আল্লাহ্‌র মনোনীত জীবন ব্যবস্থায় সুদ : পর্ব ৫ - রিবার পরিচয় ৩

[পর্ব ৪: http://goo.gl/O7kDU1]  


গত পর্বে আমরা রিবা আল ফাদল নিয়ে প্রথম ধাপের আলোচনা করেছি। এই পর্বে দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা করা হল।  


আমরা এখন জানলাম রিবাউই পণ্য হাদীসে উল্লিখিত ৬ টি পণ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং যেসকল পণ্যের মাঝে রিবাউই পণ্যের মূল বৈশিষ্ট্য পাওয়া যাবে, সেসকল পণ্যই রিবাউই পণ্য হিসেবে গণ্য হবে। এখন আমরা রিবাউই পণ্যের পারস্পরিক বিনিময়ের কিছু হুকুম আরেকটু বিশ্লেষিত আকারে দেখব, যা পূর্বে অল্প আলোচনা করা হয়েছে।


রিবাউই পণ্যের পারস্পরিক লেনদেনের মূলনীতিগুলো ইমাম নববী বেশ সুন্দর করে গুছিয়ে এনেছেন। তা নিম্নরূপ:

  • যদি দুটো পণ্যের মূল বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হয়, তাহলে পারস্পরিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বেশ/কম ও বাকি রাখা উভয়ই জায়েয। যেমন, টাকার বিনিময়ে চাল ক্রয় করা। এক্ষেত্রে চালের পরিমাণ আর টাকার পরিমাণ এক হতে হবে কথা নেই এবং আপনি চাইলে বাকিতেও চাল কিনতে পারেন।

  • যদি দুটো পণ্য একইরকম হয়, তাহলে পারস্পরিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বেশ/কম ও বাকি রাখা উভয়ই নাজায়েয। যেমন, বাংলাদেশি টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশি টাকা ক্রয় করা। পুরানো টাকা দিয়ে নতুন টাকা কেনা আমরা প্রায়ই দেখি। সাধারণত নতুন ১০০ টাকার নোট কিনতে পুরোনো ১১০ টাকা দিতে হয়। কিন্তু এটা রিবা। হালাল লেনদেন হতে হলে এক্ষেত্রে পুরোনো আর নতুন উভয় টাকার মূল্য সমান হতে হবে। অর্থাৎ ১০০ টাকার নতুন নোট কিনতে হলে বিনিময়ে পুরোনো নোট ১০০ টাকাই দিতে হবে। বেশি বা কম দেয়া যাবে না। এছাড়া এই লেনদেন বাকিতে করা যাবে না। আপনি বলতে পারেন না, “আমাকে নতুন ১০০ টাকার নোট দাও, আমি তোমাকে এখন ৫০ টাকার পুরনো নোটটা দিলাম, বাকি ৫০ টাকা আগামীকাল দেব।”

  • যদি দুটো পণ্য ভিন্ন রকম হয় কিন্তু মূল বৈশিষ্ট্য একই হয়, তাহলে বেশ/কম জায়েয, কিন্তু বাকি রাখা নাজায়েয। যেমন, বাংলাদেশি টাকা দিয়ে ইউএস ডলার কেনা। আপনি বাংলাদেশি ৮০ টাকা দিয়ে ইউএসএ এর ১ ডলার কিনতে পারেন, অর্থাৎ বেশ/কম করতে পারেন, তবে তা একই মাজলিস বা সেশানে হতে হবে। বাকি রাখা যাবে না। আপনি আজকে বাংলাদেশি ৮০ টাকা দিলেন, ইউএস ১ ডলার আগামীকাল নেবেন, এটা হতে পারবে না। 


ইমাম নববীর মূলনীতির দ্বিতীয় যে নীতি, অর্থাৎ সমজাতীয় পণ্যের পারস্পরিক লেনদেনের বিষয়টি আরেকটু বিশ্লেষণ করা যায়। এই ধরণের বিনিময়ে মূলত চারটি বিষয় বিবেচনাধীন থাকে। আর সেসব হল:

  • সমজাতীয় পণ্য পরস্পর বিনিময় করার ক্ষেত্রে উন্নত-অনুন্নত ভেদাভেদ করা যাবে না। অর্থাৎ, নতুন স্বর্ণের সাথে পুরাতন স্বর্ণের বিনিময়ের ক্ষেত্রে কম-বেশ করা যাবেনা। সমান সমান হতে হবে। তেমনি উন্নত মানের চালের বিনিময়ে নিম্ন মানের চাল নেয়ার ক্ষেত্রেও কম-বেশ করা যাবে না। সমান সমান হতেই হবে। এক্ষেত্রে ‘বাজার মূল্য’ মাথায় রাখা চলবে না। একটু আগে যে নতুন টাকা ও পুরোনো টাকার উদাহরণ দিয়েছি, সেটাও এই হুকুমের অধীন।
তবে শরীয়ত এই ক্ষেত্রে একটি সমাধান দেয়। সেটি হল, যদি পণ্যগুলো বিক্রয়যোগ্য হয়, তবে একটি পণ্য বিক্রি করে দিয়ে তা টাকায় রূপান্তর করে, তারপর অন্য পণ্যটি কেনা যায়। ফলে আর রিবায় লিপ্ত হবার সম্ভাবনা থাকে না। যেমন, যদি ভালো মানের এক কেজি গম, আর একটু নিম্ন মানের দুই কেজি গমের মাঝে  বিনিময় করা হয়, সেটা হবে রিবা। এক্ষেত্রে সমাধান হল, নিম্ন মানের ২ কেজি গমকে বাজারে বিক্রি করে দিয়ে যে টাকা পাওয়া যাবে, সেই টাকা দিয়ে ভালো মানের  এক কেজি গম কেনা।  
  • সমজাতীয় পণ্য যদি একইরূপ হয়, তাহলে লেনদেনে কোনরূপ বেশ/কম করা যাবে না। ধরা যাক, আপনার কাছে কিছু স্বর্ণ আছে আর আপনি সেই স্বর্ণের বিনিময়ে একটি শো-পীস এর দোকান থেকে সম্পূর্ণ স্বর্ণের তৈরি একটি শো-পীস কিনতে চান। এই ক্ষেত্রে আপনাকে সেই স্বর্ণের শো-পীস কিনতে সমপরিমাণ স্বর্ণ দিয়েই কিনতে হবে। যদি শো-পীসটি ১ ভরি ওজনের স্বর্ণ দিয়ে তৈরি হয়, তাহলে তা আপনাকে ১ ভরি স্বর্ণের বিনিময়েই কিনতে হবে। অথবা আপনার স্বর্ণকে আগে বিক্রি করে টাকায় রূপান্তর করে তারপর শো-পীসটি কিনতে হবে।  
  • সমজাতীয় পণ্য যদি বৈশিষ্ট্যগত ভাবে কোনরকমের ভিন্ন বস্তুতে পরিণত হয়, অর্থাৎ দুটি সমজাতীয় পণ্যের মাঝে স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা যায়, তাহলে বেশ/কম করা জায়েয। অর্থাৎ, যদি একটি পণ্য কাঁচামাল হয়, আর অপর পণ্যটি সেই কাঁচামাল দ্বারা প্রস্তুত কোন বস্তু হয়, এক্ষেত্রে বেশ/কম করা যাবে। যেমন, ইঞ্জিন তৈরি হয় লোহা লক্কড় দিয়ে। এখন লোহার বিনিময়ে কেউ যদি কোন একটি ইঞ্জিন নিতে চায়, তাহলে সেক্ষেত্রে বেশ/কম করা যাবে, যেহেতু শিল্পায়নের ফলে লোহার মৌলিক অবস্থার পরিবর্তন হয়ে গেছে। ঠিক একই ভাবে তুলার সাথে সুতা কিংবা সুতার সাথে কাপড়ের লেনদেনের ক্ষেত্রেও এই হুকুম প্রযোজ্য। 
  • সমজাতীয় পণ্য যদি সোনা, রূপা বা মূদ্রা জাতীয় বস্তু হয়, অর্থাৎ বিনিময় মাধ্যম হয়, তাহলে পারস্পরিক লেনদেনের সময় নগদ তো হতে হবেই, সাথে উভয় পক্ষ নিজ নিজ পণ্যের উপর দখল প্রতিষ্ঠা করতে হবে। একে বলা হয় কাব্দ (বাংলায় কবজা বলা চলে)। অর্থাৎ স্পষ্টভাবেই তা দখলে চলে আসতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যায়েদ তার ৫০ ভরি রূপা যদি উমারের ৭ ভরি স্বর্ণের সাথে বিনিময় করতে চায়, তাহলে উভয়কেই নগদ বিনিময় করে স্পষ্টভাবেই সোনা ও রূপার দখল নিতে হবে। অর্থাৎ, যায়েদ ৭ ভরি স্বর্ণ তার কব্জায় নিয়ে নেবে আর উমার ৫০ ভরি রূপা তার কব্জায় নিয়ে নেবে। মূল বিষয় হল যায়েদ বা উমার উভয়েই নগদ বিনিময় করলেও, তা যদি নিজেদের কব্জায় নিয়ে না আসে, তাহলে লেনদেন শুদ্ধ হবে না। কিন্তু অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে এই কড়াকড়ি প্রযোজ্য নয়। যেমন, ফয়সাল যদি এক কেজি লবন যুবাইর এর আধা কেজি চিনির সাথে বিনিময় করে, তাহলে উভয়েই যদি নিজেদের পণ্যের নির্দিষ্ট পরিমাণের দিকে নির্দেশ করে বলে, “আমরা বিনিময় করলাম” আর যদি ফয়সাল চিনির আর যুবাইর লবণের স্পষ্ট দখল না নিয়ে বলে “কিছুক্ষণ পর নিচ্ছি”, তাহলে এই বিনিময় শুদ্ধ। কিন্তু মূদ্রা জাতীয় পণ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়। এক্ষেত্রে স্পষ্টভাবেই দখলে নিয়ে নেয়া জরুরী।     

 [এই পর্বের মাধ্যমে রিবা নিয়ে মৌলিক আলোচনা শেষ হল। আগামী পর্বগুলোতে বর্তমান ইকোনমিতে রিবার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।] 


     
ওয়াল্লাহু তা'আলা আ'লাম

আল্লাহ্‌র মনোনীত জীবন ব্যবস্থায় সুদ : পর্ব ৪ - রিবার পরিচয় ২

[পর্ব ৩: http://goo.gl/97Wbe2]  


গত পর্বে আমরা আলোচনা করেছি রিবার প্রথম প্রকার - রিবা আন নাসিআ নিয়ে। এ পর্বে আমরা আলোচনা করবো রিবার দ্বিতীয় প্রকার - রিবা আল ফাদল নিয়ে।


রিবা আল-ফাদল [ ربا الفضل] 

রিবার সবচাইতে ব্যপক প্রকার হল রিবা আল-ফাদল। রিবা আন-নাসি’আতু যেমন সহজবোধ্য আর পরিষ্কার, রিবা আল-ফাদল সে তুলনায় কিছুটা জটিল। এই প্রকারের রিবা যেহেতু হাদীসের মাধ্যমে প্রমাণিত, তাই একে অনেক ফকীহ রিবা আল হাদীসও বলেছেন। 

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, বিশেষ কোন পণ্য, সমজাত পণ্যের সাথে বিনিময় করার সময় যা অতিরিক্ত নেয়া হয়।

রিবা আল ফাদল মূলত যেই হাদীসের উপর ভিত্তি করে হারাম করা হয়েছে, তা নিম্নরূপ।


“সোনার বিনিময়ে সোনা সমান সমান বিক্রয় কর।
রূপার বিনিময়ে রূপা সমান সমান বিক্রয় কর।
খেজুরের বিনিময়ে খেজুর সমান সমান বিক্রয় কর।
গমের বিনিময়ে গম সমান সমান বিক্রয় কর।
লবণের বিনিময়ে লবণ সমান সমান বিক্রয় কর।
যবের বিনিময়ে যব সমান সমান বিক্রয় কর।
যে বেশি আদানপ্রদান করলো সে রিবা আদান প্রদান করলো। আর রূপার বিনিময়ে স্বর্ণ যেভাবে ইচ্ছা, সে ভাবেই বিক্রয় করতে পারো। তবে শর্ত হল হাতে হাতে হতে হবে এবং খেজুরের বিনিময়ে যব যেভাবে ইচ্ছা বিক্রয় করতে পারো, শর্ত হল হাতে হাতে হতে হবে।” [তিরমীদির বর্ণনা]


এই হাদীসে ছয়টি বিশেষ পণ্যের কথা এসেছে, যেসব পণ্যের বিনিময়ের সময় একই জাতের হয়ে থাকলে একদম সমান সমান হতে হবে। অর্থাৎ ১০ গ্রাম সোনার বিনিময়ে ১১ গ্রাম সোনা দেয়া যাবে না। ১০ গ্রামই দিতে হবে। তেমনি ১০ গ্রাম রূপার বিনিময়ে ১১ গ্রাম রূপা দেয়া যাবে না। ১০ গ্রামই দিতে হবে। তেমনি খেজুর, গম, লবণ ও যবের স্বজাতি বিনিময়ের একই হুকুম। যেমন ১ কেজি খেজুরের বিনিময় ১ কেজি খেজুরের সাথেই হতে হবে। ১ কেজি ১ গ্রাম এর সাথেও হতে পারবে না।

অন্যদিকে, যদি সোনার সাথে রূপার কিংবা খেজুরের সাথে লবণের বিনিময় হয়ে থাকে, অর্থাৎ একই জাতের মধ্যে বিনিময় না হয়ে ভিন্ন জাতের মধ্যে বিনিময় হয়ে থাকে, তবে কম বেশি করা যাবে, তবে অবশ্যই তা নগদে হতে হবে। অর্থাৎ হাতে হাতে হতে হবে। বাকিতে করা যাবে না।

ইসলামি বেচা-কেনা পদ্ধতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল মাজলিস। এর চলতি ভাষায় সহজ অর্থ করা যায় সেশান। অর্থাৎ একটি বেচাকেনা যেই সেশানের মধ্যে সম্পন্ন হয়, তাকে বলা হয় মাজলিস। মাজলিসের ওপর বেচাবিক্রির অনেক হুকুমই নির্ভর করে। এখানে রিবা আল ফাদল এর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে মাজলিসের হুকুম হল, যদি উক্ত ৬ জাতের পণ্য পরস্পর বিনিময় করা হয়, অর্থাৎ, একই প্রকারের পণ্য পরস্পর বিনিময় করা হোক (যেমন, সোনার বিনিময়ে সোনা, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর) আর ভিন্ন প্রকারের পণ্য বিনিময় করা হোক (যেমন, সোনার বিনিময়ে গম, রূপার বিনিময়ে খেজুর, সোনার বিনিময়ে রূপা) তাহলে তা একই মাজলিসে সম্পন্ন হতে হবে। অর্থাৎ বাকি রাখা যাবে না।


আমওয়ালুর রিবায়াত

ফিকহের পরিভাষায় হাদীসে উল্লিখিত ৬ ধরণের পণ্যকে, সোনা, রূপা, খেজুর, গম, লবণ, যব - আমওয়ালুর রিবায়াত বা সুদী পণ্য বা রিবাউই পণ্য বলা হয়। কেননা এইসব পণ্যের পরস্পর বিনিময়ের ফলেই সুদ তৈরি হবার সম্ভাবনা থাকে।

তবে হাদীসে এটার উল্লেখ নেই, যে শুধুমাত্র এই ৬ পণ্যই কি তাহলে রিবাউই পণ্য বলে বিবেচ্য হবে?

এটি অনেক জটিল একটি প্রশ্ন, যার উত্তরে উলামা কিরাম মতপার্থক্য করেছেন। প্রাথমিক যুগের অনেক ফকীহ এর মত ছিল রিবাউই পণ্য শুধুমাত্র এই ৬টি পণ্যেই সীমাবদ্ধ। এর মাঝে আছেন কাতাদা (রহ) ও তাউস (রহ)। তবে অন্যান্য ফকীহগণ এর সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। পরবর্তী ফকীহদের কথা হল, আমাদের দেখা উচিৎ, এই ৬টি পণ্যের মাঝে আসলে মূল মিল কোন জায়গায়, অর্থাৎ এদের মূল বৈশিষ্ট্য কী। যদি কোন পণ্যের মাঝে ঐ মৌলিক বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়, তাহলে সেটিও রিবাউই পণ্য হিসেবে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে সালাফ উস সালেহীনগণ কয়েকটি মত দিয়েছেন।

  • ইমাম আবু হানিফা (রহ) বলেন, এই ৬ পণ্যের মূল বৈশিষ্ট্য হল পরিমাপ ও ওজন। অর্থাৎ এই ৬ টি পণ্যকে পাত্র দারা পরিমাপ করা যায় ও ওজন করে বিক্রি করা যায়। তাই অন্য যে কোন পণ্য যদি পাত্র দ্বারা পরিমাপ করা যায় আর ওজন করে বিক্রি করা যায়, তাহলে সেটাও রিবাউই পণ্য হবে। 
  • ইমাম মালিক (রহ) বলে, এই ৬ পণ্যের মূল বৈশিষ্ট্য হল খাদ্য জাতীয় হওয়া এবং গুদামজাত করা উপযুক্ত হওয়া। তাই যে কোন পণ্য যা খাওয়া যায় কিংবা গুদামজাত করা যায়, সেটাই রিবাউই পণ্য। 
  • ইমাম শাফিঈ (রহ) বলেন, এই ৬ পণ্যের মূল বৈশিষ্ট্য হল খাদ্যবস্তু হওয়া ও মূদ্রা জাতীয় হওয়া। সোনা-রূপাকে মূদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা যায় ও বাকি ৪ টি খাদ্য হিসেবে খাওয়া যায়। তাই যে কোন বস্তু যা মূদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা যায় কিংবা খাবার হিসেবে খাওয়া যায়, সেটিই রিবাউই পণ্য হবে।  
  • ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বাল (রহ) এর কাছ থেকে তিনটি মত পাওয়া যায়। যার একটি ইমাম আবু হানিফার (রহ) অনুরূপ, একটি ইমাম শাফিঈ (রহ) এর অনুরূপ এবং তৃতীয়টি তার নিজস্ব মত যা হল, সোনা-রূপা ছাড়া অন্য যে কোন পণ্যের মধ্যে যদি খাদ্য জাতীয় হওয়া, পরিমাপ করে ও ওজন করে বিক্রি করা – এই তিনটি বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়, তাহলে তা রিবাউই পণ্য হিসেবে গণ্য হবে।

কাজেই আমরা দুইরকম পণ্য পেলাম।
প্রথমটি হল, যেসব পণ্য বিনিময় মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
দ্বিতীয়টি হল, খাদ্যজাতীয় পণ্য যা ওজন আর পরিমাপ করে বিক্রি করা যায়।

তাই যেসব পণ্য বিনিময় মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, এবং যেসব খাদ্যজাতীয় পণ্য ওজন ও পরিমাপ করে বিক্রি করা যায়, সেইসব পণ্যকেই রিবাউই পণ্য বিবেচনা করে তার উপর রিবা সংক্রান্ত হুকুম বিবেচনা করতে হবে।

[এই পর্বে রিবা আল ফাদল নিয়ে প্রথম ধাপের আলোচনা করা হল। পরবর্তী পর্বে এর দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ]  


ওয়াল্লাহু তা'আলা আ'লাম

আল্লাহ্‌র মনোনীত জীবন ব্যবস্থায় সুদ : পর্ব ৩ - রিবার পরিচয় ১

পর্ব ১: http://goo.gl/IhWcQi
পর্ব ২: http://goo.gl/juXI56 


আমরা গত পর্বে ইসলামি জীবন ব্যবস্থায় ‘রিবা’ এর অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেছি। কুর'আন ও সুন্নাহ-এর অকাট্য দলীলের মাধ্যমে আমরা পরিষ্কার দেখতে পাই, ইসলামে রিবাকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। এই পর্বে আমরা আলোচনা করবো রিবার পরিচয় নিয়ে।

আলোচনার শুরুতেই যে বিষয়টা জানা প্রয়োজন, তা হল ইসলামে রিবা শব্দটি একটি ব্যপক অর্থবোধক শব্দ। আমরা অনেকেই রিবা বলতে শুধু সুদ বুঝে থাকি। অর্থাৎ ইংরেজি Interest বা usury বুঝে থাকি। কিন্তু বাস্তব কথা হল রিবা শুধু সুদ শব্দে সীমাবদ্ধ নয়। এটি আরো অধিক কিছুই বোঝায়। বিভিন্ন গ্রন্থে ফকীহগণ রিবা শব্দের ৫ রকম ব্যবহার উল্লেখ করেছেন।


  • সুদ। এ নিয়ে আলোচনা আসছে।

  • পণ্য বিনিময়ে বেশি/কম করা। এ নিয়েও আলোচনা হবে ইনশাআল্লাহ।

  • ক্রয়-বিক্রয়ে বিভিন্ন অবৈধ পন্থা অবলম্বনের খেত্রেও রিবা শব্দটি ব্যবহার হয়ে থাকে। যেমন, সূরা নিসার ১৬১ নাম্বার আয়াত “আর এ কারণে যে, তারা রিবা গ্রহণ করত, অথচ এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল এবং এ কারণে যে, তারা অপরের সম্পদ ভোগ করতো অন্যায় ভাবে।” এর তাফসীরে কতিপয় মুফাসসিরগণ ‘রিবা’র তাফসীর করেছেন ক্রয়-বিক্রয়ে অবৈধ পন্থা হিসেবে।

  • প্রতিদান পাওয়ার আশায় কাউকে কিছু দেয়ার ক্ষেত্রেও রিবা শব্দটি ব্যবহার হতে পারে। যেমন সূরা রূমের ৩৯ নাম্বার আয়াত “মানুষের ধন-সম্পদে তোমাদের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাবে, এই আশায় তোমরা ‘রিবা’তে যা কিছু দাও, আল্লাহর কাছে তা বৃদ্ধি পায় না” এর তাফসীরে অনেক মুফাসসির রিবাকে এই অর্থেই নিয়েছেন।

  • যে কোন হারাম কাজের ক্ষেত্রেও রিবা ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন ‘কানযুল উম্মাল’ এ একটি হাদীস পাওয়া যায়, যেখানে বলা হচ্ছে, “সবচাইতে নিকৃষ্ট রিবা হল এক ভাই আরেক ভাই এর মান-মর্যাদা ক্ষুন্ন করা।”

তবে শেষ তিন প্রকারে রিবা শব্দের ব্যবহার নেই বললেই চলে কিংবা একেবারেই অপ্রচলিত।


আরবী ভাষায় ربا (রিবা) এর শাব্দিক অর্থ হল আধিক্য, বৃদ্ধি, অতিক্রম করা, আকার ও সংখ্যায় কোন কিছু বৃদ্ধি পাওয়া। আহকামুল কুর’আন গ্রন্থে ইবনুল আরাবী বলেন, “রিবার আভিধানিক অর্থ হল বৃদ্ধি।”

তাই ব্যবসা ও ক্রয়-বিক্রয়ে অতিরিক্ত নেবার ক্ষেত্রে কিছু কিছু অতিরিক্ত নেওয়াকে ইসলামে রিবা বলা হয় এবং তা হারাম করা হয়েছে। তবে সব প্রকার অতিরিক্ত গ্রহণই রিবা নয়। বরং নির্দিষ্ট কিছু প্রকার অতিরিক্ত গ্রহণই হল রিবা।


ইসলামে ব্যবসা ও বিনিময় সংক্রান্ত মুয়ামালাতে রিবা মূলত দুই রকম।

১। রিবা আন–নাসি’আতু [ربا النسيئة]

২। রিবা আল-ফাদল [ربا الفضل]




রিবা আন–নাসি’আ [ربا النسيئة]


রিবা আন-নাসি’আকে অনেক ফকীহ রিবা আল-কুর’আন [ربا القران] হিসেবেও নামকরণ করেছেন কেননা এই ধরণের রিবার কথা সরাসরি কুর’আনে এসেছে।

এই প্রকারের সুদের সনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য, সালাফ আস সালেহীনের বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে সহজবোধ্য হয়ে যায়।


আলী (রা) বলেছেন,

“যে ঋণ লাভ টেনে আনে, তাই সুদ”। [আল ‘আযীযী (হাসান লি ঘাইরিহী), আসসিরাজুল মুনীর, মিসর]

ফুযালা ইবন উবাইদ (রা) বলেছেন, “যে ঋণ লাভ টেনে আনে, তা এক প্রকারের সুদ” [বাইহাকী]

ইমাম আবূ বাকর জাসসাস রাযী রিবা আন-নাসি’আকে রিবা আল-কুর’আন নামকরণ করে বলেন,

“মেয়াদের ভিত্তিতে অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের শর্তে যে ঋণ দেয়া হয়, তাকে রিবা আল-কুর’আন বলে” [আহকামুল কুর’আন, মিসর]

ইবন জারীর বলেন,  “জাহিলী যুগে প্রচলিত ও কুর’আনে নিষিদ্ধ রিবা হল কাউকে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ঋণ দিয়ে মূলধনের অতিরিক্ত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করা।” [তাফসীর ইবন জারীর]


আরবী ভাষার সুপ্রসিদ্ধ পণ্ডিত আবূ ইসহাক যাজ্জাজ রিবা আন নাসি’আকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এইভাবে,

“প্রদত্ত ঋণের পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত উসূল করাই হল রিবা” [তাজুল ‘উরূস]



উপরোক্ত সংজ্ঞাগুলোকে সহজ করে বলতে গেলে যা দাঁড়ায় তা হল, ঋণ দিয়ে সেই ঋণ ফেরত নেবার সময় চুক্তি মোতাবেক কেউ যদি ১ পয়সাও অতিরিক্ত গ্রহণ করে, তবে সেই ১ পয়সা হবে রিবা আন-নাসি’আ। অর্থাৎ ঋণের মূলধনের সাথে কেউ যদি অতিরিক্ত কোন অর্থ আদায় করে, তবে সেটাই রিবা।

এখানে স্পষ্ট একটি বিষয় জেনে রাখা প্রয়োজন, সেটি হল ইসলামে ঋণের ধারণা খুবই সহজ। ইসলামের ঋণের কোন অতিরিক্ত ফায়দা আসতে পারে না। অর্থাৎ কেউ যদি কাউকে ১০০ টাকা ঋণ দেয়, নির্দিষ্ট সময় পরেও সেই টাকা ফেরত নিতে গেলে তাকে ১০০ টাকাই ফেরত নিতে হবে। ১০১ টাকাও নিতে পারবেনা। এই কারণে ইসলামে ঋণের প্রকারভেদ একটাই। আর সেটা হল কারদ আল-হাসানা। ইসলামে এই কারদ আল-হাসানা ব্যতীত কোন প্রকার ঋণের স্থান নেই। অর্থাৎ ঋণ দিয়ে অতিরিক্ত অর্থসহ তা ফেরত নেয়া ইসলামে কোন ক্রমেই জায়িয নয়, এবং কেউ যদি এইভাবে ঋণ ফেরত নিয়ে থাকে, তবে সেটা রিবা আন-নাসি’আ। যেমনটা আমরা সালাফদের সংজ্ঞা থেকে জানলাম। এখানে আরো বলে রাখা প্রয়োজন, আমরা আমাদের সমাজে সুদ বলতে যা বুঝি, তা মূলত রিবা আন-নাসি’আ। অর্থাৎ এক প্রকারের রিবা। রিবা মানেই শুধু সুদ নয়। বরং রিবা আন-নাসি’আ মানে সুদ।


উল্লেখ্য, ঋণের অতিরিক্ত আদায় রিবা হবে তখনই, যখন তা চুক্তিতে উল্লেখ করা থাকবে। কিন্তু চুক্তির বাইরে কেউ যদি স্বেচ্ছায়, উপহার হিসেবে কাউকে অতিরিক্ত দান করে, সেক্ষেত্রে তা হিবা বা গিফট হিসেবেই গণ্য হবে। রিবা নয়।


জাবির ইবন আব্দুল্লাহ (রা) বলেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালামের কাছে আসি যখন তিনি মাসজিদে ছিলেন আর আমাকে বললেন, ‘দুই রাকাত পড়ে নাও’। আমি তার পাওনাদার ছিলাম, তাই তিনি আমার পাওয়া ফেরত দিলেন আর কিছু অতিরিক্তও দিলেন।” [বুখারী ৪৪৩]

এছাড়াও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম এক ব্যক্তির কাছে একটি বাচ্চা উট ধার নেন। ফেরত দেবার সময় সাহাবীরা ঐ বাচ্চা উটটি খুঁজে পেলেন না। পরিবর্তে পেলেন এমন একটি উট যা কিছুটা যৌবন প্রাপ্ত ও হৃষ্টপুষ্ট। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম বললেন, “(এটিকেই) দিয়ে দাও। তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম যে ধার শোধে উত্তম।” [বুখারী ২৩০৫]


হাদীসদ্বয় থেকে জানা যায়, এই অতিরিক্ত দান যদি চুক্তিতে উল্লেখ না থাকে, এবং তা দেনাদারের স্বেচ্ছায় ও খুশিতে হয়ে থাকে, তাহলে এই অতিরিক্ত প্রদান-গ্রহণ করা জায়িয। আর যদি চুক্তি করা থাকে, যে ফিরিয়ে দেবার সময় কিছু অতিরিক্ত দিতে হবে, তবে সেটা রিবা আন-নাসি’আ এবং তা হারাম।


আরো বিস্তারিতভাবে বলা যায়, যদি কোন ব্যক্তি কাউকে ঋণ দেবার সময় এই বলে ঋণ দেয়, যে ফেরত দেবার সময় অতিরিক্ত কিছু দিতে হবে, তাহলে এই অতিরিক্ত হল রিবা আন নাসি’আ। আর যদি কোনরূপ কিছুই বলা না থাকে বা চুক্তি করা না থাকে, অর্থাৎ কারদ আল-হাসানা দেয়, কিন্তু ঋণ গ্রহীতা নিজ খুশিতেই ফেরত দেবার সময় উত্তম কিছু বা অতিরিক্ত কিছু দেয়, তাহলে এটি রিবা নয়।



[এই পর্বে রিবা আন-নাসি’আ নিয়ে আলোচনা করা হল। পরবর্তী পর্বে রিবার দ্বিতীয় প্রকার – রিবা আল-ফাদল নিয়ে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ্‌]


এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞানী

আল্লাহ্‌র মনোনীত জীবন ব্যবস্থায় সুদ : পর্ব ২ – সুদ ও ইসলাম

[প্রথম পর্বের লিংক: http://goo.gl/IhWcQi] 


আমরা গত পর্বে জেনেছি ইসলামি অর্থনীতির মূল ভিত্তি হল সম্পদের সুষম বন্টন। পুঁজিবাদী অর্থ ব্যবস্থার অর্থনীতির তত্ত্ব যদিও সেই কথাই বলে, তবে বাস্তবতায় দেখা যায়, সম্পদ কেবল বিত্তশালীদের হাতেই ঘুরপাক খায়। অথচ সম্পদ যাতে শুধুমাত্র বিত্তশালীদের হাতে পুঞ্জিভূত না হয়, সেটার দিকেই মূল লক্ষ্য রাখে ইসলামি অর্থনীতি। আল্লাহ্‌ তা’লা বলেন,


"আল্লাহ জনপদবাসীদের কাছ থেকে তাঁর রসূলকে যা দিয়েছেন, তা আল্লাহর, রসূলের, তাঁর আত্নীয়-স্বজনের, ইয়াতীমদের, অভাবগ্রস্তদের এবং মুসাফিরদের জন্যে, যাতে ধনৈশ্বর্য্য কেবল তোমাদের বিত্তশালীদের মধ্যেই পুঞ্জীভূত না হয়।" [সূরাহ হাশর: আয়াত ৭]


আর এই সম্পদের সুষম বন্টনের ক্ষেত্রে প্রধান যে বাধার মুখোমুখি হতে হয়, তা হল সুদ। সুদ এমনই একটি মারাত্মক জুলম, যা বিত্তশালীদের পকেট ভারী করে সাধারণ জনতাকে পথে বসিয়ে দেয়। সুদের বাস্তবিক অপকারিতা নিয়ে ইনশাআল্লাহ্‌ বিস্তারিত আসবে পরবর্তী পর্বগুলোতে।

ইসলামি অর্থনীতির একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হল, এটি সুদ অস্বীকার করে। সুদের অস্তিত্ব বিলীন করতে চায় এবং সুদকে হারাম ঘোষণা করে। অথচ আমাদের প্রচলিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে সুদের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তাই ইসলামে সুদের ব্যপারে কী বলা হয়েছে, কীভাবে সুদকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, কোন পর্যায়ে একে হারাম করা হয়েছে, আমাদের বর্তমান সুদী ব্যবস্থা এর সাথে কতটা যুক্ত, সে সংক্রান্ত জ্ঞান আহরণ করা প্রত্যকে ঈমানদার মুসলিমের উপর অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। সুদের ব্যাপারে ইসলামের হুকুম যদি দেখা হয়, তাহলে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে স্পষ্ট আদেশ লক্ষ্যণীয়।



কুরআন মাজিদ ও সুদ

সুদের ব্যপারে আল্লাহ্‌ সুবহানাহুওয়া তা’লা কুরআনে একাধিক আয়াত নাযিল করেছেন। এইসব আয়াতে দেখার বিষয় হল, আল্লাহ্‌ আযাযা ওয়া জাল সুদকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেন নি এবং কঠোর ভাষায় হারাম ঘোষনা করে দিয়েছেন। কোন অবস্থাতেই আমরা সুদকে হালাল করার সুযোগ পাচ্ছি না।


“মানুষের ধন-সম্পদে তোমাদের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাবে, এই আশায় তোমরা সুদে যা কিছু দাও, আল্লাহর কাছে তা বৃদ্ধি পায় না। পক্ষান্তরে, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পবিত্র অন্তরে যারা দিয়ে থাকে, অতএব, তারাই দ্বিগুণ লাভ করে।“ [সূরাহ আর রূম: আয়াত ৩৯]

“বস্তুতঃ ইহুদীদের জন্য আমি হারাম করে দিয়েছি বহু পূত-পবিত্র বস্তু যা তাদের জন্য হালাল ছিল-তাদের পাপের কারণে এবং আল্লাহর পথে অধিক পরিমাণে বাধা দানের দরুন। আর এ কারণে যে, তারা সুদ গ্রহণ করত, অথচ এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল এবং এ কারণে যে, তারা অপরের সম্পদ ভোগ করতো অন্যায় ভাবে। বস্তুত; আমি কাফেরদের জন্য তৈরী করে রেখেছি বেদনাদায়ক আযাব।” [সূরাহ আন নিসা: আয়াত ১৬০ -১৬১]

“ঈমানদারগণ! তোমরা সুদের উপর সুদ খেয়ো না। আর আল্লাহকে ভয় করতে থাক, যাতে তোমরা কল্যাণ অর্জন করতে পারো।” [সূরাহ আলি ইমরাআন: আয়াত ১৩০]

“যারা সুদ খায়, তারা কিয়ামতে দন্ডায়মান হবে, যেভাবে দন্ডায়মান হয় ঐ ব্যক্তি, যাকে শয়তান আসর করে মোহাবিষ্ট করে দেয়। তাদের এ অবস্থার কারণ এই যে, তারা বলেছেঃ ক্রয়-বিক্রয় ও তো সুদ নেয়ারই মত! অথচ আল্লা’হ তা’আলা ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। অতঃপর যার কাছে তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে উপদেশ এসেছে এবং সে বিরত হয়েছে, পূর্বে যা হয়ে গেছে, তা তার। তার ব্যাপার আল্লাহর উপর নির্ভরশীল। আর যারা পুনরায় সুদ নেয়, তারাই দোযখে যাবে। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে।” [সূরাহ আল বাক্কারা: আয়াত ২৭৫]

“আল্লাহ তা’আলা সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দান খয়রাতকে বর্ধিত করেন। আল্লাহ পছন্দ করেন না কোন অবিশ্বাসী পাপীকে।” [সূরাহ আল বাক্কারা: আয়াত ২৭৬]

“হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যে সমস্ত বকেয়া আছে, তা পরিত্যাগ কর, যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক।” [সূরাহ আল বাক্কারা: আয়াত ২৭৮]

“অতঃপর যদি তোমরা (সুদ) পরিত্যাগ না কর, তবে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত হয়ে যাও। কিন্তু যদি তোমরা তওবা কর, তবে তোমরা নিজের মূলধন পেয়ে যাবে। তোমরা কারও প্রতি অত্যাচার করো না এবং কেউ তোমাদের প্রতি অত্যাচার করবে না।” [সূরাহ আল বাক্কারা: আয়াত ২৭৯]


সুদের সাথে এইভাবেই সরাসরি সম্পর্কচ্ছেদ করেছেন আল্লাহ্‌। বর্তমান সুদভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থায় ঋণ গ্রহীতার ওপর যদি ঋণ পরিশোধ কোন কারণে কষ্টকর হয়ে যায়, তাহলে ফাইনান্স হাউসগুলো তাকে ছাড় দেয় না। মর্টগেজ বা বন্ধক বিক্রি করে তারা সুদ ও আসল তুলে নিয়ে আসে। অথচ আল্লাহ্‌ বলছেন,


“যদি কেউ যদি অভাবগ্রস্থ হয়, তবে তাকে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দেয়া উচিত। আর যদি ক্ষমা করে দাও, তবে তা খুবই উত্তম যদি তোমরা উপলব্ধি কর।” [সূরাহ আল বাক্কারা: আয়াত ২৮০]


লক্ষ্য করুন, ঋণ পরিশোধের সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে ঋণ দাতার অবশ্যই দাবি থাকে সেই ঋণের ওপর এবং বর্তমান ব্যবস্থায় ঋণ গ্রহীতার লেপ কম্বল বিক্রি করে হলেও সুদ আদায় করা হয়। কিন্তু আল্লাহ্‌ বলছেন তাকে সময় দিতে! কোন অবস্থাতেই যাতে তাকে অতিরিক্ত উসুল বা সুদের খপ্পরে পড়তে না হয়। যদিও ইসলামি ঋণ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সুদমুক্ত।

তাই কুরআন মাজিদের আলোকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সুদের ব্যপারে এক বিন্দু ছাড় দেয়া সম্ভব নয়।



হাদীস ও সুদ

কুরআন এর আয়াতের আলোকে রাসূলুল্লাহ [ﷺ] একাধিকবার সুদের ব্যাপারে এই উম্মাহকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন। দিয়েছেন অভিশাপ ও ভয়ঙ্কর শাস্তির খবর।


রাসূল সেই নারীকে অভিশাপ দিয়েছেন যে ট্যাটু আঁকা চর্চা করে এবং সেই নারী যে ট্যাটু আঁকায়, এবং সেই ব্যক্তি যে সুদ ভক্ষণ করে এবং যে সুদ দেয়।  [সহীহ আল বুখারী : ৫৩৪৭]

আল্লাহ্‌র রাসূল অভিশাপ দিয়েছেন সুদ গ্রহীতা, সুদ দাতা, সুদের হিসাবরক্ষের এবং এ ব্যাপারে সাক্ষ্যদানকারীর ওপর আর বলেছেন “ওরা সকলেই সমান” [সহীহ মুসলিম ১৫৯৭]

সুদের ৭৩ টি অপকারিত রয়েছে। তন্মধ্যে সর্বনিম্ন হল আপন মায়ের সাথে জিনা/ব্যভিচার করা।  [সুনান ইবন মাজাহ : ২২৭৪ {হাসান হাদীস (দারুস সালাম)। সোর্স: Sunnah.com}] 

রাসূল বলেন, “তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক বস্তু থেকে বেচে থাকো।” সাহাবীগণ বললেন, “হে আল্লাহ্‌র রাসূল! সেগুলো কী?” তিনি উত্তরে বললেন, “আল্লাহ্‌র সাথে শিরক করা,জাদু করা,অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা যা আল্লাহ্‌ হারাম করেছেন, সুদ খাওয়া, এতিমের সম্পদ গ্রাস করা, যুদ্ধের সময় পলায়ন করা, সতী-সাধ্বী নিরীহ ঈমানদার নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করা।”  [সহীহ আল বুখারী : ৬৮৫৭]

আল্লাহ্‌র রাসূল যে ব্যক্তি সুদ নেয় ও যে ব্যক্তি সুদ দেয়, তাদের অভিশাপ দিয়েছেন [সহীহ মুসলিম : ১৮:১০৫]

আল্লাহ্‌র রাসূল বলেন, এমন একটি সময় আসবে, যখন সুদ খাবেনা এমন কেউ থাকবেনা, আর কেউ যদি সুদ নাও খায়, তবু এর ধূলোবালি থেকে রক্ষা পাবে না। [ইবন মাজাহ, আবু দাউদ, আল জামি’আল আসগার {সুয়ুতী, পৃষ্ঠা ৭৫৩১ : সহীহ (সোর্স: hdith.com)}]


রাসূল [ﷺ] এর হাদীস থেকেও দেখা যাচ্ছে সুদের হারাম হবার কথা। উল্লিখিত সহীহ হাদীসগুলো ছাড়াও আরো অসংখ্য হাসান পর্যায়ের ও কিছু দুর্বল বর্ণনার হাদীসও রয়েছে, যাতে বর্ণিত হয়েছে সুদের ভয়ানক পরিণতির কথা। কোনটায় আল্লাহ্‌র রাসূল [ﷺ]  বলেছেন তিনি মিরাজের সময় সুদখোরদের পেটে সাপ কিলবিল করতে দেখেছেন, কোনটায় তিনি বলেছেন একজন মুসলিমের এক দিরহাম সুদ গ্রহণ করা ৩৩ বা ৩৬ বার ব্যভিচার/জিনা করার চাইতেও জঘন্য।



ইসলাম ও সুদ

কুরআন ও হাদীসের আলোকে আলোচনার মাধ্যমে এটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, কোন মুসলিমের পক্ষে সুদকে হালাল ভাবার কোন সম্ভাবনা ও সুযোগ নেই। ইসলামে অত্যন্ত জঘন্য একটি স্থান দখল করে আছে সুদ। ভেবে দেখুন, কেউ তার জন্মদাত্রী মায়ের সাথে ব্যভিচার করতে পারে কি? সম্ভব? অথচ সুদ খাওয়ার ৭৩ টি গুনাহ এর সর্বনিম্ন গুনাহ হল সেই ব্যক্তির গুনাহ এর সমান, যে তাঁর জন্মদাত্রী মায়ের সাথে জিনা করে।

ভেবে দেখুন তো, কেউ একই দিনে ৩৬ বার জিনা করে ফেলেছে! কতটা ভয়ংকর হতে পারে তার গুনাহ? তার শাস্তি? অথচ এক দিরহাম সুদ গ্রহণকে ৩৬ বার জিনা করার চাইতেও জঘন্যতর আখ্যা দেয়া হয়েছে।

তাহলে আমাদের কি এতটুকু সতর্ক হবার প্রয়োজন নেই? আমাদের কি এতটুকু ভীত হবার দরকার নেই? আমাদের এতটুকু চিন্তা করার অবকাশ নেই যে আমরা সুদকে কীভাবে নিচ্ছি?

আসুন আমরা নিজেদের চারটি প্রশ্ন করি।

- আমরা কি সুদ নিচ্ছি?
- আমরা কি সুদ দিচ্ছি?
- আমরা কি সুদী কারবার লিখে রাখছি?
- আমরা কি সুদী কারবারে সাক্ষী থাকছি/ভূমিকা রাখছি?

এই চার শ্রেণীর মানুষকেই আল্লাহ্‌র রাসূল [ﷺ] অভিশাপ দিয়ে বলেছেন এরা সবাই একই গুনাহগার!

আমরা অনেকেই হয়তো নামায পড়ি, রোজা রাখি, কুরআন পাঠ করি, চেষ্টা করি হারাম কিছু না করতে, অথচ ঠিকই এমন ভাবে সুদী কারবারে জড়িয়ে পড়ছি, যেন এটা কোন বিষয়ই নয়!

অথচ যে ব্যক্তি হারাম উপার্জন করে তা দিয়ে উদরপূর্তি করে, তার দু’আ কিংবা ইবাদাত কবুলই হয় না! রাসূলাল্লাহ [ﷺ] বলেন,


‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা পবিত্র। তিনি শুধু পবিত্র বস্ত্তই গ্রহণ করেন। তিনি মুমিনদের সেই আদেশই দিয়েছেন, যে আদেশ তিনি দিয়েছিলেন রাসূলগণের।’’ আল্লাহ তা’আলা বলেন : ‘‘হে ইমানদারগণ! তোমরা পবিত্র বস্ত্ত-সামগ্রী আহার কর, যেগুলো আমি তোমাদেরকে রুযী হিসেবে দান করেছি।’’ অতঃপর রাসূল সা. এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে দীর্ঘ সফরে থাকা অবস্থায় এলোমেলো চুল ও ধূলি-ধুসরিত ক্লান্ত-শ্রান্ত বদনে আকাশের দিকে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে প্রার্থনা করে ডাকছেঃ হে আমার প্রভূ! হে আমার প্রভূ!  সে যা খায় তা হারাম, যা পান করে তা হারাম, যা পরিধান করে তা হারাম এবং হারামের দ্বারা সে পুষ্টি অর্জন করে। তার প্রার্থনা কিভাবে কবুল হবে?’’ [সহীহ মুসলিম : ১০১৫]

আর যে দেহ হারাম খাদ্য দ্বারা গড়ে উঠে তার জন্য দোযখের আগুনই উত্তম। [জামি’ আত তিরমিদি : ৬১৪ {হাসান হাদীস: দারুস সালাম (সোর্স: Sunnah.com)} ]


স্কলারদের মতে যে শরীর হারাম উপার্জনে পুষ্টি লাভ করে, সে শরীর আল্লাহ্‌র নিকট অপবিত্র। ফলে তাঁর ইবাদত কী উপায়ে কবুল করে পারে?


স্পষ্টতই সুদের ব্যাপারে আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূল [ﷺ] অত্যন্ত কঠোর নীতি অবলম্বন করেছেন। যে ব্যক্তি সুদের সাথে সম্পর্ক রাখে, আল্লাহ্‌ তা’লা বলেছেন সে ব্যক্তি আল্লাহ্‌ ও রাসূলুল্লাহর [ﷺ] সাথে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করে। একজন সুস্থ মস্তিষ্কের মুসলিম কখনই আল্লাহ্‌ এবং তাঁর রাসূলের [ﷺ] সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করার কথা সুদূর কল্পনাতেও আনবেন না। কিন্তু সুদী কারবারে লিপ্ত হয়ে অনেকেই প্রতিনিয়ত আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের [ﷺ] বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করছেন।

একজন মুসলিমের কাছে আল্লাহ্‌র আদেশ ও নিষেধের বাইরে কোন কিছুই বলার থাকে না, কোন কিছুই করার থাকে না। একজন মুসলিম সেটাই মেনে নেবে যা আল্লাহ্‌ আদেশ করেছেন। আর সেখান থেকেই দূরে থাকবে যা আল্লাহ্‌ নিষেধ করেছেন। আল্লাহ্‌ বলেন,

"আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করে সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্ট তায় পতিত হয়।" [সূরাহ আল আহযাব : আয়াত ৩৬]

অর্থাৎ আল্লাহ্‌ এবং তাঁর রাসূল [ﷺ] যখন কোন বিষয়ে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন, তখন মু’মিন পুরুষ ও নারী কারোরই কোন এখতিয়ার নেই সেখানে দ্বিমত পোষণ করার।

আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’লা সুদকে হারাম করেছেন তো আমরাও মেনে নেব। কোন প্রশ্ন ছাড়া। কোন তর্ক ছাড়া। আল্লাহ্‌ মুসলিমদের পরিচয় কুরআনে এভাবেই দিয়েছেন,


তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। [সূরাহ নূর : আয়াত ৫১]


[এ পর্বে আমাদের আলোচনা ছিল সুদের হারাম হবার হুকুমের ওপর। পরবর্তী পর্বে সুদ ও রিবা এর সংজ্ঞা ও শ্রেণীবিন্যাস সম্পর্কে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ্‌।]  


এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞানী 

আল্লাহ্‌র মনোনীত জীবন ব্যবস্থায় সুদ : পর্ব ১ - জীবন ব্যবস্থা

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

 
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা - এই বিষয়টা প্রতিটি মুসলিমই কম বেশি উল্লেখ করে থাকেন, বলে থাকেন, লিখে থাকেন। কিন্তু বুঝে থাকেন কজন, সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ পোষণ করার সুযোগ রয়ে যায়। কারণ জীবন ব্যবস্থা বা লাইফ সিস্টেমের কিছু সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ইসলামকে জীবন ব্যবস্থা বলে দাবি করার সাথে সাথে অনুধাবন ও অনুসরণ করা জরুরী। অল্প ভাষায় বিস্তর বলা সম্ভব না হলেও যা উল্লেখ করা সম্ভব, তা হল যে কোন জীবন ব্যবস্থাই একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত বা সমষ্টিগত জীবনে কিছু কোড বা নিয়ম কানুন সেট করে দিয়ে থাকে। অর্থাৎ ব্যক্তিগত জীবন যাপনের নিয়ম, পারিবারিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন, সামাজিক জীবন, অর্থনৈতিক জীবন ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে কিছু গৃহীত নিয়ম বা এক্সেপ্টেড নর্মস সেই জীবন ব্যবস্থায় ডিফল্ট হিসেবে থেকে থাকে। তাই ইসলামকে আমরা যখন জীবন ব্যবস্থা রূপে ঘোষণা করছি, তখন আমাদের বুঝে থাকা জরুরী, যে এইসব উপরোল্লিখিত বিষয়ে ইসলামের কোন নিয়ম, পরামর্শ কিংবা গাইডলাইন আছে কিনা।

এক্ষেত্রে, আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা’লা কুরআনে উল্লেখ করেছেন,

“নিশ্চই আল্লাহ্‌র নিকট (গ্রহণযোগ্য/অনুমোদিত) জীবন ব্যবস্থা হল ইসলাম” [সূরাহ আলি ইমরান: আয়াত ১৯]


অর্থাৎ, বিচিত্র ধারার অসংখ্য জীবন ব্যবস্থাসমূহের মাঝে, আল্লাহ্‌ তা’লা কেবল মাত্র একটি জীবন ব্যবস্থাকেই রিকগনাইজ করেন। অন্যভাবে বলতে গেলে, আল্লাহ্‌র কাছে দাম রাখে, গ্রহণযোগ্যতা রাখে শুধুমাত্র একটি জীবন পন্থা। আর তা হল ইসলাম।

অন্য আয়াতে আল্লাহ্‌ বলছেন,

“যে কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য জীবন ব্যবস্থা খোঁজ করবে, কোনদিনই তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখিরাতে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত” [সূরাহ আলি ইমরান: আয়াত ৮৫]


অর্থাৎ ইসলাম ছাড়া আর কোন জীবন ব্যবস্থা মেনে চলা ব্যক্তির আখিরাতে ক্ষতি ব্যতীত কিছু পাওনা নেই। তার সেই জীবন ব্যবস্থা আল্লাহ্‌ কখনই, কোন অবস্থাতেই গ্রহণ করবেন না।

যারা ইসলামকে সত্যিকার অর্থেই গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন, তারা জানেন, ইসলাম মানব জীবনের কোন একটি স্তর, পর্যায় কিংবা ক্ষেত্র বাকি রাখে নি, যেখানে আল্লাহ্‌ প্রদত্ত কোন গাইড লাইন প্রদান করা হয় নি। কিভাবে নখ কাটতে হয় থেকে শুরু করে কিভাবে শ’খানেক রাজ্যকে একজন শাসকের অধীনে নিয়ে এসে সমস্ত পৃথিবী শাসন করতে হয় পর্যন্ত সমস্ত বিষয়ে ইসলাম দেখিয়েছে পথ। জ্বেলেছে আলোকবর্তিকা।

তাই বলা বাহুল্য, ইসলামের একটি অর্থনৈতিক দর্শনও রয়েছে। রয়েছে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। ইসলামের বিভিন্ন শাখা প্রশাখার মধ্যে অন্যতম বিশদ, বিস্তর ও সুবিশাল শাখা হল ইসলামি অর্থনীতি। একজন মুসলিম হিসেবে, আমাদের অতি অবশ্যই ইসলামের অর্থনৈতিক মৌলিক তত্ত্ব, বাস্তবিক প্রয়োগ, সমাধান ও নির্ধারিত নিয়ম কানুন সম্পর্কে অবহিত হওয়া এবং অন্যান্য প্রচলিত অর্থনৈতিক পদ্ধতির সাথে ইসলামি অর্থনীতির পার্থক্য সম্পর্কে অবহিত হওয়া ও হারাম হালাল সম্পর্কে সজাগ থাকা
জরুরী। আমরা যেমন মুসলিম হিসেবে খৃষ্টানদের রীতিতে আল্লাহ্‌র ইবাদত করতে পারি না কিংবা বৌদ্ধদের রীতিতে বিয়ে করতে পারি না, ঠিক সেভাবেই আমরা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন নিয়মে অর্থনৈতিক কার্যক্রম সমাধা করতে পারি না, যদি তা ইসলামের সাথে মৌলিক ভাবে সাংঘর্ষিক হয়ে থাকে।

ইসলামের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার গোড়াপত্তন হয় কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা। এই কুরআন সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসারে ইসলামি অর্থ ব্যবস্থা পরিচালিত হয়। সেই রাসূল [ﷺ] এর রাষ্ট্র থেকে শুরু করে খিলাফত রাষ্ট্র পর্যন্ত অর্থনীতি পরিচালিত হয় ইসলামি অর্থনীতির মাধ্যমে। খিলাফতের পতনের পর থেকে অবধারিত ভাবে ইসলামের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রজ্বলিত আলোও স্তিমিত হয়ে আসে। ফলে দীর্ঘ শত বছর ধরে মুসলিম ভূমিগুলোতে অর্থ ব্যবস্থা দখল করে নিয়েছে প্রথমত সমাজতান্ত্রিক ও পরবর্তীতে পুঁজিবাদী অর্থ ব্যবস্থা। উভয়ের মৌলিক ধারনাই ইসলামের ঘোর বিরোধী। কিন্তু এই সুদীর্ঘ সময়ে মুসলিম জাতি এইসব মানবসৃষ্ট অর্থনৈতিক প্রথা ও ব্যবস্থায় নিমজ্জিত হওয়ার দরুন ইসলামের মৌলিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে বেখবর হয়ে পড়েছে। ফলে ইসলামি অর্থনীতির প্রসঙ্গ তাদের কাছে নতুন কোন ফিলোসফি রূপে ধরা দেয়, অথচ এটা সেই ব্যবস্থা যা শত শত বছর ধরে কার্যকররূপে প্রচলিত ছিল এবং বর্তমান ক্যাপিটালিস্টিক ইন্টারেস্ট বেইসড সমাজের মত এর মেরুদন্ড কখনই ভেঙ্গে পড়ে নি।

অর্থনীতির মৌলিক উদ্দেশ্যের ব্যাপারে প্রখ্যাত মার্কিন অর্থনীতিবিদ Richard Theodore Ely বলেন,


"Economics is a science, but something more than a science, a science that though with the infinite variety of human life, calling not only for systematic, ordered thinking , but human sympathy, imagination, and in an unusual degree for the saving grace of commonsense."

অর্থাৎ, অর্থনীতি কেবল একটি বিজ্ঞানই নয়, এটি কেবলমান্ত সুসংবদ্ধ, সুশৃঙ্খলিত চিন্তার আবেদনই জানায় না, মানুষের প্রতি সহানুভূতির উদ্রেক করতে ও বাস্তব জ্ঞান অসাধারণ পরিমান সম্প্রসারণ করতেও তা সচেষ্ট।

রাজনৈতিক অর্থনীতির জনক নামে খ্যাত স্কটিশ অর্থনীতিবিদ Adam Smith বলেছিলেন

 "Economics is the science of wealth."

অর্থাৎ অর্থনীতি হল সম্পদের (বন্টন) বিজ্ঞান।

অর্থনীতি বিজ্ঞানে প্রথম নোবেল মেমোরিয়াল পুরস্কার প্রাপ্ত মার্কিন অর্থনীতিবিদ Paul A. Samuelson এর মতে,

"Economics is the study of how men and society choose, with or without the use of money, to employ scarce productive resources which could have alternative uses, to produce various commodities over time and distribute them for consumption now and in the future amongst various people and groups of society."

অর্থাৎ স্বল্প সম্পদ কি করে অর্থ ব্যবহার করে কিংবা না করে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের মাঝে বন্টন করা যায়, সে সংক্রান্ত বিদ্যাই হল অর্থনীতি।


এমন অসহায় অবস্থা থেকে আল্লাহ রব্বুল আলামীনের কাছে আশ্রয় চাই।

যখন আল্লাহ কাউকে ভালবাসেন তাকে অনেক
অর্থ-সম্পদ দিয়ে দেন না।
 তার প্রভাব প্রতিপত্তি ক্ষমতার মধ্যেও কোন প্রবৃদ্ধি ঘটে না।
 বরং তিনি যদি কাউকে ভালবাসেন তাকে নেক আমল করার তাউফিক দেন
। পুরো রমাদান মাসে যদি আপনি রোজা রাখতে পারেন, যদি রাত জেগে তাঁর ইবাদত করার সৌভাগ্য হয়, আপনি বিশ্বাস করতে পারেন যে সেই মহান রব আপনাকে অনেক ভালবাসেন।
তিনি আপনাকে পছন্দ করেন বলেই আপনি তাঁর দিকে দুহাত তুলে চাইতে পারেন, তিনি ভালবাসেন বলেই তাঁর নাম উচ্চারণের সৌভাগ্য আপনার হয়।


এর উল্টো দিকে, যখন তিনি কারো উপর রাগ হন,
তিনি কিন্তু তাকে অক্সিজেন দেওয়া বন্ধ করে দেন না। তার খাবার দাবারের যোগানও বন্ধ হয় না।
বরং হয়তো সে আগের চেয়ে আরও ভাল থাকার কিংবা খাওয়ার সুযোগ পায়।
কেউ তাঁর নাফরমানি করলে, তাকে তিনি সাথে সাথে শাস্তি দেন না; তার পায়ের নিচ থেকে জমিন সরে যায় না, মাথার উপর ছাদও ভেঙ্গে পড়ে না।

কিন্তু তিনি অসন্তুষ্ট হলে তার অন্তরে মরিচা পড়ে যায়।
ইবাদতে তার মন বসে না, নামাজ পড়তে তার আর ভাল লাগে না।
দ্বীনের কোন কথা শুনলে বিরক্তি আসে, তিলাওয়াতের সুরের চেয়ে গানের সুরই তার কাছে প্রিয় মনে হয়।
 তার সাধ জাগে না গভীর রাতে একাকী সিজদায় যেয়ে কাঁদতে। আফসোস তার হয় না, কেন সে ফজরে আর উঠতে পারে না।

সেই মানুষটি তো ভাবতে থাকে যে এসবই তার ইচ্ছাধীন বিষয়।
 সে নামাজ পড়তে চায় না বলেই পড়া হয় না।
তার তেমন ভাল লাগে না বলেই অন্যান্য আমলগুলোও সব সময় করা হয় না।
 কিন্তু প্রকৃত সত্য হল, তার গুনাহের কারণেই তার থেকে সেই ইবাদতের নিয়ামত ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। তার বদআমলের কারণেই সে আর পায় না আমলের সেই মিষ্টতা...

এমন অসহায় অবস্থা থেকে আল্লাহ রব্বুল আলামীনের কাছে আশ্রয় চাই।
-সংগৃহীত

নিজেকে প্রশ্ন করুন আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন? আপনার নামাজ কেমন? কুরআনের সাথে সম্পর্ক কেমন? আপনার দ্বীন কেমন? কারণ, যে দ্বীনের উপর আপনি জীবন যাপন করবেন, সেই দ্বীনের উপরই আপনার মৃত্যু হবে।

।দুনিয়াতে যেভাবে জীবন যাপন করবেন, মৃত্যুও সেভাবেই হবে।।

মুহাম্মাদ নাফি ।
একজন অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম কিছুদিন আগে ক্যান্সারে মারা যান। ক্যান্সার ধরা পড়ার আগে এই ভাইটি ছিল একেবারেই সুস্থ। চ্যারিটি, দাওয়া, মুসলিম কমিউনিটির যেকোনো প্রয়োজনে সে সবসময় একটিভ ছিল। ক্যান্সার ধরা পড়ার পর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার মধ্যে তার রবের জন্য, দ্বীনের জন্য, আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের জন্য যে প্রস্তুতি দেখা গেছে, তাতে আমরা নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি, আল্লাহ তাকে একটি উত্তম মৃত্যু দিয়েছেন। যখনই কেউ তার সাথে দেখা করতে যেত, সবসময় তার মুখে আল্লাহর প্রশংসা, সুন্দর হাসি, এমনকি মুসলিমদের জন্য সেই কঠিন সময়েও তার কত প্ল্যান, কত স্বপ্ন। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, যে দ্বীনের উপর তুমি জীবন যাপন করবে, তোমার মৃত্যুও সেভাবেই হবে। আমরা ইয়াক্বিনের সাথে বিশ্বাস করি মুহাম্মাদ নাগি এমন এক সুন্দর দ্বীনের উপর জীবন যাপন করেছেন, আর আল্লাহ তাকে সেই দ্বীনের উপরই মৃত্যু দিয়েছেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কোন দ্বীনের উপর জীবন যাপন করছি?
 আমরা কীভাবে মৃত্যুবরণ করতে চাই?
 কোন অবস্থায় আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে চাই?
কখনো এটা ভাববেন না যে, যারা ক্যান্সার বা এমন পরীক্ষার সম্মুখীন হয় এটা তাঁদের জন্য একটা সৌভাগ্য—ভালো কিছু। না, মাঝে মাঝে এটা ঠিক তার বিপরীতও হতে পারে। ক্যান্সার মুহাম্মাদ নাফির জন্য ভালো হয়েছে কারণ সে এমন একটি জীবন অতিবাহিত করেছে যাতে আল্লাহ সন্তুষ্ট ছিলেন। সে সুখের সময় আল্লাহকে স্মরণ রেখেছে তাই আল্লাহ তার কঠিন সময়ে তাকে স্মরণ করেছেন—সুন্দর একটি মৃত্যু দিয়েছেন। আল্লাহ এজন্য তাকে সাহায্য করেননি যে, সে বিশেষ কেউ একজন, না। সে সহজ সময়ে কঠোর পরিশ্রম করেছে, যখন সাধারণত মানুষ আল্লাহকে ভুলে যায়, যখন সাধারণত মানুষের দ্বীনের জন্য, মসজিদের জন্য সময় থাকে না। সে আল্লাহকে সেই সময় স্মরণ করত, তাই আল্লাহ তাকে তার প্রয়োজনে মনে রেখেছেন। সঠিক সময়ে উত্তম মৃত্যু দিয়েছেন।

আমরা ভাবি, আমি তো মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ আমি নামাজ পড়ি, অবশ্যই আমি তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করব। আপনি কীভাবে জানেন? কী প্রমাণ আছে যে তাওহীদের উপর মৃত্যুবরণ করবেন? আপনার চারপাশে এমন অনেকেই আছে, জন্মগতভাবেই মুসলিম, মুসলিম হিসেবেই বেড়ে উঠেছে, যাদের আল্লাহ ক্যান্সার দিয়েছিলেন, তবুও তারা আল্লাহর পথে ফিরে আসেনি।

এক ভাই একদিন আমাকে ফোন করে জানাল পঞ্চাশোর্ধ এক বৃদ্ধ মুসলিম যিনি কখনোই নামাজ পড়েনি, কখনো সিজদা পর্যন্ত দেয়নি, বৃদ্ধ লোকটি মৃত্যুশয্যায় শায়িত, হয়তোবা এটাই তার জীবনের শেষ মুহুর্ত—দয়া করে আপনি একটু আসুন। এমনকি সেই পরিবারের কেউ নামাজ পড়ত না। লোকটি বলল হয়ত আপনি গেলে ভালো হয়, কিছু উপদেশ দিতে পারেন। যাই হোক, আমি বললাম, ঠিকাছে আপনি বলে দিন আমি আগামীকাল আসব। কিন্তু কয়েক ঘন্টা পর সে লোকটি আমাকে ফোন দিয়ে জানাল আমি যেন না যাই। আমি বললাম, কেন নয়? কারণ, বৃদ্ধ লোকটি যখনই শুনল ধার্মিক কেউ আসবে তার সাথে দেখা করতে, সাথে সাথে নিষেধ করে দিল। এমনকি হাসপাতালে জানিয়ে দিল তার পরিবারের সদস্য ছাড়া কেউ যেন তার কাছে আসতে না পারে। তার দুদিন পর বৃদ্ধটি মারা গেল।

আমি বলছি না সে কুফরি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে, তার যা হয়েছে সেটা তার আর আল্লাহর ব্যাপার। কিন্তু আপনি সেভাবেই মারা যাবেন, যেভাবে আপনি দুনিয়াতে বেঁচে ছিলেন। যে জীবন আপনি অতিবাহিত করেছেন, সেই জীবন নিয়েই আপনি মারা যাবেন।আপনারা আপনাদের জীবন নিয়ে এভাবে ভাবুন।

আমরা সবাই মুখে বুলি ছড়াই, আমি আল্লাহকে ভালোবাসি, আল্লাহর রাসূলের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত। আল্লাহর আপনার মুখের জবাবের দিকে খেয়াল করবেন না, আল্লাহর আপনার কাজ দেখতে চান। নিজের জীবনের দিকে তাকান। সত্যিই আল্লাহকে ভালোবাসেন? নামাজকে, মসজিদকে ভালোবাসেন? তাহলে দেখুন এগুলোর সাথে আপনার সম্পর্ক কি রকম। মুখে মুখে আপনি আল্লাহর ওলি! আপনি মনে করেন খুব ভালোভাবেই আল্লাহর পথে আছেন, অথচ আপনি শুধু জুমার নামাজে আসেন। এতটুকুই আপনার দ্বীন।

এক ভাই ফোন করে বললেন, আপনি কি জানেন জুমার খুতবা কখন? আমি বললাম, জি ভাই খুতবা শুরু সাড়ে বারোটায়। সে বলল, না ভাই, আমি জানতে চাচ্ছি আপনারা যে খুতবার পর নামাজ পড়েন তা কয়টায় শুরু হয়। আমি বললাম, খুতবা শুরু হয় সাড়ে বারোটায়, আপনাকে নামাজের জন্য সাড়ে বারোটায় পৌঁছাতে হবে। সে বলল, আমার খুতবা শোনার ইচ্ছা নাই, আমাকে শুধু নামাজের সময়টা বলুন। আমি এসে যেন দু'রাকাত নামাজ পড়েই চলে যেতে পারি।
এরকম দ্বীনের উপর আপনি থাকবেন, এই দ্বীনের উপরই আপনার মৃত্যু হবে।
আল্লাহকে ভালোবাসার কথা, কুরআনকে ভালোবাসার কথা আমরা সবাই দাবি করি। সত্যিই কুরআন ভালোবাসেন? কতটুকু কুরআন মুখস্ত করেছেন আপনি? কুরআনের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত, আসলেই? আসলেই কি আপনি কুরআনের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত? এখনও আমাদের বেশিরভাগ মানুষ সেই কয়টা সূরাই জানি যেগুলো ছোটবেলায় মুখস্ত করেছিলাম, আল্লাহই ভালো জানেন তাও পুরোপুরি পড়তে পারি কি না।২০ বছর, ৩০ বছর, এভাবে আপনার জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে, অথচ আপনি একটা আয়াতও মুখস্ত করতে পারলেন না, অথচ আপনি সিনা টান করে বলতে থাকেন কুরআনকে কতটা ভালোবাসেন! আপনাকে, আমাকে, আমাদের সবাইকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে। এই অবস্থায়ই দাঁড়াতে হবে।

এটা ভাববেন না যারা ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়, তারা একে ভালো পথে ব্যবহার করে। আমরা ভাবি, হ্যাঁ ভাই ক্যন্সার ভালো, এটা আপনাকে তাওবা করতে সময়, সুযোগ দেয়, যদি আমার ক্যান্সার হতো! আল্লাহু আকবর! কত বড় স্পর্ধা আমাদের। যখন কেউ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় সবাই আশ্চার্যান্বিত হয়, ভয় পেয়ে যায়। কিন্তু আল্লাহ কি আপনাকে বলেন নি যে, আপনি যেকোনো সময় মারা যেতে পারেন? আমাদের মাঝে অনেকের কোট-টাই পরিহিত আর সার্টিফিকেট পাওয়া ডাক্তারের কথায় যতটুকু বিশ্বাস আছে, ততটুকু বিশ্বাস রাসূল (সাঃ) এর হাদিসেও নেই। আপনি যখন হাদিস বা আয়াত পড়েন, মৃত্যু যেকোনো সময় আসবে, আপনি তখন আতঙ্কিত হন না, কিন্তু ডাক্তার যখন বলে, ভাই আপনাকে পরীক্ষা করে দেখলাম আপনি হয়তো আর সপ্তাহ দু এক বাঁচবেন, আপনার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে, দুই সপ্তাহ! এই কয়দিন আছে মাত্র? কিন্তু আপনি এরকম রিএকশান দেখাননি, যখন আল্লাহ বললেন যেকোনো সময় মৃত্যু আসবে!
আমাদের নিজেদের জিজ্ঞেস করা উচিত, আমরা কেমন দ্বীন পালন করছি, কারণ সেই দ্বীনের উপরই আমাদের মৃত্যু হবে। এবং আল্লাহ যেই অবস্থায় আপনার মৃত্যু দিবেন, আপনি মৃত্যুর সময় যে দ্বীন নিয়ে মারা যাবেন, আপনাকে যদি আরও এক মিলিয়ন বছর বাচতে দেওয়া হত, আপনি সেই আগের অবস্থায়ই থাকতেন, পরিবর্তন হতেন না। আমরা যখন দেখি কোনো বেনামাজজি মারা গেছে, সত্যি তার হয়ত নামাজ পড়ার ইচ্ছে ছিল, সে হয়তো নামাজ পড়তে চেয়েছিল। কিন্তু তার মৃত্যু হয়েছে বেনামাজি অবস্থায়, কারণ বেঁচে থাকা অবস্থায় সে কখনো নামাজী ছিল না। এভাবেই আমাদের সবার মৃত্যু হবে, যেভাবে আমরা দুনিয়াতে বাঁচব, যে পথে চলব।
এই শাইখ বলেন, এক পরিবার তাকে ডেকেছে মৃত্যুশয্যায় এক বৃদ্ধ ব্যক্তিকে দেখার জন্য। শাইখ বললেন, আমি তাঁদের বাড়ি গেলাম, গাড়ি পার্কিং করে যাওয়ার সময় শুনলাম পুরো বাড়িতে উচ্চস্বরে গান বাজছে। তিনি বললেন, আমি আমার কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। তারা অন্তত কুরআন তিলাওয়াত বা অন্যকিছু ছেড়ে দিতে পারত। তাঁদের পিতা মারা যাচ্ছে অথচ সেখানে উচ্চস্বরে গান বাজছে। আমি যখন গেলাম তখন অস্বস্তি দূর করার জন্য তারা গান বন্ধ করে কুরআন তিলাওয়াত ছেড়ে দিল। কিন্তু জানেন এরপর কি হলো? তাঁদের পিতা বিছানায় মৃত্যুশয্যা থেকে বলে উঠল, বন্ধ করো এটা, গান ছেড়ে দাও, তা আমার হৃদয়ে প্রশান্তি দেয়। এভাবেই মৃত্যু হবে, যেভাবে আপনি বেঁচে থাকবেন, সেভাবেই আপনি মারা যাবেন।

অন্যদের না দেখে নিজেকে দেখুন। আর কত সময় আপনাকে এসব শুনতে হবে? কত জানাযায় উপস্থিত হতে হবে? আমরা সবাই-ই মুসলিম, কিন্তু কেমন মুসলিম? কোনো পর্যায়ের মুসলিম? আজকে আপনার সন্তান যদি অসুস্থ হয়ে যায়, আপনি মুখে না বললেও ভেতরে ঠিকই ভাবেন যে, আল্লাহ কেন আমার সাথে এমন করল, আমি তো নামাজ পড়ি, দান করি, যাকাত দিই! কিন্তু ঐ লোক নামাজ পড়ে না, অথচ তার সন্তানেরা সুখে আছে। আপনি কি এরকম হৃদয় নিয়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে চান?
আমাদের পরিবরর্তন জরুরী। মুহাম্মাদ নাগির জন্য আমার হিংসা হচ্ছে, কারণ এরকম খুব কমই আছে যারা উত্তমভাবে মৃত্যুবরণ করে। আমার হিংসা হচ্ছে, কারণ আমি জানি না কীভাবে আমি মারা যাবো।
আমরা আল্লাহকে একের পর এক কথা দিই। রামাদান আসে রামাদান যায়, হজ্জ আসে হজ্জ যায়, কত মানুষ মারা যায়, কত চুক্তি শেষ হয়, অথচ প্রত্যেকবার আমরা অজুহাত দেখাই আল্লাহর কাছে। তিনি আমাদের রব, যিনি প্রতিটা সময় আমাদের অপেক্ষায় থাকেন, কবে আমরা তার কাছে তাওবা করব, কবে আমরা ইয়া রব বলে ডাক দিব। আর আমরা অপেক্ষায় থাকি, সবকিছু একটু গুছিয়ে উঠেই আল্লাহকে সময় দিব, পরিবার, সন্তান, ব্যবসা সব সেটেল হয়ে গেলে ভালো হয়ে যাব। কিন্তু তার আগেই হয়তো আল্লাহর কাছে আমাদের হাজিরা দেওয়ার সময় চলে আসে।
তাই নিজেকে প্রশ্ন করুন আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন? আপনার নামাজ কেমন? কুরআনের সাথে সম্পর্ক কেমন? আপনার দ্বীন কেমন? কারণ, যে দ্বীনের উপর আপনি জীবন যাপন করবেন, সেই দ্বীনের উপরই আপনার মৃত্যু হবে।
.
বই: এপিটাফ
মূল: Mohammad Hoblos
অবলম্বনে লেখা: সাজিদ ইসলাম

তাহলে মূল সমস্যাটা কোথায়?

আসলে না জানাটাই কি আমাদের মূল সমস্যা?
.
একজন বেনামাজীকে জিজ্ঞেস করুন, “ভাই, আপনি কেন নামাজ পড়েন না?
কেউ কিন্তু বলবে না, “কেন ভাই নামাজ পড়া ফরজ নাকি? জানতাম না তো!”
.
একজন মুসলিম নারীকে জিজ্ঞেস করুন, “আপু, যে কোনো নন-মাহ্‌রামের সামনে আপনার কিছু বিধান অনুযায়ী পর্দা করা ফরজ --আল্লাহ্‌-র আইন, তাও আপনি কেন হিজাব করছেন না? কেন বেপর্দা হয়ে রং-বেরঙ্গের ছবি আপ্লোড করে এতগুলো পরপুরুষের সামনে অনায়াসে ফেসবুকে দিয়ে দিচ্ছেন?”
কোনো আপু কি বলবে, “ওমাহ্‌! হিজাব করা ফরজ আমার উপর? জানতাম না তো!”
.
অনেক ক্ষেত্রেই ইসলাম নিয়ে অজ্ঞতাটা একটা উল্লেখযোগ্য সমস্যা বটে, কিন্তু এটাই মূল সমস্যা নয়। কারণ জেনে-বুঝেই বহু মানুষ তাদের পাপের পাল্লা ভারী করছে।
.
তাহলে মূল সমস্যাটা কোথায়?
.
মূল সমস্যাটা হচ্ছে আমাদের ঈমানের ঘাটতি, বিশ্বাসের ঘাটতি। 

আল্লাহ্‌-র আইন মেনে না চললে যে, আমাদেরকে দুনিয়ার হাড়-মাংস কয়লা করে ফেলা আগুনের চেয়েও সত্তর গুণ বেশি শক্তিশালী আগুনে পুড়তে হবে- আমাদের এই বিশ্বাসের দৃঢ়তা আসলে কতটুকু? একজন যদি ১০০% নিশ্চিত থাকে যে, সে যদি আল্লাহ্‌র আইন না মানে তাহলে তাকে এমন আগুন প্লাস আল্লাহ্‌-র ক্রোধের আগুনে পুড়তে হবে, এরপরও কি কারো পক্ষে এমন কিছু করা সম্ভব?

- হ্যাঁ! ঈমানের ঘাটতি হলেই সম্ভব!
.
আর ঈমানের ঘাটতির কারণেই অনেকে আখিরাতের উপর বিশ্বাস থাকা স্বত্ত্বেও শয়তান একটু ওয়াস্‌ওয়াসা দিলেই, “আরে! যা করার করে ফেল, আল্লাহ্‌ তো অতীব দয়ালু, তোকে মাফ করে দিবেন, যত ইচ্ছা পাপ কর!”
ব্যস! আর পায় কে?
.
কোন সন্দেহ নেই, আল্লাহ্‌ তা’আলা অবশ্যই ক্ষমাশীল পরম-দয়ালু।

যে কুরআনে লিখা আছে,
“আপনি আমার বান্দাদের জানিয়ে দিন যে, নিশ্চয় আমিই একমাত্র ক্ষমাকারী দয়ালু ”। (সূরা আল হিজর: ৪৯)
সে কুরআনেই লিখা আছে যে,
“আর নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হলো যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” (সূরা আল হিজর: ৫০)
.
অতএব, আল্লাহ্‌ ক্ষমা করে দিবেন- এ চিন্তা করে যদি একের পর এক পাপ করতে থাকেন, মনে রাখবেন, আপনি আল্লাহ্‌-র সাথে ধোঁকাবাজি করছেন না, নিজেই নিজের সাথে ধোঁকাবাজি করছেন। এখন এই ধোঁকা থেকে বাঁচবার কি উপায়? আমাদের এই আখিরাত-বিমুখ, দুনিয়া-আসক্ত হৃদয়ের ঈমানের ঘাটতি পূরণের জন্যে কি করা যায়?
.
কুরআন ও হাদীসের অনেক বর্ণনা অনুযায়ী আমাদের ঈমান ঠিক রাখতে মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করতে বলা হয়েছে। আমরা মৃত্যুকে ভুলে থাকি দেখেই ভুলে যাই যে, দেহ থেকে আত্মা বের হয়ে যাবার সাথে সাথে এ দুনিয়ার সাথে সকল লেন-দেন শেষ! রবের সামনে হাজির হয়ে তখনই হবে আসল লেন-দেনের শুরু।
.
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
“তোমরা (দুনিয়ার) স্বাদ-আহলাদ নিঃশেষকারী মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করো।” (তিরমিযি)
.
পরকালের পথে যাত্রা
লেকচার সিরিজের পর্বগুলো শুনতে ডাউনলোড করুন
shorturl.at/epG18

সরি টু সে, আপনার এই হা হুতাশের কানাকড়ি মূল্য নেই।

নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েই বসে থাকলে হবে না।
 কাজ করতে হবে সামাজিক কল্যানে। আপনি কতটা ব্যথিত সেটা কাজের মাধ্যমে প্রমান করুন।

আমার আশেপাশের অনেককেই দেখি খুব আবেগী লেখা লেখে, শেয়ার করে বিভিন্ন পোষ্ট।
তারপর যেই আত্মকেন্দ্রিক রোবট ছিল সেই রোবটই থেকে যায়। সকালে উঠে শুধু নিজ, পরিবার আর উপার্জনের জন্য সারাদিন রাত কাটিয়ে ঘুমাতে যায়।

 বি শিউর দ্যাট, আমার আপনার নির্লিপ্ততা এমন ঘটনা ঘটার ক্ষেত্রে অনুঘটকের কাজ করছে।

বলি আমি আপনি এই কঠিন সমাজের জন্য কাজ না করলে সমাজ পরিবর্তন হবে কি?
 হা হুতাশ ছাড়া ঐ ঘটনার পর এই সমাজকে দেওয়ার জন্য কিছু সময়, মেধা, যোগ্যতা যদি না ব্যয় করেন তাহলে সরি টু সে, আপনার এই হা হুতাশের কানাকড়ি মূল্য নেই।


>> মুল পোস্ট এর লিঙ্ক <<

আল্লাহকে পেতে চাওয়ার তীব্র আশা আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত মানে

আসুন কীভাবে কুরআন পড়তে হয়, তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ দেখি। কীভাবে কুরআনের একটি আয়াত আবু দাহদা (রাঃ)-কে উজ্জীবিত করেছিল!
.
“কে আছো এমন, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ প্রদান করবে?” (সূরাহ বাক্বারা: আয়াত ২৪৫)

.
আল্লাহকে ঋণ! বান্দা দেবে আল্লাহকে ঋণ! আবু দাহদা (রাঃ) এই আয়াত শুনে বিস্ময়ের সাথে নবীজি (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আল্লাহ আমাদের কাছে ধার চাচ্ছেন?’
 নবীজি (ﷺ) বললেন, ‘হ্যাঁ’।
আবু দাহদা (রাঃ) বললেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনার হাতটি দিন, আমি কথা দিচ্ছি আমার খেজুর বাগানটি ধার দিব। আবু দাহদা (রাঃ) নবীজি (ﷺ)-কে ৬০০টি খেজুর গাছ সমৃদ্ধ সবচেয়ে ভালো খেজুর বাগানটি দিয়ে দিলেন।
আবু দাহদা (রাঃ)-এর অনেকগুলো বাগান ছিল, তিনি ধনী ছিলেন। তিনি তাঁর সবচেয়ে উত্তম বাগানটিতে গেলেন। কোন বাগানটিতে জানেন? যেখানে তিনি তাঁর পরিবার নিয়ে থাকতেন।

তিনি তাঁর স্ত্রীকে বললেন, ‘সবকিছু গুছিয়ে নাও, আমরা এই বাগান থেকে চলে যাচ্ছি। এই বাগান এখন আর আমাদের নয়, কারণ এই বাগানটি আমি উত্তম ঋণ হিসেবে আল্লাহকে দিয়েছি।’

 এ কথা শুনে তাঁর স্ত্রীর প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?
 তাঁর স্ত্রী কি অভিযোগ করেছিলেন?
 বলেছিলেন, কেন, কী হচ্ছে এসব! না, তিনি কোনো অভিযোগই করেননি, কোনো পাল্টা প্রশ্নও না।
তিনি চুপচাপ উঠে দাঁড়ালেন এবং তাঁর বাচ্চাদের হাত ধরলেন। তিনি বুঝলেন যে, এই বাগানটি উত্তম ঋণ হিসেবে আল্লাহকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাই এর মধ্যে যা আছে সেগুলাও আর তাঁদের নয়। কাজেই তিনি বাচ্চাদের হাতে যে খেজুরগুলো ছিল, সেগুলো নিয়ে নিলেন, এমনকি বাচ্চাদের মুখে যা ছিল তাও বের করে রেখে দিলেন। একেবারে শুন্য হাতে বাচ্চাদের নিয়ে তিনি বাগান থেকে বের হয়ে গেলেন।
.
আল্লাহকে পেতে চাওয়ার তীব্র আশা আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত মানে হচ্ছে এটাই—আল্লাহর কথাকে (কুরআনকে) বুঝতে পারা। কুরআনে যে আদেশ নিষেধ আছে, তা মেনে নেয়া এবং বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে কোনো ধরনের ইতস্তত ভাব বা বাধা সৃষ্টি না হওয়া। যখন নবীজি (ﷺ) আবু দাহদা (রাঃ)-এর প্রতিশ্রুতির কথা শুনলেন, তিনি বলেন,
.
“আবু দাহদা (রাঃ)-এর জন্য জান্নাতে এমন অনেকগুলো বাগান আছে।”
.
ধূলিমলিন উপহার: রামাদান
শাইখ আহমাদ মূসা জিবরীল

>> কালেক্টেড পোস্ট <<

কেন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়াতেও ইসলামকে শুধুমাত্র সপ্তাহে একবার জুমার সালাতে হাজিরা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়?

ধ্বংস হোক  এদেশের সব সেক্যুলার মিডিয়া গুলো।
 কফিনে শেষ পেরেক আমাদের তো সেদিনই ঠোকা হয়ে গেছে যেদিন এদেশীয় মিডিয়া কুফফারদের ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে আমাদের ব্রেন ওয়াশ করে আমাদেরকে জংঙ্গীর সংজ্ঞা মুখস্থ করিয়েছে!

আপনার সন্তান কি হঠাৎ করে নামাজ পড়া শুরু করে দিয়েছে?
দাড়ি কামানো বা ট্রিম করা দাড়িকে কি ছেড়ে দিয়েছে? হঠাৎ কি আপনার সন্তান বিপরীত লিঙ্গের বন্ধুদের ইগ্নোর করছে?

আপনার সন্তান কি গান শোনা, টিভিতে আইটেম সং দেখা বাদ দিয়েছে? মাসে দুইবার বিউটি পার্লারে যাওয়া আপনার মেয়েটি কি হঠাৎ কালো কাপড়ে ঢেকে নিয়েছে,গায়রে মাহরামদের সাথে লুকোচুরি খেলা শুরু করে দিয়েছে? আপনার সন্তান কি ইদানীং গানের বদলে কিসব(!) আলেমদের লেকচার শুনছে?

হুমায়ুন, মিলনেদের বস্তা পঁচা প্রেমের উপন্যাস বাদ দিয়ে কুরআন হাদিস আর তাফসির নিয়ে ঘাটাঘাটি করছে?
উপরের প্রশ্ন গুলোর উত্তর যদি হয় হ্যাঁ -তাহলে আপনার সর্বনাশের ষোলকলা পূর্ণ হয়ে গেছে! আপনার ছেলে- মেয়ে, ভাই-বন্ধু, বোন-বান্ধবী যেই হোক সে তো জঙ্গী হয়ে গেছে কিংবা পোটেনশিয়াল জংগী!

এই টাইপের লিখা এদেশীয় সাংবাদিক নামক জানোয়ার গুলো আমাদের পাতে তুলে দিয়েছে আর আমরা তা বাছ-বিছার না করেই গিলে খেয়েছি। চিন্তা করুন, মিডিয়া দ্বারা আমরা কতটা প্রভাবিত! মিডিয়া আমাদের মগজ কিভাবে ধোলাই করেছে!

আরে গান না শুনলে জঙ্গি? মেয়ে বন্ধু না থাকলে জঙ্গি?মসজিদে নিয়মিত হাজিরা দিলে জঙ্গী?
মুসলমানের ছেলে নিজের পাপের অনুশোচনা করে তওবা করে যে আল্লাহরর দিকে ফিরে আসবে তারো ও উপায় নেয় । তাকে জঙ্গি ট্যাগ খেতে হবে। এই জঙ্গি ফিল্টারে সব সাহাবী(রাঃ) আটকে যাবেন; তাঁদের কোণ মেয়ে বন্ধু ছিলনা,তাঁরা মুভি সিরিয়ালও দেখতেন না।'

লা হাওলা ওয়ালা.....
ইসলামের অনুশাসন মেনে চলা তরুণ-তরুনীদেরকে জন্য যেনো দিন দিন দুনিয়াটা সংকুচিত হয়ে আসছে! কিছুদিন আগে ফে'বুকে দেখলাম মুখে শুধুমাত্র দাড়ি দেখে পুলিশ শিবির বলে গ্রেফতার করে তুলে নিয়ে গেছে! চিন্তা করা যায় একটা মুসলিম সমাজ ব্যবস্থা কতটা কলুষিত হলে, শুধু মাত্র দাড়ি রাখার অপরাধে গ্রেফতার হতে হয়, রোষানলের স্বীকার হতে হয়! কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠো আবদ্ধ হতে হয়।

বাংলাদেশে দাড়ি রাখা নিষিদ্ধ? এটা কি ইসলামের বিধান নয়?আল্লাহর রাসুলের কি দাড়ি ছিল না? তিনি কি আমাদের দাড়িকে ছেড়ে দিতে আদেশ করে যান নাই? এদেশে কেন দাড়ি রাখা ছেলেটির দিকে আড়চোখে দেখা হয়?কেন দাঁড়ি রাখলে জঙ্গী,শিবির ট্যাগ খেতে হয়?

কেন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়াতেও ইসলামকে শুধুমাত্র সপ্তাহে একবার জুমার সালাতে হাজিরা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়?

আল্লাহ আযযা ওয়া যাল দ্বীনকে শেষ সম্বল হিসেবে আকঁড়ে ধরে বেঁচে থাকতে চাওয়া যুবক যুবতীদের জন্য সহজ করে দিন। আমাদেরকে সেই সব পূর্বসূরিদের সাথে একত্রিত করুন যারা এক মূহুর্তের জন্য ও দ্বীন থেকে সরে যায়নি, তাগুতের সাথে আপোষ করেন নি। তাগুতের রক্তচক্ষু,চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে যারা অবিরাম কাঁটাযুক্ত এই ফিত্মাময় পথে হেঁটে গিয়েছে........
 CP from Dawah

আমি একজন মুসলিম। কেবল নামে এবং উত্তরাধিকার সুত্রে :(

আমার এক বন্ধু সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র সেদিন বলছিল তাদের প্রতিটি প্রশ্নেই কিছু লাইন পর  পরই “we live in the society” লাইনটি থাকে। স্কুলে সমাজবিজ্ঞান বইতে আমরা সবাই পড়েছি “মানুষ সামাজিক জিব”। সমাজবিজ্ঞানের এই থিওরির সাথে ইসলামের কোন সংঘর্ষ নেই।
 সমাজবিজ্ঞানের “আদিম মানুষ বেঁচে থাকার তাগিদে” আর ইসলামের "আল্লাহর ইচ্ছায়” মানুষ সমাজবদ্ধ হয়েছে। সমাজবদ্ধ হয়ে সামাজিক জীব হিসেবে বেঁচে থাকার তাগিদে সৃষ্টি হয়েছে রীতি, নীতি, সংস্কৃতি, চিন্তাধারা। সৃষ্টি হয়েছে সমাজের সিস্টেম। যুগ যুগ ধরে মানুষের প্রয়োজনে সৃষ্ট এই সিস্টেমই মানুষকে শাসন করেছে,মানুষকে নিয়িন্ত্রন করেছে।
একজন মুসলিম  হিসেবে আমি  জানি আর  বিশ্বাস করি সমাজ তখনই সঠিক পথে থাকে এবং থাকবে যেখানে আল্লহর প্রদত্ত সিস্টেম মানুষকে পরিচালিত করবে।
এবং ইতিহাস থেকে আমরা তার প্রমাণও পাই।কালের বিবর্তনে, বড় মগজের মানুষের মনুষ্যত্বের পদস্খলনে ইসলামের সেই সোনালি অতীত থেকে আমরা শত শত বছর পরের বর্তমানে। ১৪০০ বছর আগে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিষ্ঠিত ন্যায়, সত্য আর  মানবতার একমাত্র সমাধান সমাজ আর সিস্টেম থেকে অনেক দূরের আজকের এক যুবক এই সময়ের মনুষ্যত্বহীন নষ্ট এক সমাজের কথা লিখছি!

আমি একজন মুসলিম। নামে এবং উত্তরাধিকার সুত্রে। জীবনের অনেক বড় একটা অংশ পার করে এসে আমাকে বুঝতে হয়েছে ইসলাম আসলে কি জিনিশ। তাও একেবারে  initial stage থেকে।কারন কালের  বিবর্তনে আমাদের এই সমাজে ছেলে মেয়েদের ইসলাম শেখানোর বদলে রকমারি কুফরি আর দুনিয়াবি জ্ঞানে জ্ঞানী করা হয়েছে।“আল্লাহর জন্য আমাদের সবকিছু” এর বদলে শিখানো হয়েছে “দুনিয়ায় এই এই করতে হবে” “অমুক তমুক হতে হবে” “সবাই মিলে হ্যাপি ফ্যামেলি হয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে হবে”। কে শিখিয়েছে?? সমাজ শিখিয়েছে, সিস্টেম শিখিয়েছে!

ছোট বেলা থেকে তিন গোয়েন্দা, হুমায়ূন, জাফর ইকবাল দিয়ে মাথা ভরিয়েছি ইসলাম শেখার সুযোগ কই?? আজকে আমরা অর্থনীতি পড়ছি! ইসলামের নয়,অ্যাডাম স্মিথ এর! আজকে আমরা সাহিত্য পড়ছি! ইসলামের নয়, রবীন্দ্রনাথের! রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয় রবীন্দ্রনাথ আজ আমাদের গুরু! সকল আদর্শের  উৎস!আমরা সমাজের সিস্টেমের কথা জানছি! ইসলামের নয়, কার্ল মার্ক্সের! আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন এই সত্যকে পাশ কাটিয়ে ছোট বেলা থেকেই কচি মগজ ভারি করা হয়েছে ডারউইনবাদের গাঁজাখুরি তত্ত্ব দিয়ে! আমরা এগুলোই  শিখেছি, আমাদের ছোট  ছোট  বাচ্চাদের এখনো এগুলোই  শেখানো হচ্ছে!কে শেখাচ্ছে?? সমাজ শেখাচ্ছে, সিস্টেম শেখাচ্ছে! ইসলাম  বিবর্জিত হতে  হতে  আমাদের সিস্টেম এখন আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ, অসাম্প্রদায়িক তত্বে এনে ঠেকিয়েছে! আমরা আশরাফুল মাখলুখাত কেউ অসহায়, কেউ রামছাগল, কেউ হেকমতি বড়ির জোরে আর কেউ এই সিস্টেম এর অধিপতি হয়ে এই সিস্টেমেরই পূজা করছি! আমাদের মেনে নিতে বাধ্য করা হচ্ছে!  আমাদের চেতন আর অবচেতন মনে মেনে নেওয়ার মানসিকতা অনেক আগের!

আমাদের সমাজের, এই  সিস্টেমের চেইন  কি?? মূল্যবোধ, নৈতিকতা, সত্যের জীবনবোধ! ভয়ঙ্কর দিকটা হল আমাদের সমাজ এসবের অবনতির extreme stage  এ  অবস্থান করছে! সমাজের আজ কোন চেইন নেই!রস্তার বিশাল বিশাল বিলবোর্ডে শরীর প্রদর্শনীর প্রতিযোগিতায় কাপড় ছোট হতে হতে এখন গাছের পাতা দিয়ে শরীর ঢাকার আদিম রীতির অনুসরনের সিস্টেম শুরু হয়েছে! এর পরের সংস্করণে কি আসবে আল্লাহ ভাল জানেন!এক ভাইয়ের লেখায় পড়েছিলাম তিনি বউ বাচ্চা নিয়ে রেস্টুরেন্ট এ খেতে গিয়ে দেখেন স্কুল ড্রেস পরা ছেলেমেয়েরা প্রকাশ্যে চুমু খাচ্ছে! তিনি জেনে হয়তো খুবই ব্যতীত হবেন সেই গ্রুপ চুমু এখন গ্রুপ সেক্স পর্যায়কেও ছাপিয়ে গেছে!

ভালোবাসার মত অতি পবিত্র বিষয়টাকে পুঁজি করে সমাজের চালিকাশক্তি এই তরুন তরুনিগুলোকেই  সবার আগে মূল্যবোধ আর নৈতিকতা বিবর্জিত করা হয়েছে! অনেক আগে আমরা দেখতাম রিকশায় কোন আপু আর ভাইয়া থাকলে আপুরা মুখে কাপড় দিয়ে রাখত কেউ দেখে ফেলার ভয়ে!সমাজ আমাদের আপু ভাইয়াদের এখন অনেক সাহসী করে তুলেছে!মুখ ঢাকার সতর্কতা এখন পথচারীর চোখ নামিয়ে নেওয়া বা বিনোদনের খোরাকে এসে ঠেকেছে! একসময় বাইকের পেছনে কোন আপু থাকলে কেমন আড়ষ্ট হয়ে থাকতো! এখন সিস্টেম পাল্টেছে ! সময়ের কাঁটা ঘোরার সাথে সাথে আপুদের কোমরও ঘোরেছে!! আপুরা এখন বাইকে ছেলেদের কায়দায় বসে! একটু আঁধার নামলে ঝোপে ঝাড়ে আড়ালে যে জায়গাগুলোতে হয়তো লাখ টাকা দিয়েও একা একা বসানো যেত না একজন সঙ্গি আর একটু গা গরমের ফ্যান্টাসির লোভে সেই জায়গাগুলোই মুখরিত হয়ে উঠে! সিস্টেম যেন পথে পথে উন্মুক্ত পতিতালয় সৃষ্টি করছে!এই কপোত কপোতীরা কাউকে কেয়ার করছে না, কাউকেই না!কাউকে কেয়ার না করা  নৈতিকটা বিবর্জিত এক প্রজন্ম আমাদের চোখের সামনেই গড়ে উঠছে! যারা এদের কেয়ার করার কথা তারাও এদের কেয়ার করছে না!তারা যে এই  ভয়ঙ্কর  corrupted সিস্টেমেরই অধিপতি!

ইসলাম বিবর্জিত সমাজের মানুষেরাও ইসলাম বিবর্জিত হবে এটাই স্বাভাবিক! রাসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইসলাম ছেড়ে আজ আমরা ভিন্ন এক ইসলাম বা মোডারেট ইসলামের ভিত্তি রচনা করেছি!আর তাই আজ ইসলাম শিখা  শুরু করে ভ্যাবাচ্যাকা  খেতে হয় কার ইসলাম সঠিক আর কারটা ভুল!! কার কাছে ইসলাম শিখবো? এই সিস্টেমে একজন নামাজ পড়বে সাথে টুপি রেখে ‘জীবনমুখী বাস্তবতার গান’ কিংবা ‘সামাজিক ছবি’ দেখতে বসবে! না হলে যে লোকে ক্ষ্যাত বলবে!লোকের কাছে cool হতে হবে! কে বলেছে?? সমাজ বলেছে, সিস্টেম বলেছে!

আমাদের সমাজ, আ্মাদের সিস্টেম সব ন্যায় অন্যায়, ভাল মন্দের ব্যাকরণ পাল্টে দিয়েছে!এই সমাযে সব দোষ পরিমলদের! হ্যাঁ  পরিমল তার দিক থেকে ১০০% অপরাধী, এতে কোন আপত্তি নেই! কিন্তু হে সমাজ! কেন তুই মেয়েটাকে নিষ্পাপ বানিয়ে রাখবি? কেন তুই তাকে বাস্তবতার discipline শেখাবি না? কেন তুই তাকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিবিনা যে সে বড় হয়েছে তার এখন হিজাব পরা উচিত! আজকের চতুর্দশী সব বোঝে, প্রেম বোঝে, boyfriend বোঝে, রিকশাতে মাখামাখি বোঝে আর কমবয়সী এক স্যারের বাসায় একা পড়তে বলার পেছনের ইঙ্গিতটা কেন বোঝবেনা? আর জগন্য সিস্টেমের পলিটিক্সটা হল এখানে পরিমলকে অপরাধী কিংবা মেয়েটাকে নিষ্পাপ বানানোয় ন্যায় অন্যায়ের কোন তোয়াক্কা নেই! আছে সিস্টেমের গ্রহণযোগ্যতা! কালকে আরেকটা একই ঘটনায় যদি পরিমলকে নিষ্পাপ আর মেয়েটাকে অপরাধী বানানো সিস্টেমে গ্রহণযোগ্য হয় তাহলে নোংরা সিস্টেম তাই করবে! এটাই  সিস্টেম! এই সিস্টেম হঠাৎ আকাশ থেকে নেমে আসেনি! আমরাই এই সিস্টেম তৈরি করেছি! আমরা কেউ এর দায় এড়াতে পারিনা!

আমাদের সিস্টেমটা প্রভাদের!এখানে প্রভাদের সুন্দর বিয়ে হয়! আমাদের প্রভারা স্বামীর হাত ধরে  ইউরোপে মধুচন্দ্রিমায় যায়! আর আমার মুমিন ভাইগুলা একটা বিয়া করার জন্য আহাজারি করে গভীর রাতে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়! জগন্য একটা অতীত নিয়েও প্রভারা  দিব্যি  ঘুরে বেড়ায়! "আমি ফিরতে চাই"  পত্রিকার শিরোনামের পর ছাগলের বাচ্চা পয়দা হওয়ার মত নাটক  পয়দা করে আর ফেসবুকে সীসা  টানার এবং তার তিন পুরুষের বর্তমান পুরুষ বলদ স্বামীটার সাথে চুম্মাচুম্মির ছবি আপলোড করে! আর আদ্ভুত সিস্টেমের  চিরায়ত আবাল বাঙালি মুসলিম  "ওমা! প্রভা এতদিন পর??" চিৎকার দিয়ে  হা করে তার নাটক দেখতে বসে! আবার এই প্রভাদের  নিয়েই  জৈনক আকাইম্মা সুশীলকে বলতে দেখা যায় "একটা ছেলে আর একটা মেয়ে শারীরিক সম্পর্ক করবে এটা সমস্যা নয়, সমস্যা হয় যখন  বিশ্বাসটা ভাঙ্গে!" জেনা, ব্যবিচার এই  বিশয়গুলো খারাপ এটা শুধু বইয়ের পাতায় বাস্তবে দিন দিন আমাদের সিস্টেমে এগুলু স্বীকৃতি পেতে শুরু করেছে! সিস্টেম প্রভাদের সব অপরাধ ক্ষমা করে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে  শেখায়! আজকে পাড়ার হিজাবি মেয়েতা একটু  রাত  করে  বাসায়  ফিরলে "খাইছেরে! মাইয়াটারে তো ভালা মনে করছিলাম! এই তাইলে অবস্থা! ভিডিও লাগে না আবেগের ভুলে পা দিয়ে ভণ্ড কোন খাটাশের মোবাইল থেকে একটা ছবি বেরোলেই হিজাবি মেয়েটাকে নষ্টা মেয়ের ট্যাগ নিয়ে ফাঁস দিতে  হয়! সাদা কাগজে কালির একটা  ফোঁটাও স্পষ্ট দেখা যায়  কিন্তু যে কাগজ কুচকুচে কালো সেখানে কালি লাগলেই কি না লাগলেই কি!!

নৈতিকতা, মানবতা আর মনুষ্যত্ব বিবর্জিত এই সিস্টেমে ন্যায় অন্যায় কোন ফ্যাক্টর নয়! এখানে সব ন্যায় ক্ষমতাসীনদের আর সব  অন্যায় বিরোধীদের! এই বিষয়ে অন্য কোনদিন বলব!

যুগ যুগ ধরে আমাদের সিস্টেমের মুসলিমদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে মাথায় ঢুকানো হয়েছে ইউরোপ অ্যামেরিকা! সারাদিন ইসলামের কথা বলে মুসলিম যুবকদের তাই দেখা যায় আমেরিকার গ্রীন কার্ডের স্বপ্নে বিভোর! এ যেন স্বর্গের দরোজা!

ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে না পারলে জীবনটাই বৃথা! কয়েক হালি প্রেম করতে না পারলে কিসের স্মার্টনেস! বিয়ার পরও শান্তি নাই! হিন্দি সিরিয়াল থেকে প্রাপ্ত দিনে দুই বেলা ট্রেনিং নিয়ে পরকিয়ার প্র্যাকটিস সিস্টেমের পাবলিক ভালই  শিখেছে! গ্রামীণ ফোনের ২৫ পয়সা  মিনিটের বিজ্ঞাপন আর অফার তো আছেই সাহস যোগাতে! এই নৈতিকত কতোটা চরম অবনতির  মুখে তার সিম্পল  প্রেজেন্টেশন যেন প্রথম আলোর নকশায় আরেক আকাইম্মা সুশীলের সুবন্ধুসমিপেশু! যেখানে সুশীলের কাছে পরকীয়া, ব্যবিচার, নষ্টামিতে সফল ব্যর্থরা তাদের সফলতা ব্যর্থতার গল্প শোনায়! আমাদের আকাইম্মা সুশীল সফলদের বাহবা আর ব্যর্থদের সাহস দিয়ে বুঝিয়ে দিতে চায় "সমাজে এইসব নোংরামির বৈধতা চাই"। কে জানে দুইদিন পর এ সুশীলদের কারো মুখে হয়তো সমকামীর বৈধতার আর্তি আসবে! এতোমধ্যেই ঘেঁটুপুত্রের কল্যাণে সিস্টেম যারা জানতো না তারাও জেনে গেছে সমকামিতা কি জিনিস!  নতুন প্রজন্ম নাকি প্রচুর গিলেছে এই ছবি! এখন এই সমাজে দুইটা ছেলে একটু অন্তরঙ্গ হলেই হয়তো সন্দেহ জাগবে! হায় সিস্টেম কোথায় এনে দাড় করালি আমাদের?? আল্লাহ আমাদের তরুণ প্রজম্নকে এই অমানুষিকতা থেকে রক্ষা কর... আমীন!

অনেক বকবক করলাম! আমার মনে হচ্ছে আমি আসল কিছুই লিখিনি! কয়েকটা পৃষ্ঠায় এই সিস্টেমের কথা বলা যায়না! আমি বলতেও চাইনি! আমি শুধু কয়েকটা প্রসঙ্গ এনে বোঝাতে চেয়েছি সিস্টেমটা ভরংকর রকম  corrupted হচ্ছে! তাহলে এর সমাধান কি? সমাধান একটাই! সিস্টেমটা পাল্টাতে হবে! তবে তা প্রগতি, আধুনিকতার নষ্টামি, ধর্মীয় নিরপেক্ষতার  আলোকে কোলকাতার ছবি "চলো পাল্টাই" কায়দায় নয়! আমি সেই সিস্টেমের কথাই বলছি যেখানে মূল্যবোধ, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা আর ন্যায়  অন্যায়ের  ফারাক থাকবে! সত্য আর  মিথ্যার  স্পষ্ট মূল্যায়ন থাকবে! সেটা ইসলাম... ইসলাম... আল্লাহর শপথ সেটা ইসলামের সিস্টেম খিলাফা!ইসলামের সেই গৌরবোজ্জ্বল সময়টা ফিরিয়ে  আনতে হবে!

বেঁচে থাকার তাগিদে আমাদের সৃষ্ট সিস্টেম  আমাদেরই ধ্বংস করার আগে! কিন্তু তার আগে খিলাফার কিছু গরম গরম বক্তব্য ছেড়ে  কিংবা সদ্য পার্লার থেকে হাজার হাজার টাকার মেকাপ মেখে আসা নেত্রীকে সামনে চেয়ারে বসিয়ে নারায়ে তাকবীর রব তোলে যে এই সিস্টেম পাল্টানোর নয় সেই পলিটিক্সটা আমার মুসলিম ভাইদের বুঝতে হবে! আমেরিকা  কিংবা পাশ্চাত্য শক্তি আমাদের মতো দেশগুলোতে কুফরির শিকড় গেঁড়ে অক্টোপাসের মতো জড়িয়ে আছে তা এই সোনার বাংলার মানুষের প্রায় পুরো অংশেরই ধারনার বাইরে! আর তাই হিলারি যখন " বাংলাদেশ আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ " জাতীয় কথার  মধু ঢালে তখন সবকিছু দেখে  লাফ মারা আবাল বাঙ্গালী  মুসলিম  অন্তরে ঢুকিয়ে দেওয়া কাফেরদেরই জাতিয়তাবাদের অহমে কপালে আশ্চর্যবোধক চিন্তার ভাঁজ ফেলে বুলি ছাড়ে " দেখেছিস! আমেরিকা আমাদের ক্যামনে দাম দেয়??"


এই সিস্টেম পাল্টানোর জন্য জাতয়তাবাদের টুকরো টুকরো সীমানা ডিঙিয়ে এক মুসলিম উম্মাহ হয়ে একযোগে  আমাদের কাজ করতে হবে! সারাদিন খিলাফা খিলাফা বলে লাফিয়ে শুধু খিলাফার দাওয়া নয় সমাজে আগে তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মানুষের কাছে আল্লাহর একত্ববাদের ইসলাম পৌঁছাতে হবে। রাসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়ায (রাঃ) কে ইয়েমেনে  পাঠানোর সময়  অসিয়ত করেছিলেন এবং দাওয়াতের পদ্ধতি শিক্ষা দিয়ে বলেছিলেন

" সর্বপ্রথম তুমি তাদেরকে দাওয়াত দিবে  তারা যেন তাওহীদকে স্বীকার করে নেয়।" (সহিহ মুসলিম ৩১(১৯) তাওহীদ প্রেস এন্ড পাবলিকেশন্স,সহিহ বুখারিঃ ৭৩৭২) ।

গনতন্ত্রের পূজা করে কাটা দিয়ে কাটা তোলার মোটা মাথার হেকমত নয় চাই রাসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহর অনুসরণ।
 আমরা সিস্টেম পাল্টাতে চাই, কোন দলের ক্ষমতা নয়।
আমরা ইসলাম চাই, ন্যায় চাই, এক আল্লাহর শাসন চাই। মুক্তি চাই এই ভয়ঙ্কর corrupted  সিস্টেম থেকে! আল্লাহ আমাদের সাহায্য করুন... আমীন!

Article link  HERE

মুসলিম ভাইবোনদের বিষয়ে উত্তম ধারণা রাখা

মাগরিবের জাম'আতে ফরজ ৩ রাক'আত নামায শেষ করে বের হয়ে যাওয়া ভাইটির দিকে তাকিয়ে আপনি ভাবলেন
– "২ রাকআত সুন্নাত না পড়েই চলে গেলো এই ভাই?
সুন্নাতের বিষয়ে মানুষ বড়ই উদাসীন আজকাল।"
.
অথচ আপনি জানেন না – ভাইটি "মুসাফির"!

.
.
ইশার জাম'আতে ফরজ ৪ রাক'আত নামায শেষ করে বের হয়ে যাওয়া আরেক ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে আপনি ভাবলেন – 

"সুন্নাত আর বিতর না পড়েই চলে গেলো এই ভাই?
 এই উম্মাহ কিভাবে উন্নতি করবে?"
.
অথচ আপনি জানেন না – সেই ভাই সুন্নাত নামায বাসায় পড়েন। আর বিতর পড়েন শেষ রাতে, তাহাজ্জুদের পর। আর নিশ্চয়ই সেটি উত্তম।
______
.
মুসলিম ভাইবোনদের বিষয়ে উত্তম ধারণা রাখার চেষ্টা করবো আমরা ইন-শা-আল্লাহ।


এক মুসলিম ভাই এর লেখা হতে নেয়া

যদি আপনি নিজেকে মুসলিম হিসেবে দাবী করেন, তাহলে সবার আগে নিজে সঠিক ইসলামকে জানুন।

ভুমিকা ঃ দ্বীনি বাবা-মা তথা দ্বীনি পরিবার আল্লাহ তায়ালার অন্যতম বিশেষ নেয়ামত গুলোর একটি।পরিবার ইসলাম সচেতন না অথচ আল্লাহর রহমতে কোন সন্তান যদি দ্বীনের পথে চলে আসে তবে সেই সন্তান হারে হারে টের পায় এই ঘাটতির ফল।
ছোটবেলায় আমি যখন অমুসলিম ছিলাম, প্রথম প্রথম মুসলিমদের সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা ছিল না। তাদের সম্পর্কে জানা প্রথম তথ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল যে তারা শুকরের মাংস খায় না। এটা খাওয়া নাকি “হারাম”। হারাম শব্দটাও এই শুকর দিয়েই শেখা।
তখন আমি খুব ছোট। বাসার কাজে সাহায্যকারী মেয়েটি ছিল আমাদের দুই বোনের খেলার সাথী। ওর কাছেই প্রথম শুনেছিলাম হিন্দুরা যেমন গরু খায় না, মুসলিমরা শুকরের মাংস খায় না। পরবর্তীতে স্কুলের মুসলিম সহপাঠী থেকে শুরু করে চেনাজানা অন্যান্য মুসলিমদের কাছে জেনেছিলাম যে শুকর নামের প্রানীটা এতটাই “হারাম”, যে এর নাম পর্যন্ত মুখে নেয়া যায় না! অথবা এর নাম শুনলে বা ছবি দেখলেও নাকি ঘেন্না লাগে। এমন কি, আমাদের অমুসলিম কারো বাসায় এই জিনিস রান্না করলে তার একটা কোড নেইম ব্যবহার হতো।
বড় হয়ে যখন আল্লাহ আমাকে মুসলিম বানিয়ে দিলেন, জানলাম হারাম শুধু শুকরের মাংস না - হারাম হচ্ছে মদ খাওয়া, জুয়া খেলা, সুদ-ঘুষের আদান-প্রদান, গান-বাজনা, অমুসলিমদের উৎসবে যোগদান, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, বেপর্দা থাকা, ফরয ইবাদাত না করা ইত্যাদি ইত্যাদি...।
অদ্ভুত লেগেছিল ব্যাপারটা!
চারপাশের মুসলিমরা সব নিষিদ্ধ কাজই দেদারসে করে বেড়াচ্ছে, অথচ শুকরের মাংস খাওয়ার ব্যাপারে তারা মহা কট্টর। হাজারটা হারামে ডুবে থাকা ব্যক্তি যত যাই করুক, শুকর ছোঁবে না কিছুতেই।
কেন এমন হলো?
শিশুবেলায় পরিবার আর চারপাশের পরিবেশ আমাদের একমাত্র শিক্ষাক্ষেত্র। এখানে আমরা তাই শিখি যা আমরা দেখতে দেখতে, শুনতে শুনতে বড় হই। আমরা কী ধরনের মুসলিম হব তা নির্ভর করে পরিবার থেকে প্রাপ্ত শিক্ষার উপর। শুকরের ব্যাপারটাও তাই। আমাদের ইসলামের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো শেখানো হোক আর না হোক - এই ব্যাপারটা বেশ গুরুত্বের সাথে শেখানো হয়। আর তাই আমরা গুরুত্বের সাথেই তা মেনে চলি।
কেমন করে?
বাচ্চাদের ছোট থেকেই জানানো হয় যে এই বিশেষ প্রানীর মাংস হিন্দু-খ্রিস্টানরা খায়, আমরা খাই না। মদ, ঘুষ, সুদ ইত্যাদি হারাম বিষয় বড়রা নিজেরাই করে বেড়াচ্ছে, কাজেই এসব নিষেধাজ্ঞা শেখানোর প্রয়োজন বোধ করে না। তাই হারাম বলতে ওরা শুধু ওই একটা জিনিসই বোঝে।
এটা ঠিক যে শুকর আল্লাহ হারাম করেছেন। সেই সাথে অন্য অনেক কিছু হারাম করেছেন যেগুলো আমাদের জানানো হয় না বা জেনেও মানতে চাই না। আমাদের কাছে ইসলাম বলতে শুকর না খাওয়া, দলীলবিহীন কিছু প্রথা মানা আর কিছু অহেতুক আবেগ প্রকাশের মাঝে সীমাবদ্ধ।
আমাদের অধিকাংশ মুসলিম পরিবারে ইসলামের মৌলিক বিধিনিষেধগুলো মানি আর না মানি, কিছু কিছু বিষয়ে আমরা কিন্তু সেইরকম প্র‍্যাক্টিসিং! আমাদের মেয়েরা সারাজীবন খোলামেলা থেকেও শুধু আযানের সময় বা ইফতারের সময় মাথা ঢাকতে ভুলে না। আমাদের কুরআনের মুসহাফটা কাপড়ে জড়িয়ে উঁচু স্থানে তুলে রাখা হয়, ধুলিমলিন কিতাবটা শুধু রমাদানেই “খতম” দেয়ার উদ্দেশ্যে হাতে নেয়া হয়। আমরা নিয়মিত সলাত আদায় করলেও সলাতে কী বলছি না বলছি কিছুই বুঝি না। উচ্চারণেও থাকে শত ভুল। আমরা এখন পর্দা করা বলতে বুঝি মাথায় বাধাকপির ন্যায় পট্টি বেঁধে মুখে রং মেখে সং সাজা। সোশাল মিডিয়ায় আমরা অদ্ভুত অদ্ভুত “ইসলামিক” তথ্য শেয়ার দিতে থাকি, কোথাও আমীন না বলে যাই না।
মানবশিশুর মস্তিষ্কে শিশুকালেই যে তথ্যগুলো দৃঢ়ভাবে গেঁথে দেয়া হয়, সাধারণত সারাজীবন তা মেনে চলে সে। মনপ্রাণ দিয়ে বিশ্বাস করতে থাকে তা।
একটা মেয়ে যখন এটা দেখতে দেখতে বড় হয় যে টিভিতে মহা আগ্রহে সবাই অভিনেত্রী, গায়িকা আর মডেলদের দেখছে; তাদের রূপের প্রশংসা করছে; তাদের জীবন নিয়ে আলোচনা করছে - স্বাভাবিকভাবেই সে ওই দিকে আকৃষ্ট হয়। নিজেকে ওই অবস্থানে কল্পনা করে। ওই সস্তা মেয়েগুলোকে তখন ওর সবচাইতে দামী বলে মনে হতে থাকে। মাথা, ঘাড়, ঠোঁট বেঁকিয়ে অপ্রকৃতস্থের মতো পোজ দিয়ে সেল্ফি তুলে আপলোড করে সে। কিছু সস্তা লাইকে আবেগে আপ্লুত হয়। ইসলাম থেকে সরে যায় যোজন যোজন দূরে।
একটা ছেলে তার ক্লিন শেইভড বাবা, ধূমপায়ী চাচা, সুদি ব্যাংকে চাকুরীরত মামা অথবা প্রেমিক বড় ভাইকে দেখে কখনোই শিখবে না ইসলামে এসবের বিধান কী।
আপনি আল্লাহকে বিশ্বাস করেন, নিয়মিত কুরআন পড়েন, হজ্জটাও সেড়ে ফেলেছেন। অথচ বাসায় হুজুর রেখে ভেবে নিয়েছেন সন্তানদের ইসলাম শেখানোর দায়িত্ব পালন করে ফেলেছেন।
আসলে তা নয় বোন। ইসলাম মানে শুধু সলাত সিয়াম নয়। ইসলাম মানে আল্লাহ প্রদত্ত প্রত্যেকটা বিধিনিষেধ মেনে চলা, শিশুকাল থেকেই তাদের মনে সঠিক ইসলামকে গেঁথে দেয়া। তাকে তার রবের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আপনার। এই দায়িত্বে অবহেলা করলে প্রতিফল একদিন আপনাকেই পেতে হবে।
ভাই, আপনি যদি এখনই মেয়েকে পর্দা করতে না শেখান, ভবিষ্যতে “দায়্যুস” হিসেবে গণ্য হবেন। দায়্যুসের জন্য জান্নাত হারাম। শুধু আদেশ না দিয়ে সুন্দর করে বুঝিয়ে বলুন। রবকে ভালোবাসতে শেখান, তাহলে রবের দেয়া বিধান আপনাতেই মেনে নেবে সে।
যদি আপনি নিজেকে মুসলিম হিসেবে দাবী করেন, তাহলে সবার আগে নিজে সঠিক ইসলামকে জানুন। কুরআনের অর্থের অনুবাদ পড়ুন। আজকাল ইসলাম শেখার জন্য রিসোর্সের অভাব নেই। আপনি শিখুন, নিজের জীবনে মেনে চলুন। সন্তানের জন্য নিজেকে রোল মডেল হিসেবে তৈরি করুন। ইনশাআল্লাহ্‌ তারা শুধু শুকর হারাম ছাড়াও আরো অনেক কিছুই শিখে ফেলবে।

যে আসমানে সম্মানিত হয়, আল্লাহ নিজেই তাকে জমিনে সম্মানিত করে দেন।

ফেসবুক কেন্দ্রিক আমাদের জীবনগুলোতে যারা টুকটাক লেখে তাদের চারপাশে একটা সমর্থক গোষ্ঠী তৈরী হয়ে যায়।
 তাদের চোখেমুখে থাকে মুগ্ধতা। হাঁটতে বসতে, চলতে ফিরতে সবকিছুইতেই তারা সেই ব্যক্তিকে ফেসবুক স্ট্যাটাস মনে করে। 
আদতে এই গুণ্মুগ্ধ শ্রেণীই সেই ব্যক্তির সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা করে। তারা তার ইখলাস মেরে ফেলে, আল্লাহর সাথে তার সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়, তাদের কাজের বরকত কমিয়ে দেয়। শুধু একটা ভয়ানক বিষ তারা ব্যবহার করে আর সেটা হলো_ প্রশংসা। 
সেটা যে মুখের কথায় হতে হবে এমন না, তাদের চোখে মুখে মুগ্ধতার ছোঁয়া,  অমুক তমুককে সেই ব্যক্তির অপরিসীম প্রতিভার ফিরিস্তি এই সবকিছুই আলোচ্য ব্যক্তিকে একটু একটু করে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়।

 আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহঃ) যদি কোন এলাকায় খুব বেশী পরিচিতি পেয়ে যেতেন তিনি সেই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতেন। আমরা ওয়াইস আল করণীর কথা জানি। স্বয়ং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যার কথা সাহাবীদের বলে গিয়েছিলেন। অথচ তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে থাকতেন।
.
ভাইদের প্রতি আমার নসীহত হলো, আপনার গুণমুগ্ধ সমর্থক গোষ্ঠীর সোহবত এড়িয়ে চলবেন। আল্লাহর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করবেন।
 যে আসমানে সম্মানিত হয়, আল্লাহ নিজেই তাকে জমিনে সম্মানিত করে দেন।
 আল্লাহ আমাদেরকে সমস্ত ফিতনাহ থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

আর নয় এপ্রিল ফুল; সময় এসেছে সচেতন হওয়ার

ইউরোপে মুসলমানরা প্রবেশ করেছিলেন স্পেনের দরজা দিয়ে। ঐতিহাসিক রবার্ট ব্রিফল্ট দি ম্যাকিং অব হিউম্যানিটি গ্রন্থে মুসলমানদের এ প্রবেশকে অন্ধকার কক্ষের দরজা দিয়ে সূর্যের আলোর প্রবেশ বলে অভিহিত করেছেন। কেন এই তুলনা? রবার্ট ব্রিফল্টের জবাব হলো—‘যেহেতু স্পেনে মুসলমানদের আগমনের ফলে শুধু স্পেন নয়, বরং গোটা ইউরোপ মুক্তির পথ পেয়েছিল এজ অব ডার্কনেস তথা হাজার বছরের অন্ধকার থেকে। এজ অব ডার্কনেস সম্পর্কে রবার্ট ব্রিফল্টের মন্তব্য হলো—‘সেই সময় জীবন্ত অবস্থায় মানুষ অমানুষিকতার অধীন ছিল, মৃত্যুর পর অনন্ত নরকবাসের জন্য নির্ধারিত ছিল।’

স্পেন জয়ের ঘটনাটি ঘটে ৭১১ খ্রিস্টাব্দে। মুসলিম সেনাপতি তারেক বিন জিয়াদ ভূমধ্যসাগরের উত্তাল তরঙ্গমালা পাড়ি দিয়ে ১২ হাজার সৈন্য নিয়ে রাজা রডরিকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন। রাজা রডারকের শাসনামল ছিল স্পেনের জন্যে এক দুঃস্বপ্নের কাল। জনগণ ছিল রডারিক ও গথ সম্প্রদায়ের উত্পীড়নের অসহায় শিকার। মরণের আগে স্বাধীনতা ভোগের কোনো আশা তাদের ছিল না। তারেকের অভিযানের ফলে মুক্তির পথ বেরুবে, এই ছিল সাধারণ মানুষের ভাবনা। তারা তারেক বিন জিয়াদকে আশীর্বাদ হিসেবে গ্রহণ করল ৩০ এপ্রিল, ৭১১ খ্রিস্টাব্দ, বৃহস্পতিবার।
 রডারক পলায়নের সময় নিমজ্জিত হয়ে মারা যায় গুয়াডেল কুইভারের পানিতে। এরপর জনগণের সহযোগিতায় মুসলমানরা একে একে অধিকার করলেন মালাগা, গ্রানাডা, কর্ডোভা। অল্পদিনেই অধিকৃত হলো থিয়োডমির শাসিত সমগ্র আলজিরিয়াস। এদিকে আরেক সেনাপতি মুসা বিন নুসাইর পূর্বদিকের সমুদ্র পথ ধরে ৭১২ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে আবিষ্কার করেন সেভিল ও মেরিজ। তিনিও স্পেনের বিভিন্ন শহর অধিকার করে টলেডোতে গিয়ে মিলিত হলেন তারিকের সঙ্গে। তারপর তারা এগিয়ে যান আরাগনের দিকে। জয় করেন সারাগোসা, টারাগোনা, বার্সিলোনা এবং পিরেনিজ পর্বতমালা পর্যন্ত গোটা স্পেন।

তারপর মুসা বিন নুসাইর পিরিনিজ পর্বতে দাঁড়িয়ে সমগ্র ইউরোপ জয়ের স্বপ্ন আঁকছিলেন আর স্পেন থেকে বিতাড়িত গথ সম্প্রদায়ের নেতারা পিরিনিজের ওপারে স্পেন পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা আঁটছিলেন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হন ইউরোপের খ্রিস্টান নেতারা। মুসলমানরা পিরেনিজ অতিক্রম করে ফ্রান্সের অনেক এলাকা জয় করেন। কিন্তু অ্যাকুইটেনের রাজধানী টুলুর যুদ্ধে ভয়াবহতার সম্মুখীন হয়ে তারা বুঝতে পারলেন যে, অসির পরিবর্তে মসির যুদ্ধের মাধ্যমেই ইউরোপ জয় করা সহজতর। এরপর মুসলমানদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হলো জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা ও বিস্তারে।
 তারা সেই যুদ্ধে সফল হন এবং প্রণিধানযোগ্য ইতিহাস তাদের বিজয়কে স্বীকৃতি দিয়েছে। অপরদিকে খ্রিস্টীয় শক্তি পুরনো পথ ধরেই হাঁটতে থাকে। ৭৫৬ খ্রিস্টাব্দের ১৩ মে মাসারার যুদ্ধের পর থেকে স্পেনের ওপর তাদের নানামুখী আগ্রাসন ও সন্ত্রাস চলতে থাকে। ফলে স্পেনের নিরাপত্তা হয়ে পড়ে হুমকির সম্মুখীন। 
কিন্তু স্পেনের ভেতরে পচন ধরার প্রাথমিক সূত্রগুলো তৈরি হচ্ছিল ধীরে ধীরে। সমাজের নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক বোধ ও সচেতনতা ধীরে ধীরে হারাতে শুরু করছিল। রাজনৈতিক নেতৃবর্গ রাষ্ট্রের শত্রু-মিত্র বিভাজনের কাণ্ডজ্ঞান থেকে সরে আসছিল দূরে। এদিকে ইউরোপের আকাশে ক্রুসেডের গর্জন শোনা যাচ্ছে। স্পেনের বিরুদ্ধে যে আক্রোশ কাজ করছিল সেটাই তিনশ’ বছরে পরিপুষ্ট হয়ে ১০৯৭ সালে গোটা ইসলামী দুনিয়ার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠে ভয়াবহ তুফানের মতো। ১০৯৮-এর জুনে এন্টিয়ক দখলের সাফল্যজনক কিন্তু নৃশংস ঘটনার মধ্য দিয়ে উত্তাল হয়ে ওঠা এ তুফান ১২৫০ সালে অষ্টম ক্রুসেডের পরিসমাপ্তির পর স্পেনের দিকে মোড় ঘোরায়। স্পেনে তখন সামাজিক সংহতি ভঙ্গুর। খ্রিস্টান গোয়েন্দারা ইসলাম ধর্ম শিখে আলেম লেবাসে বিভিন্ন মসজিদে ইমামতিও করছে। তাদের কাজ ছিলো স্পেনের সমাজ জীবনকে অস্থিতিশীল ও শতচ্ছিন্ন করে তোলা।

১৪৬৯ সালে ফার্ডিনান্ড ও ইসাবেলা স্পেনে মুসলিম সভ্যতার অস্তিত্বকে গুঁড়িয়ে দেয়ার জন্য পরস্পর বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৪৮৩ সালে ফার্ডিনান্ড ও ইসাবেলা একটি শক্তিশালী সৈন্যবাহিনী পাঠান মালাগা প্রদেশে। যাদের প্রতি হুকুম ছিল শস্যক্ষেত্র জ্বালিয়ে দেয়া, জলপাই ও দ্রাক্ষা গাছ কেটে ফেলা, সমৃদ্ধিশালী গ্রাম ধ্বংস করা, গবাদিপশু তুলে নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি। সেই সময় মৃত্যু ঘটে স্পেনের শাসক আবুল হাসান আলীর। শাসক হন আজজাগাল। এক পর্যায়ে প্রাণরক্ষা ও নিরাপত্তার অঙ্গীকারের ওপর নগরীর লোকেরা আত্মসমর্পণ করলেও নগরী জয় করেই ফার্ডিনান্ড চালান গণহত্যা। দাস বানিয়ে ফেলেন জীবিত অধিবাসীদের। এরপর ফার্ডিনান্ড নতুন কোনো এলাকা বিজিত হলে বোয়াবদিলকে এর শাসক বানাবে বলে অঙ্গীকার করে। ৪ ডিসেম্বর ১৪৮৯। আক্রান্ত হয় বেজার নগরী। আজজাগাল দৃঢ়ভাবে শত্রুদের প্রতিহত করলেন। কিন্তু ফার্ডিনান্ডের কৌশলে খাদ্যাভাব ঘটে শহরে। ফলে শহরের অধিবাসী নিরাপত্তা ও প্রাণরক্ষার শর্তে আত্মসমর্পণ করে। কিন্তু তাদের ওপর চলে নৃশংস নির্মমতা। আজজাগাল রুখে দাঁড়ালে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং পরে করা হয় আফ্রিকায় নির্বাসিত।

ডিসেম্বর ১৪৯১-এ গ্রানাডার আত্মসমর্পণের শর্ত নির্ধারিত হলো। বলা হলো : ‘ছোট-বড় সব মুসলমানের জীবনের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দেয়া হবে। তাদের মুক্তভাবে ধর্ম-কর্ম করতে দেয়া হবে। তাদের মসজিদ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অক্ষত থাকবে। তাদের আদবকায়দা, আচার-ব্যবহার, রাজনীতি, ভাষা ও পোশাক-পরিচ্ছদ অব্যাহত থাকবে। তাদের নিজেদের আইনকানুন অনুযায়ী তাদের প্রশাসকরা তাদের শাসন করবেন …।’ আত্মসমর্পণের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুললেন মুসা বিন আকিল। তিনি বললেন, গ্রানাডাবাসী! এটা একটা প্রতারণা। আমাদের অঙ্গারে পরিণত করার জ্বালানি কাঠ হচ্ছে এ অঙ্গীকার। সুতরাং প্রতিরোধ! প্রতিরোধ!! কিন্তু গ্রানাডার দিন শেষ হয়ে আসছিল। ১৪৯২ সালে গ্রানাডাবাসী আত্মসমর্পণ করল।

রানী ইসাবেলা ও ফার্ডিনান্ডের মধ্যে শুরু হলো চুক্তি লঙ্ঘনের প্রতিযোগিতা। চারদিকে চলছিল ভয়াবহ নির্যাতন। পাইকারি হারে হত্যা বর্বরতার নির্মম শিকার হতে থাকলেন অসংখ্য মুসলমান। স্পেনের গ্রাম ও উপত্যকাগুলো পরিণত হয় মানুষের কসাইখানায়। যেসব মানুষ পর্বতগুহায় আশ্রয় নিয়েছিল, তাদেরও মেরে ফেলা হলো আগুনের ধোঁয়া দিয়ে। পহেলা এপ্রিল, ১৪৯২। ফার্ডিনান্ড ঘোষণা করলেন, যেসব মুসলমান গ্রানাডার মসজিদগুলোতে আশ্রয় নেবে, তারা নিরাপদ। লাখ লাখ মুসলমান আশ্রয় নিলেন মসজিদগুলোতে। ফার্ডিনান্ডের লোকেরা সবগুলো মসজিদে আগুন লাগিয়ে দিল। তিনদিন পর্যন্ত চললো হত্যার উত্সব। ফার্ডিনান্ড লাশপোড়া গন্ধে অভিভূত হয়ে হাসলেন। বললেন, হায় মুসলমান! তোমরা হলে এপ্রিলের বোকা (এপ্রিল ফুল)।

এই গণহত্যার পরও যেসব মুসলমান আন্দালুসিয়ায় রয়ে গিয়েছিলেন, তাদের ফার্ডিনান্ডের ছেলে তৃতীয় ফিলিপ সহায়-সম্বলহীন অবস্থায় সমুদ্রপথে নির্বাসিত করেন। তাদের সংখ্যা ছিল পাঁচ লাখেরও বেশি। ইতিহাস বলে, তাদের মধ্যে খুব অল্পসংখ্যক লোকই জীবিত ছিলেন। বিপুলসংখ্যক মানুষ সমুদ্রের গহিন অতলে হারিয়ে যান চিরদিনের জন্য। এভাবেই মুসলিম আন্দালুসিয়া আধুনিক স্পেনের জন্ম দিয়ে ইতিহাসের দুঃখ হয়ে বেঁচে আছে। সেই বেঁচে থাকা বোয়াবদিলদের বিরুদ্ধে ধিক্কাররূপে ফার্ডিনান্ডের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিবাদরূপে।

দুনিয়ার ইতিহাস কী আর কোনো আন্দালুসিয়ার নির্মম ট্রাজেডির সঙ্গে পরিচিত হয়েছিল? সম্ভবত হয়নি এবং হতে চায় না কখনও। স্পেন হয়ে আছে মুসলিম উম্মাহর শোকের স্মারক। পহেলা এপ্রিল আসে সেই শোকের মাতম বুকে নিয়ে। শোকের এই হৃদয়ভাঙা প্রেক্ষাপটে মুসলিম জাহানের জনপদে জনপদে আন্দালুসিয়ার নির্মমতার কালো মেঘ আবারও ছায়া ফেলছে। এশিয়া-আফ্রিকাসহ সর্বত্রই দেখা যাচ্ছে মুসলিম নামধারী একশ্রেণীর বিশ্বাসঘাতক বোয়াবদিল এবং ক্রুসেডীয় উন্মত্ততার প্রতিভূ ফার্ডিনান্ডদের যোগসাজশ। আন্দালুসিয়ার মুসলমানদের করুণ পরিণতি যেন ধেয়ে আসতে চায় এই মানচিত্রের আকাশেও। এ জন্য পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে সমাজ-সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিপর্যয়ের প্রলয়বাদ্য চলছে।

[তথ্যসূত্র : সৈয়দ আমীর আলী : দ্য স্পিরিট অব ইসলাম অ্যান্ড সারাসিল, সম্পাদনা-মাসউদ হাসয়ান, স্পেনে মুসলিম কীর্তি—এমদাদ আলী, ইউরোপে ইসলাম—তালিবুল হাশেমী, অনুবাদ—আমীনুর রশীদ।]

LikeShow more react

আল্লাহ আমাদেরকে বিষয়টি বুঝার আর আমল করার তাওফিক দেন।

আল্লাহর উপর ইয়াকিনের সাথে পাহাড় দৃঢ় তাওয়াক্কুল ছোট বড় যেকোন পরিস্থিতিকে সফলভাবে পার করতে সাহায্য করে।
 তাওয়াক্কুলের আগে আমলকেন্দ্রিক আর অন্তরকেন্দ্রিক কিছু ব্যাপার সংশোধন করতে হয়, তা না হলে তাওয়াক্কুল অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

আমল বিষয়ক দিক গুলো হল ফরজ হওয়া সব আদেশ, যেমন- হালাল উপার্জন, ৫ ওয়াক্ত নামাজ, রোযা, যাকাত, হজ্জ, সুন্নাহর উপর অটল থাকা, দাঁড়ি, নিকাব ইত্যাদি। সর্বোপরি আল্লাহর দেয়া আদেশ নিষেধগুলো একাগ্রতার সাথে মেনে চলা।
 তবে এই আমল গুলো স্রেফ শারীরিক এবং আর্থিক পরিশ্রমে পরিণত হবে যদি না অন্তরের হালতের দিকে নজর না দেয়া হয়, প্রাণহীন আমল করে যাওয়া হয়।
.
অন্তরের স্থিরতা আসে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর মুখাপেক্ষিতায়। পুরোপুরি আল্লাহর মুখাপেক্ষি হয়ে যেতে হবে। ছোট থেকে ছোট জিনিসের জন্য আল্লাহর তায়ালার কাছে ফরিয়াদ জানাতে হবে। এক গ্লাস পানি ঢেলে খেতেও আল্লাহর সাহায্য চান। সাহাবীরা জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলেও দুই রাকাত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতেন। সাহাবীরা সামান্য দুনিয়াবি বিষয়েও ষোল আনা আল্লাহর মুখাপেক্ষী থাকতেন। আল্লাহ মুখাপেক্ষিতাকে তাঁদের অন্তরের গহীনে শক্ত করে গেঁথে নিয়েছিলেন। দৃঢ় বিশ্বাস করতেন বিশ্ব জাহানের মালিকই তাদের প্রয়োজন পূরণ করে দিবেন, অন্য কোথাও তাঁদেরকে ধরনা দিতে হবে না। আল্লাহ তায়ালার উপর বান্দা যেভাবে ধারণা করে, আল্লাহ বান্দার প্রতি সেভাবে সাড়া দেন। তাঁদের ধারণা যেমন মজবুত ছিল, তেমনি আল্লাহ তাঁদেরকে অমন সাহায্য করেছেন। আমাদের ধারণা যেমন হবে, আমাদের প্রতিও তেমন সাহায্য আসবে।
.
ছোট ছোট ব্যাপারে আল্লাহর মুখাপেক্ষিতার অবস্থা যদি এই হয়, তাহলে আমল গত বিষয়ে স্থির থাকার মত সিরিয়াস ব্যাপার গুলোতে আমাদের আল্লাহর উপর কেমন ধারণা আর তাওয়াক্কুল রেখে চেষ্টা করে যেতে হবে? অন্তরের স্থিরতা, সবরের সাথে আল্লাহর ইবাদত করে যাওয়া, ইহসানের সাথে নামাজ আদায় করার মত বিষয় গুলো যদি আমরা আমাদের জীবনে সুন্দরভাবে সেট করতে পারি, তাহলে দ্বীন দুনিয়ার বাকি সব ব্যাপার গুলো আমাদের জন্য সহজ হয়ে যাবে।
.
"যেখানে আপনি আপনার রাতের ঘুমকে হারিয়েছেন, যেখানে আপনার হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে, সেখানেই ঘুরে ফিরে মৌন ভিক্ষার ঝুলি পেতে বসে আছেন। আল্লাহ আপনার ঈমানকে ঐ বিষয়ের সাথেই জুড়ে দিবেন, যতই আপনি মুখে বলা তাওয়াক্কুল রাখেন না কেন।আল্লাহকেন্দ্রিক সব আশা ভরসা রাখুন, দুনিয়াবি এসব বিপর্যয় আপনাকে অস্থির করার ক্ষমতাও রাখবে না।"
.
ইনভার্টেড কমার মধ্যে লেখাটি আসলে উপরের তাওয়াককুলের বিষয় গুলোর তুলনায় নিতান্তই সামান্য বিষয়। কিন্তু এই সামান্য বিষয়টি অনেকের কাছেই বেশ বড় ব্যাপার। কারণ, তাদের চিন্তা চেতনাগুলো এই বিষয় কেন্দ্রিকই হয়ে থাকে।
আমরা আপনাদেরকে বলছি, সমস্যা গুলোর একটা একটা করে সমাধানের দিকে নজর না দিয়ে, সমস্যা যেন না ফেইস করতে হয় নিজেদেরকে সেভাবে প্রস্তুত করে নিতে।
 আপনার যদি ঈমান, আমল, তাওয়াককুল, অন্তরের হালত ঠিক না থাকে, তাহলে বারবার এমন শত শত সমস্যা আসতেই থাকবে, আর আপনি একটার পর একটা সমাধান করতে যেয়ে সমস্যাকে কেন্দ্র করেই নিজের সংশোধনে সাময়িকের মনোনিবেশ করে করে এক সময় বিরক্ত হয়ে যাবেন। এমনও হতে পারে বারবার সংশোধন করতে যেয়ে আপনি আসল বিষয়টি উপলব্ধি করে আপনার প্রায়োরিটি ঐ ঈমান আর আমলে সেট করতে পারবেন, এমনটাই যেন হয়। তবে সমস্যা তৈরি হওয়ার পরিবেশই না রাখার দিকে নজর দিলে আপনার জন্যই সহজ হবে।
.
কাজেই দুঃসময়ে জন্য স্রেফ অন্তরের স্থিরতাকে আমরা টার্গেট করে আল্লাহর মুখাপেক্ষি হওয়ার চেষ্টা করবো না। এভাবে চেষ্টা করেও কাজ হবে, কিন্তু তার স্থায়িত্ব হবে সাময়িক।
 কাজেই আল্লাহর মুখাপেক্ষি হতে হবে আল্লাহর জন্যেই, আল্লাহ আযযা ওয়াজাল'কে ভয় করে, তাঁকে ভালোবেসে, একাগ্রতার সাথে তাঁর ইবাদত করতে।
এমন যেন না হয় যে আমাদের উপর বিপদ আসলে আমরা শুয়ে বসে আল্লাহকে ডাকছি, আর বিপদ চলে গেলে তার নাফরমানি এমনভাবে করছি যে আগে কখনো আমাদের উপর কোন বিপদই আসে নি। আল্লাহ আমাদেরকে বিষয়টি বুঝার আর আমল করার তাওফিক দেন।
.
#HujurHoye