Lets get prepared for holy month of Raamadan

বুদ্ধিমান সে ব্যক্তি যে রমজানকে আত্মসমালোচনার সুযোগ হিসেবে নেয়। নিজের বক্রতাকে সোজা করার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে। মৃত্যু তাকে অতর্কিতে হামলা করার পূর্বেই নিজের নফসকে আল্লাহর ইবাদতের প্রতি বাধ্য করে। আর মৃত্যু যদি চলে আসে তবে সৎকাজ ব্যতীত অন্য কিছু কোনো কাজে আসবার নয়। অতঃপর এ মাসে আল্লাহর সাথে অঙ্গীকারবদ্ধ হোন। তাওবা করুন, লজ্জিত হোন, পাপ-গুনাহ থেকে ফিরে আসুন। নিজের জন্য, আত্মীয়স্বজনদের জন্য ও গোটা মুসলিম উম্মার জন্য দুআ মুনাজাতে খুবই পরিশ্রমী হোন।
আরও কিছু লিঙ্ক 


ঈমান ও আমাল পরস্পর পরিপূরক




কুরআন ও হাদিসের জ্ঞান অর্জন, ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ, গবেষণা, অতি প্রয়োজনীয় বিষয়। তার থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যাপার হল অর্জিত জ্ঞানকে আমালে রুপান্তরিত করা।
 সমস্ত
জীবন জ্ঞান অর্জন করে  সেই অনুযায়ী আমাল না করলে পরকালিন মুক্তির পথ কঠিন হবে কোন সন্দেহ নাই।

 আল্লাহ পাক আমাদের জ্ঞান অর্জনের সাথে সাথে আমাল করার

তৌফিক দান করেন এবং আমাদের আমালের পরিবেশে   বেশী সময় থাকার তৌফিক দান করেন। আমীন।

উত্তম আখলাক অর্জন


কেউ সুগন্ধি ব্যবহার করলে  তা বুঝার জন্য যেমন বলার অপেক্ষা রাখে না, গন্ধ আপনি আশপাশ আমদিত করে তোলে। সদাচরণ/ উত্তম চরিত্র ঠিক তেমনি তার উজ্জলতা দিয়ে চারপাশের অন্ধকার দূর করবেই। আমাদের স্বভাবে যখন  নবী [সা] এর আখলাক এসে যাবে , তখন তার প্রভাবে আপনিই  চারিদিকে ঈমান ও ইসলামের প্রসার ঘটতে থাকব । এই আখলাকের এমনই  শক্তি যে, বড় থেকে বড় , প্রভাবশালী বাক্তিদের কেও নতজানু করে দেয়। বড় বড় শক্তিকে ধরাশায়ী করে ফেলে। প্রবল  প্রচণ্ড কুফরি শক্তিও তার সামনে নিস্তেজ নির্জীব হয়ে যায়।  কাজেই আমাদের নবীর [সা] সেই উত্তম আখলাক অর্জন করতেই হবে। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দান করুন। আমীন।

“Struggle Towards Light.”


Guest writer Mabrouka shares her appropriately titled piece,


It was the year 2002, I was fourteen years old. After nearly eleven years in Europe, my family and I returned to our Muslim country – alhamdulilah.

ME!
I wore t-shirts, tight jeans, hair hanging loose. I was athletic and played many sports. On the outside, I was a teenager; however, on the outside, I was merely a child.

BOYS
I studied in a mixed school, with Muslim boys and girls. I was the popular girl. Everyone knew me. To them, I was “cool.” Boys wanted me to be their girlfriend. They wanted to hang around with me. They thought I was cool because I was westernized. However, what they didn’t know was that I was opposite to what they thought. I wasn’t the girl who hung around with guys! I dreaded them. Rather, I was a Muslimah. A follower of Islam. I was an extremely shy person, who tries to be conscious of Allah, who knows her religion, and who especially hated to mix with the opposite gender. I realized that how I showed myself on the outside did not reflect who I truly was on the inside.

HIJAB
When I wore the hijab, I didn’t tell my friends. My parents said it was nice. I remember wearing a long denim jacket and headscarf, and going to school – heart throbbing.
I will never  forget this situation: One of my three friends saw me in the hijab and laughed. She told me that when I came to school, I should take it off, and when I leave school I could just put it back on so nobody would notice. Then a boy heard her say this and told me not to listen to her because “she’s a devil.” That day, I went home with a crushed heart. Sitting on the computer, I cried and cried and cried.
Once, I was crying and my mum asked me what was wrong. I told her boys said things about my hijab. “What did they tell you?” she asked. “They told me I was like an angel,” I said. My mum smiled and I got more upset. Back when I was fourteen, I thought they were making fun of me:)

AFTER HIJAB
I got used to wearing the hijab. It slowly made me a better person. I thought people would judge me, but they only respected me more. I thought I would look ugly, but it only gave me modesty and nour, and this is the best type of beauty. Hijab is beautiful and Almighty Allah asked us to wear it so we would be protected.

MY (so called) FRIENDS
The girls in my class all spoke their own language which I didn’t understand, except for three girls who, in addition to English, spoke Arabic. Therefore, these were the only girls I could befriend.
The three girls I hung around with also didn’t wear the hijab; their clothes were tighter than mine, hair blow-dried nearly daily. They would talk about music, boys, and bad things I didn’t know about before. They usually ignored me. I dreaded being with them, but they were the only ones I could communicate with.

SELF-ESTEEM

Being with these girls made my self esteem drop. Inside, I hated myself. If you could rate self-esteem, mine was about zero. I thought of myself as a loser. I would try to fit in by wearing cool clothes and make-up. These so-called friends of mine encouraged me to have a boyfriend. They did so much to me. But I was patient.

SCHOOL’S OUT
After school was over, I wanted to become a better Muslimah. I left the fake make-up. My hijab became better. And I focused my attention on doing what was right, increasing my knowledge about Islam. Slowly, slowly I was spiritually climbing towards Allah – alhamdulilah.

UNIVERSITY
My “friends” dropped out. I kept studying and now I want to do my MA. My four years in university, I didn’t put make-up on. My hijab was always aimed at wearing the most modest clothes, not colorful, not attractive, and in a manner that would please Allah ta’ala. The friends I choose feared Allah; they were good Muslims who uplifted and encouraged me to do good, alhamdulilah.

TO MY SISTERS
Wallahi, to all my sisters in Islam, hijab is nour (light). Don’t let men gaze at your beauty. You are too precious. Your beauty is like a rare diamond, protect it by covering yourself. Wear the hijab for Allah, so that Allah will be proud of you. Our Creator doesn’t tell us to do something unless it benefits us. And as I am a proud Muslim hijabi, I can be first to tell you there are so many benefits.
Some females who don’t wear the hijab worry about what people will say. I ask you, are you not worried about what Allah would say?
When you choose to not wear the hijab, you choose to follow the devil. You choose to make the devil smile because you disobeyed Allah. Who is deserving of your worship? Doesn’t Allah deserve it, when all Allah wants paradise for us.

DUA
May Almighty Allah guide everyone towards the righteous path. And may Allah give every girl what He gifted me, the strength to wear hijab. May Almighty Allah fill all Muslim girls’ hearts with nour and love for the hijab, and keep those who wear it firm in their obedience.

জর্জের ঈদ উদযাপন !!!


জর্জ নামে একজন লোক – ফর্সা,লম্বা এক সুপুরুষ। পরিবার নিয়ে গ্রামে থাকে – তার স্ত্রী ও তিন সন্তান (দুই মেয়ে ও এক ছেলে)। জর্জ অস্ট্রেলিয়ায়  তার শহুরে ব্যস্ত জীবন ফেলে শান্তিতে থাকার জন্য পাহাড়ের ধারে এক গ্রামে থাকে। ২৯ শে জিলকদ্ব, জর্জ ও তার পরিবার ব্যস্ত আগামীকাল কি পহেলা যিলহাজ্জ নাকি তা নিয়ে। সে একটি ইসলামিক চ্যানেলে এ ব্যাপার নিয়ে শুনতে চেষ্টা করছিল কিন্তু সে পরিষ্কারভাবে তা শুনতে পারছিলনা। পিছনে তার স্ত্রী চিৎকার করে বলছিল “ইসস!!! আমাদের যদি কোন মুসলিম অ্যাম্বেসির ফোন নাম্বার থাকত। ”তার ছেলে (বয়স ১৮) এসে বলল “বাবা আমি ইন্টারনেটে খুঁজে দেখি” – তার ছেলে খুঁজার পর তাকে জানালো যে আগামীকাল পহেলা যিলহাজ্জ। জর্জ খুব খুশী হয়ে গেল – শনিবার হল ৯ই যিলহাজ্জ এবং রবিবার হল ঈদ।

দেখতে দেখতে শনিবার চলে আসল। সে খুব খুশী মনে একটি ছাগল কিনতে গেল – একটি স্বাস্থ্যবান ছাগল যা কিনা সে কোরবানি দিবে। বাজারে গিয়ে তার মন মত একটি ছাগল সে পেল কিন্তু দরদাম করে দেখল তার পর্যাপ্ত টাকা নেই, তাই সে কাছের এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে ছাগলটা কিনল। সে ছাগলটি গাড়ির পেছনে তুলে নিলো। জর্জ গাড়ি চালাচ্ছিল আর তার ৫ বছরের মেয়েটি পিছন থেকে চিৎকার করে বলতে লাগল “বাবা,বাবা, তুমি যে হিজাব টা এনেছ আমার জন্য, ওটা কি আমি কালকে পরতে পারব ? ” জর্জ বলল “হ্যাঁ মা, তুমি কাল পড়বে”। মেয়ে আবার বলতে লাগল “বাবা বাবা, আমি কি মুখও ঢেকে ফালতে পারব ?” সে বলল “না মা তা করার দরকার নেই শুধু হিজাব পড়লেই হবে”। মেয়ে আবার বলে উঠল “বাবা বাবা, ভাইয়া কি ওই পাঞ্জাবি আর সাদা টুপিটা পড়বে?”সে বলল “হ্যাঁ মা”। এরকমই পুরো পরিবার খুবই আনন্দিত ও উত্তেজিত ছিল। জর্জের স্ত্রী তাকে বলল “ আমরা কি ছাগলের মাংসগুলো  তিন ভাগে ভাগ করব ? ” সে বলল “হ্যাঁ আমরা তাই করব”। সে গাড়ির রিয়ার গ্লাস দিয়ে ছাগলটা দেখে ভাবতে লাগল যে সে কি শরীয়া মোতাবেক কোরবানির পশু কিনল নাকি (কানা হতে পারবে না, অসুস্থ হতে পারবে না, রোগা হতে পারবেনা) ?? সে ছাগলটার দিকে দেখে খুবই খুশী হয়ে গেল – নাহ ঠিক আছে।  ঘরে ফিরে তার স্ত্রী জর্জকে মনে করিয়ে দিল, "শুন, তিন ভাগের এক ভাগ আমরা দিব আমাদের প্রতিবেশী জেনেট, রুথ ও কার্লিকে; আর এক ভাগ দিব গরিবদের; আর বাকিটা আমাদের, আমরা Bar B Q করব।"  জর্জ বলল, "আমার মনে থাকবে।"

রবিবার জর্জ খুব ভোঁরে ঘুম থেকে উঠল, খুবই আনন্দিত ও উৎফুল্ল। সে সুন্নাহ অনুযায়ী নিজ হাতে জবেহ করতে চায়। জবেহ করার সময় সে কিবলার দিকে মুখ ঘুরাতে চেষ্টা করল কিন্তু সে জানে না কোন দিকে কিবলা। তার স্ত্রী তাকে বলল তুমি সৌদি আরবের দিকে ঘুরে দাঁড়াও, তার ছেলে বলে উঠল, বাবা আমি ইন্টারনেটে দেখেছিলাম কিবলা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিমে। জর্জ সেই দিকে ঘুরে জবেহ করল। এরপর সে তার স্ত্রীকে নিয়ে মাংস তিন ভাগে ভাগ করল।

এরপর সে গোসল করল এবং বের হয়ে বলল,“দ্রুত কর, না হয় আমরা চার্চে যেতে দেরি করে ফেলব । ভুলে যেও না আজকে রবিবার।......... জর্জ একজন Christian। কি অবাক হচ্ছেন......কিন্তু কেন ?? আমরা ত অবাক হয়ে যাই না যখন মুহাম্মদ কিংবা ফাতেমা নামধারী মুসলিম রা Christmas day বা পূজার মন্ডবে গিয়ে ওদের সাথে শরীক হয়।     

গত ১৩-১৪ অক্টোবর ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশান-১ এ অবস্থিত হোটেল Washington  -এ এক মেলা হল “ ঈদ পূজা ফিউশান মেলা”। এই হল “আল ওয়ালা ওয়াল বারা” ভুলে থাকা আমাদের মুসলিম ভাইদের অবস্থা। (আল্লাহ না করুক ) কোন দিন যদি ঈদ পূজা একই দিনে পড়ে তাহলে হয়ত আমাদের ভাইরা এক পাঞ্জাবিতেই ঈদের সালাত আদায় করে ঐ পাঞ্জাবি পড়েই রাতে মন্ডপে যাবে।

আমাদের মুসলিম ভাইরা আজ ভুলতে শুরু করেছে ইসলাম একটা পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। আমদের সব সময় একজন মুসলিম হিসাবে থাকতে হবে। একজন মুসলিমের কেবল জুম্মার দিনে ১২ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত “মুসলিম” (!!) আর অন্য সময় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নামে “সেকুলার” কিংবা কিছু সময় আবার তথাকথিত মানবাধিকার কর্মী হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

ইবনুল কায়্যিম (রহমাতুল্লাহ) তার আহকাম আহ্ল আল-দিম্মা গ্রন্থে বলেন কাফিরদের তাদের উৎসবে সম্ভাষণ জানানো মুসলিম ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ। এই বলে সাধুবাদ জানানো “‘A happy festival to you’ কিংবা  ‘May you enjoy your festival,’  কিংবা এই জাতিও কিছু বলা হারাম।এটা কাউকে মদ খাওয়া বা খুন করা বা ব্যভিচার করায় সাধুবাদ জানানোর মত। যাদের নিজের দ্বীনের প্রতি কোন শ্রদ্ধাবোধ নেই তারা এ ধরণের ভুল করতে পারে।

ইবনুল কায়্যিম (রহমাতুল্লাহ) এর মতে এই সাধুবাদ জানানো হারাম হচ্ছে কারণ এটার মাধ্যমে কাফিরদের এই ধর্মীয় রীতিকে গ্রহণযোগ্যতা দেওয়ার নামান্তর।

আল্লাহ বলেন –

“যদি তোমরা অস্বীকার কর, তবে আল্লাহ তোমাদের থেকে বেপরোয়া। তিনি তাঁর বান্দাদের কাফের হয়ে পড়া পছন্দ করেন না। পক্ষান্তরে যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে তিনি তোমাদের জন্যে তা পছন্দ করেন। একের পাপ ভার অন্যে বহন করবে না। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে ফিরে যাবে। তিনি তোমাদেরকে তোমাদের কর্ম সম্বন্ধে অবহিত করবেন। নিশ্চয় তিনি অন্তরের বিষয় সম্পর্কেও অবগত।” (সূরা আল-যুমার, ৩৯:৭)


“ .........আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম......” (সূরা আল মায়েদাহ, ৫:৩)


তাই তাদেরকে এই সব ক্ষেত্রে সাধুবাদ জানানো হারাম। যদিওবা তারা আমাদের এমন অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেয় আমরা তা বর্জন করব। কোন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নামে আমরা তা গ্রহণ করতে পারি না কারণ তাদের এই অনুষ্ঠান আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

 আমাদের ভুলে গেলে চলবে না এই আয়াত –
“যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিনকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতি গ্রস্ত।” (সূরা আল ইমরান, ৩:৮৫)

আমাদের ভুলে গেলে চলবে না এই হাদিস –
রাসুল (সাঃ) বলেছেন, “ যে তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ করেছে সে তাদেরই একজন।”

ইবন তাইমিয়া তার বই “ ইক্তিদা আল-সিরাত আল-মুস্তাকিম মুখালিফাত আসহাব” এ বলেছেন – “ তাদের ধর্মীয়  অনুষ্ঠানে সাধুবাদ জানানো মানে তাদের মিথ্যা বিশ্বাস ও কর্মের প্রতি সন্তুষ্টি জ্ঞাপন এবং তাদের এই ভ্রান্ত পথকে প্রচারে আশা জাগান।”

কেউ যদি উপরোক্ত এমন কিছু করে ,তাহলে সে গোনহগার; হতে পারে তার বন্ধুত্বের খাতিরে নিশ্চুপ অবস্থান কিংবা তার লজ্জা, সংকোচ-বোধ, সে যে কারণেই করে থাকুক না কেন, কারণ এটা ইসলামে মুনাফিকি হিসেবে সাব্যস্ত হবে, আর এটা কাফিরদেরকে তাদের ধর্মের ব্যাপারে  গর্বিত করে তুলে।

আর মুসলিমদের উৎসব হল দুই ঈদ আর ইসলাম অনুমোদিত অনুষ্ঠান হল বিয়ের ওয়ালিমা ও শিশুদের আকিকা। এছাড়া মুসলিম কখনো জীবনের অতীতের বা বর্তমানের কিছু সময়কে “বিশেষ” জ্ঞান করে সেলিব্রেট করতে পারে না – মুসলিমের জন্য সময়ই জীবন,আর জীবনটা হল একটা পরীক্ষা।  পরীক্ষার হলে বসে কেউ যদি মোবাইলে গেমস খেলে বা ফেইসবুক নিয়ে সময় কাটায় এবং প্রতিটি ঘণ্টা অতিবাহিত হবার সংকেতে যদি সে আনন্দ/উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে, তাকে যেমন লোকে উন্মাদ বা অপ্রকৃতিস্থ ভাবার কথা, জীবনে যারা “অতীতের সময়ের স্মরণে” কিংবা “একটি বছর জীবন থেকে বিদায়” বলে আনন্দিত বোধ করেন, ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে তাদেরও তেমনি উন্মাদ বলে গণ্য করার কথা। অন্য সব বাদ দিলেও, কেবল এই যুক্তিতেই মুসলিম কখনো নববর্ষ, জন্মদিন বা বিবাহ-বার্ষিকী নিয়ে আনন্দ/উচ্ছ্বাস-এ নিজেকে আত্মনিয়োগ করতে পারে না।

Collected From
Brother

Moazzem Nabil






Foul language in a Muslim’s life??

by Asma bint Shameem [ILoveAllaah.com Exclusive Writer]



"What the *******!"
"Hey you, ******, how are you?" "Where in the *******have you been?"
If you listen to the conversation of the average Muslim youth talking to each other, unfortunately this is what you will hear.......expletives, bad words and cusses. In fact, foul language is often heard as part of their everyday life at school, universities and work place.
What's worse is that they use these words without thinking..... without remorse and without even realizing that these words are obscene, filthy or repulsive.... using 'four letter words' in every sentence and in every conversation.
Using the words 'hell' and calling each other 'dog' and 'gay' like it's nothing.
And these are some of the more 'decent' words.
There are other, much worse words that are totally unmentionable. May Allaah protect us.
These people, like their non-Muslim peers, seem to be completely desensitized to the use of foul and offensive words, including many that make others cringe with shame and embarrassment.
Yet, when you reprimand them for using such language, what do they say?
"O come on! This is how everyone talks!" or "This is how I 'express' myself. or "We don't mean it in a bad way, we're just joking around with each other!"
Subhaan Allaah! Calling each other bad names and using foul language!
Since when did that become a 'joke'? Since when did cussing become part of a Muslim's vocabulary?
And those who have some sense of morality will use short forms and abbreviations of these bad words and expressions completely 'guilt-free', thinking it's ok to use them since they are only 'short forms' and not the actual phrase or cuss word.
But whether you say 'wtf' or 'lmao', or you actually say the whole evil phrase, IT'S ALL THE SAME.
That's because actions depend on the niyyah and Allaah knows very well the niyyah behind those words.
And, sad to say, not only the youth, but even some who are older, are guilty of the same.
And, then there are some, who may speak very decently under 'normal' circumstances, but when they are provoked or angry or when things don't go quite the way they wanted, nothing comes out of their mouths except cusses, bad words and filth.
What a stark contrast between this and what the Prophet (Sal Allaahu Alaiyhi wa Sallam) used to do.

The behavior of the Prophet (sal Allaahu Alaiyhi wa Sallam)

Anas bin Malik (RadiyAllaahu 'Anhu) said: "The Prophet (Sal Allaahu Alaiyhi wa Sallam) was not one who would abuse (others) or say obscene words, or curse (others)..." (Bukhaari)
And Abdullah bin 'Amr (RadiyAllaahu 'Anhu) said: "The Prophet (Sal Allaahu Alaiyhi wa Sallam) never used bad language neither a 'Faahish nor a Mutafaahish. He used to say 'The best amongst you are those who have the best manners and character.' (Bukhaari)
And he (Sal Allaahu Alaiyhi wa Sallam) said: “The believer is not a slanderer, one who curses a great deal, one who indulges in obscenity or who in engages in foul talk.” (Tirmidhi-- saheeh by al-Albaani)
Very clear words, indeed.
Allaah calls the one who cusses, a ZAALIM (a wrongdoer, sinner)
".....nor defame one another, nor insult one another by nicknames. How bad is it, to insult one's brother after having Faith [i.e. to call your Muslim brother evil names as: "O sinner", or "O wicked", etc.]. And whosoever does not repent, then such are indeed Zaalimoon (wrong-doers). (Surah Hujaraat:11)

Cussing is a characteristic of the people of HELLFIRE

Realize, dear brother/sister, that using foul language and cussing is A SIN, even in joke and this is a characteristic of the people of Hellfire.
The Prophet (Sal Allaahu Alaiyhi wa Sallam) said:
"The inmates of Hell are of five types...." And among them he mentioned "...the miser, the liar and those who are in the habit of abusing people and using obscene and foul language." (Muslim)
And while advising Mu'aadh, (RadiyAllaahu 'Anhu), the Prophet (Sal Allaahu Alaiyhi wa Sallam) said:“Restrain this,” i.e., your tongue. I (Mu'aadh) said: O Messenger of Allaah, will we be called to account for what we say? He said: “May your mother be bereft of you, O Mu’aadh! Will people be thrown in Hell on their faces or their noses for anything other than the harvest of their tongues?” (al-Tirmidhi-- Saheeh by al-Albaani)

The one who cusses is one of the worst people on the Day of Judgment

Know that people who use bad words and have dirty mouths will be one of the worst people on the Day of Judgment.
The Prophet (Sal Allaahu Alaiyhi wa Sallam) said: "O 'Aaishah! Have you ever seen me speaking a bad and dirty language? (Remember that) the worst people in Allah's sight on the Day of Resurrection will be those whom the people desert or leave in order to save themselves from their dirty language or from their transgression." (Bukhaari)
Just imagine! One of the worst people in the sight of Allaah??!!
How can one then even think of these evil words, let alone use them!
Even Angels RUN AWAY from cussing and foul language

Cussing and swearing is so bad that even the angels cannot tolerate it.

Ibn 'Abbas (RadiyAllaahu 'Anhu) said, "Two men defamed one another in the time of the Messenger of Allah, may Allah bless him and grant him peace. One of them reviled the other who remained silent. The Prophet, may Allah bless him and grant him peace, remained seated. Then the other man answered him back and the Prophet, may Allah bless him and grant him peace, got up. He was asked, "You got up?" He said, "The angels left, so I left with them. While this man was silent, the angels were answering the one who cursed him. When he answered, the angels left." (Adab al-Mufrad)

Cussing and foul language deserves punishment in the dunya as well

Someone asked Imaam an-Nawawi...
"What should be done with a person who calls a Muslim a dog, pig, or other offensive word? Is it a sin?" Imaam an-Nawawi said: "It is a sin and he should be punished (ta’zeer – punishment to be specified by the qaadi/Muslim judge). He also has to repent." (Fataawa al-Imaam al-Nawawi)
Subhaan Allaah! Being punished for calling your Muslim brother 'dog'! And yet, how many times have we said that?!
How many times have we used foul language?!
And how many times do our youth call each other 'dog' and 'pimp' and 'nigga' and MUCH WORSE, in every sentence, while they think nothing, absolutely nothing of it!
What would Imaam an-Nawawi say if he heard some of the Muslims talking today?
What would the Prophet (Sal Allaahu Alaiyhi wa Sallam) say??!!
WHAT DOES ALLAAH SAY???!!!
What to do?
1. Keep in mind that every word and every letter you utter from your mouth is RECORDED and will be presented to Allaah on the Day of Judgment.Allaah says:
"Not a word does he (or she) utter but there is a watcher by him ready (to record it)"(Surah Qaaf:18)
So be CAREFUL what you say.
2. The Prophet (Sal Allaahu Alaiyhi wa Sallam) said: "Whoever believes in Allaah and the Last Day must speak good or keep silent." (Bukhaari)
Remember these beautiful words of the Prophet (Sal Allaahu Alaiyhi wa Sallam). Keep them close to your heart and either speak good or keep quiet.
3. Stay away from foul language, cussing and evil words, because YOU are a Mu'min and a Mu'min does NOT utter filthy words or cuss at anyone.
4. Realize the evil consequences of using filthy language, such as....Allaah's Wrath! Being one of the worst people on the Day of Judgment! Hellfire!! A'oodhu billaah.
What more could there be, before a person stays away??!!
5. Equally important is to STAY AWAY from people who speak such bad language, or places where these bad words are used carelessly, or situations where you would hear such filth such as television, movies and songs (of course, music and songs are haraam anyway).
You see, the more you hear filthy language, the more you will use it. That's because you slowly become desensitized to it and its evil, until a time comes when its not bad anymore.
In the end:
Bad words show disrespect to those being spoken to and a total lack of self-respect.
The one who stays away from filthy language is not being a prude or old-fashioned; rather he/she is a Mu'min and a follower of the one with the best manners ever...that is, the Prophet (Sal Allaahu Alaiyhi wa Sallam).
Use of evil words and foul language is bad-mannered, impertinent and impolite, plain and simple. It is a very serious SIN and is not something light or to be tolerated nor is it an acceptable behavior in Islaam.
"Truly a man utters words to which he attaches no importance, and by them he falls into the Fire of Jahannam, and truly a man utters words to which he attaches no importance, and by them Allah raises him into the Garden." (Bukhaari)


একজন মুসলিম বোনের প্রশ্ন এবং তার উত্তর!! আমার মুসলিম ভাই বোনদের ভেবে দেখার অনুরোধ রইল ।





হঠাৎ করে কয়েকটা পেজের এডমিন হয়ে গেছি। কইদিন আগে মেসেজে এক মেয়ে একটা প্রশ্ন করেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে এই প্রশ্নগুলো আমাদের অনেকের মনেই আছে যারা ইসলাম নিয়ে খুব একটা জানেনা! তাই আমি প্রশ্নটার উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছি আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব হয়েছে!!

প্রশ্নঃ আমার একটি প্রশ্ন আছে --ইসলাম এ তো প্রতিটি মানুষ এর জোড়া আল্লাহ আগে থেকে বানিয়েছে ...।আয়াতটা কি সত্যি ???? তাহলে যে আজকাল অনেক ধার্মিক ছেলে মেয়ে ও প্রেম এর সম্পর্কে আছে ।। তাহলে কি আয়াতটা ভুল।??? আমি যদি আল্লাহ র কাছে আমার ভালবাসার মানুস এর জন্য দুয়া করি তাহলে।।??? আমি কি ভাবে আল্লাহ র কাছে দুয়া করব।।??? এই সম্পর্কে ইসলাম কি বলে।।??? প্রেম ভালবাসা কি খারাপ।।??? প্লিজ আমাকে জানাবেন।


উত্তরঃ

আসসালামু আলাইকুম

আপনার প্রশ্ন পড়ে মনে হচ্ছে ইসলাম নিয়ে আপনি খুবই ভয়ংকর ধারণা পোষণ করছেন। আপনার মন সন্দেহবাতিকগ্রস্থ। আমি আপনাকে স্পষ্ট করে কিছু কথা বললাম। আশা করি আপনি বুঝতে পারবেন। যদিও আপনার প্রশ্নটি নারী পুরুষ সম্পর্ক নিয়ে কিন্তু আমি আপনাকে সতর্ক করে দিতে চাই কারন আপনি কুরানের আয়াত নিয়ে সন্দেহ পোষণ করছেন। একজন মুসলিম সে যদি মনে করে কুরানের কোন আয়াত ভুল কিংবা তার কোন যথার্থতা নেই তাহলে সে আর মুসলিম থাকতে পারেনা কেননা আল্লাহ নিজেই কুরানের সত্যতা দিয়েছেন...

“(এই) সেই মহাগ্রন্থ আল কুরান এতে কোন সন্দেহ নেই, যারা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে এই কিতাব তাদের জন্যই পথপ্রদর্শক’। [বাকারাঃ২]

আর তাই কেউ যদি কুরানের আয়াত কে অস্বীকার করে তাহলে সে আল্লাহকেই অস্বীকার করে, তার মানে সে কাফির! আল্লাহ আমাদেরকে এই ভয়াবহ পরিণতি থেকে রক্ষা করুন... আমীন!
এবার আপনার মুল প্রশ্নে আসি। আপনার প্রশ্নটাকে কয়েকটা অংশে ভাগ করলাম

• প্রত্যেক মানুষের জোড়া কি নির্ধারিত?
• প্রেম করা মানে সহজ কথায় বিয়ের আগে নারী পুরুষ অবৈধ সম্পর্ক কি হারাম?
• প্রেম করা অবৈধ হলে অনেক ধার্মিক ছেলে মেয়ে প্রেম করে কেন?
• পছন্দের মানুষের জন্য দোয়া করা যাবে কি?

জোড়া বিষয়ে কুরানের স্পষ্ট আয়াত আছে।একটা না, কয়েকটা...

“আমি প্রতিটি জিনিসই জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি, যাতে করে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর”। [আয যারিয়াতঃ ৪৯]

“পবিত্র নিখুঁত সেই মহান স্রস্টা, যিনি জুড়ি সৃষ্টি করেছেন সবকিছুর__উদ্ভিদের, স্বয়ং তাদের (মানুষের) এবং এমন সব কিছুরও যাদের তারা জানেনা”। (ইয়াসিনঃ ৩৬]

“হে মানুষ! আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি একজন পুরুষ এবং একজন নারী থেকে”। [আল হুজুরাতঃ১৩]
“হে মানুষ! তোমরা সতর্ক হও তোমাদের সেই মহান প্রভুর ব্যাপারে, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন একজন মাত্র ব্যক্তি থেকে এবং তার থেকে সৃষ্টি করেছেন তার স্ত্রীকে, আর তাদের থেকেই সৃষ্টি করেছেন বিপুল সংখ্যায় পুরুষ আর নারী” [সূরা নিসাঃ ১]


এসব আয়াত থেকে একথা দিবালোকের মত পরিষ্কার যে মহান আল্লাহ তায়ালা নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি মানুষকে তার জোড়া বানিয়েই এই দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। এমনকি উদ্ভিদও সৃষ্টি করেছেন জোড়ায় জোড়ায়। সুতরাং এই বিষয়ে কোন সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই যে আল্লাহ আমাদের জোড়ায় জোড়ায় তৈরি করেছেন কিনা!

# ইসলামে নারী পুরুষের সম্পর্কের পবিত্র আর বৈধ পন্থা হল বিয়ে। এর বাইরে অর্থাৎ “বিয়ের আগে নারী পুরুষের সম্পর্ক, বয়ফ্রেন্ড, গার্লফ্রেন্ড, লিভ টুগেদার এসব সম্পূর্ণ হারাম।

এটা শুধু আপনি নয়, নামাজ রোজা করা মুসলিম ছেলেমেয়েদেরও মেনে নিতে কষ্ট হয়! তার কথা তো আপনিই বললেন যে আপনি অনেক ধার্মিক ছেলেমেয়েকেও রিলেশন থাকতে দেখেছেন। আমরা যারা ইসলামটাকে একটা পরিপূর্ণ জীবনব্যাবস্থা হিসেবে মেনে নিয়ে তা জীবনে প্রয়োগ করে দেখাতে পারিনা তার অন্যতম কারন আমরা ইসলামটাকে দেখি একটা হালাল হারামের লিস্ট হিসেবে। আমরা যখন আমাদের প্রবৃত্তির পূজা করতে যাই, যখন সেখানে ইসলামের বাধা আসে তখনই আগে পিছে চিন্তা না করে আমাদের মনে প্রশ্ন আসে why?? Why this is haraam in islam?? আপনি নিজেকে প্রশ্ন করে দেখুনতো এই প্রেম করা নিয়ে কোন প্রশ্ন কি ছোটবেলা থেকে এসেছে? না! আসেনি! আমরা সবাই একটা নির্দিষ্ট বয়স পার করি, যে বয়সটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একই সাথে খুবই ভয়ংকর! যে বয়সটাতে আবেগ, ভালোলাগা, সবকিছু পজিটিভ ভাবা, বিপরীত লিঙ্গের প্রতি সীমাহীন আকর্ষণ সবকিছু আমাদের চারপাশে গিজগিজ করে! আর এই বয়সের সরলতা আর ভালোলাগার সুযোগ নেই শয়তান আর তা কাজে রুপান্তর করে দেখায় কাফির আর ইসলামের বিরুদ্ধ শক্তি যারা আল্লাহর নয় নিজেদের প্রবৃত্তির পূজা করে! আর তাই আজকে সমাজে স্কুলে প্রেম, কলেজে প্রেম, ভার্সিটিতে প্রেম, নাটক- সিনেমা- গল্প উপন্যাসে প্রেম! আর এসব দেখে শুধু আপনি নয় অনেকের মনে সেই একই প্রশ্ন why?? Why প্রেম is haraam in islam?? কারন আল্লাহ মহা পরিকল্পনাকারী! তিনি তার সৃষ্টির জন্য মঙ্গলজনক পন্থাই পরিকল্পনা করেছেন! তিনি মানুষের শরীর আর আত্মিক ক্ষতির আসংখা থেকে মানুষকে মুক্ত থাকার ব্যবস্থা করেছেন। অতি সসীম এই মস্তিস্ক নিয়ে আমরা কখনও অসীম মহান আল্লাহর পরিকল্পনা বুঝতে পারবনা! কিন্তু আমরা এই দুনিয়াতেই তার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন আর আদেশ অমান্যকারিদের পরিণতি দেখেছি, দেখছি, দেখব ইনশাআল্লাহ! আমরা একটা হারামকে শুধু হারাম হিসেবে দেখি কিন্তু একটা হারাম শুধু হারাম নয় এটা অনেকগুলো পথ যে পথে মানুষের অপকার আছে সেই পথগুলোও বন্ধ করে দেয়! ইসলামে মদ হারাম। কিন্তু মদ তো মানুষ ভাল লাগে বলেই খায়!! তাহলে হারাম হবে কেন?? এটা বোঝা আমার আপনার কাছে দুরহ তো বটেই হজরত ওমর (রাঃ) ও বুঝতে পারেননি! তার প্রার্থনার প্রেক্ষিতে আল্লাহ তিনবার আয়াত নাযিল করার পর হজরত ওমর (রাঃ) বুঝতে পারেন কেন মদ হারাম হল! আর আমরা এখন জানতে পেরেছি বর্তমানে বিশ্বে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ...অ্যালকোহল! মদপান! যেটা আল্লাহ ১৪০০ বছর আগেই হারাম করেছেন! ইসলামে এরকম অনেকগুলো হারামের একটি হল বিয়ে বাদ দিয়ে কিংবা বিয়ের আগে নারী পুরুষ প্রেমের সম্পর্ক! আর বরাবরের মতই ইসলামকে অন্তরে ধারণ না করে পাশ্চাত্য আর কুফরি সিস্টেমর আধুনিকতা অন্তরে ধারণ করা আজকের তরুণ তরুণী সেই হারামের ধার দারে না! অনেকের কাছে এই হারামের জন্য ইসলাম হয়ে যায় সেকেলে! তার পরিণতিও হাতে নাতে!! পেতে অবৈধ বাচ্চা নিয়ে হাসপাতালে গর্ভপাত, রিকশা- সি এন জি তে মূল্যবোধ নৈতিকতা বিসর্জন, বয়ফ্রেন্ডের লালসার শিকার হয়ে বন্ধুবান্ধব নিয়ে গণধর্ষণ, বাজারে সেক্স ভিডিও, নিজের অসম্মান, পরিবারের অসম্মান আর সবশেষে এত এত অসম্মান সইতে না পারে গলায় ফাঁস!

না না না!! হ্যাঁ আমি জানি! শুধু আপনি না সবাই এমনকি যারা এই পরিণতিগুলো বরণ করেছে তারাও বলেছিল, “ না না আমরা তো সত্যই ভালোবাসি!! আমরা এসব করব না!”। সেজন্যই প্রথমে বলেছিলাম ইসলামে কোন একটা হারাম শুধু হারাম নয় এটা অনেকগুলো ক্ষতির পথও রুদ্ধ করে। যে পরিণতিগুলোর কথা বললাম নিজের প্রতি সৎ থেকে বলুনতো এই পথগুলো কে উন্মুক্ত করেছে?? সহজ উত্তর___ নারীপুরুষ অবৈধ সম্পর্ক যেটা ইসলাম হারাম করার পরও তারা মানতে চায়না! ইসলাম সেই জীবন ব্যবস্থা যা মানুষকে নৈতিকতা আর মূল্যবোধ শিক্ষা দেয়! মানুষকে নিজের শরীর আর মনের নিরাপত্তা দান করে! আর তাই ইসলামে নিজের শরীর আর মনের নিরাপত্তা এসেছে পবিত্র বিয়ের মাধ্যমে। আল্লাহ বলেন...

“আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে, তিনি তোমাদের (মানব জাতির) মধ্য থেকেই সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য (বিপরীত লিঙ্গের) জুড়ি, যাতে করে তোমরা বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে তাদের কাছে প্রশান্তি লাভ করতে পারো! এ উদ্দেশ্যে তিনি তোমাদের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন হৃদ্যতা- বন্ধুতা আর দয়া- অনুগ্রহ অনুকম্পা। এতে রয়েছে বিপুল নিদর্শন চিন্তাশীল লোকদের জন্য”। [সূরা আর রুমঃ ২১]

সুবাহানাল্লাহ। আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন বিবাহের মাধ্যমেই নারী পুরুষ পাবে প্রশান্তি, সৃষ্টি হবে হৃদ্যতা-বন্ধুতা, দয়া অনুগ্রহ অনুকম্পা! আর এটা চিন্তাশীলদের জন্য নিদর্শনস্বরূপ! কিন্তু আমরা কেউ চিন্তাশীল নই! আমরা মানুষের হারাম সম্পর্ক দেখে স্বপ্নের বীজ বুনি! হলিউড- বলিউড তারকাদের “রিলেশনশিপ উইথ অমুক” দেখে ভাবি হ্যাঁ “আমারও চাই”!! সেলিনা-বিবার, এঞ্জলিনা- ব্র্যাড পিট লিভ টুগেদার দেখে ভাবি, “আহা! তারা কতই না সুখে আছে! কেন যে ইসলামে এসব হারাম করল বুঝি না!!” এসব আধুনিকতার art of living এর রঙিন পর্দাটাই আমরা শুধু দেখি! পর্দার আড়ালের কঙ্কালসার, কুড়ে কুড়ে ধ্বংস হওয়া জীবনবোধের গল্প আমরা কেউ জানিনা! আসুন কয়েকটা গল্প শুনি......

শুধু আমেরিকাতেই একজন পুরুষ বিয়ের আগে গড়ে ৮ জন নারীর সাথে সম্পর্কে জড়ায়! তাদের সবার সাথেই অবাধ যৌনসম্পর্ক থাকে। এরপর সে একটা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারে। এবং বিয়ের পরও দুই তিনটা অবৈধ যৌনসম্পর্ক থাকে একজন আমেরিকানের। ভারতের একটি পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে (৮-১০ বছর আগের, জাকির নায়িকের লেকচার থেকে) শুধু মুম্বাই শহরেই ৫০% মেয়ে স্কুল জীবন শেষ করার আগেই তাদের কুমারিত্ত হারায়! এখন ২০১৩!! সেই % টা কি এখন ১০০%?? কিংবা তার কাছাকাছি??? আর যেসব তারকার প্রেমের সম্পর্ক দেখে আমাদের আবেগ উদ্বেলিত হয়ে উঠে তাদের কিছু গল্পও শুনি......

বছর কয়েক আগে প্রেম করে বিয়ে করেন তিন্নি- হিল্লোল, নওশিন, প্রমিকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন ন্যান্সি, জনপ্রিয় তারকা জুটি হিসেবে পরিচিত ছিলেন শওকত আলি ইমন- বিজরি, প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন আরেফিন রুমি, একবছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেন কঙ্গনা সেন শর্মা- রনবির, সেলিনা গমেজ- বিবার কে দেখে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন অনেক টিনেজার, “ গভীর ভালোবাসার” বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে সেক্স টেপ বানিয়েছিলেন প্রভা সেটা ছড়িয়ে পরে তার ক্যারিয়ারটাই শেষ, জনপ্রিয় আরজে নিরব একের পর এক মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে তাদের সাথে প্রতারণা করেন_ এক লাইভ অনুষ্ঠানে যা এক মেয়ে এক কথায় প্রকাশ করেছেন এভাবে, “আর কইটা মেয়ের জীবন তুই নষ্ট করবি??” এরকম আরও অনেক......অনেক......অনেক.........
এগুলো তো প্রেমের গল্প! তারা অনেকেই বিয়েও করেছেন এই নিষিদ্ধ প্রেমকে পুঁজি করে। তার ফলাফলটা দেখবেন না?? আসুন দেখি......

তিন্নি- হিল্লোল, নওসিন-তার স্বামী ছাড়াছাড়ি! এখন প্রেমের ট্রায়ালে আছেন হিল্লোল- নওসিন!! ন্যান্সির ছাড়াছাড়ি! বিজরির সাথে ছাড়াছাড়ির পর অনেক মেয়ের সাথে প্রনয়ে জড়িয়েছেন ইমন! তার একজন তার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন! আরেফিন রুমির বিয়ে প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নিয়ে বলে সবাই জানলেও সেটা ছিল তার নিষিদ্ধ পরকীয়ার ফল! বিয়ের পর প্রথম স্ত্রীর হাতে পায়ে ধরে সে তাকে রাজি করায়! (সুত্রঃ প্রথম স্ত্রীর রেডিও সাক্ষাৎকার)!! আর হলিউড, বলিউডের কথা বলার কোন দরকার মনে করছিনা!!

বোন! হিসাবটা সোজা! মহান আল্লাহ আমাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন সেখানেই কল্যাণ আর প্রশান্তি লুকায়িত আছে! আর যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তা অমান্য করায় আছে এই দুনিয়ায় ক্ষতি, লাঞ্ছনা, অসম্মান আর আখিরাতেও কঠিন শাস্তি! এই অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক, মোবাইল ফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলা, একসাথে ঘুরতে যাওয়া, long drive ( মতান্তরে sex drive) অন্ধকার কফি শপ!! অতি সহজ ভালোলাগা থেকে শুরু করে দুইটা শরীর কাছাকাছি আসলে দুর্বল চিত্তের অতি স্বাভাবিক শরীরের চাহিদা চরিতার্থ করার প্রয়াস আসবেই। আপনি বা আমরা কেউই “innocent intention” এর দোহাই দিয়ে এই চাহিদাকে হালকা করতে পারবনা! একটি হারাম রিলেশন যেখানে আস্থা, বিশ্বাস, শ্রদ্ধাবোধ, প্রশান্তির চেয়ে বেশী থাকে সন্দেহ, শরীরকেন্দ্রিক ভোগবাদী চিন্তা, মানসিক উত্তেজনা আর ধীরে ধীরে আত্মিক অবক্ষয়! আমরা আমাদের চারপাশে এগুলোই দেখে এসেছি, এখনো দেখছি আর ভবিষ্যতেও দেখব! আর তাই ইসলাম দুইজন নারী পুরুষকে বিয়ের পবিত্র বন্ধনে বেঁধে তাদের শারীরিক, আত্মিক পবিত্রতা নিশ্চিত করে! একজন স্ত্রী, একজন স্বামী একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, আস্থা, বিশ্বাসে যে সম্পর্ক তৈরি করে সেখানেই আছে যথার্থ tranquility!! একজন গার্লফ্রেন্ড তার বয়ফ্রেন্ডের হাত ধরে যতটা অনিশ্চিয়তা নিয়ে ভাবে, “ও কি সত্যিই আমাকে ভালবাসে??” একজন স্ত্রী তার স্বামীর হাত ধরে ততটাই আস্থা আর বিশ্বাসের সাথে ভাবতে পারে, “He is mine”!! একজন গার্লফ্রেন্ড যতটা অনিশ্চয়তা, ভয় আর আত্মসম্মানের হুমকি নিয়ে একজন বয়ফ্রেন্ডের সাথে অবৈধ শারীরিক সম্পর্কের দিকে যায় , একজন স্ত্রী ঠিক ততটাই আস্থা আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে ভাবতে পারে তার স্বামী তার পবিত্রতার সঙ্গী, তার স্বামী তার অনাগত সন্তানের বাবা!!

ইসলাম এভাবেই সুন্দর! এভাবেই পবিত্র! এভাবেই শরীর মনের ক্ষতি রোধ করে! এভাবেই দুইজন নারী পুরুষকে একেবারে আপন করে দেয়! তার জন্য কোন হারাম সম্পর্ক দরকার পড়েনা! মিথ্যার মায়ায় সান্ত্বনা খোঁজার দরকার পড়েনা!!

# আপনার এই প্রশ্নটা আমাদের সবার জন্যই লজ্জার! কিছু ইসলামের লেভেলধারী কুপ্রবৃত্তির পূজারির কার্যকলাপের কারণে প্রতিনিয়ত ইসলামকে অপমানিত হয়ে হয়! একটা কথা মনে রাখবেন, মানুষকে দিয়ে ইসলামকে বিচার করবেন না__ ইসলামকে দিয়ে মানুষকে বিচার করবেন! আমার এতক্ষণের আলোচনা থেকে নিশ্চয় আপনি এটা বুঝতে পেরেছেন যে আপনি যাদের দেখেছেন তারা নিষিদ্ধ কাজ করছে। ইসলাম নিয়ে জানার দরকার পড়েনা আমরা স্কুলে বিদায় হজ্জের ভাষণ পড়েছি! যেখানে রাসুল (সাঃ) বলে গিয়েছেন, “আমি তোমাদের কাছে দুইটা জিনিস রেখে যাচ্ছি, কুরান আর সুন্নাহ (রাসুল (সাঃ) এর হাদিস)”! সুতরাং ইসলামে কোনটা সঠিক আর কোনটা বেঠিক আমরা তা কুরান সুন্নাহ থেকে শিখব কোন মানুষকে দেখে নয় হোক তারা নিজেদের পরেহেজগার বলে জাহির করে!

# আপনার এই প্রশ্নটা খুবই interesting! আমরা কি পছন্দের মানুষের জন্য দোয়া করতে পারব?? অবশ্যই আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করতে পারবেন যেন আপনার জোড়ার সাথে বিয়ের পবিত্রতায় আবদ্ধ হতে পারেন! আপনার জন্য নির্ধারিত মানুষটি যেন সৎ, তাকওয়াবান হয়! সে যেন আপনার হৃদয়ে প্রশান্তির বার্তা নিয়ে আসে! But it doesn’t mean that আপনি একটার পর একটা সম্পর্কে জড়াবেন আর প্রত্যেকজনকে আপনার জোড়া ভাববেন!! নিজের নফসকে সংযত করে , নিজের প্রতি, আল্লাহর প্রতি সৎ থেকে আপনি অপেক্ষা করবেন! আপনি যদি নিজের সততা বজায় রাখতে পারেন তাহলে আশা করা যায় আপনার জোড়াও সংযম অবলম্বন করে আপনার অপেক্ষায় থাকবে। আপনি সেই পুরুষটির জন্য সততার ভিত্তিতে প্রস্তুতি নেন ইনশাআল্লাহ মানুষটিকে আল্লাহই আপনার কাছে পৌঁছে দেবেন!

Allah has already written the name of your spouse for you. What you need to work on is your relationship with ALLAH (swt). He will send him to you when you are ready. It is only matter of time.

আর যদি চান আপনার মানুষটি সৎ আর ভাল হবে তাহলে আপনাকেও তা অর্জন করতে হবে। কারন আল্লাহ স্পষ্ট করেই বলেছেন...

“(জেনে রেখো) নষ্ট নারীরা হচ্ছে নষ্ট পুরুষের জন্য, নষ্ট পুরুষরা হচ্ছে নষ্ট নারীদের জন্য, (আবার) ভাল নারীরা হচ্ছে ভাল পুরুষদের জন্য, ভাল পুরুষরা হচ্ছে ভাল নারীদের জন্য, (মোনাফেক) লোকেরা (এদের সম্পর্কে) যা কিছু বলে তারা তা থেকে পাক পবিত্র; (আখিরাতে) এদের জন্যই রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রেযেক”। [আন নুরঃ ২৬]

অনেক কথা বলে ফেলেছি। অনেক কথাই আপনি জানতে চাননি আমি নিজ থেকেই বলেছি একটা পরিপূর্ণ সমাধানমূলক উত্তর দেওয়ার জন্য। হয়তো আপনি আমার সব কথা বুঝতে পেরেছেন, হয়তো বুঝতে পারেননি, হয়তো একদিন বুঝতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ যেন আমাদেরকে ইসলামের সমাধান মেনে নেওয়ার আর এতে আস্থা রেখে হেফাজতে থাকার তৌফিক দিন। আমরা যেন সাময়িক সুখ আর আবেগের কাছে এই দুনিয়া আর আখিরাতের যথার্থ প্রশান্তি নষ্ট না করি!


বিনীত
একজন মুসলিম যুবক!!

Collected From
Brother
Bujtesina Bishoyta




আমাদের অনুভূতিহীনতার গল্প


বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

খুব ঠাণ্ডা পড়েছে, বাইরে জিরো ডিগ্রি সেলসিয়াস! কোনো গল্প বলছি না। লন্ডনে এখন শীতকাল চলছে। ৪টা বাজতেই মাগরিব হয়। ৭টার দিকে বাসায় ফিরছিলাম যখন, রাস্তার আলো গুলো বাদ দিলে আঁধার রাত। অন্ধকার রাতের বরফশীতল বাতাসের মধ্যে বাইরে এক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে থাকতেও কষ্ট হয়। কিছুক্ষণ থাকলে চোখ-মুখ জমে বরফ হয়। দ্রুতপায়ে কিছুদূর হেঁটে বাস স্টেশনে আসলাম। ডিজিটাল নোটিস বোর্ডে দেখতে পেলাম ৩ মিনিট পরে বাস আসবে। কোনরকম কুঁচকে-মুচকে দাঁড়িয়ে ছিলাম! উহ্‌ যা ঠাণ্ডা! স্টেশনে আর একজন মাত্র আছে, বাসের অপেক্ষা করছে। বাস এলো। আরো কিছু যাত্রী আশেপাশের অন্ধকার থেকে উদয় হলো। আমি কোনদিকে না তাকিয়ে জলদি বাসে উঠে পড়লাম। উষ্ণতা খুঁজতে যেয়ে অটোমেটিক ভিতরে চলে গেলাম। দেখলাম আমার সাথে যে দাঁড়িয়ে ছিল সে বাস ড্রাইভারকে বারবার একই প্রশ্ন করছে ‘ওয়াটনি মার্কেট কোথায়?’  ছেলেটার বয়স হবে দশ-এগারো। স্কুল ব্যাগ কাঁধে ছিল বোধ হয়। এক নজর দেখেছি। আবারো প্রশ্ন করলো সে, ‘এই বাস কি ওয়াটনি মার্কেট হয়ে যাবে?’  ওয়াটনি মার্কেট একটা বাস স্টপ, আমার বাসার ঠিক আগের স্টেশন। বেশ ভিতরে ছিলাম দেখে উত্তর দিতে গেলে চিৎকার করতে হতো। হঠাৎ আশ্চর্য হয়ে দেখলাম, বাস ড্রাইভার তাকে ভুল ইনফরমেশন দিয়েছে! এক সেকেন্ডের মধ্যে ছেলেটা জবুথবু হয়ে বাস থেকে নেমে বাইরের ঠাণ্ডার মধ্যে ফিরে গেল! আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখি বাস ছেড়ে দিয়েছে!

নিজের মধ্যে কেমন একটা অপরাধবোধ সৃষ্টি হলো। বাচ্চা একটা ছেলে। এই ঠাণ্ডার মাঝে আমার চেয়েও আগে থেকে অপেক্ষা করছে। আমার পাক্কা মনে ছিল, পরের বাসটি আসার কথা আরো ১৫ মিনিট পরে! এতোটা সময় আবারো ওকে একা একা দাঁড়িয়ে থাকতে হবে? খুব খারাপ লাগলো। বেশি এই কারণে কারণ ওর প্রশ্নের উত্তরটা আমার জানা ছিল। আমিও একই দিকে যাচ্ছি। তবুও ওকে অপেক্ষা করতে হবে। মনে আসলো আমার চেয়ে আগে থেকে ছেলেটা বাস স্টেশনে দাঁড়িয়ে। আমার চাইতে এই বাসে ওঠার হক ওরই বেশি ছিল...। 

এসব ভাবতে ভাবতে বাস প্রায় বাসার কাছে চলে আসলো। গত পরশুরাতের ঘটনা। শুধু ঘটনা বলার জন্য আমি লিখতে বসিনি। এই ঘটনার সাথে সাথে আরো একটা কথা আমার মাথায় আঘাত করে। ভয়ংকর একটা কথা...। সেই কথা বলতেই আজকে বসা। জানিনা কতোখানি প্রকাশ করতে পারব। তার আগে আমার খুব প্রিয় একজন আপুর দেয়া স্ট্যাটাস শেয়ার করতে চাই –

“সংবেদনশীল মন থাকা একটা নেয়ামত। অন্যের কষ্ট যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন না, তার কষ্ট লাঘব করার ইচ্ছাটাও আপনার মধ্যে sincere হবে না।”

হঠাৎ সংবেদনশীলতার কথা বললাম কেন? 

উপরের সত্যি ঘটনাটা আমি যাকেই বলব, সে স্বাভাবিকভাবে দুঃখবোধ করে... না দেখা সেই ছোট্ট ছেলেটার প্রতি তাদের একরকম মায়া জন্মে! আমার যেমন শুধু মনে হয়, ‘বাচ্চাটা ঠিকমত বাস পেয়েছিল তো?’ , মনে হয়, 'ইশশ! চিৎকার করে বলতাম এটাই ঠিক বাস!' , অথচ কতোক্ষণই বা বেশি তাকে সেই শীতল বায়ুর ঝাপটা সহ্য করতে হয়েছে? খুব বেশি হলে এক্সট্রা আরো দশ মিনিট?


এই ছেলের চেয়ে হাজারো গুণে খারাপ অবস্থানে আছে আরো অনেকে। যাদের ঘর-বাড়ি উজাড় হয়ে যাচ্ছে... সকালে বাবা-মা-ভাইবোন-ঘর-সংসার ছিল। বিকেলে দেখবে কিচ্ছু নেই। শুধুই কিছু জঞ্জাল পড়ে আছে। ধ্বংসাবশেষ। এক মুহূর্হের মাঝে মায়া-মমতা-স্বপ্ন সব শেষ। এদের জন্য আমাদের মায়া কই...? মাথার ছাদটা উড়ে গেল, ঘরের দেয়ালগুলো পড়ে গেলো। কিসের মধ্যে বেঁচে থাকবে ওরা? খাবার নেই, পোশাক নেই, লেখাপড়া-বন্ধু তো দূরের কথা! শত্রুর হাত থেকে পালাতে যেয়ে ধুঁকে ধুঁকে কুকুরের মত জীবন পার করে দিচ্ছে এরা। এদের জন্য আমাদের কষ্ট হয়? নাহ... একটা কুকুরের জন্যেও এরচেয়ে বেশি মায়া লাগে।  কুকুরের উদাহরণ দেয়া তো কমন ডায়লগ হয়ে গেছে, এবং বেশ decent! তাই আমার এ কথা কারো গায়ে লাগবে না।


ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে খাবার তুলে নেয়া মানুষটিকে আমরা হয়তো মানুষ হিসেবেও ভাবি না। তার হাত ধরতে আমাদের ঘৃণা উগলে আসবে! বাসায় কাজের লোকের জন্য যেমন আলাদা প্লেট! গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া লোকালয়ের নোংরা-বিধ্বস্ত মানুষগুলোর কথা আমরা ক’বার ভাবি? তাদের মানুষ বলেই বা ক’বার গণ্য করি?! এই সংবেদনশীলতার আজ বড় অভাব। আমরা কথার দিক থেকে রোবট হইনি। মুখে আমাদের ‘প্রে ফর গাজা’ ‘সেভ রোহিঙ্গা’ লেগে থাকে। অবশ্য মুখে লেগে থাকে না। প্রোফাইল পিকচারে ঝুলে থাকে। কিন্তু অন্তরে - গরিব, অসহায়, নির্যাতিত - তাদেরকে আমরা চিনি না! চোখের সামনে তাদেরকে দেখলে আমরা ‘না-দেখার’  ভান করি! আর চোখের আড়াল হলে তো মন থেকে একেবারে মুছেই গেল। তাই বললাম কথায় আমরা সবচেয়ে সহানুভূতিশীল হতে পারি, কিন্তু কাজে আমাদের মত নিষ্ঠুর স্বার্থপর প্রাণী খুব কমই আছে। ‘প্রাণী’ বললাম ইচ্ছে করেই। মানুষ হবার জন্য তো মানুষকে মানুষের কষ্ট বুঝতে হয়। জানোয়ারের চেয়ে নীচু মন নিয়ে তো মানুষ নামের অধিকারী হওয়া চলবে না।


যাদের কথা বললাম তারা মুসলিম উম্মাহর অংশ। উম্মাহ উম্মাহ বলে চিৎকার করি যারা, এই উম্মাহর কথা সত্যিই কতখানি ভাবি? আমাদের ভাবনাটা জুড়ে কি থাকে? উম্মাহর অনুভূতি? তাদের ক্ষুধা-তৃষ্ণার কষ্ট? শীত-গ্রীষ্মের যাতনা? তাদের স্বজন হারাবার বেদনা? বুঝি আমরা সেসব? বুঝতে চাই? যদি না বুঝি, না বুঝতে চাই, আমাদের মধ্যে বিরাট সমস্যা আছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘মুসলিম উম্মাহ একটি শরীরের মত, এর এক অংশ আহত হলে পুরো শরীরে জ্বর এসে যায়’। [১] জ্বর আসা মানে বুঝেন?

ক’মাস আগে একবার সিস্টারদের এক কনফারেন্সে গিয়েছিলাম। খিলাফত আর উম্মাহর কথা তাদের মুখে মুখে। আবেগজডড়ানো বক্তৃতা শুনে কতোজনের চোখে পানি আসল। এক বোনের চোখে কী যেন একটু হয়েছিল। সে তাঁর চোখের ব্যথায় কাতর! আশেপাশের সিস্টাররাও তাঁর চোখ নিয়েই ব্যস্ত হয়ে গেলো, বা ব্যস্ত হতে বাধ্য হলো! একে বলে ব্যথা। বার বার শুধু চোখের কথা বলে! চোখে হাত দেয়, ভাপ নেয়! অল্প একটু ব্যথায়-ও কতো অতীষ্ট হয়ে গেল একজন! উম্মাহর জন্য আমাদের এই বেদনা কোথায়? জ্বর আসলে শরীরের যে যন্ত্রণা উম্মাহর তরে সে কাতরোক্তি কোথায়? আমরা নিজেদের কিছু হলে তো আমরা ব্যস্ত হয়ে যাই... আমাদের এই ব্যস্ততার সাথে মুখে উম্মাহর জন্য উদ্বিগ্ন হবার আকাশ-পাতাল তফাত! এই উদ্বেগ কখনো শুধু মুখের কথায়, দুটি কনফারেন্স, একটি মিছিল, কয়টি ইসলামের সার্কেলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। উম্মাহর জন্য সত্যিকার উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটবে আমাদের জীবনের প্রতিটি চিন্তায়-কথায়-কাজে। এভাবে পুরো জীবনকেই বদলে দেবে। আমরা সময় নষ্ট করব না, নিজেকে প্রতিনিয়ত উন্নত করার সংগ্রামে লিপ্ত হবো, মুসলিমকে দেখব আপন ভাই, আপন বোনের মত।


আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেনঃ “আর তোমাদের কি হল যে, তোমরা আল্লাহর রাহে লড়াই করছ না দুর্বল সেই পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে, যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান কর; এখানকার অধিবাসীরা অত্যাচারী! আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য পক্ষালম্বনকারী নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও।” [২]


***

একটা বাচ্চা বাসের জন্য অপেক্ষা করছে, ঠাণ্ডায় কাঁপছে। একটি নয়। হাজার হাজার শিশু ঠাণ্ডায় কাঁপছে, ক্ষুধায় শুষ্ক হয়ে কাতরাতে কাতরাতে মরে যাচ্ছে, নোংরা পিশাচের বিষাক্ত থাবায় মা-বাবা-ভাইকে হারাচ্ছে, হাজারো মানুষ চিৎকার করে বলছে, ‘কোথায় তোমরা? আমার মুসলিম ভাইবোনেরা? কোথায় আল্লাহর সাহায্য?’ আমরা তাদের কথা ভাবি না। তাদের জন্য অন্ধকার রাতে বাস আসে না... তারা দাঁড়িয়ে থাকে...  তারা প্রচণ্ড কষ্ট পেয়ে পেয়ে একাকী মারা যায়, মারা যাচ্ছে, আমাদের চোখের সামনে, মনের আড়ালে... আমরা দেখছি, শুনছি। অনুভূতিহীনভাবে।

একটা বাচ্চা পথচেয়ে তাকিয়ে থাকে। হয়তো কোনদিন মানুষের বিবেক জাগ্রত হবে... হয়তো কোনদিন মৃত মনটা আরেকবার রক্তের গন্ধ শুঁকতে পাবে... হয়তো কোনদিন মুসলিমদের মাঝে জেগে উঠবে সত্যিকার ভ্রাতৃত্ববোধ – সেই প্রতীক্ষায়...

মহানায়কদের স্রোত



'তুমিও জিতবে' আর 'প্রতিপত্তি ও বন্ধুলাভ' বইগুলো যথাক্রমে শিবখেরা আর ডেল কার্নেগীর লেখা। আমাদের দেশের দিশেহার তরুন-যুবকের কাছে এমন পুস্তকগুলো আলাদীনের চেরাগসম। আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে বিত্ত আর চিত্তের সমন্বয়ে একজন সফল মানুষ হিসেবে তৈরী করার একটা সিলেবাস মনে করা হয় এমন পুস্তকগুলোকে। এসব থেকে খুব উৎসাহ পাওয়া যায় এটা ঠিক। কিন্তু উৎসাহটা যখন আসে কেবল মাত্র পার্থিব আরাম আয়েশ আর প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণের জন্যে তখন একটু ভয় হয়। আবার এসব প্রাপ্তির প্রতি যে লোভ দেখানো হয় তা আমাদের পরকালীন জীবনের জন্যে করণীয় সম্পর্কে উদাসীন হতে বিপুলভাবে সহায়তা করে, এই বিষয়টা একদম শিউরে উঠার মতো।

আমাদেরকে বিভিন্ন উদাহরন দিয়ে দেখানো হয় কীভাবে একজন সফল মানুষ তার জীবনে এত এত সফলতা লাভ করেছেন। আমাদের কাছে তাই রোল মডেল হিসেবে আবির্ভূত হন টলস্টয়, কনফুসিয়াস, রবার্ট ব্রুস, কার্লাইল, আব্রাহাম লিঙ্কন, হালের বিল গেটস, স্টিভ জবস আর জুকারবার্গরা। আমরাও বিপুল উদ্যমে এমন রোল মডেলদের অনুসরন করতে গিয়ে ভুলে যাই মানব জন্মের উদ্দেশ্য আর পরকালের জন্যে করণীয়গুলো। আমাদের মনোযোগটা চলে যায় পার্থিব জীবনের সাফল্যের দিকে, একমুখিভাবে।

সাধারণ মানুষ মাত্রই সম্ভবত কীর্তিমানদের দ্বারা প্রভাবিত হতে পছন্দ করে। যুগে যুগে অসংখ্য কীর্তিমানরা তাই আমাদের মানসপটে রোল মডেলের আসন দখল করে আছেন। আমরা আমাদের রোল মডেলদের অনুসরন করে বড় হতে চাই, জীবন পরিচালনা করতে চাই। বর্তমান আধুনিক যুগটা তাই আমাদের শিশুকাল থেকে রোল মডেল সাপ্লাই দিয়ে আসছে। একটি শিশুর কাছে সুপারম্যান, স্পাইডারম্যান আর পাপাইরা হলো রোল মডেল। 'এসব কমিক হিরোরা তাদের অলৌকিক ক্ষমতা দিয়ে মন্দকে ধ্বংশ করে ফেলবে', 'আমাদের নিরাপত্তার জন্যে এসব সুপারহিরোরাই শেষ ভরসা', এমনকিছু ধারণা নিয়ে আধুনিক শিশুরা বড় হতে থাকে। শিশুরা তারপর শুরু করে অ্যাকশন কার্টুন দেখা এবং তার হাত ধরে প্লে-স্টেশন আর কম্পিউটারে হিংস্রতার চর্চাটা। আরেকটু বড় হবার সাথে সাথে সুপারহিরোর জায়গা দখল করে নেয় বিভিন্ন রেসলার আর হলিউডের মাসলম্যনরা। বয়স বাড়ার সাথে সাথে শোবিজ আর স্পোর্টস সেলিব্রিটিদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমনা আর ইসলামবিদ্বেষী শিক্ষক এবং প্রগতিশীল মেধাবী বড় ভাইগুলো যারা গাঁজার ফিলিংস ছাড়া পড়াশোনায় মন বসাতে পারেন না, তারা চলে আসনে আমাদের রোল মডেল হিসেবে। এছাড়া পৃথিবীর তাবৎ কর্পোরেট সেলিব্রিটিরাও সেই শ্রদ্ধার আসনে ঠাঁই পান। আমরাও পৃথিবীর বুকে দৃপ্ত পায়ে টিকে থাকার জন্যে এবং আরো আধুনিক হবার আশায় পারিবারিকভাবে গড়ে ওঠা ইসলামী মূল্যবোধগুলোর কারণে লজ্জিত হতে থাকি। পরবর্তীতে এসব মূল্যবোধ সুষ্ঠুভাবে উপড়ে ফেলার চেষ্টা করি। এমন একটা জীবনে মাঝে মাঝে যখন খানিকটা হতাশা আসে তখন আশ্রয় নেই আরজ আলী মাতবর, বার্ট্রান্ড রাসেল, চে গুয়েভারা, পীর-ফকির কিংবা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের। জীবনের মানে খুঁজে পাই এইসব হিরোদের ফিলোসফিতে।

আমরা আধুনিক হতে থাকি। খানিকটা ইসলাম প্রীতি আমাদের ভেতর তবু রয়েই যায় তাই নানান কিসিমের আইডলদেরকে আমরা আমাদের প্রয়োজনে আমদানী করি। কেবল জুম'আর নামাজের নামাজী আর শেভ করা চকচকে মুখের অর্থনীতিবিদ রোল মডেলরা আমাদেরকে শেখান, আধুনিক যুগের ব্যাংক ইন্টারেস্ট আর ইসলামে নিষিদ্ধ সুদ এক বিষয় না। আমাদের হাসিটা একান-ওকান হয় খুশীতে, 'যাক্ আমরা তাহলে সুদ খাচ্ছি না'। রোল মডেলরা ঘোষণা করেন, বিয়ের উদ্দেশ্যে প্রেম করাটা ইসলামে নিষেধ নেই। আমাদের হাসি আরো লম্বা হয়। আমরা সোডিয়াম বাতির ঝাপসা আলোর নিচে ডেটিং স্পটগুলোকে প্রেমের আলোয় উজ্জল করতে থাকি।  আমাদের সুপারহিরোর কাছ থেকে ঘোষণা আসে কোরআন শরীফে পর্দার আয়াত রাসূল (সাঃ) এর স্ত্রীদের জন্যে নাযিল হয়েছিলো, ম্যাংগো পিপলদের জন্যে এটা আবশ্যক না। আমাদের খুশী আর ধরে না। আপুরা তাই ফতোয়া আর জিন্সকে জাতীয় পোষাক বানিয়ে নেন। জীবনে মাস্তি করার সকল উপাদানই ইসলামে হালাল। ইসলামের মডার্ণ এডিশনটা তাই ব্যপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। বলিউদের সালমান খান পুরো পরিবার নিয়ে ঈদের নামাজ পড়েন জেনে আমরা আপ্লুত হই, বাংলার চিত্রনায়কদের উমরাহ করার খবরে আহ্লাদিত হই। ঈদকে সামনে রেখে বলিউড-ঢালিউডে 'ঈদের ছবি' ট্যাগ নিয়ে মুভি রিলিজ হয়, আমরাও 'ঈদের ছবি'কে ঈদেরই একটা অংশ হিসেবে মেনে নিই।

আমাদের দৃঢ় ধারণা হয়, যেহেতু আমরা মুসলমান, মাঝে মাঝে নামাজ পড়ি আর নামাজ শেষে হাত তুলে তুমুল দোয়া করি, আল্লাহ আমাদেরকে অবশ্যই ক্ষমা করে বেহেশত দিয়ে দেবেন, তিনি তো দয়ালু। একদিকে পৃথিবীর তাবৎ সুখ এনজয় করলাম আর অন্যদিকে মৃত্যুর পরের জীবনেও (যদি থেকে থাকে) আরাম আয়েশটা নিশ্চিত থাকলো।  এভাবে কোনো একদিন এমন আধুনিক কেউ সারা জীবন অসাম্প্রদায়িক এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখতে দেখতে মারা গেলে তার শুভাকাঙ্খীরা হুজুর ডেকে মৃতের কানের কাছে সূরা ইয়াসিন পাঠ আর কোরান খতম করান। স্বজনেরা সাদা কাপড় আর টুপি পরে দফায় দফায় জানাজা আর কুলখানি- চেহলাম করে মৃত ব্যক্তির বেহেশত নিশ্চিত করে ফেলেন!

কী বীভৎস আমাদের ইসলাম চিন্তা।

২.
আমাদের সৃষ্টিকর্তা আমাদের কাছে রোল মডেল হিসেবে রাসূল (সাঃ) কে পাঠিয়েছেন যেনো আমরা তাঁর অনুসরন করি আর পথহারা হয়ে না যাই। সম্মানিত পাঠক, আমাদের মহান সৃষ্টিকর্তার প্রেরিত রাসূলকে আনুসরন করে কীভাবে একেকজন কীর্তিমান মানুষ পার্থিব জীবন আর পরকালীন জীবনে সফল হয়েছেন তা যদি আমরা জানতাম তাহলে তথাকথিত রোল মডেলদের ধোঁকায় পড়ে আমাদের দুই জীবনকেই অন্ধকারে ছুঁড়ে ফেলতাম না। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সাহাবীরা যেভাবে তাঁকে অনুসরন করেছেন আমাদের জন্যে সেইসব থেকে শিক্ষা গ্রহণ করাটা হবে সবচাইতে বুদ্ধিমানের কাজ। রাসূল (সাঃ)-এর সাহাবীরা হতে পারেন আমাদের কাছে একেকজন হিরো। আমাদের হাতের নাগালেই আজকাল এসব মর্যাদাবান সাহাবীদের জীবনী বই পাওয়া যায়। সাহাবীদের জীবন সম্পর্কে জানতে পারলে আমরা এটাও জেনে যাবো যে ইসলামে কোনো শর্টকাট নেই। একেকজন সাহাবীর জীবন একেকটা জ্বলন্ত মশালের মতো, আলো ছড়িয়ে যায় যুগ যুগ ধরে। ইসলামের জন্যে সীমাহীন ত্যাগ আর কঠিন কঠিন সব পরীক্ষায় চমৎকারভাবে তাঁদের উৎরে যাওয়া, এসব সম্পর্কে জানতে পারলে একজন মুসলিমের (হোক সে যত দূর্বল ঈমানের) হিরোদের তালিকায় কখনোই সাহাবায়ে কেরামদের চেয়ে উপরে অন্য কেউ (নবী-রাসূল ব্যতীত) স্থান পেতে পারবে না, এটা মোটামুটি নিশ্চিত। এই হিরোদের সম্পর্কে জানতে পারলে আমাদের ইসলামের প্রতি আনুগত্য বাড়তে পারে আর বর্তমান যুগে আমাদের ভূলগুলো শোধরানোর তাগিদ পেতে পারি। লাভগুলো সব আমাদেরই।

আমরা যারা সাধারণ মুসলিম, ইসলাম সম্পর্কে মোটামুটি কিছু জানি তারা হয়তো চার খলীফা, হযরত বেলাল, আবু হুরায়রা, ইবনে মাসুদ (রাঃ) এবং আরো অল্প কয়েকজন সাহাবায়ে কেরামদের সম্পর্কে সামান্য কিছু জানি। এমন আরো অসংখ্য সাহাবায়ে কেরাম রয়েছেন যাদের যে কারও জীবন-আলোচনা আমাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে যথেষ্ট। রাসূল (সাঃ)-এর নবুয়্যত প্রাপ্তির প্রথমদিকে ইসলাম গ্রহণ করা সাহাবী হযরত মুসয়াব ইবনে উমাইর (রাঃ) এমন একজন অনুকরনী্য় ব্যক্তিত্ব। আল্লাহর রাসূল (সাঃ)-এর সাহাবীদের মধ্যে ব্যাক্তিগতভাবে আমার অত্যন্ত পছন্দের একজন হলেন মুসয়াব ইবনে উমাইর (রাঃ)। যতবার আমি তাঁর সম্পর্কে পড়ি, আমার চোখদুটো টলমল করতে থাকে।

হযরত মুসয়াব (রাঃ)'র মা ছিলেন প্রচুর ঐশ্বর্যের মালিক। ধনীর দুলাল মুসয়াব (রাঃ) বেড়ে উঠেছিলেন বিপুল ভোগ-বিলাসের মধ্যে। মক্কার সবচেয়ে সুদর্শন যুবক ছিলেন তিনি। তাঁর থেকে উত্তম পোষাক মক্কার আর কেউ পরতো না। ইতিহাসবিদরা বলেন, মুসয়াব ইবনে উমাইর (রাঃ) ছিলেন মক্কার সর্বোৎকৃষ্ট সুগন্ধী ব্যবহারকারী। মক্কার সকল মজলিশ আর বৈঠকে তিনি ছিলেন খুব কাঙ্খিত একজন। তাঁর তীক্ষ্ণ মেধা, ব্যক্তিত্ব আর উন্নত ব্যবহার সবাইকে মুগ্ধ করতো। সুদর্শন আর ধনীর আদুরে দুলাল এই ব্যক্তি দারুল আরকামে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। নবুয়্যতের প্রথমদিকে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) দারুল আরকামে তখন পর্যন্ত ইসলাম গ্রহণ করা হাতেগোনা মুসলিমদের ইসলাম শিক্ষা দিতেন। এরকম একটা সময়ে মুসয়াব (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর ইসলাম গ্রহণ করার বিষয়টা মায়ের কাছে গোপন রাখেন, তাঁর মা ছিলেন প্রচন্ড ব্যক্তিত্বের অধিকারিণী। মাকে ভয় করতেন তিনি খুব বেশী। একপর্যায়ে মায়ের কাছে তাঁর ইসলাম গ্রহণের খবর প্রকাশ হয়ে পড়লো। অবশেষে মুসয়াব (রাঃ)-কে গৃহবন্দী করা হলো। বধ্য হয়ে তিনি একদিন ঘর থেকে পালিয়ে গেলেন এবং পরবর্তীতে হাবশায় হিজরাত করেন। হাবশা থেকে মক্কায় আসার পর তিনি তাঁর মাকে ইসলাম কবুল করতে বলেন। মা উত্তর দেন, 'আমি তোমার দ্বীন গ্রহণ করবো না'। এরপর মুসয়াব ইবনে উমাইর (রাঃ)-কে তাঁর মা বাড়ী থেকে খালিহাতে বিতাড়িত করে দেন। কুরাইশদের সেই আদুরে দুলাল এরপর থেকে মোটা শতছিন্ন তালিযুক্ত কাপড় পরেন। তাকে একদিন খাবার খেলে অন্যদিন অভূক্ত থাকতে হতো। একদল সাহাবী একদিন রাসূল (সাঃ)-এর সামনে বসা ছিলেন। তারা দেখতে পেলেন মুসয়াব (রাঃ) হেঁটে যাচ্ছেন, পরনে শত তালি দেয়া মোটা একটা পোষাক। একদম হতদরিদ্র অবস্থা। সম্মানিত পাঠক, ইসলামের প্রাথমিক যুগে সকল মুসলমানরা তখন কঠিন সময় পার করছিলেন। সাহাবীরা সবাই তখন একজন আরেকজনের তীব্র কষ্ট দেখে অভ্যস্ত ছিলেন। এমন একটা সময়ে মুসয়াব ইবনে উমাইর (রাঃ)-এর এমন করুণ অবস্থা দেখে সাহাবীদের মধ্যে ব্যপক ভাবান্তর হলো। তাদের দৃষ্টি নত হয়ে গেলো। অনেকের দুই চোখে ভেঙে পানি এসে গিয়েছিলো। তারা কল্পনা করছিলেন মুসয়াবের ইসলাম পূর্ব জীবনটা, কত কোমল আর সুগন্ধিময় ছিলো, কত প্রাচূর্য পরিবেষ্টিত ছিলো!

রাসূল (সাঃ)-এর এই সাহাবী ইসলামের জন্যে কী পরিমাণ ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন, পাঠক কল্পনা করুন।

ওহুদ যুদ্ধে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) মুসলিম বাহিনীর পতাকা এই মুসয়াব ইবনে উমাইর (রাঃ)'র হাতে তুলে দিয়েছিলেন। যুদ্ধের এক পর্যায়ে মুসলিমরা বিপর্যয়ে পড়ে যান। এমন সংকটময় অবস্থায় কুরাইশ বাহিনী রসূল (সাঃ) -কে ঘিরে ফেললো। মুসয়াব ইবনে উমাইর (রাঃ) বিপদের ভয়াবহতা উপলব্ধি করলেন। তিনি তখন চিৎকার করে তাকবীর দিয়ে আর ঝান্ডা হাতে লাফ-ঝাপ দিয়ে কাফিরদের দৃষ্টি নিজের দিকে নিয়ে আসতে চাইলেন। কাফিররা তার প্রতি দৃষ্টি ফেরালো। একহাতে মুসলিম বাহিনীর পতাকা আর অন্যহাতে তরবারী নিয়ে তিনি প্রচন্ড বেগে লড়াই করতে থাকেন। এক অশ্বারোহীর তরবারীর আঘাতে তার ডান হাতটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এবারে তিনি বাম হাতে পতাকা তুলে ধরেন। আরেকটি আঘতে তাঁর বাম হাতটাও দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তিনি তখন বলে ওঠেন, 'ওয়ামা মুহাম্মাদুন ইল্লা রাসূল' যা পরবর্তীতে কোরআনের আয়াত হিসেবে নাযিল হয়। দুই বাহু দিয়ে এবার তিনি ইসলামের পতাকা তুলে ধরেন। এবার বর্শার একটা তীব্র আঘাত তাকে পরাভূত করে। পতাকাসহ তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

যুদ্ধ শেষে রক্ত আর ধুলোবালিতে একাকার মুসয়াব ইবনে উমাইর (রাঃ)'র লাশ খুঁজে পাওয়া গেলো। তাঁর লাশ দাফনের জন্যে অল্প এক টুকরো কাপড় ছাড়া আর কিছু পাওয়া গেলো না। এই কাপড়টা দিয়ে তাঁর সমস্ত শরীর ঢাকা সম্ভব হলোনা। অবশেষে রাসূল (সাঃ) মাথার দিকটা চাদর দিয়ে আর পায়ের দিকটা ঘাস দিয়ে ঢেকে দেয়ার আদেশ করলেন। লাশের পাশে দাঁড়িয়ে রাসূল (সাঃ) পাঠ করলেন,' মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু লোক আছে যারা আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে'। তারপর কাফনের দিকে তাকিয়ে বললেন, 'আমি তোমাকে মক্কায় দেখেছি, সেখানে তোমার চেয়ে কোমল চাদর আর সুন্দর যুলফী আর কারো ছিলো না। আর আজ তুমি এই চাদরে ধুলি-মলিন অবস্থায় পড়ে আছো'।

হযরত খাব্বাব ইবনুল আরাত বলেন, ' আমরা আল্লাহর রাস্তায় আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে হিজরাত করেছিলাম। আমাদের এ কাজের প্রতিদান দেয়া আল্লাহর দায়িত্ব। আমাদের মধ্যে যারা তাঁদের এ কাজের প্রতিদান মোটেও না নিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে, তাঁদের একজন মুসয়াব ইবনে উমাইর।

পার্থিব জীবনের কাজের দ্বারা পরকালের অনন্ত জীবনে সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা এমন সব কৃতী মনুষকেই তো যুগে যুগে সকল মুসলিমদের আইডল হিসেবে মানা উচিত। আমরা কাদেরকে আইডল মানছি।

গ্রন্থ সহায়িকাঃ
১. আসহাবে রাসূলের জীবনকথা (১)- ড. মুহাম্মদ আব্দুল মাবুদ
২. সীরাতে ইবনে হিশাম

Collected From
Brother
Ahsan Sadee Al-Adil

http://www.suhaibwebb.com


MISSION STATEMENT
This site is dedicated to enhancing the spiritual and religious development of Muslims through sound, balanced & moderate Islamic teachings. It seeks to bridge orthodox and contemporary Islamic knowledge, bringing to light issues of cultural, social and political relevance to Muslims in the West.

VISIT:-