমাদের খালি দেন আর দেন।

তা-ও আল্লাহর পরীক্ষাকে আমরা অবজ্ঞা করি। অথচ পার্থিব পরীক্ষা একবার ফেল করলে আবার দেয়া যায়। কিন্তু আল্লাহর পরীক্ষা শেষে কবরে গেলে ফেরার পথ থাকে না।
মানুষ কবে বুঝবে?

collected

এরাইতো আসলে সাকসেসফুল, এরাইতো আসল সেলিব্রিটি

যে ছেলেটা হঠাৎ করেই পাঁচ ওয়াক্ত সালাত মসজিদে গিয়ে আদায় করা শুরু করল, শেইভ বা ট্রিম করা দাঁড়ি গুলোকে লম্বা রাখতে শুরু করলো, প্যান্টটাকে টাখনুর ওপরে পরা শুরু করলো, মেয়েদের দেখলেই মাথা নিচু করে চলা শুরু করলো, হলিউড বলিউডের মুভি, নাটক, পর্ণ সবকিছু দেখা বাদ দিয়ে দিলো, অবসর সময়ে কোরআনের তাফসিরে মাথা গুজেঁ রাখা শুরু করলো, সুযোগ হলেই দ্বীনি ভাই বা আলিম-উলামাদর কাছে গিয়ে দ্বীন শিখতে শুরু করলো, তাহাজ্জুদে উঠে নিজের সমস্ত গুনাহের জন্য চাপা স্বরে ডুকরে ডুকরে কাঁদতে শুরু করলো..
.
.....যে মেয়েটা হুট করেই নন মাহরাম বন্ধু বা আত্মীয়দের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দিলো, ক্লাসের বইগুলোর চাইতে ইসলামিক বইগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেয়া শুরু করলো, রুপচর্চার যত আয়োজন,তীব্র ঘাণে ভরা পারফিউমগুলো খুজে খুজে ফেলে দিতে লাগলো, যাতে শরীরের সামান্যতম ভাঁজ বোঝা না যায়, নিজেকে আকর্ষণীয় যাতে মনে না হয় এমন ঢিলেঢালা হিজাব আর নিকাব পড়তে শুরু করলো,গল্প উপন্যাসের বই ছেড়ে মহিলা সাহাবাদের জীবনী,তাঁদের লাইফস্টাইল পড়া শুরু করলো, যে মেয়েটা শেষরাতের অন্ধকারে একজন দ্বীনদার ছেলেকে নিজের সহধর্মী করার আশায় আল্লাহর কাছে পাগলের মত কাঁদতে শুরু করলো..
.
যারা এই "হুট করেই" আল্লাহর প্রতিটা আদেশকে মানা এবং সুন্নাহকে নিজের লাইফে পুরোপুরি ফলো করা শুরু করলো.. সেই তাদেরই আজ আমরা ঠাট্টা উপহাস আর ব্যঙ্গ করে বলছি - মোল্লা, মুনশি, চাচামিয়া, গেয়োঁ, হুজুরনী, বুড়ি, জঙ্গি, আনসোশ্যাল, ব্যাকডেইটেড, ভন্ড, আনস্মার্ট আরও কত্ত কি!! ভাবতেই অবাক লাগছে যে তারা কিভাবে এতকিছু সহ্য করেও এসব আকড়ে ধরে আছে তাই না ?
.
আসলে কি জানেন- তারা এমন একটা কিছুর সন্ধান পেয়েছে এমন একজনের কাছে যার কারণে আসলে এই পৃথিবীর কোন ঠাট্টা উপহাসের কষ্ট তাদের বিন্দুমাত্র স্পর্শ করতে পারে না..আল্লাহর গাইডেন্স আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ্ থেকে আলাদা করতে পারে না..!
.
সেটা কি জানেন? সেটা হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাহু তাআলার রাহমাহ্ আর হিদায়াহ্। যা আপনি আমি হয়তো এখনো পাইনি যেটা তারা পেয়েছে! আর কেন পাইনি জানেন কারণ আমরা সেটা কখনো চাই-ই নি আসলে! কিন্তু তারা আল্লাহর আদেশ আর রাসূলের সা. সুন্নাহকে পুরোপুরি মানার মাঝে সেই কাঙ্খিত হিদায়াহ্ কে খুজেঁ পেয়েছে..আর আমরা নিজেদেরটা না খুজে ২৪ ঘন্টা লেগে থাকি তাদের দোষ ধরার জন্য, ভুল ধরার জন্য, খোঁচা মারার জন্য, ঠাট্টা করার জন্য..অথচ আমরা নিজেদের চালাক আর স্মার্ট ভাবি! কতটা নির্বোধ আর বেকুব আমরা, তাইনা?
সেলিব্রেটি তো তারাই যাদের আমরা আল্লাহর আদেশ আর সুন্নাহ্ মানার কারণে ঠাট্টা,বিদ্রুপ আর উপহাস করেই যাচ্ছি, আর তাদের এই মিষ্টি ধৈর্য দেখে আসমানের কোটি কোটি ফেরেশতারাও তাদের জন্য প্রতিটা সময় রাহমাহ্,মাগফিরাত আর জান্নাতের দুআ করেই যাচ্ছে..!
.
সারাটা দিন এত কিছু শুনেও দিনশেষে যখন তারা শুয়ে পড়ে, তখন তারা সবাইকে আল্লাহর খুশির জন্য মাফ করে দিয়ে ঘুমায়। আল্লাহতো তাদেরকেই কিয়ামাতের দিন কোটি কোটি মানুষের চোখের সামনে হাসতে হাসতে জান্নাতে নিয়ে যাবেন.. এরাইতো আসলে সাকসেসফুল, এরাইতো আসল সেলিব্রিটি রে ভাই...
.
ভাবতে পারেন সেদিন কি অবস্থা হবে আপনার, আমার?? আর কোথায়-ই বা যাবো আপনি, আমি...?
-----
--সংগৃহীত ও সংশোধিত

দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর

“আর কয়েকটা মাস মাত্র, তারপরই সালাত আদায় করা শুরু করবো। ব্যবসাটা একটু শক্তভাবে দাড় করিয়ে নেই, তারপর তাওবাহ করে হাজ্জ করে ফেলবো। একবার চাকরিটা হয়ে যাক। বিয়েটা হয়ে নিক, তারপর হিজাব করা শুরু করবো। কোন একটা ভালো অলটারনেটিভ পাই, পাওয়া মাত্রই ব্যাঙ্কের চাকরিটা ছেড়ে দেবো। আর কিছুদিন যাক, তারপর সরকারি চাকরিটা ছেড়ে দেব। আরে একটু গানই তো শুনছি, কয়েকটা সিনেমাই তো দেখছি, কি আর হবে, বুড়ো কালে সব ছেড়ে দেবো। আর কিছু টাকা আয় করে নেই, তারপর দেশে ফিরে যাওয়া যাবে। প্রথমে সবাইকে দাড়ি আর হিজাবের ফযীলাত বোঝায়, আগে সবাইকে হুজুর বানাই তারপর শারীয়াহ কায়েমের দাওয়াহ দেয়া যাবে...”
.
এরকম শত চিন্তাভাবনা ক্রমাগত আমাদের মাথায় খেলে যায়। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর আমরা কাঁটিয়ে দেই এই “তারপরের” আশায়। “আর একটু হলেই...” আর “তারপরের” পালা শেষ হয় না। কিন্তু সময় ফুরিয়ে আসে। হিসাবের পাল্লা ভারী হতে থাকে, আর আমরা সময় কাঁটিয়ে দেই নিজেদের প্রবোধ দিয়ে, নিজের সাথে লুকোচুরি করে। “এই তো আর কিছুদিন, তারপরেই করবো...” নিজেদের জন্য বিভিন্ন ইমাজিনারি টার্গেট সেট করে, আল্লাহ্‌ ‘আযযা ওয়া জালের আদেশ পালনকে বিলম্বিত করি, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, টার্গেট আর ফুলফিলড হয় না। এক টার্গেটের পর আরেক টার্গেট আসে। এক সমস্যার পর আরেক সমস্যা আছে। সম্পূর্ণ ভাবে সবকিছু মনমতো গুছিয়ে নেয়া কখনোই সম্ভব না। আর তাই আল্লাহ-র আদেশ পালনও বিলম্বিত হতেই থাকে। ফুরিয়ে আসতে থাকে সময়।
.
কারো মনে কি আছে তা একমাত্র আল-খাবির, আশ-শাহীদ আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’আলাই ভালো জানেন। যা মুখে বলছে সেটা কি আসলেই অন্তরে আছে নাকি, মানুষের বুক চিড়ে সে খবর নেয়ার দায়িত্ব আমাদের দেয়া হয় নই। আমরা মানুষকে বিচার করবো তার বাহ্যিক আচরণের ভিত্তিতে। তবে একথাও সত্যি, যদি কারো মনে কোন কিছুর একান্ত ইচ্ছা থাকে, তবে সেটার একটা বাহ্যিক প্রকাশ থাকে। কাজে ইচ্ছার সেই প্রতিফলন দেখা যায়। একটা উদাহরণ দেই।
.
আমরা জানি মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পথে আল্লাহ্‌ রাসূলের ﷺ সঙ্গী ছিলেন আবু বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু। ইতিপূর্বে আবু বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মডিনায় হিজরতের জন্য সব গোছগাছ করে একরকম রওনাই করে ফেলেছেন। কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ আবু বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে অপেক্ষা করতে বলেন, কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ আশা করছিলেন, খুব শীঘ্রই আল্লাহ্‌ ‘আযযা ওয়াজাল তাঁকেও ﷺ হিজরতের অনুমতি দেবেন। শেষ পর্যন্ত যখন হিজরতের অনুমতি দেয়া হল, রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন হঠাৎ এক ভরদুপুরে, মুখ ঢেকে আবু বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বাসায় আসলেন, তখন দেখা গেল আবু বাকর রাদ্বীয়াল্লাহু আনহু সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করছেন। যদিও তিনি জানতেন না, ঠিক কোনদিন ডাক আসবে। শুধু তাই না, আবু বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, শুধুমাত্র হিজরতের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট জাতের দুটো উটনী কিনে চার মাস ধরে বাবলা পাতা খাইয়ে তাদের হৃষ্টপুষ্ট করে তুলেছিলেন, যাতে করে মক্কা থেকে মদীনার দীর্ঘ যাত্রা সুচারু ভাবে সম্পন্ন হয়। [সূত্রঃ আর রাহীকুল মাখতুম]
.
.
এটা হল প্রস্তুতির আর অন্তরের ইচ্ছার বাহ্যিক প্রতিফলনের নমুনা। কিন্তু আমরা যখন নিজেদের জন্য বিভিন্ন টার্গেট সেটা করি – “এই হয়ে গেলেই, আল্লাহ্‌ এই আদেশ পালন করা শুরু করবো” – তখন কি আমাদের চিন্তা ও কাজের মাঝে এরকম মিল থাকে? এর দশভাগের এক ভাগও কি আমাদের মধ্যে দেখা যায়? উৎকৃষ্ট জাতের সবচেয়ে দামী উটনী না হয় বাদ দিলাম, আমরা কি বুড়ো-রুগ্ন একটা খচ্চর ও প্রস্তুত করি? বাবলা না হোক, ভাতের মাড়ও কি খাইয়ে প্রস্তুতি নেই? আমি যা বলছি, নিজেকে প্রবোধ দিচ্ছি, তার পেছনে কি আসলেই কোন সত্যতা আছে, কোন প্রকৃত সংকল্প ও তার বাস্তবায়ন আছে? না এ নিছক আত্বপ্রতারণা?
.
.
সাহাবাদের রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া ইজমাইন, সর্বশ্রেষ্ঠ প্রজন্ম হবার অনেকগুলো কারণের একটি হল তাঁদের কথায় ও কাজে মিল ছিল। তারা নিজেদের জন্য ঠুনকো, মিথ্যা অজুহাত দাঁড় করাতেন না। তাঁরা আত্বপ্রতারণা করতেন না, নিজেদের প্রবোধ দিতেন না। নিজেদের ভুল স্বীকারে এবং সংশোধনে তাঁরা ছিলেন অগ্রগামী। তাঁরা দুনিয়ার উপর দ্বীনকে শর্তাধীন করেননি। এই দুনিয়াবি লক্ষ্য অর্জনের উপর দ্বীনের হুকুম পালন করা না করাকে নির্ভরশীল করেন নি। দুনিয়ার মাপকাঠি অনুযায়ী দ্বীনকে পরিমাপ করেন নি। দুনিয়া; সমাজ, পারিপারিপার্শ্বিকতা, প্রিযমের ভেতর দিয়ে তাঁরা ইসলামকে দেখেন নি। বরং দ্বীনের মাপকাঠিতে তাঁরা দুনিয়াকে দেখেছেন। আগে দ্বীনকে রেখেছেন, দুনিয়াকে তুচ্ছ করেছেন। আর তাই আল্লাহ্‌ ‘আযযা ওয়া জাল তাঁদেরকে দ্বীন ও দুনিয়া দুটোতেই সম্মানিত করেছেন। রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া ইজমাইন।
.
সাহাবা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া ইজমাইনের জন্য ইসলামই ছিল একমাত্র মাপকাঠি। তাঁরা প্রথমে রেখেছিলেন ইসলামকে, বাকি সব কিছুকে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী বিচার করেছিলেন। বাকি সব কিছুকে তাঁরা ইসলামের মুখাপেক্ষী করেছিলেন, ইসলাম পালনকে কোন কিছুর মুখাপেক্ষ করেন নি- শর্তাধীন করেন নি। ইসলামে যা সুস্পষ্ট তা সুস্পষ্ট ভাবেই প্রচার করেছিলেন, পালন করেছিলেন। দ্বীনের কিছু অংশ গ্রহণ আর কিছু অংশ ছেড়ে দেন নি। নিজের সুবিধা অনুযায়ী অজুহাত তৈরি করেন নি। নিজেকে তাঁরা যাচাই করতেন দ্বীনের মাপকাঠিতে, নিজের মাপকাঠিতে দ্বীনকে তাঁরা যাচাই করেন নি। আর নিজেদের হিসেব গ্রহনে তাঁরা ছিলেন নিজেদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর। সত্যিই যদি আমরা চাই রাসূলুল্লাহ ﷺ এর অনুসরণ করতে, দ্বীন ইসলামে প্রকৃত ভাবে প্রবেশ করতে এবং এ দ্বীনকে আঁকড়ে ধরতে, তবে সাহাবা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম ওয়া ইজমাইনের মতো করে দ্বীন ও দুনিয়াকে বুঝতে হবে। তাঁদের মতো করে পৃথিবীকে দেখতে হবে। আর কোন বিকল্প আমাদের হাতে নেই।
.
".... এবং এই উম্মাহ’র শেষ অংশ কখনও ততক্ষন পর্যন্ত পরিশুদ্ধ হবে না, যতক্ষন পর্যন্ত না তারা এই উম্মার প্রথম অংশ (সাহাবা) যা দিয়ে পরিশুদ্ধ হয়েছিলেন তার দ্বারা পরিশুদ্ধ হয়।" ..
ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ
.collected
‪#‎KnowYourHeroes‬
‪#‎AbuBakrRA‬

goal of life


 

আশা করি এই লেখাটি তোমার চোখ খুলে দিবে। সবকিছু নতুন করে ভাবতে সহায়তা করবে। লেখাটি খুব মনোযোগ সহকারে শেষ পর্যন্ত পড়ার আন্তরিক অনুরোধ রইল। জাযাকাল্লাহ খাইরান।

              বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম                       

তোমাকে প্রথমেই একটা কথা বলে রাখি, আমি খুব বিষণ্ণ মন নিয়ে এই লেখাটা লিখতে বসেছি। তবে এই বিষণ্ণতা তথাকথিত গার্লফ্রেন্ড চলে যাওয়ার বিষন্নতা নয় বা এই পৃথিবীতে কোনোকিছু হারানোর বিষণ্ণতা নয়। এই বিষণ্ণতা তোমাকে এই কথাগুলো আগে বলতে না পারার অযোগ্যতার বিষণ্ণতা, আমাদের চারিপাশে যা কিছু হচ্ছে তা সইতে না পারার বিষণ্ণতা। সবাই যখন পরীক্ষার পড়াশোনা নিয়ে খুব ব্যস্ত আমি তখন তোমাকে লিখতে বসেছি কারণ আমার কাছে মনে হয়েছে আমার এই পরীক্ষার চেয়ে তোমাকে এই কথাগুলো বলা বেশী প্রয়োজন, বেশী গুরুত্বপূর্ণ। হয়ত আমার এই কথাগুলো তোমার ভালো নাও লাগতে পারে তারপরেও লিখলাম শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে।

প্রারম্ভিক কিছু কথাঃ-

কি সুন্দর এই পৃথিবী! চোখ জুড়ানো বিস্তীর্ণ শ্যামল শস্য ক্ষেত। গাছের ডালে ডালে রঙ-বেরঙের ফুল ও ফল, তারই মাঝে রঙ-বেরঙের পাখ-পাখালি  ও প্রজাপতির মনভুলানো খেলা। মন জুড়িয়ে যায়। মন জুড়িয়ে যায় বিরাট খোলা আকাশটার দিকে তাকিয়ে। মেঘের কোলে ভেসে বেড়াচ্ছে স্বাধীন ডানা মেলা পাখিরা, রোদ হাসছে ঝিকমিক। কি সুন্দর! কি সুন্দর এই সৃষ্টি! কি বিরাট বিস্ময়কর এই সৃষ্টি! সৃষ্টির এই সৌন্দর্য উপভোগ করে শেষ করা যায় না। এর সীমা-সংখ্যা গুনে শেষ করা যায় না। বিশ্বের প্রতিটি অনু পরমাণু মেনে চলেছে আল্লাহর আইন। এই শৃংখলার কোন ব্যতিক্রম নেই। আর এ জন্যেই এই বিশ্বজগত এতো সুন্দর। বিরাট এ বিশ্বজগতে বিরাজ করছে অনাবিল শান্তি, ঐক্য আর শৃংখলা। কে না চায় এই এতো সুন্দর বিশ্বজগতে বেঁচে থাকতে!!

মানুষ এই দুনিয়ার সুন্দরতম সৃষ্টি। আশরাফুল মাখলুকাত বলা হয় তাকে। অন্যান্য সৃষ্টি থেকে আলাদা তার মর্যাদা। বিশেষ তার স্থান। মানুষ এই দুনিয়ায় আল্লাহর খলীফা বা প্রতিনিধি, আল্লাহ্‌ মানুষকে দিয়েছেন জ্ঞান-বিবেক, দিয়েছেন ভালো মন্দ বুঝার ক্ষমতা। সে যেমন এই জ্ঞানের আলোকে ভালো কাজ করতে পারে তেমনি রয়েছে খারাপ কাজ করার তার ক্ষমতা ও স্বাধীনতা। কিন্তু কেন আল্লাহ্‌ তায়ালা মানুষকে এই বিশেষ মর্যাদা দিলেন? কেন দিলেন এমন স্বাধীনতা? এর পিছনে রয়েছে আল্লাহর এক মহান উদ্দেশ্য। তা হলো, বিশ্ব প্রকৃতির অন্যান্য সৃষ্টি যেমন আল্লাহর নিয়ম মেনে তৈরি করেছে অনাবিল শান্তির জগত তেমনি মানুষ তার স্বাধীনতা থাকা সত্ত্বেও যেন আল্লাহ্‌র পথকে বেঁচে নিতে পারে। খারাপ কাজ করার ক্ষমতা ও স্বাধীনতা থাকা সত্ত্বেও যাতে করে সে নিজের ইচ্ছায় আল্লাহর আইনের গোলামীকে বরন করে নিতে পারে। আর তারই ফলে তাদের জীবনে নেমে আসবে অনাবিল শান্তি। পৃথিবীতে গড়ে উঠবে এক সুন্দর শান্তিপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থা। আর আখেরাতের অশেষ পুরষ্কার তো রয়েই গেছে। এবার আসি মূল কথায়ঃ-

১) তোমার জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি?

পড়াশুনা করেছি কিন্তু স্কুল জীবনে “Aim in life বা জীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য” নিয়ে রচনা লিখিনি বা পড়িনি এমন একজনও খুজে পাওয়া যাবেনা। আমরা প্রত্যকেই মুখস্ত কিছু কথা লিখেছি যে, আমি বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই। ডাক্তার হয়ে বিনামূল্যে মানুষের চিকিৎসা করে মানুষের সেবা করতে চাই। কেউবা আবার লিখেছি শিক্ষক হয়ে সমাজকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে চাই। আবার কেউবা লিখেছি ইঞ্জিনিয়ার হতে চাই। কিন্তু একবার চিন্তা করে দেখতো যে ছেলেটা ডাক্তার হতে চেয়েছিল সে আজ হয়ত পড়ছে ইতিহাস বা বাংলা বা ইংরেজী সাহিত্য নিয়ে। যে ছেলেটা ইঞ্জিনিয়ার হতে চেয়েছিল সে হয়ত আজ পড়ছে প্রানীবিজ্ঞান বা উদ্ভিদবিজ্ঞান নিয়ে বা অন্য যেকোনো বিষয়ে। আর যে ছেলেটা শিক্ষক হতে চেয়েছিল তার হয়তোবা স্কুলের গণ্ডি পেরোনই হয় নাই। আসলে বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর। একজনকে যদি দান করে শতজনকে করে বঞ্চিত। আজ তোমার জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ভিন্ন। এখন আর ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করা বা শিক্ষক হয়ে সমাজকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করা তোমার জীবনের উদ্দেশ্য নয়। তোমার দরকার কাড়ি কাড়ি টাকা-পয়সা, অর্থ-বিত্ত-প্রাচুর্য ও প্রভাব-প্রতিপত্তি। তোমার দরকার সমাজের বাহবা। সমাজ তোমার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হবে, তোমাকে দেখে চেয়ারটা ছেড়ে দিবে, সমাজ তোমাকে স্বীকৃতি দিবে তুমি জীবনে সফল(?), সমাজ বলবে তুমি তোমার বাবা-মার মুখ উজ্জ্বল করেছো, এগুলোই হচ্ছে এখন তোমার একমাত্র চাওয়া। আর একটা সুন্দরী রমণীর সাথে প্রেম করা বা বিয়ে করার বাসনা সেটা তো তোমার মনের ভিতরে সবসময়ই কাজ করে। তোমার দরকার বড় বড় সার্টিফিকেট, পি এইচ ডি ডিগ্রী যাতে বিয়ের বাজারে তোমার কদর একটু বেশীই থাকে। তুমি স্বীকার না করলেও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এগুলোই যে তোমার জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তা তুমি অস্বীকার করতে পারবেনা। হয়ত বলবে এগুলো কে না চায়? হ্যা আমিও জানি এগুলো প্রায় সবাই চায়। তাই তুমিও চাও, মনেপ্রাণে চাও, যেকোনো মূল্যে চাও। আর তুমি তোমার এই চাওয়াগুলোকে পূরন করার জন্যে প্রাণপণ চেষ্টা সাধনা করে চলেছ। যে তুমি তোমার আরামের ঘুমটুকু ভেঙ্গে ফজরের নামাজটুকু পড়তে পারোনা সেই তুমি পরীক্ষার টেনশনে সারারাত ঘুমাতে পারোনা। কখন কিভাবে ভোর হয়ে যায় তুমি বলতেই পারোনা কিন্তু তোমার পড়া শেষ হয় না আর ফজরের দুই রাকাত ফরজ নামাজ পড়ারও সময়তো এমনেই হয়নাবই নিয়ে, গ্রুপস্টাডি নিয়ে বন্ধুদের সাথে এতোটাই ব্যস্ত থাক যে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার জন্যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিরিশ মিনিট সময় তোমার হয়না। কারণ তুমি জান যে এবং তোমাকে জানানো হয়েছে যে এই পরীক্ষায় তুমি ভালো করতেই হবে, না করতে পারলে তোমার স্বপ্নগুলো পূরন হবে না। এই পরীক্ষায় ভালো না করতে পারলে তোমার একটা আরাম আয়েশি জীবন, একটা সুন্দর বাড়ি, একটা সুন্দরী নারী এবং একটা সুন্দর গাড়ী পাওয়া হবে নাআর এগুলো না ফেলে তোমার জীবন একেবারে ব্যর্থ। সমাজ তোমাকে ব্যর্থদের কাতারে ফেলে দিবে, সমাজ তোমার কুৎসা করবে, সমাজ বলবে তুমি শেষ, তুমি কোন কাজের না, তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না। তাই তুমি পাগলের মত ছুটে চলেছ এসবের পেছনে। কিন্তু তুমি একবার ভাবনি তুমি কিসের পেছনে ছুটছো, কিসের জন্যে ছুটছো অবশ্য তা ভাবার মত তোমার সময় কোথায়?

ক) মনে করো তুমি পরীক্ষা দিয়ে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছ এবং দুই দিন পরে ডিপার্টমেন্টের টিচার হবে কিন্তু কিছু দিন পরেই তুমি মারা গেলে। এখন বল কি হবে তোমার ওইসব ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট সার্টিফিকেট দিয়ে। কেজির দরে বিক্রি করা ছাড়া আর কোন কাজে আসবেনা। আর কেজির দরে বিক্রি করলেও তো দুই টাকার বেশী হবে না। এখন চিন্তা করো তোমার সারা জীবনের অর্জন তোমার মৃত্যুর সাথে সাথেই দুই টাকা হয়ে গেল বা তারও কম।

খ) মনে করো গুলশানে তোমার একটা বিশাল বাড়ী হল এবং বাড়ীটিতে উঠার একদিন পরেই তুমি মারা গেলে কি হবে তোমার এই বাড়িটার? মনে করো তোমার একটা লাখ টাকা বেতনের একটা চাকরি হল এবং একটা গাড়ী হল এবং তুমি ওই গাড়ীতে করে প্রথম দিন অফিসে যাওয়ার পথেই দুর্ঘটনায় মারা গেলে তখন কি হবে তোমার ওই লাখ টাকার চাকরি আর বিলাসবহুল গাড়ীর? আচ্ছা মনে করো খুব সুন্দরী একটা মেয়ের সাথে তোমার বিয়ে হল এবং বাসর রাতের পরের দিনই তুমি মারা গেলে তখন কি হবে তোমার ওই সুন্দরী স্ত্রীর? এগুলো কি তোমার সাথে কবরে নিয়ে যাবে নাকি? নিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা তুমি মারা যাওয়ার পর তোমার ওই ভালোবসার মানুষটিই ভয়ে তোমার সাথে একরাত থাকতেও চাইবেনা। তোমার যে স্ত্রী কখনো তোমাকে ছাড়া একরাত থাকতে পারতোনা তোমার সেই স্ত্রীই বলবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তোমাকে যেন দাফন করা হয়। এটাই চরম বাস্তবতা এবং এটাই চরম সত্য। একবার ভেবে দেখ তোমার মৃত্যুর সাথে সাথেই তোমার সব বৈষয়িক অর্জন, প্রভাব-প্রতিপত্তি সব কিছু এক মুহূর্তের মধ্যে শূন্য হয়ে যাবে। তোমার অতি কাছের মানুষগুলো চিরদিনের জন্যে তোমার পর হয়ে যাবে। যাদের জন্যে তুমি পৃথিবীতে এতো কিছু করেছো কেউ তোমার সামান্য উপকারে আসবেনা। কেউ তোমাকে বিন্দু পরিমাণ সাহায্য করতে পারবেনা এমনকি তোমার গর্ভধারিণী মাও পর্যন্ত তোমার জন্যে কিছু করতে পারবেনা এক দোয়া করা ছাড়া। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেনঃ-

“আর ভয় করো সেই দিনকে যেদিন কেউ কারো সামান্যতম উপকারে আসবেনা, কারো পক্ষ থেকে কোন সুপারিশ গৃহীত হবেনা এবং বিনিময় নিয়েও সেদিন কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবেনা”-সুরা আল বাকারাঃ ৪৮

তাহলে এখন ভাবো কি নিয়ে যাবে তোমার সাথে যেটা তোমাকে সেদিন সাহায্য করবে যেদিন কেউ তোমাকে সাহায্য করতে পারবেনা। শুধুমাত্র একটা জিনিসই তোমাকে সাহায্য করতে পারবে সেটা হচ্ছে তোমার আমল অর্থাৎ তোমার কৃতকর্ম। আর সেটাকে গুরুত্ব না দিয়েইতো তুমি এসবের পিছনে পাগলের মত ছুটে চলেছ। তাহলে তখন্ তোমার কি অবস্থা হবে একবার ভাব। অবশ্য তোমাকে ভাবতে হবে না কারণ সেটা আল্লাহ্‌ তায়ালাই তোমাকে সতর্ক করার জন্যে পবিত্র কোরআনে বার বার বলে দিয়েছেন। কিন্তু তুমি এতোটাই দুর্ভাগা যে সেই সতর্ক বানীগুলো তোমার কানে পৌঁছায়না বা নিজে জানারও প্রয়োজনবোধটুকু করোনা। আল্লাহ্‌ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেনঃ-

আর যার আমলনামা তার বা হাতে দেয়া হবে  সে বলবেঃ হায়! আমার আমলনামা যদি আমাকে আদৌ দেয়া না হতো এবং আমার হিসেব যদি আমি আদৌ না জানতাম তাহলে কতই না ভাল হত হায়! আমার  মৃত্যুই যদি আমার শেষ হতো। আজ আমার অর্থ-সম্পদও কোন কাজে আসলো না আমার সকল ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি বরবাদ হয়ে গেল।–সুরা আল হাক্কাহঃ ২৫-২৯

এখন ভাবো কি হওয়া উচিত তোমার জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। আবারো ভাবো!!!। এই দুনিয়ার প্রতিপত্তি নাকি আখিরাতে মুক্তি।

২) আচ্ছা বলতো কেন তোমাকে সৃষ্টি করা হয়েছে?

তুমিতো এই পৃথিবীর সামান্য কিছু বৈষয়িক সুখের জন্যে হাজার হাজার পৃষ্টা পড়ে চিন্তা করতে পারো, লিখতে পারো, বলতে পারো কিন্তু কখনো কি একবার ভেবে দেখেছো যে কেন তোমাকে তোমার প্রভু সৃষ্টি করেছেন?। শুধুমাত্র কি এই জন্যে যে তুমি তুমি জন্ম নিয়ে ছোট থেকে বড় হবে, পড়াশুনা করবে, তারপর একটা ভালো চাকরি করবে, তারপর বিয়ে করে সুখে শান্তিতে সংসার করবে, তারপর বৃদ্ধ হবে এবং তারপর একদিন এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিবে? অনেকটা পশু পাখির মতই। তাহলে তুমি যে আশরাফুল মাখলুখাত এই কথার সত্যতা থাকল কোথায়? আচ্ছা একবার গভীরভাবে চিন্তা করতো যিনি এই বিশ্বজগতের স্রষ্টা, অসীম জ্ঞানী, যার সৃষ্টিতে কোন ভুল বা ত্রুটি নেই সেই তিনি কীভাবে তোমাকে এতো বুদ্ধি, বিবেক, প্রজ্ঞা দিয়ে সুন্দরতর আকৃতিতে সৃষ্টি করে কোন কারণ বা উদ্দেশ্য ছাড়াই এই পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিয়েছেন? তুমি হয়ত জানো না বা জানবার প্রয়োজনীয়তাটুকুও বোধ করোনা কেন আল্লাহ্‌ তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু সেটা আল্লাহ্‌ আল্লাহ্‌ তায়ালা পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন। আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেনঃ-

“আমি জিন ও মানুষকে আমার ইবাদত ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্য সৃষ্টি করিনি।”-সুরা আয যারিয়াতঃ ৫৬

উপরের আয়াতটা বার বার পড় এবং দেখতো বুঝতে কোন অসুবিধা হয় কিনা, কি কারণে আল্লাহ্‌ তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি জানি একটা ছোট শিশুরও বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা না।

অর্থাৎ আল্লাহ্‌ তায়ালা তোমাকে এতো বুদ্ধি, বিবেক, প্রজ্ঞা দিয়ে সুন্দরতর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন শুধুমাত্র তার অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদতের জন্যে। এখন তোমার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, আমি কি তাহলে  এই পৃথিবীর কিছুই পাবো না বা কিছুই ভোগ করতে পারবোনা বা অন্য কোনকিছুই করতে পারবোনা? অবশ্যই পারবে, সব কিছুই করতে পারবে। তবে সেটা আল্লাহ্‌ ও তার রাসুলের দেখানো পথে হতে হবে। আল্লাহ্‌ ও তার রাসুলের দেখানো পথে তুমি যা করবে বা আল্লাহ্‌ ও তার রাসুলের নিষেধে যা পরিত্যাগ করবে তার সবটাই ইবাদত। যদি তুমি আল্লাহ্‌ ও তার রাসুলের নির্দেশমত রাস্তা দিয়ে হাট এবং আল্লাহ্‌ তার রাসুলের আদেশমত রাস্তা দিয়ে হাটার সময় নিষিদ্ধ কাজগুলো থেকে বিরত থাক তাহলে রাস্তা দিয়ে হাঁটাটাও তোমার জন্যে ইবাদত বলে গন্য হবে যেমনিভাবে আল্লাহ্‌ ও তার রাসুলের দেখানো পদ্ধতিতে নামাজ পড়া, রোজা রাখা, যাকাত আদায় করা, হজ্জ করা ইবাদত হিসেবে গন্য হয়। তুমি যদি সৎ পথে তোমার পরিবারের জন্যে জীবিকা নির্বাহ করো তাহলে সেটাও তোমার জন্যে ইবাদত হিসেবে গন্য বা কবুল হবে। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রী বা স্বামীর সাথে যে সময়টুকু কাটাবে সেটাও ইবাদত বলে গন্য হবে যদি সেটা আল্লাহ্‌ ও তার রাসুলের দেখানো পথ অনুসারে হয়। এমনকি তোমার ঘুমটাও ইবাদত হবে যদি সেটা আল্লাহ্‌ ও তার রাসুলের নির্দেশিত পন্থায় হয়রাসুল(সাঃ) বলেনঃ-

“যে ব্যক্তি ইশার নামাজ জামাতের সাথে পড়ল যে যেন অর্ধরাত অবধি নামাজ আদায় করল। আর এর পর যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সাথে আদায় করল সে যেন সারা রাত নামাজ আদায় করল। অর্থাৎ মাঝখানে তার ঘুমটাও নামজের মত ইবাদত হিসেবে গন্য হবে। ”- সহীহ মুসলিম

৩) কেন তুমি আশরাফুল মাখলুখাত?

তুমি ইসলাম সম্পর্কে খুব ভালো না জানলেও অন্তত এইতুকু জানো যে মহান আল্লাহ্‌ তায়ালা তোমাকে আশরাফুল মাখলুখাত বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু কখনি কি একবার ভেবে দেখেছো কেন তুমি সৃষ্টির সেরা। নাকি তুমি এমনি এমনিই তুমি সৃষ্টির সেরা!!এইটা বলা কি চরম নিরবুদ্ধিতা না বল? তুমি নিজেও কি অন্য কাউকে শুধু শুধু সেরা বলে বলে মেনে নিবে? তুমি জানো যে তোমার বাবা তোমার পরিবারের শ্রেষ্ঠ কারণ তোমার বাবা তোমার পরিবাবের সকল দায়িত্ব বহন করেন। তেমনিভাবে তোমাকে কিছু দায়িত্ব দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে যেটা অন্য কোন প্রানীকে দেয়া হয় নাই আর সে জন্যেই তুমি আঁশরাফুল মাখলুখাত  বা সৃষ্টির সেরা। আল্লাহ্‌ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেনঃ

“ তোমরা হলে উত্তম জাতি। তোমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে মানুষের কল্যান সাধনের জন্যে। তোমাদের কাজ হল, তোমরা মানুষকে সত্যের পথে চলার আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখবে।”-সুরা আল ইমরানঃ ১১০

দেখ আল্লাহ্‌ কত স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন কেন তোমাকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। এখন বল এই দায়িত্ব পালন না করলে কি তুমি আর শ্রেষ্ঠ থাকবে বা থাকতে পারবে? থাকতে পারবেনা। তাহলে কি হবে তোমার অবস্থান? সেটাও কিন্তু আল্লাহ্‌ তায়ালা পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেনঃ

“আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম আকৃতিতে। অতঃপর থাকে নামিয়ে দিয়েছি নিকৃষ্ট থেকে নিকৃষ্টতর অবস্থানে।”- সুরা আত ত্বীনঃ ৪-৫

অর্থাৎ তুমি যদি তোমার এই দায়িত্ব মানে “সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধ” পালন না করো বা পালনে অবহেলা করো তাহলে তোমাকে এক নিকৃষ্ট স্তরে নামিয়ে দেয়া হবে। অর্থাৎ পশু পাখিরও নীচের স্তরে। এখন একটু চিন্তা করতো তোমাকে যে দায়িত্ব দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে সেটা সম্পর্কে কতটুকুই বা জানো কতটুকুই বা পালন করছো। যদি না করে থাক তাহলে তোমার অবস্থানটা কি পশুর চেয়েও নীচে নেমে গেলনা?

৪) আচ্ছা বলতো কেন আমরা বেঁচে আছি?

আচ্ছা ভাইয়া বা আপু কখনো কি একবার চিন্তা করেছো কেন আমরা বেঁচে আছি? কিসের জন্যে বেঁচে আছি? খাবো-দাবো, সেক্স করবো, আমোদ-ফুর্তি করবো শুধু কি এই জন্যেই বেঁচে আছি? যদি শুধুমাত্র খাওয়া-দাওয়া, সেক্স, আমোদ-ফুর্তি বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য হয় তাহলে তো আমাদের আর পশু পাখির মধ্যে কোন পার্থক্যই থাকলোনা। বরং তখন পশু পাখির জীবনটা আমাদের চেয়ে অনেক সুন্দর হবে কারণ ওদের খাওয়া-দাওয়া, সেক্সের জন্যে অতটা পরিশ্রম করতে হয় না যতটা করতে হয় মানুষের। যদি বল খাওয়া- দাওয়া, সেক্স, আমোদ- ফুর্তিই বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য না তাহলে কেন আমরা বেঁচে আছি সেই কারণটা অবশ্যই তোমাকে বের করতে হবে। আর এই জন্যে তোমাকে ফিরে যেতে হবে আল কোরআনের ছায়াতলে। না হলে হাজার হাজার পৃষ্টা পড়েও অন্ধকারে হাতড়িয়ে মরবে কিন্তু বেঁচে থাকার সঠিক উদ্দেশ্যটাই আবিষ্কার করতে পারবেনা। আল্লাহ্‌ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেনঃ

“এই সেই রমজান মাস, যে মাসে কোরআন নাযিল করা হয়েছে; যা মানুষের জন্যে হেদায়াত স্বরূপ, যা এমন স্পষ্ট উপদেশে পরিপূর্ণ যে, তা সঠিক পথ দেখায় এবং হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য পরিস্কারভাবে তুলে ধরে।”- সুরা আল বাকারাঃ ১৮৫

৫) এই দুনিয়ার সাফল্যই কি প্রকৃত সাফল্য?


আচ্ছা এই দুনিয়ার সাফল্যই কি প্রকৃত সাফল্য? এই দুনিয়াতে অঢেল টাকা-পয়সা, গাড়ী-বাড়ী, প্রভাব-প্রতিপত্তি এবং সুন্দরী রমণী পাওয়াটাই কি প্রকৃত সাফল্যের মূল নিদর্শন? দেখা যাক এই দুনিয়ার সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ্‌ তায়ালা এই দুনিয়ার তথাকথিত সাফল্য নিয়ে কি বলেনঃ

তারা তাদের এই দুনিয়ার জীবনে যা কিছু ব্যয় করছে তার উপমা হচ্ছে এমন বাতাস যার মধ্যে আছে তূষার কণা ৷ যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছে তাদের শস্যক্ষেতের ওপর দিয়ে এই বাতাস প্রবাহিত হয় এবং তাকে ধ্বংস করে দেয় আল্লাহ তাদের ওপর জুলুম করেননি৷ বরং প্রকৃতপক্ষে এরা নিজেরাই নিজেদের ওপর জুলুম করেছে৷পার্থিব জীবন ছলনাময় সম্পদ ছাড়া কিছুই নয়।”- সুরা আল ইমরানঃ ১১৭

পার্থিব জীবন ছলনাময় সম্পদ ছাড়া কিছুই নয়।”-সূরা আলে ইমরানঃ ১৮৫

পার্থিব জীবন ক্রীড়া-কৌতুক ব্যতীত কিছু নয়, যারা সংযত হয় তাদের জন্য পরকালের আবাসই শ্রেষ্ঠতর। তোমরা কি তা বোঝ না?”-সূরা আল-আন'আমঃ ৩২

এই পার্থিব জীবন তো ক্রীড়া-কৌতুক ব্যতীত কিছুই নয়। পরলৌকিক জীবনই তো প্রকৃত জীবন।”-সূরা আল-আনকাবূতঃ ৬৪

এই পার্থিব জীবন তো অস্থায়ী উপভোগের বস্তু এবং পরকাল হচ্ছে চিরস্থায়ী আবাস।”-সূরা আল-মু'মিনঃ ৩৯

তোমরা জেনে রেখো, পার্থিব জীবন তো ক্রীড়া-কৌতুক, জাঁকজমক, পারস্পরিক গর্ববোধ ও ধন-জনে প্রাচুর্য লাভের প্রতিযোগিতা ব্যতীত আর কিছু নয়”-সূরা আল-হাদীদঃ ২০

উপরের আয়াতগুলো বার বার পড় আর চিন্তা করো কিসের পেছনে পাগলের মত ছুটছু।

৬) আখিরাতের সাফল্যই প্রকৃত সাফল্য।

এই দুনিয়ার সাফল্য সে প্রকৃত সাফল্য নয় এই কথাতি বুঝতে বা উপলব্ধি করতে কোন বিবেকবান মানুষেরই অসুবিধা হওয়ার কথা না। কেননা এই দুনিয়ার সাফল্য নশ্বর, অস্থায়ী। এই দুনিয়ার সাফল্য আজ আছে তো কাল নেই। যেকোনো মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। প্রকৃতপক্ষে আখিরাতের সাফল্যই যে প্রকৃত সাফল্য যে কেউ সামান্য একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবে। কেননা আখিরাতের সাফল্য অবিনশ্বর, চিরন্তন। তা কখনো হারিয়ে যাবার নয় বা ধ্বংস হবার নয়। আল্লাহ্‌ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেনঃ

অবশেষে প্রত্যেক ব্যক্তিকে মরতে হবে এবং তোমরা সবাই কিয়ামতের দিন নিজেদের পূর্ণ প্রতিদান লাভ করবেএকমাত্র সেই ব্যক্তিই সফলকাম হবে, যে সেখানে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাবে এবং যাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে ৷ আর এ দুনিয়াটা তো নিছক একটা বাহ্যিক প্রতারণার বস্তু ছাড়া আর কিছুই নয়”- সুরা আল ইমরানঃ ১৮৫

সে সময় যাকে তার আমলনামা ডান হতে দেয়া হবে,  সে বলবেঃ নাও, তোমরাও আমার আমলনামা পড়ে দেখো, আমি জানতাম, আমাকে হিসেবের সম্মুখীন হতে হবে তাই সে মনের মত আরাম আয়েশের মধ্যে থাকবে সুচ্চ মর্যাদার জান্নাতে যার ফলের গুচ্ছসমূহ নাগালের সীমায় অবনমিত হয়ে থাকবে এসব লোকদের কে বলা হবেঃ অতীত দিনগুলোতে তোমরা যা করে এসেছো তার বিনিময়ে তোমরা তৃপ্তির সাথে খাও এবং পান করো”- সুরা আল হাক্কাহঃ ১৯-২৪

৭) এবার তোমাকে কিছু অপ্রিয় সত্য কথা বলি।

এবার তোমাকে কিছু অপ্রিয় সত্য কথা বলি। হয়ত তোমার কাছে কথাগুলো কটু মনে হতে পারে। তাতে কি? আমি যদি তোমাকে এতো ভালোবাসতে পারি, তোমার জন্যে লিখতে পারি তাহলে কি তোমার বৃহত্তর কল্যাণের জন্যে তোমাকে কয়েকটা কটু কথা বলার অধিকার রাখিনা বল? আর একটা প্রবাদই তো আছে যে, “শাসন করা তারই সাজে সোহাগ করে যে”।

ক) একটু চিন্তা করে দেখতো তোমাকে অনার্স পাস করতে হলে ছোটবেলা থেকে অনার্স পর্যন্ত কমপক্ষে ১৩৫ টি বই পরতে হয়(প্রতি বিষয়ের জন্যে কমপক্ষে একটি করে বই ধরে কিন্তু অনেক সময় আমদেরকে একটা বিষয়ের জন্যে তিনটা থেকে চারটা পর্যন্ত বই পরতে হয়)। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে এই কমপক্ষে ১৩৫ তার মধ্যেও তোমার জীবনের জন্যে সবচেয়ে অত্যাবশ্যকীয় একটা বই(আল কোরআন) থাকেনা। তোমার এই পৄথিবীতে একটা চাকরীর জন্যে শত শত আজেবাজে বই পড়ার সময় হয় কিন্তু আল কোরআন পড়ার সময় হয়না। তার পরেও তুমি নিজেকে মুসলমান বলে পরিচয় দাও!!,আল্লাহর কাছে মুক্তির আশা করো!!। আমার মনে হয় আমাদের নিজেদের একটু লজ্জিত হওয়া উচিত।

খ) একবার চিন্তা করতো সাময়িক কিছু বিনোদনের জন্যে তুমি হাজার হাজার টাকা খরচ করে হুমায়ূন আহমেদের বই, জাফর ইকবালের বই, বিভিন্ন মুভি ডিস্ক এবং আরও কত কি কিনতে পারো কিন্তু মাত্র হাজার বারোশ টাকা খরচ করে ইসলাম বুঝার জন্যে একটা কোরআনের তাফসীর বা কয়েকটা ইসলামিক বই কিনতে পারোনা। তা পারবে কেন? তুমি তো আধুনিক ছেলে বা মেয়ে!!তোমার কি কোরআনের তাফসীর আর ইসলামিক বই পড়ার সময় আছে? তোমার সময় আছে একরাতে দুই তিনটা মুভি দেখে শেষ করার!!তোমার সময় আছে টিএসসিতে বন্ধু বান্ধবীদের সাথে জমিয়ে আড্ডা দেয়ার!!তোমার সময় আছে গার্লফ্রেন্ড নিয়ে পার্কে বসে নিভৃতে আড্ডা দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করার!! তোমার সময় আছে গার্লফ্রেন্ডের সাথে সারারাত জেগে ফোনালাপ করার!!। তোমার কি ইসলাম নিয়ে, কোরআন- হাদিস নিয়ে আলোচনা করার সময় আছে? তা থাকবে কেন ? তোমার সময়গুলো হচ্ছে এক্তা টাইগার, ডার্টি পিকচার আর বলিউডের কোন মুভিটা কত হিট হয়েছে তা নিয়ে বন্ধুদের সাথে আলোচনায় হারিয়ে যাওয়ার। কোন মুভি প্রথম দিনেই কত মিলিয়ন ডলার আয় করছে তা একেবারে তোমার নখদর্পণে। স্প্যানিশ লীগে, ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে কে কয়টা গোল করছে সব তোমার মুখস্ত। আগামী বছর কে ব্যালন ডি জিতবে তাও বলে দিতে পারবে। পৃথিবীর সব বিষয়ের জ্ঞান তুমি রাখো। তুমি সবই বলে দিতে পারবে। বলতে পারবেনা শুধু পবিত্র কোরআনে কয়টা সূরা আছে, সিহাহ সিত্তাহ মানে কি। সত্যি তোমার জন্যে আমার করুনা হয়, তোমার জন্যে আমার লজ্জা হয়, তোমার জন্যে আমি বিব্রত!!!তারপরেও তোমাকে আমি অনেক অনেক ভালোবাসি, অনেক অনেক পছন্দ করি আর তাই তোমাকে এই কথাগুলো বললাম যেন তোমার চেতনা ফিরে আসে, যেন তোমার ভিতরে ঘুমিয়ে থাকা সত্যিকারের মানুষটা জেগে ওঠে।

গ) হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুতে, সস্তা প্রেমের সিনেমা দেখে, সস্তা প্রেমের উপন্যাস পড়ে তোমার চোখে জল এসে যায় কিন্তু নিজের শত শত ভুল আর পাপের জন্যে আল্লাহর সামনে দাড়িয়ে একফোঁটা চোখের জল ফেলার সময় তোমার হয়না। আর দাঁড়ালেও সে সময় চোখের সমস্ত জল যেন কর্পূরের মত বাষ্প হয়ে উড়ে যায়!! এভাবে আর কতদিন বল? এখনি কি তোমার চেতনা হবে না নাকি আল কোরআনের ওই আয়াতের মত হবে তোমার অবস্থাঃ

“ দুনিয়ায় বেশী বেশী এবং একে অপরের থেকে বেশী পাওয়ার মোহ তোমাদেরকে গাফলতির  মধ্যে ফেলে দিয়েছেএমনকি তোমরা (এই চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে ) কবর পর্যন্ত পৌঁছে যাও”- সুরা আত তাকাসুরঃ ১-২

 বল, আর কবে তোমার রবের দিকে প্রত্যাবর্তন করবে? শেষ বয়সে? কিন্তু তুমি যে আর এক মুহূর্ত পরে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকবে এই নিশ্চায়তা তোমাকে কে দিল?

৮) শুরু হোক নতুন জীবন, নতুন অধ্যায়

অতীতের ভুল ভ্রান্তির জন্যে পরম করুনাময় আল্লাহর কাছে তওবা করে,ক্ষমা চেয়ে আজ থেকে শুরু হোক নতুন জীবন। শুরু হোক নতুন করে চলার পথ, যে পথ শুধুই আলোয় ভরা, যে পথ শুধুই সাফল্যের, যে পথে ব্যর্থতার কোন হিসেব নেই, আল কোরআনই হবে যে পথের একমাত্র আলোকবর্তিকা। আল্লাহ্‌ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেনঃ

হে ঈমানদারগণ তোমরা সবাই আল্লাহর নিকট তওবা করো, তাহলেই তোমরা কল্যান লাভ করতে পারবে।”- সুরা আন নূরঃ ৩১

হে ঈমানদগন তোমারা আল্লাহর কাছে খাঁটি মনে তওবা করো।”- সুরা আত তাহরীমঃ ৮

রাসুল(সাঃ) বলেনঃ

আল্লাহ তাঁর বান্দার তওবায় সেই ব্যক্তির চেয়েও বেশি খুশি হন যার খাবার ও পানীয় সামগ্রী নিয়ে সাওয়ারী উটটি হঠাৎ গভীর মরুভূমিতে হারিয়ে গেল। অনেক খোঁজাখুজির পর হতাশ হয়ে লোকটি একটি গাছের ছায়ায় শুয়ে পড়ল। এরূপ অবস্থায় হঠাৎ সে উটটিকে নিজের কাছে দাঁড়ানো দেখতে পেল। সে উটের লাগাম ধরে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে বলতে লাগলঃ হে আল্লাহ্‌ তুমি আমার বান্দা আর আমি তোমার প্রভু!! সে অতিশয় আনন্দেই এই ভুল করে বসল।”- সহীহ আল বুখারী ও সহীহ মুসলিম

“আবু হুরাইরা(রাঃ) বর্ণনা করেন আমি রাসুল(সাঃ) কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহর কসম! আমি একদিনে সত্তর বারের চেয়েও বেশি তওবা করি এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।” -সহীহ আল বুখারী।

৯) শেষ কথাঃ

এই সুন্দর পৃথিবীতে কে একটু সুন্দরভাবে বাঁচতে না চায়। আমরা সবাই চাই কারো কাছে হাত না পেতে একটু স্বাবলম্বী হয়ে বাঁচতে। আমরা সবাই চাই পৃথিবীতে আমাদের ধন-সম্পদ, প্রভাব-প্রতিপত্তি, মান-সম্মান থাকুক। তবে মনে রাখতে হবে তা যেন আখিরাতের সাফল্যের চেয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে, আখিরাতকে বিনষ্ট করে নয়। আর প্রাণপণ চেষ্টা করলেই কি অঢেল ধন-সম্পদ, প্রভাব-প্রতিপত্তি, মান-সম্মান অর্জন করা যায়? আল্লাহ্‌ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলেনঃ

বলোঃ হে আল্লাহ! তুমিই বিশ্বজাহানের মালিক! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দান করো এবং  যার কাছ থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা ছিনিয়ে নাও ৷ যাকে ইচ্ছা মর্যাদা ও ইজ্জত দান করো এবং যাকে ইচ্ছা লাঞ্জিত ও অপমানিত করো সমস্ত কল্যাণ তোমরা হাতেই নিহিত ৷ নিসন্দেহে তুমি সবকিছুর ওপর শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান।”- সুরা আল ইমরানঃ ২৬

আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে ইসলাম, কোরআন-হাদিস বুঝার তৌফিক দান করুন। আমীন।

 https://www.facebook.com/notes/463727426982436/

সাদকায়ে জারিয়া :মরণের পরেও বন্ধু হয়ে রয়।

নিজেকে দয়া করুন, নিজের প্রতি রহমদীল হোন। কোন কিছু নিয়ে এতো চিন্তা করে কী হবে? প্রতিটা মানুষের জীবনের স্রোত আলাদা, একের সাথে আরেকটা মিশে না। অন্যের সাথে তুলনা করতে যাবেন না। এমনকি নিজের অতীতের সাথেও না। শুধু জেনে নিন, আপনার জীবনে সামনে যা আসে, তা আল্লাহর পাঠানো। কিছুতেই তা এড়িয়ে যেতে পারতেন না। গ্রহণ করে নিন জীবনে যা কিছু আসে, আসবে। হাসিমুখ থাকুন, চিন্তাক্লিষ্ট হয়ে দুশ্চিন্তা ও আশংকা করে নিজেকে নষ্ট করবেন না। আমাদের উপরে যা কিছু আসে তা আমাদের সাধ্যের অতিরিক্ত নয়, এ আল্লাহর স্পষ্ট ঘোষণা। আস্থা রাখুন নিজের উপরে। দুর্যোগ মানেই জীবন ধ্বংস নয়, হোক তা প্রাকৃতিক কিংবা মানবসৃষ্ট। দুর্যোগ কেটে যায়। ধ্বংসস্তূপ সারিয়ে তুলতে হয় সেই আপনাকেই। তাই, অপেক্ষা করুন নতুন করে গড়ে নেয়ার। এটাই জীবন। অতিকাব্যিক কিছু নেই পৃথিবীর জীবনে। আসল সফলতা আল্লাহর কাছে। দুনিয়ায় কাজ হলো সুন্দর করে মূহুর্তগুলোতে আপনার দায়িত্ব পালন কvBulletinরে যাওয়া। ফলাফল আল্লাহর হাতে। সবই আল্লাহর হাতে। সহজভাবে গ্রহণ করুন জীবন। হাসিমুখ থাকুন, হাসিমুখ তৈরি করুন। কাজ করুন। মন দিয়ে কাজ করুন। কাজের মাঝে বেঁচে থাকুন যেন এগুলো সাদকায়ে জারিয়া হয়ে মরণের পরেও বন্ধু হয়ে রয়।

collected

আলহামদুলিল্লাহ্‌

......আমি বর্তমানে যে ফোনটা ব্যবহার করি সেটার নাম হচ্ছে-Asus Zenfone5.। অসাধারণ একটা ফোন। আমার কাছে মনে হয় দাম ও Performance এর দিক দিয়ে বাজারের সেরা ফোন। 2GB র‍্যাম, 16GB রম, Intel Processor, Full HD Display, 8 Megapixel Camera with Sony Sensor,So Many Customizations। তাছাড়া আসুসের Software Service অসাধারণ, Regular Software Update দেয়। ৭ মাস ধরে ব্যবহার করছি এখন পর্যন্ত কোন সমস্যাই হয়নি আলহামদুলিল্লাহ্‌। কয়েকদিন আগে Kitkat থেকে Lollipop Update দিলাম। ফলে ফোনের Look এবং Performance সবকিছুই মনে হচ্ছে আগের চেয়েও দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আলহামদুলিল্লাহ্‌। সবচেয়ে বড় কথা ফোনটা নিয়ে আমি অসম্ভব রকম খুশি! আলহামদুলিল্লাহ্‌…আলহামদুলিল্লাহ্‌।
.
......অনেকের হয়তো মনে হচ্ছে আমি Asus এর Branding করতে নেমেছি বা User Review দিচ্ছি। আসলে তা না। মূল রহস্য সামনে....
.
…..কয়েকদিন আগে আমার এক কাছের বন্ধুর শ্বশুর-শাশুড়ি হজ্ব করতে গিয়ে তার জন্যে একটা Samsung Galaxy S6 ফোন নিয়ে আসে!! তো ওর সাথে দেখা হইলেই ওর ফোনটা হাতে নিই, বিভিন্ন Settings এবং Customization ঠিক করে দেই। ঠিক ঐ মুহূর্তে আমার ফোনটাকে আমার কাছেই কেমন জানি মিসকিন মিসকিন লাগে!!। তখন মনে হয় ইশ! আমার ফোনটাও যদি Samsung Galaxy S6 হইতো!!!
.
.....তাহলে একবার চিন্তা করুন, যে ফোনটাকে নিয়ে আমি এতো খুশি সেই ফোনটাকেই এখন আমার কাছে মিসকিন মিসকিন মনে হচ্ছে!! কারণটা কি?? ফোনটায় কি কোন সমস্যা দেখা দিয়েছে??
.
-না, আমার ফোনে কোন সমস্যা দেখা দেয় নি। সমস্যা আমার মাঝে দেখা দিয়েছে, মনে মনে আমি ওর ফোনটার সাথে আমার ফোনটার তুলনা করতে গিয়েছি।
.
……হুম। এটাই হচ্ছে আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যা বা বাস্তব জীবনে অসুখী হওয়ার প্রধান কারণ। অনেক কিছু থাকার পরেও আমরা নিজেদেরকে সুখি মনে করিনা, আলহামদুলিল্লাহ্‌ বলতে পারিনা কারণ আমরা নিজেদেরকে অন্যের কি আছে সেটার সাথে তুলনা করতে যাই। তুলনা করতে যাওয়াটা সমস্যা হইতো না যদি আমরা আমাদের চেয়ে যাদের কম আছে তাদের সাথে তুলনা করতে যাইতাম। কিন্তু না, আমরা তা করিনা। আমরা নিজেদেরকে তুলনা করি আমাদের চেয়ে যাদের বেশী আছে তাদের সাথে।
.
…….হয়তো আপনার একটা X Corolla গাড়ি আছে, কিন্তু গাড়িটা নিয়ে আপনার মনে পরিপূর্ণ সুখ নাই কারণ আপনার বন্ধুর গাড়িটা হচ্ছে Mercedes বা Prado। এবার উল্টোটা চিন্তা করেন যে, আপনার তো একটা গাড়ি আছে কিন্তু অনেকের কাছে হয়তো রিকশা দিয়ে যাতায়াত করার ভাড়াটাও নেই!!। দুঃখের বিষয় আমরা খুব কমই উল্টোটা চিন্তা করে থাকি।
.
-ফলাফলঃ-আল্লাহ্‌ যথেষ্ট ভালো রাখা সত্ত্বেও আমরা নিজেদের দোষে দূষিত হয়ে সেই সুখটা বা ভালোটা উপলব্ধি করতে পারিনা!!
.
.....সুতরাং সুখে থাকার মূলমন্ত্র হচ্ছে- নিজের যা আছে তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকা কারণ এর চেয়েও তো খারাপ হইতে পারতো। কেননা রাসুল (সাঃ) বলেছেন,
“যখনি তোমার উপরের শ্রেণীর লোকদের (অন্যের প্রাচুর্য) দেখে মন খারাপ হবে তখনি তোমার নিচের শ্রেণীর লোকদের দিকে তাকাও তাহলেই দেখবে ঐ প্রাচুর্যের জন্য তোমার আর খারাপ লাগছেনা।”(ভাবানুবাদ)-সহীহ মুসলিম, জামে আত তিরমিজি।
-সুবাহানাল্লাহ। কি অসাধারণ কথা!!
.
……সো সুখি হইতে চাইলে, নিজের কি নাই সেটা চিন্তা না করে, নিজের কি আছে সেটা নিয়ে চিন্তা করেন, তার জন্য আলহামদুলিল্লাহ্‌ বলেন। ব্যাস!! সুখি হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট!!

collected

ইসলামী দেশ !!!

আসলে কষ্ট লাগে এদেশের এই অবস্থা দেখে তাই না ? আচ্ছা এ দেশ নাকি ইসলামী দেশ !!!
আচ্ছা আসুন দেখি এদেশের মুসলিমদের অবস্থা কেমন...
ইসলামিক ফাউডেশনের জরীপ অনুযায়ী এ দেশে মাত্র ২% মানুষ নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত স্বলাত আদায় করে ! অথচ
রাসূল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন-
‘‘কোন মুমিন ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হল সালাত ত্যাগ করা।’’ (সহীহ মুসলিম)
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন:
‘‘তাদের পর আসলো (অপদার্থ) বংশধর। তারা সালাত নষ্ট করল ও লালসার বশবর্তী হল, সুতরাং তারা অচিরেই কু-কর্মের শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে। কিন্তু তারা নয় যারা তওবা করেছে, ঈমান এনেছে ও নেক কাজ করেছে।’’ (মারইয়াম ৫৯-৬০)
আমাদের দেশে ৯৯% নারী পর্দা করেনা আর যদিও করে তা ফ্যাশন প্রকৃত পর্দা হয় না । অথচ মহান আল্লাহ্‌ বলেন
"হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, আপনার কন্যাদের ও মুমিনদের নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের জিলবাবের একাংশ নিজেদের (মুখের) উপর নামিয়ে দেয়।" [সূরা আহযাব-৫৯]
'জিলবাব' অর্থ বড় চাদর, যা দ্বারা মুখমন্ডল ও পূর্ণ দেহ আবৃত করা যায়। [আলজামি লিআহকামিল কুরআন, কুরতুবী ১৪/২৪৩]
শত শত বছর যাবৎ মুসলিমজাহানের সর্বত্র যে দ্বীনদার নারীগণ নেকাব ও বোরকা পরিধান করে আসছেন তাঁরা এই জিলবাব ধারণের বিধানই পালন করছেন।
এদেশে মানুষ দাড়ি রাখে আর টাখনুর উপর প্যান্ট পরে ১%, কুরআন তিলাওয়াত জানে আর পরিপুর্ন ইসলাম কি তা জানে কয়জন তা আল্লাহ্‌ ই ভালো জানেন ।
তাই দেশের অবস্থা দেখার আগে নিজের অবস্থা দেখুন কতটা ইসলাম আপনি জানেন ও মানেন ।
আল্লাহ্‌ যেন আমাদের সবাইকে সঠিকভাবে ইসলামকে জানার এবং মানার তাওফিক দান করেন আমিন ।
আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক পথ দেখাও.......আমিন।
Posted by The Muslim Show Bangla on Thursday, October 8, 2015

বোধদয়

আজ এক ভাইয়ার স্ট্যাটাস পড়ে একটা জিনিস উপলব্ধি করলাম। আমাদের মেয়েদের দুনিয়া আমাদের হাসবেন্ড, বাচ্চা আর সংসারের মানুষদের ঘিরে। আমাদের বেশিরভাগ চিন্তা ভাবনা সংসারের খুটিনাটি নিয়েই। কিন্তু একজন পুরুষকে টাকা উপার্জন করতে হয়, সংসারের অভাব, কার কি লাগবে, বাচ্চাদের পড়ালেখার খরচ বাবা মা স্ত্রী এর চাহিদা মেটানো, ইত্যাদি খেয়াল রাখতে হয়। সাথে রয়েছে মা আর বউ এর মাঝের সমঝোতা করার দ্বায়িত্ব। দোষ যারই হোক এক জনের পক্ষ নিলে আরেকজন কষ্ট পায়। সারাদিন অফিস করে বাসে ঝুলতে ঝুলতে ঘামে ভিজে বাসায় এসেও আরাম করার উপায় নাই, বাচ্চাটা সারাদিন অপেক্ষা করে আছে বাবা কখন আসবে, আসলেই বাবার সাথে খেলতে হবে। বউ অপেক্ষা করে আছে কখন তার হাসবেন্ড আসবে, একটু গল্প করবে,বাবা মা হয়তো অপেক্ষা করে আছে কখন তার ছেলেটা আসবে, সংসারের কোনো ডিসিশনের ব্যাপারে আলাপ করতে হবে। বেশিরভাগ ছেলেই বাচ্চা, মা বাবা বউ এর মুখে হাসি দেখে ক্লান্তি ভুলে সময় দেয় পরিবারকে। কিন্তু কোনোদিন হয়তো বউ অপেক্ষা করে আছে আর হাসবেন্ড খুব বেশি ক্লান্ত থাকায় একটু ঘুমাতে বা রেস্ট নিতে চাইলো, ওমনি বউ এর অভিমান আর কমপ্লেইন শুরু হয়ে যায়!
আল্লাহ স্বামী স্ত্রীকে একজন আরেকজনের পোশাক স্বরুপ বলেছেন। মেয়েদের আল্লাহ একটা সংসার সুন্দর করে সাজানোর ক্ষমতা দিয়েছেন। আমি যেমন আশা করি সারাদিন কাজ করতে করতে ক্লান্ত আমাকে আমার হাসবেন্ড একটু সাহায্য করবে, একটু সময় দিবে, হাসি ঠাট্টা দিয়ে তেমন হাসবেন্ড ও আশা করে যেদিন তার অনেক কষ্ট হয় তা আমি বুঝবো এবং মন খারাপ না করে তাকে ঠিকমতো খেয়ে ঘুমাতে, রেস্ট নিতে সুযোগ করে দিবো,বাচ্চাদের বা পরিবারের অন্যদের সাথে মনোমালিন্যের কথা তুলে মন মেজাজ আরো খারাপ করে দিবোনা। সুযোগ দিতে না পারলেও অন্তত একটু সহানুভূতি,একটু হাসি পারে বাইরের সকল কষ্ট ভুলিয়ে দিতে। আমাদের কোনো কিছু খারাপ লাগতে তা যে বাসায় আসার সাথে সাথেই কমপ্লেইন করা লাগবে তা তো না। সারাজীবন একসাথে থাকতেই তো আমরা বিয়ে করেছি। কমপ্লেইন করার কতো সময় পাওয়া যাবে!
collected

বদমাশ উচ্চ শিক্ষিতদের জায়গায় অল্প বিজ্ঞান জানা মাদ্রাসার ভদ্র ছাত্র হলেও ভালো

শিক্ষকদের উপর ছাত্রদের হামলা করতে দেখে একটি পুরনো স্মৃতি মনে পড়ে গেল। বর্তমান পেশায় আসার আগে আমি কিছুদিন একটি মাদ্রাসায় অনারারী ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে পড়াতাম। ঐ মাদ্রাসা ছিল মূলত নও মুসলিমদের সন্তানদের জন্য। এদের মাঝে অনেক উপজাতি ছিল। ওইখানে অল্প সময়ে কিছু অভিজ্ঞতা হল যা না বলে পারছি না।
দুপুরে খাওয়ার বিরতির সময় আমরা শিক্ষকরা মেঝেতে মাদুর পেতে খেতাম আর আমাদের জুতা বাইরে থাকত। ঘরে ঢুকার সময় জুতা যখন খুলতাম তা ঘরের দিকে মুখ করা থাকত। কিন্তু যখন বের হতাম দেখতাম জুতা বাইরের দিকে মুখ করে রাখা আছে। এইভাবে কয়েকদিন দেখার পর জানতে চাইলাম ঘটনা কি? কে এই কাজ করে? জেনে অবাক হলাম ছাত্ররাই অইদিক দিয়ে যাওয়ার সময় জুতাগুলো এভাবে সাজিয়ে দেয় যাতে শিক্ষকরা জুতা পড়তে সামান্য উল্টা ঘুরার কষ্টটাও না করেন। সুবহান'আল্লাহ!!!!!!!!!
ঐ মাদ্রাসা চট্টগ্রামের একটি পাহাড়ি এলাকায় ছিল। পানির ভাল ব্যবস্থা ছিল না। অজু করতে একটু নিচে নলকূপের কাছে যেতে হত। কিন্তু ওজুর সময় হতেই দেখি উপরে পাথরের পাশে বালতি আর বদনা পানিতে পূর্ণ করে সাজিয়ে রেখেছে ছাত্ররা। একদিন একটু আগে অজু করতে গিয়ে দেখি পানি নাই। দূর থেকে এক ছাত্র দেখেই দৌড় দিল। পানি এনে তো দিলই উল্টা কেন পানি ছিল না এজন্য মাফ চাইতেছিল। পুরা কান্নাকাটি করার অবস্থা। অথচ এর জন্য ওকে শাস্তি পেতে হবে তা কিন্তু নয়। খুব জীর্ণ, শীর্ণ ছিল ঐ মাদ্রাসা। কারণ টাকা দেয়ার কেউ ছিল না। কিন্তু ঐ অসাধারণ মার্জিত আর উন্নত চরিত্রের বাচ্চাদের মাঝে আমার মনে হত এর চেয়ে সমৃদ্ধ জায়গা আর কোথাও নাই। পড়াশোনাতেও এই বাচ্চারা খুব ভাল ছিল। পর্যাপ্ত সুবিধা পেলে অনেক ভাল করতে পারত।
আজকে বিপুল আর্থিক সুবিধাসহ দেশের সবচেয়ে ভাল বিদ্যাপীঠের স্বীকৃতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্ররা শিক্ষক পেটায়। কি এর কারণ?
কারণ তো একটাই যে এই পুঁজিবাদী সিস্টেম তাদের কেবল অর্থের হিসাব আর বেয়াদবি শিখায়। প্রতিবছর আমাদের মত কিছু আদব কায়দা না শিখা শিক্ষিত দেশের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করে (আমরাও ওইসব প্রতিষ্ঠান থেকে পড়ে আসা লোক)।

সংগৃহীত

সুত্র 

psychological enslavement

মুসলিম জাতিকে কুরআনে শ্রেষ্ট জাতি এবং কাফিরদেরকে loser হিসেবে বারবার অভিহিত করা সত্ত্বেও মুসলিমরা অনেকাংশই কাফিরদেরকে আদর্শ হিসেবে মনে করে এবং বিপজ্জনকভাবে তাদেরকে অনুসরণকেই শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের পথ হিসেবে বেছে নিয়েছে। এটাই হল মুসলিমদের psychological enslavement বা মনস্তাত্ত্বিক দাসত্ব।
যে হাতিকে জন্ম নেওয়ার পর থেকে একটা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখার অভ্যাস করে বড় করা হয়, বড় হওয়ার পরেও তাকে সেই চিকন দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা যায়। তার শক্তিশালী শরীর চাইলেই ঝটকা দিয়ে দড়িটাকে নিমিষে ছিঁড়ে ফেলতে পারে, কিন্তু তা সে করে না। কারণ সে তার দড়ি-বাঁধা অবস্থাকে মেনে নিয়েছে এবং সে জানেও না তার দড়ি ছেঁড়ার ক্ষমতা আছে।
মুসলিমদের অবস্থা এখন হয়েছে এমন। কাফির সভ্যতার চাকচিক্যে আচ্ছন্ন হয়ে তারা নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব, গৌরবময় ইতিহাস ও সম্ভাবনার কথা তাদের মন থেকে বিস্মৃত হয়ে গেছে।

পরিবারের ভাঙন


২০০৮ সালের কথা। বান্দরবানে বেড়াতে গিয়েছিলাম। এক রিকশাওয়ালার সাথে কথা প্রসঙ্গে সে জানাল সে বিয়ে করেনি, কিন্তু বিয়ে করলে যা মজা পাওয়া যায় সে পেয়েছে।

১৯৬০ সালের দিকে ২০ বছর বয়সী ৬৮ শতাংশ অ্যামেরিকান বিবাহিত ছিল। সমবিবাহ না, আসল বিয়ে। ২০০৮ সালে এই সংখ্যা এসে দাঁড়ায় ২৬ শতাংশ। এখন কত কে জানে।

উপাত্তটা জরুরী। রসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন আমরা ইহুদি খ্রিষ্টানদের অনুসরণ করব প্রতিপদে। সমাজের উপরের দিকে লোকেরা যে বেলেল্লাপনা অনেক আগে করত সেটা সমাজের সাধারণ মানুষেরাও ধরে ফেলেছে। কলগার্ল না হলেও হস্তমৈথুন তো খুব সাধারণ অভ্যাস।

এতে বিয়ের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কীভাবে? বিয়ে দিল্লিকা লাড্ডুর মতো। মজাও আছে, প্যাড়াও আছে। আরেকটা মানুষের সাথে ২৪/৭ মিলিয়ে চলার প্যাড়া। যদি প্যাড়া ছাড়াই মজাগুলোর ব্যবস্থা হয়ে যায় কোন পাগলে বিয়ে করবে?

শুধু মুসলিমরা। কারণ মুসলিমদের কাছে বিয়ে একটা ইবাদাত। নিজেকে পবিত্র রাখার। ভবিষ্যতে আরো মুসলিম পৃথিবীতে এনে পৃথিবী আবাদ করার। মুসলিমরা তাই কুত্তার বাচ্চা পালে না। ক্যারিয়ারকে ঠিক রেখে তার ফাঁক-ফোকরে সন্তান নেয় না। পরিবার ঠিক রাখে-সন্তান জন্ম দেওয়া, ভরণ-পোষণ, লালন-পালন ঠিক রাখে। তার বিশ্বাস ক্যারিয়ার তথা রিযক আল্লাহর কাছ থেকে আসে।

ইসলামের প্রতেকটা জিনিসের মতো বিয়েতেও আল্লাহর সন্তুষ্টির পাশাপাশি দুনিয়াতে ভালাই আছে। ব্যাচেলর বাঁচে শুয়োরের মতো, মরে কুকুরের মতো। তরুণ বয়সের বন্ধুরা মধ্যবয়সে হারিয়ে যায়। যে বুড়ো বা বুড়ি সারাজীবন টাকা কামাই করেছে তার টাকার লোভে কেউ তাকে সংগ দেবে না। লোভী মানুষেরা দরকার হলে মেরে টাকাটা নিয়ে নেবে।

বয়সকালে সংগ আসলে দেয় পরিবার। স্ত্রী বা স্বামী। সন্তান। তস্য সন্তান। অবশ্যই সবকিছুতে ইসলাম শর্ত। নয়ত গন্তব্য বৃদ্ধাশ্রম।

ওপেন সেক্সের এ যুগে দেহের ক্ষুধা মেটানো খুবই সহজ। এ যুগে পরিবারের ভাঙন খুব সহজ। আমার ভালো লাগল না--ধরলাম নিজের পথ। মানিয়ে চলা হারিয়ে গেছে। নুহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার স্ত্রীকে ৯৫০ বছর দাওয়াত দিয়েছিলেন, তালাক দেননি। ফিরাউনের স্ত্রী আসিয়া আল্লাহর কাছে বলেছিলেন জান্নাতে একটা ঘর বানিয়ে দেওয়ার জন্য। শয়তানসম স্বামীকে তিনি ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দেননি।

আপনার স্বামী কী ফিরাউনের চেয়েও জালিম? আপনার স্ত্রী কী নুহের স্ত্রীর চেয়েও খারাপ? শয়তান এত সহজে আপনার পরিবার ভাঙে কী করে? আপনার সংগীর যদি না পোষায় তাকে আপনি চলে যেতে বললেন, আপনার বুড়ো বয়সের কথা ভাবলেন না? হারাম থেকে কীভাবে বাঁচবেন ভাবলেন না? আপনাকে আপনার বাবা-মা পৃথিবীতে এনেছেন, বড় করেছেন। আপনারও উচিত পৃথিবীতে অন্তত একজনকে রেখে যাওয়া। ঘর ভাঙলে সন্তান আসবে কীভাবে? থাকবে কোথায়?

আপনার স্ত্রী বা স্বামীর ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করুন। সমাজকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করুন। মুত্তাকী হওয়াটা খুব জরুরী। যে আল্লাহকে ভয় করে না আল্লাহ তার ইবাদাত কবুল করেন না। নিকাব বা দাঁড়ি, ইসলামি ফেসবুকিং--কোনো কিছু দিয়েই কিন্তু জাহান্নামের আগুন থেকে পার পাবেন না।

সাধু সাবধান।


collected

আলহামদুলিল্লাহ্

একটা বিড়ালের বাচ্চা অত্যন্ত তুচ্ছ কোন বস্তু নিয়েও ঘন্টার পর ঘন্টা মহা আনন্দে খেলতে পারে৷ কখনো একটু দলা পাকানো কাগজ, কখনো বা ঝুলে থাকা দড়ি, কখনো নিজের লেজটা নিয়ে হুটোপুটি করে খেলে সে, কীভাবে পারে, আল্লাহ্ই ভালো জানেন৷
সামান্য খাবার, একটু ঘুমানোর জায়গা আর গায়ে-মাথায় হাত বুলিয়ে দিলে এরা খুশি৷ তাও যেমন তেমন খুশি না, মহা খুশি৷
এদের কৃতজ্ঞতার অকৃত্রিম বহি:প্রকাশ মনে করিয়ে দেয় ঐ কথাটা-

আদম সন্তানকে যদি একটা পাহাড় সমান স্বর্ণ দেয়া হয়, তাহলে সে আরেকটা চাইবে৷ একমাত্র কবরের মাটিই পারবে তার ক্ষুধা নিবৃত করতে৷

ও আমার রব, আমার চাহিদার আগুনকে আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতার অশ্রু দিয়ে নিবৃত করার মত হৃষ্ট হৃদয় আমাকে দান করুন যেন যৎসামান্য প্রাপ্তিতেও অন্তর চিরে বেরিয়ে আসে 'আলহামদুলিল্লাহ্!'

সংগৃহীত 

দোষ খুজে বেড়ানো > সামাজিক ব্যাধি


অন্যদের যেসব বিষয় লোকচক্ষুর অন্তরালে আছে তা খোঁজাখুঁজি করা এবং কার কি দোষ-ত্রুটি আছে ও কার কি কি দুর্বলতা গোপন আছে পর্দার অন্তরালে উঁকি দিয়ে তা জানার চেষ্টা করা কোন মু’মিনের কাজ নয়। মানুষের ব্যক্তিগত চিঠিপত্র পড়া, দু’জনের কথোপকথন কান পেতে শোনা, প্রতিবেশীর ঘরে উঁকি দেয়া এবং বিভিন্ন পন্থায় অন্যদের পারিবারিক জীবন কিংবা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়াদি খোঁজ করে বেড়ানো একটি বড় অনৈতিক কাজ।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোষ অন্বেষণকারীদের সম্পর্কে বলেছেনঃ

“হে সেই সব লোকজন, যারা মুখে ঈমান এনেছো কিন্তু এখনো ঈমান তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি, তোমরা মুসলমানদের গোপনীয় বিষয় খুঁজে বেড়িও না। যে ব্যক্তি মুসলমানদের দোষ-ত্রুটি তালাশ করে বেড়াবে আল্লাহ তার দোষ-ত্রুটির অন্বেষণে লেগে যাবেন। আর আল্লাহর যার ত্রুটি তালাশ করেন তাকে তার ঘরের মধ্যে লাঞ্ছিত করে ছাড়েন।” [আবু দাউদ]

মুয়াবিয়া (রা.) বলেন, আমি নিজে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ

“তুমি যদি মানুষের গোপনীয় বিষয় জানার জন্য পেছনে লাগো। তাদের জন্য বিপর্যয় সৃষ্টি করবে কিংবা অন্তত বিপর্যয়ের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে দেবে।” [আবু দাউদ]

এই প্রসঙ্গে উমর (রা) এর একটি ঘটনা খুবই শিক্ষনীয়। একবার রাতের বেলা তিনি এক ব্যক্তির কণ্ঠ শুনতে পেলেন। সে গান গাচ্ছিল। তাঁর সন্দেহ হলো। তিনি প্রাচীরে উঠে দেখলেন সেখানে মদ প্রস্তুত, তার সাথে এক নারীও। তিনি চিৎকার করে বললেনঃ ওরে আল্লাহর দুশমন, তুই কি মনে করেছিস যে, তুই আল্লাহর নাফরমানী করবি আর তিনি তোর গোপনীয় বিষয় প্রকাশ করবেন না? জবাবে সেই ব্যক্তি বললোঃ আমীরুল মু’মেনীন, তাড়াহুড়ো করবেন না। আমি যদি একটি গোনাহ করে থাকি তবে আপনি তিনটি গোনাহ করেছেন। আল্লাহ দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়াতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু আপনি দোষ-ত্রুটি খুঁজেছেন। আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন, দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করো। কিন্তু আপনি প্রাচীর ডিঙ্গিয়ে ঘরে প্রবেশ করেছেন। আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, নিজের ঘর ছাড়া অনুমতি না নিয়ে অন্যের ঘরে প্রবেশ করো না। কিন্তু আমার অনুমতি ছাড়াই আপনি আমার ঘরে পদার্পণ করেছেন।” এ জবাব শুনে হযরত উমর (রা.) নিজের ভুল স্বীকার করলেন এবং তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই গ্রহণ করলেন না। তবে তিনি তার কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিলেন যে, সে কল্যাণ ও সৎপথ অনুসরণ করবে। [মাকারিমুল আখলাক]
 

বোধদয়

তার সাথে তখন প্রায় চার বছর পরিচয়।
ভাল ছেলে।
পাচ বেলা নামাজ পড়ে।
......
তখন ও আমি ব্যাপারটা জানতাম না।
....
দীর্ঘ চার বছর পর অন্য আরেক জনের কাছে জানলাম, " সে হাফেজ। কোরানে হাফেজ"
...
আমরা বিস্মিত হলাম। এতদিন ধরে পরিচয় কখনো ঘূর্নাক্ষরে জানতে ও পারলাম না!!!!
......
তাকে বললাম, " কিরে ভাই, এতদিনের সম্পর্ক। কই কখনো তো শুনলাম না তোমার মুখে.....
.........
তার জবাব ছিল আমার জন্য একটা ধাক্কা, বিস্ময় এবং রিয়ালাইজেশন।
.......
....
সে জবাব দিল- ভাই কথা সত্য। আমি হাফেজ। কিন্তু একজন হাফেজের যেভাবে জীবন যাপন করা উচিত আমি সেভাবে পুরোপুরি পারি না। কাজেই আমি হাফেজ পরিচয় দিলে, মানুষের হাফেজ সম্পর্কে ভুল ধারনা হবে।
.....
....
এই বোধদয় এখন আস্তিক, নাস্তিক, শিক্ষিত,অশিক্ষিত...... অনলাইনে, অফলাইনে দরকার। ভীষণ দরকার।

 এখান হতে সংগৃহীত

কিছু কি বোঝা যায়?

নারী সংক্রান্ত যেকোন আলোচনায় অবধারিতভাবে যে কথাটি উঠে আসবে তা হল-“অমুক অমুক বিধান মেনেও তো মেয়েরা তমুক তমুক সমস্যায় পড়ে”। এটা হল শয়তানের শয়তানি, চালবাজের চালবাজি আর ইসলামকে ফিশিং গেম জ্ঞান করে চুজ এন্ড পিকের ফল।
আগেও বলেছি, ইসলামের বিধানগুলো একটা অন্যটার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটাকে বাদ দিয়ে আরেকটা মানলে সমস্যা থেকেই যাবে। মাহরাম ছাড়া নারীরা সফর করবে না এটাই আদেশ, তাই বলে মাহরামকে নিয়ে যেখানে খুশি যাব আর সমস্যায় পড়ব না, তা না। কোনখানে যাওয়া যাবে আর কোনখানে যাওয়া যাবে না সেই ব্যাপারেও ইসলামের কিছু বলার আছে। টিএসসিতে নিগৃহীত হওয়া নারীর সাথে তার স্বামী ছিল, এই তথ্য মাহরাম থাকার প্রয়োজনীয়তা কমায় না। যে মাহরাম আপনাকে নিয়ে বখাটেদের ভিড়ে গমন করায়, সে আবার কীসের প্রটেক্টর? ফ্রি মিক্সিং এর স্বর্গরাজ্যে স্বেচ্ছায় নিজেকে ভাসিয়ে দিলে শুধু স্বামী কেন, বাকি তেরজন মাহরাম সাথে থাকলেও বিপদ এড়ানো যাবে না।
প্রথমত এবং প্রধানত, মেয়েরা ঘরের ভেতর থাকবে এটাই আল্লাহ্‌র হুকুম। শরীয়তসম্মত জরুরতে যখন বেরোবে তখন আপাদপমস্তক আবৃত থাকবে, নো সাজসজ্জা, নো পারফিউম; আর দূরত্ব বেশি হলে মাহরাম সাথে থাকা মাস্ট। এই অবধি বলার পর শয়তান আরেক যুক্তি এনে হাজির করবে-“অথচ মেয়েরা নিজের ঘরেও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়, তবে ঘরে থেকে লাভটা কী?”
আল্লাহ্‌র ওয়াস্তে অন্তরের ধুলো সরান। মেয়েরা ঘরেও হ্যারসড হয় বটে। কাদের দ্বারা হয়? খালাতো-মামাতো-চাচাতো ভাই, দুঃসম্পর্কের চাচা-মামা ইত্যাদি দ্বারা। ইসলাম কিন্তু এও বলে দিয়েছে মেয়ের ঘরে এরা অ্যালাউড না, এরা গায়েরে মাহরাম, এদের সামনে দেখা দেওয়া যাবে না। অথচ কী অবলিলায় একঘরে তাদের রেখে বাপ-ভাই রা বেরিয়ে যায় বাসা থেকে, আর দুর্ঘটনা ঘটলে দোষ নাকি মোল্লাদের। এদের মস্তিষ্কে কী পরিমাণ আচ্ছাদন পড়েছে!
একটার পর একটা বিপদের আলামত দেখেও ইসলামের মধ্যে সমাধান না খুঁজে আল্লাহ্‌র একটার পর হুকুমকে তাচ্ছিল্য করা হচ্ছে। বর্ষবরণের নামে শির্কের মচ্ছব পয়লা বৈশাখে নারী নিগ্রহের ঘটনার প্রতিবাদে একই জায়গায় আবার গাদাগাদি করে মেয়ে-পুরুষ জমা হল। যেন আল্লাহ্‌কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দেওয়া-দেখো! তোমার ক্রোধের পরোয়া করি না, আমরা আবার তোমার অবাধ্য হব। এই দেশেই আল্লাহ্‌র রাসূলকে গালি দেওয়া কীটদের পক্ষে ব্যানার ধরতে বেরিয়ে যায় স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। এই দেশেই মঙ্গল খোঁজা হয় হুতুম পেঁচার মধ্যে, দাবিদাওয়ার মাধ্যম হল অগ্নিপূজা, আর কথায় কথায় মোল্লাদের গালি দেওয়া। এক রাতে পাখির মত গুলি করে হুজুর মেরেও সাধ মেটেনি, ভবনধ্বস থেকে ব্যাঙ্ক ডাকাতি পর্যন্ত সব কিছুতেই হুজুরের বাম হাত খুঁজে পেতে হবে, দেশ নাকি জঙ্গিতে গিজগিজ করছে।
আর এই মুহূর্তে যখন আলেমদের দিকনির্দেশনা দেবার কথা, তখন তাঁরা বলেন অপেক্ষাকৃত কম খারাপ প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে, ভোট না দিয়ে বসে থাকা নাকি নাজায়েয।
বারবার ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে। কিছু কি বোঝা যায়?
Collected From
Brother
Jubaer Hossain

নিয়ামত

"অবশ্যই তারা ভীষন অপরাধ করেছে যারা দুনিয়ায় ঈমানদারদের সাথে বিদ্রুপ করত" [সুরা আল মুতাফফিফিন:২৯]
"সেখানে সে কোনো বাজে কথা শুনবে না" [সুরা আল গাশিয়া:১১]
সুবহানআল্লাহ, মহান আল্লাহ তায়ালা কুরআনের বিভিন্ন স্হানে জান্নাতের রক্ষিত বিভিন্ন পুরস্কারের বর্ণনা করেছেন।
সুরা গশিয়ায় -প্রবাহমান ঝরণা, উচু উচু আসন, পানপাত্র, সারিসারি গালিচা রেশমের বালিশ, উৎকৃষ্ট কার্পেটের বিছানা উল্লেখ করেছন।
তবে এসব কিছুর আগে যে বিষয়ের কথা বলা হয়েছে তা হল সেখানে কোন বাজে কথা আমরা শুনবনা।
অর্থাৎ খোটা কথা, গালাগালি, টিটকারিমূলক কথা, যা দ্বীনের পথে চলা শুরু করার পর হয়তো কম বেশি প্রায়ই আমাদের শুনতে হয় বা হয়েছে। যা আমাদের মানসিক কষ্টের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে যথেষ্ট।
এমন কষ্টকর মুহুর্তে কুরআনের আয়াতগুলো আমাদের স্মরণে আনতে হবে ইনশাআল্লাহ। বুঝাতে হবে যে আমার আল্লাহ জানে আমার মানসিক কষ্টের কথা, এমন কষ্টে আমি একা পরিনি। এমন কষ্ট অনুভব করেছিলেন সাহাবারাও, আলেমরাও, আবেদরাও। যারাই দুনিয়ার উপর আল্লাহকে ভালবেসেছে, দুনিয়া প্রেমীরা তাদেরই নানান অসার কথা, কটু বাক্যের দ্বারা তীরের মত বিদ্ধ করেছে। তাই তো জান্নাতের অশেষ নিয়ামতের মাঝে যেই কিছু সংখ্যক নিয়ামতের বর্ণনা আল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন এটা তার মাঝে অন্যতম একটি নিয়ামত।
আল্লাহ আমাদেরকে তার অশেষ নিয়ামত উপলব্ধি করার তাউফিক দিক, ধৈর্য্য দিক এবং আমাদের অন্তরকে আল্লাহর শুকরিয়া আদায়কারি অন্তর হিসেবে কবুল করে নিন। আমিন।
Collected From
A Sister

মহানবি <সা> এর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসার নিদর্শন



মহানবি <সা> এর জীবনধারা সকল মানুষের জন্য উজ্জ্বলতম আদর্শ। তাঁর অনুসরনই আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি লাভ করার একমাত্র মাধ্যম এবং ইহকালিন কল্যাণ ও পরকালিন নাজাত লাভের একমাত্র উপায়।

নবি <সা> এর প্রতি কতটুকু ভালবাসা থাকা দরকার সেই বিষয়ে আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনে বলেছেন,

আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহ্‌কে মহব্বত করতে চাও, তাহলে আমাকে ( নবি <সা:> এর) অনুসরন কর। আল্লাহ তোমাদের কে ভালবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। সুরা আল ইমরান - ৩১
রাসুল <সা> বলেছেন,

যে ব্যক্তি আমার সুন্নত থেকে অন্যমনস্ক হল বা আমার সুন্নতকে অপছন্দ করল, তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নাই। (বুখারি- মুসলিম)
এ থেকে বোঝা যায় যে, রাসুল <সা> এর প্রতি ভালোবাসার প্রকৃত নিদর্শন ,তাঁর সুন্নতের অনুসরনের মধ্যে নিহিত। কোন ব্যক্তি নবি <সা> এর মহব্বতের দাবিদার, কিন্তু সুন্নতের অনুসরনে ঘাটতি, তবে সে তার দাবিতে সত্যনিষ্ঠ নয়।

মহা নবি <সা> এর উচ্চ মর্যাদা এবং তাঁর অবমাননায় আমাদের করনীয় :
আল্লাহ পাক বলেন,

আমি আপনার আলোচনাকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছি। সুরা ইনশিরাহ- ০২
অর্থাৎ স্বয়ং আল্লাহ পাক নবি <সা> কে সুউচ্চ মর্যাদা দান করেছেন।

এবং যারা নবি <সা> এর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করে, তাদের প্রতি আজাবের কথা  জানিয়ে পবিত্র কোরআনে বলেছেন,

তোমাদের মধ্যে যারা ইমানদার, তাদের জন্য রাসুল <সা> রহমত স্বরূপ, আর যারা আল্লাহর রাসুলের প্রতি কুৎসা রটনা করে, তাদের জন্য রয়েছে বেদনা দায়ক আজাব। সুরা তউবা - ৬১

লক্ষণীয় :
বর্তমানে বিশ্বব্যাপি নব্য ক্রুসেড  শুরু হয়েছে, যার লক্ষ্য হচ্ছে মুসলমানদের বিশ্বাসে আঘাত করা।  এর ধারাবাহিকতায় অবিশ্বাসীরা নানা ভাবে নবি <সা> এর নামে কুৎসা ছড়াচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনক

ভাবে মুসলমানদের মধ্যেও কিছু লোক শয়তানের প্ররোচনায় পড়ে তাদের সাথে যুক্ত হয়ছে।

 আল্লাহ পাক বলেছেন,
আপনি সব মানুষের চাইতে মুসলমানদের অধিক শত্রু ইহুদী ও মুশরেকদেরকে পাবেন। সুরা মায়িদা- ৮২

এজন্য তাদের উস্কানিতে উত্তেজিত না হয়ে, সর্বোচ্চ সংযম, উপযুক্ত ও কল্যাণমুখি  কর্মকৌশল দ্বারা তাদের চক্রান্তের মোকাবেলা করতে হবে।
নবি <সা> এর  সুন্নতের অনুসরন দ্বারা আমাদের জীবন সাজাতে হবে।  আল্লাহ  পাক আমাদের তৌফিক দান করেন। আমিন।

আমরা কতই না অকৃতজ্ঞ!!

গতকাল যখন সবাই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ধুন্ধুমার খেলা দেখছিল ঠিক তখন আমি অন্যরকম একটি ঘটনার মুখোমুখি হলাম। নিজের অনেক না পাওয়া নিয়ে একটু হলেও যে আক্ষেপ ছিল তা মনেহয় কেটে গেল এই ঘটনা দেখে।

আমার একজন ক্লায়েন্ট যিনি ইউরোপ প্রবাসী সম্প্রতি দেশে এসেছেন। উনার কাজ করতে গিয়ে বেশ ঘনিষ্ঠতা হয়ে যায়। ভদ্রলোক বেশ নম্র স্বভাবের। উনাকে দেখি সবসময় শ্বাসের সমস্যায় থাকেন। গতকাল খবর পেলাম উনার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। দ্রুত গেলাম আর দেখলাম খুব বেশি সমস্যা না তাই বাসায় নিয়ে যাওয়া যাবে।

যাইহোক, বন্ধুত্বের খাতিরে উনার সঙ্গ দেয়াটা প্রয়োজন মনে করলাম আর প্রথমবারের মত উনার বাসায় গেলাম। বেশ ধনী লোক তাই অনেক বড় বাড়ি আর দেখার মত ডেকোরেশন। কিন্তু ঐ পর্যন্তই, উনার খাদ্য তালিকা হল পানি, মুড়ি আর কয়েকটি নোনতা বিস্কুট। ঘুমানোর সময় নাকে কি যেন একটা মেশিন লাগিয়ে রাখেন যাতে নিঃশ্বাস বন্ধ না হয়। অথচ উনার বয়স খুব বেশি না।

এক ছেলে এক মেয়ে, ছেলে এমন জায়গায় পড়তে চায় যেখানে বাবা দিতে রাজি নয়। বুঝা গেল এটা নিয়ে বিস্তর সমস্যা হয় বাপ বেটায়। উনি অসুস্থ কিন্তু উনার স্ত্রী কি এক কাজে ঘরের বাইরে যেখানে সাধারণ সর্দি জ্বর হলেও আমাদের ঘরের মানুষেরা সহজে পাশ থেকে নড়ে না। আমি থাকা অবস্থায় নিন্ম মাধ্যমিক শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ের শিক্ষক এল আর তার গেমস আসক্তি দূর করতে ট্যাব কেড়ে নিল। শিক্ষক যাওয়ার পর মেয়ের প্রচণ্ড রাগ, চিৎকার, গালাগালি একসময় উম্মাদের মত আচরণে রূপ নিল।

সর্বশেষ কথা হল, উনি এতকিছুর মাঝেও আফসুস করছেন ব্যাংক লোণ নিয়ে যা উনি বাড়ি, ব্যবসা এসব কারণে নিয়েছেন।

আমরা মানুষকে কতটুকু দেখি আর কি ধারণা করি। আল্লাহ এই লোকের রিযক কেড়ে নিয়েছেন, শান্তি কেড়ে নিয়েছেন, সন্তানের আনুগত্য কেড়ে নিয়েছেন উপরি হিসাবে ঋণের টেনশন চাপিয়ে দিয়েছেন।

চলে আসার সময় কেবল মনে হচ্ছিল, কত ধনী আল্লাহ আমাকে করেছেন। পারিবারিক প্রশান্তি দিয়েছেন, আত্মীয়দের ভালবাসা দিয়েছেন, অনেক দ্বীনী ভাই দিয়েছেন যাদের মাঝে সমবয়সী কিছু অসাধারণ বন্ধু আছে, দুনিয়াকে বুঝার মত সুস্থ মস্তিষ্ক দিয়েছেন, খাওয়ার রুচি দিয়েছেন, এখনও বেশ সুস্থ শরীর দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ!!!

আমরা কতই অকৃতজ্ঞ, আমরা তবু আরও কিছু চাই। অথচ অনেক কিছু থেকেও কিছু মানুষ কত গরীব, কত অসহায়!! আল্লাহ উনাকে সাহায্য করুন, আমাদেরকেও আল্লাহর কৃতজ্ঞতা সঠিক রাস্তায় প্রকাশ করার তৌফিক দিন।