উত্তম ঘরের চাবিকাঠি সিরিজ: পর্ব ১


.
আল্লাহ তা’আলা বলেন, “আর আল্লাহ ঘরকে করেছেন তোমাদের জন্য আবাসস্থল।“ (১৬: ৮০)
.
ইবন কাসির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এ আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা’আলা তার বান্দাহদের জন্য পরিপূর্ণ রহমতের কথা উল্লেখ করছেন- তিনি তাদের জন্য ঘরকে করেছেন প্রশান্তিময় আবাসস্থল যাকে তারা পরম সুখের স্থান ভাবেন, যা তাদের গোপনীয়তা রক্ষা করে আর সর্ব প্রকারের সুবিধা প্রদান করে।
.
ঘরের কথা ভাবতে গেলেই কী আমাদের মনে এসে দোলা দেয়? এই সেই স্থান যেখানে আমরা খাই, ঘুমাই, বিশ্রাম নিই, স্ত্রীর সাথে অন্তরঙ্গ হই আর জীবনকে উপভোগ করি। এই স্থান সেটা নয় যেখানে আমরা একা থেকে আমাদের স্ত্রী-সন্তানের সাথে মিশতে পারবো।
.
ঘর কি তা নয় যা নারীদের আব্রু রক্ষা করে আর নিরাপত্তা দেয়? আল্লাহ বলেনঃ “আর তোমরা ঘরে থাকো এবুং জাহেলী যুগের মেয়েদের মতো নিজেকে প্রদর্শন করে বেড়িয়ো না।“ (৩৩: ৩৩)
যদি গৃহহীন, রাস্তায় থাকা মানুষ কিংবা উদ্বাস্তুরা যারা অস্থায়ী ক্যাম্পের বাসিন্দা তাদের কথা মনে করেন, তবে একটি ঘরের মর্তবা বুঝতে পারবেন সহজে। আমরা আরও গভীর করে বুঝতে পারবো যদি কোন দুর্দশাগ্রস্ত গৃহহীন মানুষ এসে আমাদের সামনে আহাজারি করে আর তার কষ্টের কথা আমরা মনোযোগ দিয়ে শুনি।
.
বনু নাযিরের ইহুদিদেরকে যখন আল্লাহ তা’আলা গৃহহীন করে শাস্তি দিয়েছিলেন তখন তিনি বলেন, “কিতাবধারীদের মধ্যে যারা কাফির (বনু নাযির), তাদেরকে আক্রমণের প্রথম ধাপেই তাদের বাড়ী-ঘর থেকে বহিস্কার করেছেন। তোমরা ধারণাও করতে পারনি যে, তারা বের হবে এবং তারা মনে করেছিল যে, তাদের দূর্গগুলো তাদেরকে আল্লাহর কবল থেকে রক্ষা করবে। অতঃপর আল্লাহর শাস্তি তাদের উপর এমনদিক থেকে আসল, যার কল্পনাও তারা করেনি। তিনি তাদের অন্তরে ত্রাস সঞ্চার করে দিলেন। তারা তাদের নিজেদের হাত দিয়েই নিজেদের বাড়ী-ঘর ধ্বংস করল এবং মুমিনদের হাতেও (ধ্বংস করছিল)। অতএব, হে দৃষ্টিসম্পন্ন মানুষেরা! তোমরা শিক্ষা গ্রহণ কর।” (৫৯: ২)
.
আমাদের ঘরগুলো যদি আদর্শ পরিবারের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠতো তবে কেমন হতো? ঘরগুলোকে নতুন করে সুশৃঙ্খল ও আদর্শ করাতে মু’মিনদের জন্য প্রেরণার উল্লেখ রয়েছে এই ক্ষেত্রগুলোতে:
.
১। নিজেকে আর নিজের পরিবারকে জাহান্নামের আগুণ থেকে বাঁচানো। “হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোর স্বভাব ফেরেশতাগণ। তারা আল্লাহ তা’আলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে। ” (৬৬: ৬)
.
২। কিয়ামতের দিন পরিবারের কর্তা সবচেয়ে বেশি দায় বয়ে বেড়াবে। আল্লাহর রাসুল ﷺ বলেন, “প্রত্যেক রাখালকে (দায়িত্ব অর্পনকৃত ব্যক্তি) আল্লাহ তার পাল (যার প্রতি দায়িত্ব) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন সে তার দেখাশোনা করেছে নাকি এড়িয়ে গেছে যতক্ষণ না তিনি একজন মানুষকে তার পরিবার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন।“
.
৩। ঘর মানুষকে অন্যের খারাবী থেকে নিজেকে আর নিজের খারাবী থেকে অন্যকে বাঁচায়। ফিতনাহর সময় তাই ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। নবীয়ে পাক ﷺ বলেন, “ধন্য সেই যে নিজের জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করে, যার ঘর তার জন্য যথেষ্ট আর যে নিজের ভুলে কাঁদে।“
তিনি ﷺ আরও বলেন, “ফিতনার সময় মানুষের নিরাপত্তা গৃহে অবস্থানে।“
.
একজন মুসলিম যখন বিদেশভূমে যায় তখন তার চারপাশে হারামরাজি তাকে এটা ভালো করেই মনে করিয়ে দেয়। ঘর (যেখানে তার স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি আছে) তাকে হারামের দিকে নজরের হেফাজত করে, তাকে খারাপ সঙ্গ থেকে বাঁচায়, বাঁচায় মন্দ কাজ থেকে।
.
৪। সুষ্ঠু মুসলিম সমাজ গড়ার জন্য ঘরের দিকে মনোযোগ দিতে হবে সর্বাগ্রে। প্রতিটা ঘর যদি সঠিকভাবে পরিচালনা করা হয়, তবে তা সমাজের খুঁটি যারা সমাজকে সঠিক রাস্তায় নেবে এমন উল্লেখযোগ্য দা’ঈ, জ্ঞানানুরাগী, আন্তরিক মুজাহিদ, পরহেজগার স্ত্রী, স্নেহময়ী মা, আর এমন সব ধরনের সংস্কারক একেকজন তৈরি করতে পারে।
.
(চলবে ইনশাআল্লাহ...)
.
সহায়ক গ্রন্থ: ঘরের জন্য ৪০ উপদেশ (শাইখ সালেহ আল মুনাজ্জিদ)

কালেক্তেড পোস্ট

No comments:

Post a Comment

Plz spread this word to your friends